বুধবার | ১ এপ্রিল ২০২৬ | বসন্তকাল
শিরোনাম :
Logo স্কুল চলাকালীন যানজট নিরসনে শিক্ষামন্ত্রীকে বিকল্প খুঁজতে বললেন প্রধানমন্ত্রী Logo সুন্দরবনে জোনাব বাহিনীর কবল থেকে জেলে উদ্ধার, কোস্ট গার্ডের অভিযান জোরদার Logo সড়ক দুর্ঘটনায় শিক্ষার্থীর মৃত্যু: নিরাপদ সড়কের দাবিতে খুবিতে মানববন্ধন Logo মতলব দক্ষিণে নায়েরগাঁও ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে ভরসার নাম ফারুক হাসান Logo চাঁদপুর লঞ্চে জন্ম নিল কন্যাশিশু, পাশে দাঁড়াল পুলিশ-সাংবাদিক-স্বেচ্ছাসেবকরা Logo চাঁদপুরে হামে আক্রান্ত ২৮ শিশু ভর্তি, মৃত্যু ৩, খোলা হয়েছে আইসোলেশন ওয়ার্ড Logo কোডেক এর উদ্যোগে শ্যামনগরের মানুষ পেল বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা ও ঔষধ Logo খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় ক্লাবগুলোর সাথে ওয়েব ফাউন্ডেশনের মত বিনিময় সভা অনুষ্ঠিত Logo পলাশবাড়ীতে সেনা সদস্যকে গ্রেফতারের দাবিতে প্রতিবাদ সমাবেশ মানববন্ধন ও সড়ক অবরোধ Logo সরকার পুলিশের ত্রি-মাত্রিক সক্ষমতা অর্জনে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

একটি ইজিবাইকের জন্য মাসে গড়ে ৩৫০ থেকে ৪০০ ইউনিট বিদ্যুৎ খরচ হয়

  • amzad khan
  • আপডেট সময় : ১০:২৩:০৭ অপরাহ্ণ, বৃহস্পতিবার, ৪ আগস্ট ২০২২
  • ৭৫৮ বার পড়া হয়েছে

স্টাফ রিপোর্টার, ঝিনাইদহ-

ঝিনাইদহে বছরের পর বছর বিদ্যুৎ গিলে খাচ্ছে অনুমোদনবিহীন হাজার হাজার অবৈধ ইজিবাইক। অনুমোদনবিহীন হাজার হাজার অবৈধ ইজিবাইক চলাচলে কোনো প্রতিকার নেই! সড়ক-মহাসড়ক, শহর-গ্রাম দাপিয়ে বেড়াচ্ছে কয়েক হাজার ইজিবাইক।

ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (ওজোপাডিকো) জেলা নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাশেদুল ইসলাম চৌধুরী জানান, একটি ইজিবাইকের জন্য মাসে গড়ে ৩৫০ থেকে ৪০০ ইউনিট বিদ্যুৎ খরচ হয়ে থাকে। এদিকে গোটা জেলার রাস্তাগুলো ইজিবাইকে ছেয়ে গেছে। ফিডার রোড ছাপিয়ে মহাসড়কগুলোর দখল নিয়েছে ইজিবাইক। নতুন নতুন কারখানা গড়ে তৈরি হচ্ছে ইজিবাইক।

সদর পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা নুর মাহমুদ বলেন, চলতি বছরে ১৭৩টি এবং ২০২১-২০২২ অর্থবছরে মাত্র ৭৪১টি ইজিবাইকের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। একই পৌরসভার লাইসেন্স পরিদর্শক আব্দুল কাদের জানান, পৌরসভা এলাকায় সাড়ে তিন হাজারের বেশি ইজিবাইক চলাচল করে থাকে। যার কোনো বৈধ কাগজপত্র নেই।

কালীগঞ্জ পৌরসভায় নিবন্ধিত ইজিবাইক রয়েছে ৮০০টি। ওজোপাডিকোর অনুমোদিত চার্জিং স্টেশন রয়েছে মাত্র দুটি। এক হাজারের বেশি ইজিবাইক সড়কগুলোতে চলাচল করে থাকে বলে জানা গেছে। হরিণাকু-ু পৌরসভার মেয়র ফারুক হোসেন জানান, ১০০টি ইজিবাইকের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। সড়কে চলাচল করছে ৩০০টিরও বেশি।

শৈলকুপা পৌরসভার মেয়র কাজী আশরাফুল আজম জানান, মাত্র ৭০টির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। চলাচল করে কমপক্ষে ৪০০ ইজিবাইক। মহেশপুর পৌরসভার মেয়র আব্দুর রশিদ খান জানান, পৌরসভা থেকে ৪০০টির মতো লাইসেন্স দেওয়া আছে। এর বাইরেও শতাধিক লাইসেন্সবিহীন ইজিবাইক চলাচল করছে।

তিনি আরও জানান, প্রতিদিন বহরে যোগ হচ্ছে নতুন নতুন ইজিবাইক। কোটচাঁদপুর পৌরসভার প্যানেল মেয়র সোহেল ইজিবাইকের সঠিক হিসাব বলতে পারেননি। ধারণা করা হচ্ছে, কয়েক শতাধিক ইজিবাইক পৌরসভা এলাকায় চলাচল করে। সূত্র জানায়, জেলার ইজিবাইকের ব্যাটারি চার্জ দিতে প্রতিদিন খরচ হচ্ছে হাজার হাজার ইউনিট বিদ্যুৎ।

ওজোপাডিকো জেলা নির্বাহী প্রকৌশলী জানান, জেলায় অনুমোদিত ৬৯টির মতো প্রি-পেইড চার্জিং স্টেশন রয়েছে। সেখানে ইজিবাইকের ব্যাটারি চার্জ দেওয়া হয়। অনুমোদনহীন স্টেশনের সংখ্যার বিষয়ে জানাতে পারেননি এই কর্মকর্তা। তবে মজার তথ্য দিয়েছেন তিনি। তিনি জানালেন ইজিবাইকের জন্য চারটি ট্যারিফে বিদ্যুৎ বিল গ্রহণ করা হয়। অপ-পিক আওয়ারে (দিনের বেলা) ৬ টাকা ৮৮ পয়সা, সুপার পিক আওয়ারে (দুপুরে) ৬ টাকা ১১ পয়সা, ফ্লাট রেট ৭ টাকা ৬৪ পয়সা এবং পিক আওয়ারে (সন্ধ্যার পর) ৯ টাকা ৫৫ পয়সা। পিক আওয়ারে বিদ্যুতের চাহিদা ৫০ মেগাওয়াট। অফ-পিক আওয়ারে ৪০ মেগাওয়াট।

গোটা জেলায় সর্বমোট ৩৫টি ফিডারে ভাগ করে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়ে থাকে। প্রতি ফিডারে তিন ঘণ্টার বেশি লোডশেডিং দেওয়া হচ্ছে। কারণ হিসাবে এই কর্মকর্তা জানান, পিক আওয়ারে ৩২ থেকে ৩৩ এবং অফ-পিক আওয়ারে ২২-২৩ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সাপ্লাই পাচ্ছেন তারা।

লোডশেডিংয়ের মাধ্যমে বিদ্যুৎ ঘাটতির পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হচ্ছে বলে জানান। অন্য একটি সূত্র জানায়, ওজোপাডিকো জেলার হরিণাকু-ু উপজেলা শহর ছাড়া ৫টি উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এক লাখ পঁয়ত্রিশ হাজার গ্রাহকের মাঝে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে থাকে। এর মধ্যে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান রয়েছে ১৬ হাজার ৩২টি।

জেলা পল্লী বিদ্যুতের জিএম মো. ইছাহাক আলী সাংবাদিকদের এ বিষয়ে তথ্য দিতে রাজি হননি। আরেকটি সূত্র থেকে জানা গেছে, পল্লী বিদ্যুতের চাহিদা ৯০ মেগাওয়াট। বর্তমানে বিদ্যুৎ সরবরাহ হচ্ছে মাত্র ৫০ থেকে ৬০ মেগাওয়াট।

ট্যাগস :

স্কুল চলাকালীন যানজট নিরসনে শিক্ষামন্ত্রীকে বিকল্প খুঁজতে বললেন প্রধানমন্ত্রী

একটি ইজিবাইকের জন্য মাসে গড়ে ৩৫০ থেকে ৪০০ ইউনিট বিদ্যুৎ খরচ হয়

আপডেট সময় : ১০:২৩:০৭ অপরাহ্ণ, বৃহস্পতিবার, ৪ আগস্ট ২০২২

স্টাফ রিপোর্টার, ঝিনাইদহ-

ঝিনাইদহে বছরের পর বছর বিদ্যুৎ গিলে খাচ্ছে অনুমোদনবিহীন হাজার হাজার অবৈধ ইজিবাইক। অনুমোদনবিহীন হাজার হাজার অবৈধ ইজিবাইক চলাচলে কোনো প্রতিকার নেই! সড়ক-মহাসড়ক, শহর-গ্রাম দাপিয়ে বেড়াচ্ছে কয়েক হাজার ইজিবাইক।

ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (ওজোপাডিকো) জেলা নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাশেদুল ইসলাম চৌধুরী জানান, একটি ইজিবাইকের জন্য মাসে গড়ে ৩৫০ থেকে ৪০০ ইউনিট বিদ্যুৎ খরচ হয়ে থাকে। এদিকে গোটা জেলার রাস্তাগুলো ইজিবাইকে ছেয়ে গেছে। ফিডার রোড ছাপিয়ে মহাসড়কগুলোর দখল নিয়েছে ইজিবাইক। নতুন নতুন কারখানা গড়ে তৈরি হচ্ছে ইজিবাইক।

সদর পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা নুর মাহমুদ বলেন, চলতি বছরে ১৭৩টি এবং ২০২১-২০২২ অর্থবছরে মাত্র ৭৪১টি ইজিবাইকের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। একই পৌরসভার লাইসেন্স পরিদর্শক আব্দুল কাদের জানান, পৌরসভা এলাকায় সাড়ে তিন হাজারের বেশি ইজিবাইক চলাচল করে থাকে। যার কোনো বৈধ কাগজপত্র নেই।

কালীগঞ্জ পৌরসভায় নিবন্ধিত ইজিবাইক রয়েছে ৮০০টি। ওজোপাডিকোর অনুমোদিত চার্জিং স্টেশন রয়েছে মাত্র দুটি। এক হাজারের বেশি ইজিবাইক সড়কগুলোতে চলাচল করে থাকে বলে জানা গেছে। হরিণাকু-ু পৌরসভার মেয়র ফারুক হোসেন জানান, ১০০টি ইজিবাইকের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। সড়কে চলাচল করছে ৩০০টিরও বেশি।

শৈলকুপা পৌরসভার মেয়র কাজী আশরাফুল আজম জানান, মাত্র ৭০টির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। চলাচল করে কমপক্ষে ৪০০ ইজিবাইক। মহেশপুর পৌরসভার মেয়র আব্দুর রশিদ খান জানান, পৌরসভা থেকে ৪০০টির মতো লাইসেন্স দেওয়া আছে। এর বাইরেও শতাধিক লাইসেন্সবিহীন ইজিবাইক চলাচল করছে।

তিনি আরও জানান, প্রতিদিন বহরে যোগ হচ্ছে নতুন নতুন ইজিবাইক। কোটচাঁদপুর পৌরসভার প্যানেল মেয়র সোহেল ইজিবাইকের সঠিক হিসাব বলতে পারেননি। ধারণা করা হচ্ছে, কয়েক শতাধিক ইজিবাইক পৌরসভা এলাকায় চলাচল করে। সূত্র জানায়, জেলার ইজিবাইকের ব্যাটারি চার্জ দিতে প্রতিদিন খরচ হচ্ছে হাজার হাজার ইউনিট বিদ্যুৎ।

ওজোপাডিকো জেলা নির্বাহী প্রকৌশলী জানান, জেলায় অনুমোদিত ৬৯টির মতো প্রি-পেইড চার্জিং স্টেশন রয়েছে। সেখানে ইজিবাইকের ব্যাটারি চার্জ দেওয়া হয়। অনুমোদনহীন স্টেশনের সংখ্যার বিষয়ে জানাতে পারেননি এই কর্মকর্তা। তবে মজার তথ্য দিয়েছেন তিনি। তিনি জানালেন ইজিবাইকের জন্য চারটি ট্যারিফে বিদ্যুৎ বিল গ্রহণ করা হয়। অপ-পিক আওয়ারে (দিনের বেলা) ৬ টাকা ৮৮ পয়সা, সুপার পিক আওয়ারে (দুপুরে) ৬ টাকা ১১ পয়সা, ফ্লাট রেট ৭ টাকা ৬৪ পয়সা এবং পিক আওয়ারে (সন্ধ্যার পর) ৯ টাকা ৫৫ পয়সা। পিক আওয়ারে বিদ্যুতের চাহিদা ৫০ মেগাওয়াট। অফ-পিক আওয়ারে ৪০ মেগাওয়াট।

গোটা জেলায় সর্বমোট ৩৫টি ফিডারে ভাগ করে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়ে থাকে। প্রতি ফিডারে তিন ঘণ্টার বেশি লোডশেডিং দেওয়া হচ্ছে। কারণ হিসাবে এই কর্মকর্তা জানান, পিক আওয়ারে ৩২ থেকে ৩৩ এবং অফ-পিক আওয়ারে ২২-২৩ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সাপ্লাই পাচ্ছেন তারা।

লোডশেডিংয়ের মাধ্যমে বিদ্যুৎ ঘাটতির পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হচ্ছে বলে জানান। অন্য একটি সূত্র জানায়, ওজোপাডিকো জেলার হরিণাকু-ু উপজেলা শহর ছাড়া ৫টি উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এক লাখ পঁয়ত্রিশ হাজার গ্রাহকের মাঝে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে থাকে। এর মধ্যে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান রয়েছে ১৬ হাজার ৩২টি।

জেলা পল্লী বিদ্যুতের জিএম মো. ইছাহাক আলী সাংবাদিকদের এ বিষয়ে তথ্য দিতে রাজি হননি। আরেকটি সূত্র থেকে জানা গেছে, পল্লী বিদ্যুতের চাহিদা ৯০ মেগাওয়াট। বর্তমানে বিদ্যুৎ সরবরাহ হচ্ছে মাত্র ৫০ থেকে ৬০ মেগাওয়াট।