শুক্রবার | ৩০ জানুয়ারি ২০২৬ | শীতকাল
শিরোনাম :
Logo আর্ট সার্কেল খুলনা’র আত্মপ্রকাশ ও তিন দিনব্যাপী শিল্পকর্ম প্রদর্শনী শুরু Logo চাঁদপুর পৌর ৭ নং ওয়ার্ডে শেখ ফরিদ আহমেদ মানিকের গণসংযোগ ও উঠান বৈঠক Logo চাঁদপুরে স্বর্ণ শিশুদের নিয়ে দৈনিক বাংলাদেশের আলোর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন Logo নির্বাচনি প্রচারণায় বাধার অভিযোগ: গাইবান্ধা-৩ আসনে গণঅধিকার পরিষদের এমপি প্রার্থীর সংবাদ সম্মেলন Logo খুলনা-৬ আসনে জীবনমান উন্নয়নের অঙ্গীকার বিএনপি প্রার্থী মনিরুল হাসান বাপ্পীর Logo অ্যাসেটের অর্থায়নে কর্মমুখী সেমিনার ও জব ফেয়ার অনুষ্ঠিত শিক্ষার্থীদের কারিগরি শিক্ষায় প্রশিক্ষিত হয়ে গড়ে উঠতে হবে-যুগ্ম সচিব মুহাম্মদ মূনীরুজ্জামান ভূঁইয়া Logo চাঁদপুর পৌরসভার ৬, ৭ ও ৮নং ওয়ার্ডে মোমবাতি মার্কার গণসংযোগ Logo ভোট চাইতে গিয়ে মিলছে হাসি, ভোটারদের কণ্ঠে একটাই কথা—ধানের শীষ’ Logo ধানের শীর্ষের পক্ষে প্রচার প্রচারণায় পলাশবাড়ীতে কারা নির্যাতিত নেতাকর্মীদের পরিবার  Logo নীলকমল ইউনিয়নে ব্যাপক গণসংযোগ চরাঞ্চলের মানুষ মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত, তারা যেনো ভিন্ন কোনো গ্রহের -মোমবাতির প্রার্থী আহসান উল্লাহ

লামায় রাতের আধাঁরে পাথর পাচার

  • Nil Kontho
  • আপডেট সময় : ০৭:৫৯:১৭ অপরাহ্ণ, শুক্রবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৮
  • ৭৮৮ বার পড়া হয়েছে

লামা প্রতিনিধি: বান্দরবানের লামার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নে বেপরোয়া পাথর পাচারের কারণে দুর্বিসহ হয়ে উঠেছে সাধারণ মানুষের জীবন যাত্রা। পাথর পাচারে রাস্তাাঘাট ও ব্রিজ-কালর্ভাট ভেঙ্গে স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছে ইউনিয়নের প্রায় ৪০ হাজার মানুষ। পার্শ্ববর্তী কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার ৩০/৪০টি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট স্থানীয় প্রশাসনকে বৃদ্ধাংগুলী দেখিয়ে কোন প্রকার অনুমোদন ছাড়া পাহাড় কেটে ও খুঁড়ে পাথর উত্তোলন করছে। যোগাযোগ ব্যবস্থার ধ্বংসের পাশাপাশি অবৈধ পাথর উত্তোলনের কারণে এলাকার নদী, খাল, ছড়া ও ঝিরি গুলো ইতিমধ্যে শুকিয়ে তীব্র পানির সংকট দেখা দিয়েছে। গ্রামীণ কাঁচা সড়কে অসংখ্য গাড়ি চলাচলের কারণে ধূলাবালিতে রাস্তাঘাটে চলাফেরা করা যায়না। এছাড়া অতিরিক্ত ধূলার কারণে স্কুল, মাদ্রাসায় শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে যেতে পারছেনা এবং শ্বাসকষ্টসহ অসংখ্য রোগে ভুগছে সাধারণ জনগণ।

স্থানীয়দের কথা আলাপকালে জানা যায়, ইউনিয়নের বনপুর হতে ইয়াংছা সড়ক, কালিরঝিরি মুখ হতে ঘিলাতলী হয়ে ডুলহাজারা সড়ক ও গয়ালমারা হতে ডুলহাজারা সড়ক দিয়ে প্রতিদিন কমপক্ষে ১২০ হতে ১৫০ ট্রাক অবৈধ পাথর পাচার হচ্ছে। সরজমিনে গিয়ে এই প্রতিবেদক সহ সংবাদকর্মীদের একটি টিম ট্রাকে পাথর পাচারের বিষয়ে সত্যতা পেয়েছে। আরো জানা যায়, অনুমোদন না থাকায় দিনের চেয়েও রাতের অন্ধকার বেশী পাথর পাচার হয়। গভীর রাত পর্যন্ত ট্রাক গুলো চলাচল করে। স্থানীয় কেউ প্রতিবাদ করলে পাথর ব্যাবসায়ীদের রোষানলে পড়তে হয়।

স্থানীয় পাহাড়ি বাঙ্গালীদের কাছ থেকে জানা যায়, ইউনিয়নের ১,২,৩ ও ৯নং ওয়ার্ডের ছমুখাল, পাইকঝিরি, ওয়াক্রা পাড়া, খ্রিস্টান পাড়া, মরা ঝিরি, চচাই পাড়া, কেরানী ঝিরি, কইতরের ঝিরি, বুদুম ঝিরি, চিনির ঝিরি, গয়ালমারা, বালস্ট কারবারী পাড়া ঝিরি, জোয়াকি পাড়া, বাকঁখালী ঝিরি, হরিণ ঝিরি, রবাট কারবারী পাড়া ঝিরি, বালুর ঝিরি, আলিক্ষ্যং ঝিরি, কাঁঠালছড়া ও বদুর ঝিরি হতে পাথর উত্তোলন করছে ব্যবসায়ীরা।

এইসব নদী, খাল, ছড়া ও ঝিরি হতে প্রায় ৬০ জন ব্যবসায়ী পাথর উত্তোলন করে বলে জানা যায়। উক্ত ব্যবসায়ীরা হল, চকরিয়ার মনু মেম্বার, মহিউদ্দিন চৌধুরী, নাছির উদ্দিন, জামাল উদ্দিন ফকির, জমির উদ্দিন ভেন্ডি বাজার), মো. দলিল (পালাকাটা), আবচার উদ্দিন, জকির উলাহ, জয়নাল আবেদীন ড্রাইভার, ছৈয়দ আলম, বেলাল উদ্দিন কোং, শুক্কুর মিস্ত্রি, মো. সোহেল ভুট্টু, আমির হামজা (হাঁসের দিঘি), এখলাস (হাঁসের দিঘি), মুজিব, এনাম, ফাঁসিয়াখালীর হুমায়ন কবির চৌধুরী, চংপাত মুরুং, মো. আক্তার হোসেন (নতুন পাড়া), ওসালা মার্মা, ফেরদৌস (ইয়াংছা), ছুট্টু সহ প্রমূখ।
ফাঁসিয়াখালী ইউপি চেয়ারম্যান জাকের হোসেন মজুমদার জানান, আমার ইউনিয়নের কোন ঝিরি ছড়াতে ভাসমান পাথর নেই। প্রভাবশালী সিন্ডিকেট গত ৬/৭ বছর ধরে পাহাড় খুঁড়ে ও মাটি কেটে পাথর উত্তোলন করছে। আমাদের বাধা প্রশাসন সহ কেউ পাত্তা দিচ্ছেনা।
লামা উপজেলা নির্বাহী অফিসার খিনওয়ান নু বলেন, এখনো পাথরের পারমিন দেয়া হয়নি। রাতের আধাঁরে পাথর পাচার হচ্ছে বিষয়টি আমাকে অনেকে জানিয়েছে। আমরা ব্যবস্থা গ্রহণ করছি।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

আর্ট সার্কেল খুলনা’র আত্মপ্রকাশ ও তিন দিনব্যাপী শিল্পকর্ম প্রদর্শনী শুরু

লামায় রাতের আধাঁরে পাথর পাচার

আপডেট সময় : ০৭:৫৯:১৭ অপরাহ্ণ, শুক্রবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৮

লামা প্রতিনিধি: বান্দরবানের লামার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নে বেপরোয়া পাথর পাচারের কারণে দুর্বিসহ হয়ে উঠেছে সাধারণ মানুষের জীবন যাত্রা। পাথর পাচারে রাস্তাাঘাট ও ব্রিজ-কালর্ভাট ভেঙ্গে স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছে ইউনিয়নের প্রায় ৪০ হাজার মানুষ। পার্শ্ববর্তী কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার ৩০/৪০টি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট স্থানীয় প্রশাসনকে বৃদ্ধাংগুলী দেখিয়ে কোন প্রকার অনুমোদন ছাড়া পাহাড় কেটে ও খুঁড়ে পাথর উত্তোলন করছে। যোগাযোগ ব্যবস্থার ধ্বংসের পাশাপাশি অবৈধ পাথর উত্তোলনের কারণে এলাকার নদী, খাল, ছড়া ও ঝিরি গুলো ইতিমধ্যে শুকিয়ে তীব্র পানির সংকট দেখা দিয়েছে। গ্রামীণ কাঁচা সড়কে অসংখ্য গাড়ি চলাচলের কারণে ধূলাবালিতে রাস্তাঘাটে চলাফেরা করা যায়না। এছাড়া অতিরিক্ত ধূলার কারণে স্কুল, মাদ্রাসায় শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে যেতে পারছেনা এবং শ্বাসকষ্টসহ অসংখ্য রোগে ভুগছে সাধারণ জনগণ।

স্থানীয়দের কথা আলাপকালে জানা যায়, ইউনিয়নের বনপুর হতে ইয়াংছা সড়ক, কালিরঝিরি মুখ হতে ঘিলাতলী হয়ে ডুলহাজারা সড়ক ও গয়ালমারা হতে ডুলহাজারা সড়ক দিয়ে প্রতিদিন কমপক্ষে ১২০ হতে ১৫০ ট্রাক অবৈধ পাথর পাচার হচ্ছে। সরজমিনে গিয়ে এই প্রতিবেদক সহ সংবাদকর্মীদের একটি টিম ট্রাকে পাথর পাচারের বিষয়ে সত্যতা পেয়েছে। আরো জানা যায়, অনুমোদন না থাকায় দিনের চেয়েও রাতের অন্ধকার বেশী পাথর পাচার হয়। গভীর রাত পর্যন্ত ট্রাক গুলো চলাচল করে। স্থানীয় কেউ প্রতিবাদ করলে পাথর ব্যাবসায়ীদের রোষানলে পড়তে হয়।

স্থানীয় পাহাড়ি বাঙ্গালীদের কাছ থেকে জানা যায়, ইউনিয়নের ১,২,৩ ও ৯নং ওয়ার্ডের ছমুখাল, পাইকঝিরি, ওয়াক্রা পাড়া, খ্রিস্টান পাড়া, মরা ঝিরি, চচাই পাড়া, কেরানী ঝিরি, কইতরের ঝিরি, বুদুম ঝিরি, চিনির ঝিরি, গয়ালমারা, বালস্ট কারবারী পাড়া ঝিরি, জোয়াকি পাড়া, বাকঁখালী ঝিরি, হরিণ ঝিরি, রবাট কারবারী পাড়া ঝিরি, বালুর ঝিরি, আলিক্ষ্যং ঝিরি, কাঁঠালছড়া ও বদুর ঝিরি হতে পাথর উত্তোলন করছে ব্যবসায়ীরা।

এইসব নদী, খাল, ছড়া ও ঝিরি হতে প্রায় ৬০ জন ব্যবসায়ী পাথর উত্তোলন করে বলে জানা যায়। উক্ত ব্যবসায়ীরা হল, চকরিয়ার মনু মেম্বার, মহিউদ্দিন চৌধুরী, নাছির উদ্দিন, জামাল উদ্দিন ফকির, জমির উদ্দিন ভেন্ডি বাজার), মো. দলিল (পালাকাটা), আবচার উদ্দিন, জকির উলাহ, জয়নাল আবেদীন ড্রাইভার, ছৈয়দ আলম, বেলাল উদ্দিন কোং, শুক্কুর মিস্ত্রি, মো. সোহেল ভুট্টু, আমির হামজা (হাঁসের দিঘি), এখলাস (হাঁসের দিঘি), মুজিব, এনাম, ফাঁসিয়াখালীর হুমায়ন কবির চৌধুরী, চংপাত মুরুং, মো. আক্তার হোসেন (নতুন পাড়া), ওসালা মার্মা, ফেরদৌস (ইয়াংছা), ছুট্টু সহ প্রমূখ।
ফাঁসিয়াখালী ইউপি চেয়ারম্যান জাকের হোসেন মজুমদার জানান, আমার ইউনিয়নের কোন ঝিরি ছড়াতে ভাসমান পাথর নেই। প্রভাবশালী সিন্ডিকেট গত ৬/৭ বছর ধরে পাহাড় খুঁড়ে ও মাটি কেটে পাথর উত্তোলন করছে। আমাদের বাধা প্রশাসন সহ কেউ পাত্তা দিচ্ছেনা।
লামা উপজেলা নির্বাহী অফিসার খিনওয়ান নু বলেন, এখনো পাথরের পারমিন দেয়া হয়নি। রাতের আধাঁরে পাথর পাচার হচ্ছে বিষয়টি আমাকে অনেকে জানিয়েছে। আমরা ব্যবস্থা গ্রহণ করছি।