বুধবার | ১৮ মার্চ ২০২৬ | বসন্তকাল
শিরোনাম :
Logo ২০৩০ বিশ্বকাপ পর্যন্ত আনচেলত্তির চুক্তি বাড়াতে যাচ্ছে ব্রাজিল Logo কাবুলে পাকিস্তানের হামলার পর সংযম প্রদর্শনের আহ্বান চীনের Logo ঈদযাত্রা সুষ্ঠু ও সুন্দর করতে সব ইউনিটের ফোর্স নিয়োজিত থাকবে: আইজিপি Logo চাঁদপুরে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ ড্যাবের উদ্যোগে ঈদ উপহার বিতরণ ও ইফতার মাহফিল Logo মাদকমুক্ত কাপাসিয়া গড়ার অঙ্গীকার যুব সংগঠনের মিলনমেলায় নতুন দিগন্ত Logo চাঁদপুরে জিএম বাংলা লিমিটেডের ঈদ উপহার: অসহায় ও এতিমদের মুখে হাসি Logo বইমেলা শেষ, ঈদের আমেজ—তবুও জ্ঞানের আহ্বান অম্লান Logo বার কাউন্সিল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে খুবির ৪২ শিক্ষার্থী আইনজীবী Logo ইসলামপুর গাছতলা দরবার শরীফে ইফতার মাহফিল Logo চাঁদপুরে মানবদূত স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের উদ্যোগে ঈদ উপহার বিতরণ

১০ জেলায় পানিবন্দি ৩৬ লাখ মানুষ

  • নীলকন্ঠ ডেস্ক: নীলকন্ঠ ডেস্ক:
  • আপডেট সময় : ১২:৩২:১২ অপরাহ্ণ, শুক্রবার, ২৩ আগস্ট ২০২৪
  • ৮১১ বার পড়া হয়েছে

ফেনী, নোয়াখালী ও কুমিল্লা অঞ্চলের মানুষ গত তিন দশকে এবারের মতো বন্যা দেখেনি। নজিরবিহীন বন্যায় এ অঞ্চলের মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। এছাড়া চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মৌলভীবাজার, খাগড়াছড়ি, হবিগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও লক্ষ্মীপুর জেলার বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। এসব এলাকার সাড়ে ৩৬ লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন।

গত ৩৬ বছরে ফেনীতে এ ধরনের ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখে পড়তে হয়নি। এবারের বন্যায় ফেনীর তিনটি উপজেলার ৯০ শতাংশ এলাকা প্লাবিত হয়ে সবকিছু লণ্ডভণ্ড  হয়ে গেছে। ১০ জেলার ৬৫টি উপজেলার ৪৯৫টি ইউনিয়ন বন্যার কবলে পড়েছে। আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে মোট ৮২ হাজার ৬৯৪ জন মানুষ এবং ৭ হাজার ৭৫৫টি গবাদি পশুকে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে।

বন্যায় সড়ক ও রেলপথ তলিয়ে যাওয়ায় চট্টগ্রামের সাথে সারা দেশের রেল ও সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। বন্যা পরিস্থিতির অবনতির কারণে কক্সবাজারের সঙ্গে সারাদেশের রেল যোগাযোগ বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

বন্যা আক্রান্ত এলাকায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক, সেনাবাহিনী, মেডিকেল টিম ও অন্যান্য স্বেচ্ছাসেবকদের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে জেলা-উপজেলা প্রশাসন। এদিকে দুর্গত এলাকাসমূহের মোবাইল নেটওয়ার্ক বন্ধ রয়েছে। অধিকাংশ এলাকায় বিদ্যুতের সংযোগও বন্ধ। বর্তমান বন্যা পরিস্থিতিতে ফেনী, কুমিল্লাসহ সংশ্লিষ্ট এলাকার ডাক, টেলিযোগাযোগ বিভাগের আওতাধীন দপ্তর ও সংস্থার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। ইতোমধ্যে মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে।

এছাড়া বিটিআরসি, বিটিসিএল ও টেলিটক ইমার্জেন্সি রেসপন্স টিম গঠন করেছে। বাংলাদেশ স্যাটেলাইট কোম্পানির সহায়তায় ১০টি ভি-স্যাট প্রস্তুত রাখা হয়েছে। তার মধ্যে পাঁচটি ভি-স্যাট ফেনীর জেলা প্রশাসকের কাছে পাঠানো হয়েছে।

আতঙ্কে বাড়িঘর ছাড়ছেন জেলার গোমতী, কাঁকড়ি, ডাকাতিয়া, ঘুংগুর নদীর আশপাশসহ জেলার নিচু এলাকার মানুষেরা। প্রায় ১১৩ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে গোমতীর পানি। গোমতী নদীর চরগুলো প্লাবিত হয়ে শত শত বাড়িঘর পানিতে নিমজ্জিত হওয়ায় বিপাকে পড়েছেন হাজার হাজার মানুষ।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

২০৩০ বিশ্বকাপ পর্যন্ত আনচেলত্তির চুক্তি বাড়াতে যাচ্ছে ব্রাজিল

১০ জেলায় পানিবন্দি ৩৬ লাখ মানুষ

আপডেট সময় : ১২:৩২:১২ অপরাহ্ণ, শুক্রবার, ২৩ আগস্ট ২০২৪

ফেনী, নোয়াখালী ও কুমিল্লা অঞ্চলের মানুষ গত তিন দশকে এবারের মতো বন্যা দেখেনি। নজিরবিহীন বন্যায় এ অঞ্চলের মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। এছাড়া চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মৌলভীবাজার, খাগড়াছড়ি, হবিগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও লক্ষ্মীপুর জেলার বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। এসব এলাকার সাড়ে ৩৬ লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন।

গত ৩৬ বছরে ফেনীতে এ ধরনের ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখে পড়তে হয়নি। এবারের বন্যায় ফেনীর তিনটি উপজেলার ৯০ শতাংশ এলাকা প্লাবিত হয়ে সবকিছু লণ্ডভণ্ড  হয়ে গেছে। ১০ জেলার ৬৫টি উপজেলার ৪৯৫টি ইউনিয়ন বন্যার কবলে পড়েছে। আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে মোট ৮২ হাজার ৬৯৪ জন মানুষ এবং ৭ হাজার ৭৫৫টি গবাদি পশুকে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে।

বন্যায় সড়ক ও রেলপথ তলিয়ে যাওয়ায় চট্টগ্রামের সাথে সারা দেশের রেল ও সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। বন্যা পরিস্থিতির অবনতির কারণে কক্সবাজারের সঙ্গে সারাদেশের রেল যোগাযোগ বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

বন্যা আক্রান্ত এলাকায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক, সেনাবাহিনী, মেডিকেল টিম ও অন্যান্য স্বেচ্ছাসেবকদের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে জেলা-উপজেলা প্রশাসন। এদিকে দুর্গত এলাকাসমূহের মোবাইল নেটওয়ার্ক বন্ধ রয়েছে। অধিকাংশ এলাকায় বিদ্যুতের সংযোগও বন্ধ। বর্তমান বন্যা পরিস্থিতিতে ফেনী, কুমিল্লাসহ সংশ্লিষ্ট এলাকার ডাক, টেলিযোগাযোগ বিভাগের আওতাধীন দপ্তর ও সংস্থার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। ইতোমধ্যে মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে।

এছাড়া বিটিআরসি, বিটিসিএল ও টেলিটক ইমার্জেন্সি রেসপন্স টিম গঠন করেছে। বাংলাদেশ স্যাটেলাইট কোম্পানির সহায়তায় ১০টি ভি-স্যাট প্রস্তুত রাখা হয়েছে। তার মধ্যে পাঁচটি ভি-স্যাট ফেনীর জেলা প্রশাসকের কাছে পাঠানো হয়েছে।

আতঙ্কে বাড়িঘর ছাড়ছেন জেলার গোমতী, কাঁকড়ি, ডাকাতিয়া, ঘুংগুর নদীর আশপাশসহ জেলার নিচু এলাকার মানুষেরা। প্রায় ১১৩ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে গোমতীর পানি। গোমতী নদীর চরগুলো প্লাবিত হয়ে শত শত বাড়িঘর পানিতে নিমজ্জিত হওয়ায় বিপাকে পড়েছেন হাজার হাজার মানুষ।