সোমবার | ১৬ মার্চ ২০২৬ | বসন্তকাল
শিরোনাম :
Logo প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সচিব পদমর্যাদায় খুবি অধ্যাপক আবদুল আওয়াল Logo বিভাগীয় পদোন্নতি প্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তাকে র‍্যাংক ব্যাজ পরিধান Logo চাঁদপুরে মানবদূত স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের উদ্যোগে পথচারীদের মাঝে ইফতার বিতরণ ও দোয়া মাহফিল Logo জনপ্রিয় ব্র্যান্ড কাচ্চি ডাইন চাঁদপুর শাখায় ভোক্তা অভিযান, ব্যাখ্যা দিল কর্তৃপক্ষ Logo চাঁদপুর জেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সভা অনুষ্ঠিত Logo আল্লাহ প্রদত্ত ইলম মানুষের জীবনের সবচেয়ে বড় শক্তি Logo পলাশবাড়ীতে ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা অভিযানের উদ্বোধন  Logo চাঁদপুরে ভোক্তা অধিকারের অভিযানে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা Logo ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনগণের মাঝে সচেতনতা সৃষ্টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ….শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক এমপি Logo কয়রা সদর ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে বিএনপি নেতা এম এ হাসান

বিএনপি নেতাসহ ৭ জনকে কুপিয়ে জখম

  • নীলকন্ঠ ডেস্ক: নীলকন্ঠ ডেস্ক:
  • আপডেট সময় : ০৫:১৫:১৭ অপরাহ্ণ, বুধবার, ৯ অক্টোবর ২০২৪
  • ৮১৬ বার পড়া হয়েছে

চুয়াডাঙ্গা সদরের ভাণ্ডারদহে পূর্বে বিরোধের জেরে ওয়ার্ড বিএনপি নেতাসহ ৭ জনকে কুপিয়ে জখমের ঘটনা ঘটেছে। গতকাল মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে সদর উপজেলার শংকরচন্দ্র ইউনিয়নের ভাণ্ডারদহ গ্রামের তেমাথা মোড়ে এ ঘটনা ঘটে। পরে পরিবারের সদস্যরা আহতদের উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতলে ভর্তি করে। আহতরা হলেন- ওই এলাকার মৃত সুবারদ্দী শেখের ছেলে ইমাতউল্লাহ শেখ (৪৫), আমির হোসেনের ছেলে মুক্তার আলী (৬০), তার স্ত্রী মিস্রি খাতুন (৪৭), ছেলে মারুফ হোসেন (৩০), আবুল মণ্ডলের ছেলে বসির আলী (৩৫), আইয়ুব আলীর ছেলে এশার আলী (৪৫) ও তোফাজ্জেলের ছেলে আকালে মণ্ডর (৫৫)।

আহতদের পরিবারের সদস্যরা জানান, তাদের স্বজন মৃত লাণ্টুর ছেলে তেঁতুলশেখ কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র তানজিল হোসেন গত ১৮ জুলাই সরোজগঞ্জে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছিলেন। তার প্রতিবেশী ও ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড মেম্বার সুজন মিয়া বিষয়টি নিয়ে তানজিলের ওপর ক্ষুদ্ধ ছিলেন। ছাত্র আন্দোলনে অংশ নেয়ায় গত ২০ জুলাই রাতে তানজিলকে মারধরের চেষ্টা করেন মেম্বার সুজন মিয়া।

তানজিল হোসেন অভিযোগ করে বলেন, ‘আমার পরিবারের সবাই বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। সুজন মিয়া আওয়ামী লীগের প্রভাব খাটিয়ে ২০ জুলাই আমাকে মারধরের চেষ্টা করে। ওর ভয়ে আমি ১ সপ্তাহ পালিয়ে থাকতেও বাধ্য হয়েছি। আমি ইউনিয়ন পরিষদের কম্পিউটার অপারেটরের কাজও করতাম। ছাত্র আন্দোলনে অংশ নেয়ায় সে আমাকে চাকরি থেকে বাদ দেয়ার ভয়ও দেখাতো। আজ (গতকাল) রাত সাড়ে আটটার দিকে পাড়ার মোড়ে মেম্বারের সঙ্গে আমার দেখা হলে তিনি আমার সঙ্গে বাগবিতণ্ডায় জড়ান। প্রতিবাদ করলে আমাকে আঘাত করেন। পরে আমার পরিবারের সদস্যরা মেম্বারের কাছে আমাকে মারধরের কারণ জানতে গেলে মেম্বার সুজনসহ তার পরিবারের ৮-১০ জন আমাদের ওপর অতর্কিতভাবে হামলা চালায়। আমরা সম্পূর্ণ নিরস্ত্র ছিলাম। ওরা দা, চাইনিজ কুড়ালসহ বিভিন্ন অস্ত্র দিয়ে আমার পরিবারের ৭ জনকে কুপিয়ে জখম করে। পরে স্থানীয়রা আমাদের উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে ভর্তি করে।’

চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. মোরশেদ আলম বলেন, ‘রাত সাড়ে ১০টার পরে রক্তাক্ত জখম অবস্থায় নারীসহ ৭ জন জরুরি বিভাগে আসেন। প্রত্যেকের শরীরে রক্তাক্ত ভোতা ও ধাতব অস্ত্রের জখমের চিহ্ন পাওয়া গেছে। আহতদের মধ্যে এনাতউল্লাহর মাথার জখম গুরুতর। অন্যরা শঙ্কামুক্ত। জরুরি বিভাগ থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাদের ভর্তি রাখা হয়েছে।’
চুয়াডাঙ্গা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ সেকেন্দার আলী বলেন, ‘সদর থানাধীন ভাণ্ডারদহে একটি মারামারির ঘটনায় সাতজন আহত হয়েছে বলে জেনেছি। আহদের পক্ষে থানায় অভিযোগের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। থানা পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থলে উপস্থিত রয়েছে এবং সেখানকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক। অভিযোগ প্রাপ্তির পর তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সচিব পদমর্যাদায় খুবি অধ্যাপক আবদুল আওয়াল

বিএনপি নেতাসহ ৭ জনকে কুপিয়ে জখম

আপডেট সময় : ০৫:১৫:১৭ অপরাহ্ণ, বুধবার, ৯ অক্টোবর ২০২৪

চুয়াডাঙ্গা সদরের ভাণ্ডারদহে পূর্বে বিরোধের জেরে ওয়ার্ড বিএনপি নেতাসহ ৭ জনকে কুপিয়ে জখমের ঘটনা ঘটেছে। গতকাল মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে সদর উপজেলার শংকরচন্দ্র ইউনিয়নের ভাণ্ডারদহ গ্রামের তেমাথা মোড়ে এ ঘটনা ঘটে। পরে পরিবারের সদস্যরা আহতদের উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতলে ভর্তি করে। আহতরা হলেন- ওই এলাকার মৃত সুবারদ্দী শেখের ছেলে ইমাতউল্লাহ শেখ (৪৫), আমির হোসেনের ছেলে মুক্তার আলী (৬০), তার স্ত্রী মিস্রি খাতুন (৪৭), ছেলে মারুফ হোসেন (৩০), আবুল মণ্ডলের ছেলে বসির আলী (৩৫), আইয়ুব আলীর ছেলে এশার আলী (৪৫) ও তোফাজ্জেলের ছেলে আকালে মণ্ডর (৫৫)।

আহতদের পরিবারের সদস্যরা জানান, তাদের স্বজন মৃত লাণ্টুর ছেলে তেঁতুলশেখ কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র তানজিল হোসেন গত ১৮ জুলাই সরোজগঞ্জে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছিলেন। তার প্রতিবেশী ও ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড মেম্বার সুজন মিয়া বিষয়টি নিয়ে তানজিলের ওপর ক্ষুদ্ধ ছিলেন। ছাত্র আন্দোলনে অংশ নেয়ায় গত ২০ জুলাই রাতে তানজিলকে মারধরের চেষ্টা করেন মেম্বার সুজন মিয়া।

তানজিল হোসেন অভিযোগ করে বলেন, ‘আমার পরিবারের সবাই বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। সুজন মিয়া আওয়ামী লীগের প্রভাব খাটিয়ে ২০ জুলাই আমাকে মারধরের চেষ্টা করে। ওর ভয়ে আমি ১ সপ্তাহ পালিয়ে থাকতেও বাধ্য হয়েছি। আমি ইউনিয়ন পরিষদের কম্পিউটার অপারেটরের কাজও করতাম। ছাত্র আন্দোলনে অংশ নেয়ায় সে আমাকে চাকরি থেকে বাদ দেয়ার ভয়ও দেখাতো। আজ (গতকাল) রাত সাড়ে আটটার দিকে পাড়ার মোড়ে মেম্বারের সঙ্গে আমার দেখা হলে তিনি আমার সঙ্গে বাগবিতণ্ডায় জড়ান। প্রতিবাদ করলে আমাকে আঘাত করেন। পরে আমার পরিবারের সদস্যরা মেম্বারের কাছে আমাকে মারধরের কারণ জানতে গেলে মেম্বার সুজনসহ তার পরিবারের ৮-১০ জন আমাদের ওপর অতর্কিতভাবে হামলা চালায়। আমরা সম্পূর্ণ নিরস্ত্র ছিলাম। ওরা দা, চাইনিজ কুড়ালসহ বিভিন্ন অস্ত্র দিয়ে আমার পরিবারের ৭ জনকে কুপিয়ে জখম করে। পরে স্থানীয়রা আমাদের উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে ভর্তি করে।’

চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. মোরশেদ আলম বলেন, ‘রাত সাড়ে ১০টার পরে রক্তাক্ত জখম অবস্থায় নারীসহ ৭ জন জরুরি বিভাগে আসেন। প্রত্যেকের শরীরে রক্তাক্ত ভোতা ও ধাতব অস্ত্রের জখমের চিহ্ন পাওয়া গেছে। আহতদের মধ্যে এনাতউল্লাহর মাথার জখম গুরুতর। অন্যরা শঙ্কামুক্ত। জরুরি বিভাগ থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাদের ভর্তি রাখা হয়েছে।’
চুয়াডাঙ্গা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ সেকেন্দার আলী বলেন, ‘সদর থানাধীন ভাণ্ডারদহে একটি মারামারির ঘটনায় সাতজন আহত হয়েছে বলে জেনেছি। আহদের পক্ষে থানায় অভিযোগের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। থানা পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থলে উপস্থিত রয়েছে এবং সেখানকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক। অভিযোগ প্রাপ্তির পর তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’