শনিবার | ১৪ মার্চ ২০২৬ | বসন্তকাল
শিরোনাম :
Logo দরিদ্র পরিবারের মুখে হাসি ফুটাল ‘স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘আলোর দিশা Logo চাঁদপুরে প্রাইভেট হসপিটাল ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনস্টিক অ্যাসোসিয়েশনের ইফতার মাহফিল Logo অমর একুশে বইমেলায় খুবি শিক্ষার্থীর প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘তোমার শহরে কারফিউ’ Logo বীরগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় ২জন নিহত, আহত ৭ Logo কটকা ট্রাজেডিতে শহীদদের স্মরণে খুবিতে শোক দিবস পালন Logo চাঁদপুরে এলজিইডির নতুন নির্বাহী প্রকৌশলী মনোয়ার উদ্দিন Logo ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি: ৫ শতাধিক পরিবারের মাঝে উপহার দিলেন শেখ আবদুল্লাহ Logo সাহসী কলমে পথচলা: চাঁদপুরের একমাত্র নারী সাংবাদিক সাবিত্রী রানী ঘোষ Logo চাঁদপুর এলজিইডিতে সম্মাননা অনুষ্ঠান: বিদায়ী নির্বাহী প্রকৌশলীকে শ্রদ্ধা, নবাগতকে স্বাগত Logo কয়রায় পাথরখালী আগারঘেরী খালের পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন

দিনাজপুরের বানভাসি মানুষকে ৩ মাস খাদ্য সহায়তা দেয়া হবে- প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

  • Nil Kontho
  • আপডেট সময় : ০৫:৫৫:২৭ অপরাহ্ণ, রবিবার, ২০ আগস্ট ২০১৭
  • ৭৯৬ বার পড়া হয়েছে

এন.আই.মিলন, দিনাজপুর প্রতিনিধি- বন্যা দূর্গতদের আগামী তিন মাস খাদ্য সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, যতক্ষণ পর্যন্ত না ঘরে নতুন আমন ফসল উঠে, ততদিন বানভাসি মানুষদের খাদ্য সহায়তা দেয়া হবে। কৃষক ভাইদের পূণঃরায় কৃষি ঋণ প্রদানসহ নতুন করে বীজ রোপণের ব্যবস্থা করা হবে। যাদের বাড়ি-ঘর ভেঙ্গে গেছে তাদের টিন প্রদানের পাশাপাশি নতুন করে বাড়ি-ঘর তুলে দেয়ার ব্যবস্থা করা হবে। যে সমস্ত ছেলে-মেয়ে পড়া-লেখা করতে পারেনি, বন্যায় যাদের বই-পত্র নষ্ট হয়েছে গেছে, প্রয়োজনে যাদের নতুন করে বই-পত্র প্রদান করা হবে। তিনি রোববার সকালে দিনাজপুরে বন্যা দূর্গত এলাকারা পরিদর্শন এবং বানভাসি মানুষকে ত্রাণ বিতরণ কালে একথা বলেন।
দিনাজপুর জিলা স্কুল আশ্রয় কেন্দ্র ত্রাণ বিতরণের আগে তার ভাষণে প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনা বানভাসি মানুষের কাছে ঋণের টাকা এখন না তুলার নিদের্শ দিয়ে বলেন, এনজিও গুলো যাতে বানভাসি মানুষের কাছে এখন ঋণের টাকা না তুলে তার জন্য নিদের্শ দিচ্ছি।
সকাল ১০টা ৫৯ মিনিটে থেকে ১১টা ১২ মিনিট পর্যন্ত ১৩ মিনিটের ভাষণে প্রধানমন্ত্রী বলেন,বন্যার কারণে নতুন করে খাদ্য আমদানী করা হচ্ছে। আমাদের যথেষ্ট খাদ্য মজুদ রয়েছে। কেউ যাতে না খেয়ে থাকে আমরা তার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করবো।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আপনাদের এতটুকু বলতে পারি যতক্ষণ আমি আছি ততক্ষণ বন্যার কারণে ক্ষতিগ্রস্থ কোনো মানুষ না খেয়ে মরবে না। আপনাদের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য প্রয়োজনে আমার বাবার মতো আমিও জীবন দিয়ে যাবো এটাই আমার প্রতীজ্ঞা।
তিনি আরো বলেন, আমার বাবা শেখ মুজিবুরের স্বপ্ন ছিলো ক্ষুধা মুক্ত দারিদ্য মুক্ত দেশ গড়ে তোলা। তাই আমি নিজেকে উৎসর্গ করেছি বাংলার মানুষের জন্য দুখী মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর জন্য। তিনি বলেন, সব ক্ষতিগ্রস্থ মানুষ যথাযথ ক্ষতিপূরণ পাবেন। চিকিৎসা ব্যবস্থা, খাদ্য ব্যবস্থা সব করবে সরকার।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বন্যার কারণে যত রাস্তাঘাট, ব্রিজ-কালভার্ট নষ্ট হয়েছে, সবই সংস্কার করা হবে। সেইসঙ্গে ক্ষতিগ্রস্থ এলাকা এবং এর মানুষের জন্য যা যা করা প্রয়োজন, তার সব করা হবে।
দিনাজপুর জেলা প্রশাসক মীর খায়রুল আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও দিনাজপুর-২ আসনের সাংসদ খালিদ মাহমুদ চৌধূরী, জাতীয় সংসদের হুইপ ও দিনাজপুর-৩ আসনের সাংসদ ইকবালুর রহিম, জেলা আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মীর্জা আশফাক, কোতয়ালী আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক বিশ্বজিৎ ঘোষ কাঞ্চন বক্তব্য রাখেন।
দিনাজপুরে ইয়াসমি ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনা উল্লেখ করে প্রধানন্ত্রী বলেন, সে সময় বিএনপি ক্ষমতায় ছিলো। আমি সেসময় নির্যাতিত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছিলাম।
এ সময় প্রধানমন্ত্রী সফর সঙ্গী হিসেবে কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধূরী, গণশিক্ষা মন্ত্রী ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোস্তফিজুর রহমান ফিজার, পররাষ্ট্র মন্ত্রী হাসান মাহমুদ আলী, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম, আওয়ামীলীগের যুগ্ম সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও দিনাজপুর-২ আসনের সাংসদ খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, সাবেক পানি সম্পদ মন্ত্রী রমেস চন্দ্র সেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্নসম্পাদক জাহাঙ্গীর কবীর নানক এমপি, দিনাজপুর-১ আসনের সাংসদ মনোরঞ্জন শীল গোপাল, আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা সতীশ চন্দ্র রায়, জেলা প্রশাসক মীর খায়রুল আলম, দিনাজপুর-৬ আসনের সাংসদ শিবলী সাদিক, পুলিশ সুপার হামিদুল আলম উপস্থিত ছিলেন।
পরে প্রধানমন্ত্রী বিরল উপজেলার ফরক্কাবাদ ইউনিয়নের তেঘরা উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে আশ্রয় কেন্দ্র পরিদর্শণ ও বন্যার্তদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করেন।
দিনাজপুর সার্কিট হাউজে দুপুরের নামাজ ও খাওয়া শেষ করে তিনি কুড়িগ্রামের উদ্দেশ্যে হেলিকপ্টার যোগে রওনা দেন।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

দরিদ্র পরিবারের মুখে হাসি ফুটাল ‘স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘আলোর দিশা

দিনাজপুরের বানভাসি মানুষকে ৩ মাস খাদ্য সহায়তা দেয়া হবে- প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

আপডেট সময় : ০৫:৫৫:২৭ অপরাহ্ণ, রবিবার, ২০ আগস্ট ২০১৭

এন.আই.মিলন, দিনাজপুর প্রতিনিধি- বন্যা দূর্গতদের আগামী তিন মাস খাদ্য সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, যতক্ষণ পর্যন্ত না ঘরে নতুন আমন ফসল উঠে, ততদিন বানভাসি মানুষদের খাদ্য সহায়তা দেয়া হবে। কৃষক ভাইদের পূণঃরায় কৃষি ঋণ প্রদানসহ নতুন করে বীজ রোপণের ব্যবস্থা করা হবে। যাদের বাড়ি-ঘর ভেঙ্গে গেছে তাদের টিন প্রদানের পাশাপাশি নতুন করে বাড়ি-ঘর তুলে দেয়ার ব্যবস্থা করা হবে। যে সমস্ত ছেলে-মেয়ে পড়া-লেখা করতে পারেনি, বন্যায় যাদের বই-পত্র নষ্ট হয়েছে গেছে, প্রয়োজনে যাদের নতুন করে বই-পত্র প্রদান করা হবে। তিনি রোববার সকালে দিনাজপুরে বন্যা দূর্গত এলাকারা পরিদর্শন এবং বানভাসি মানুষকে ত্রাণ বিতরণ কালে একথা বলেন।
দিনাজপুর জিলা স্কুল আশ্রয় কেন্দ্র ত্রাণ বিতরণের আগে তার ভাষণে প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনা বানভাসি মানুষের কাছে ঋণের টাকা এখন না তুলার নিদের্শ দিয়ে বলেন, এনজিও গুলো যাতে বানভাসি মানুষের কাছে এখন ঋণের টাকা না তুলে তার জন্য নিদের্শ দিচ্ছি।
সকাল ১০টা ৫৯ মিনিটে থেকে ১১টা ১২ মিনিট পর্যন্ত ১৩ মিনিটের ভাষণে প্রধানমন্ত্রী বলেন,বন্যার কারণে নতুন করে খাদ্য আমদানী করা হচ্ছে। আমাদের যথেষ্ট খাদ্য মজুদ রয়েছে। কেউ যাতে না খেয়ে থাকে আমরা তার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করবো।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আপনাদের এতটুকু বলতে পারি যতক্ষণ আমি আছি ততক্ষণ বন্যার কারণে ক্ষতিগ্রস্থ কোনো মানুষ না খেয়ে মরবে না। আপনাদের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য প্রয়োজনে আমার বাবার মতো আমিও জীবন দিয়ে যাবো এটাই আমার প্রতীজ্ঞা।
তিনি আরো বলেন, আমার বাবা শেখ মুজিবুরের স্বপ্ন ছিলো ক্ষুধা মুক্ত দারিদ্য মুক্ত দেশ গড়ে তোলা। তাই আমি নিজেকে উৎসর্গ করেছি বাংলার মানুষের জন্য দুখী মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর জন্য। তিনি বলেন, সব ক্ষতিগ্রস্থ মানুষ যথাযথ ক্ষতিপূরণ পাবেন। চিকিৎসা ব্যবস্থা, খাদ্য ব্যবস্থা সব করবে সরকার।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বন্যার কারণে যত রাস্তাঘাট, ব্রিজ-কালভার্ট নষ্ট হয়েছে, সবই সংস্কার করা হবে। সেইসঙ্গে ক্ষতিগ্রস্থ এলাকা এবং এর মানুষের জন্য যা যা করা প্রয়োজন, তার সব করা হবে।
দিনাজপুর জেলা প্রশাসক মীর খায়রুল আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও দিনাজপুর-২ আসনের সাংসদ খালিদ মাহমুদ চৌধূরী, জাতীয় সংসদের হুইপ ও দিনাজপুর-৩ আসনের সাংসদ ইকবালুর রহিম, জেলা আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মীর্জা আশফাক, কোতয়ালী আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক বিশ্বজিৎ ঘোষ কাঞ্চন বক্তব্য রাখেন।
দিনাজপুরে ইয়াসমি ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনা উল্লেখ করে প্রধানন্ত্রী বলেন, সে সময় বিএনপি ক্ষমতায় ছিলো। আমি সেসময় নির্যাতিত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছিলাম।
এ সময় প্রধানমন্ত্রী সফর সঙ্গী হিসেবে কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধূরী, গণশিক্ষা মন্ত্রী ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোস্তফিজুর রহমান ফিজার, পররাষ্ট্র মন্ত্রী হাসান মাহমুদ আলী, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম, আওয়ামীলীগের যুগ্ম সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও দিনাজপুর-২ আসনের সাংসদ খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, সাবেক পানি সম্পদ মন্ত্রী রমেস চন্দ্র সেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্নসম্পাদক জাহাঙ্গীর কবীর নানক এমপি, দিনাজপুর-১ আসনের সাংসদ মনোরঞ্জন শীল গোপাল, আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা সতীশ চন্দ্র রায়, জেলা প্রশাসক মীর খায়রুল আলম, দিনাজপুর-৬ আসনের সাংসদ শিবলী সাদিক, পুলিশ সুপার হামিদুল আলম উপস্থিত ছিলেন।
পরে প্রধানমন্ত্রী বিরল উপজেলার ফরক্কাবাদ ইউনিয়নের তেঘরা উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে আশ্রয় কেন্দ্র পরিদর্শণ ও বন্যার্তদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করেন।
দিনাজপুর সার্কিট হাউজে দুপুরের নামাজ ও খাওয়া শেষ করে তিনি কুড়িগ্রামের উদ্দেশ্যে হেলিকপ্টার যোগে রওনা দেন।