সিলেটে শ্রমিক নেতাদের নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে ছাত্র ইউনিয়নের বিক্ষোভ মিছিল
জাবি প্রতিনিধিঃ
সিলেটে গ্রেপ্তারকৃত ছাত্র ও শ্রমিক নেতাদের নিঃশর্ত মুক্তি এবং রিকশাশ্রমিকদের ১১ দফা দাবির সাথে সংহতি প্রকাশ করে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন জাবি সংসদের নেতাকর্মীরা।
আজ বুধবার (৫ই নভেম্বর) দুপুর ২ টায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের মুরাদ চত্ত্বর থেকে শুরু হয়ে বটতলা এলাকাতে এসে বিক্ষোভ মিছিলটি শেষ হয়। মিছিল শেষে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করেন শিক্ষার্থীরা। সমাবেশ সঞ্চালনা করেন ছাত্র ইউনিয়ন জাবি সংসদের শিক্ষা ও গবেষণা সম্পাদক এবং নৃবিজ্ঞান বিভাগ ৪৯ তম আবর্তনের শিক্ষার্থী ইমরান হাসান শুভ।
সঞ্চালনাকালে শুভ বলেন, যখন থেকে অটোরিক্সা চালু হয়েছে তখন থেকেই অনেক বিশেষজ্ঞ ব্যক্তি অটোরিক্সাকে কিভাবে একটা নীতিমালার অধীনে এনে নিরাপদ পরিবহনে পরিণত করা যায় সে ব্যাপারে কথা বলে আসছেন। মহাসড়কে তিন চাকার যানবাহন নিষিদ্ধ হওয়া সত্ত্বেও অটোরিক্সা সহ অন্যান্য ‘থ্রি হুইলার’ চলাচল করছে। কিন্তু এ বিষয়ে কেন কোন নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়নি সে জবাব সরকারের কাছে নেই। আমরা চাই রিকশাচালকদের যথাযত প্রশিক্ষণ ও গতি নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা নিশ্চিত করে লাইসেন্স প্রদান করার মাধ্যমে এ সমস্যার সমাধান করা হোক।
ছাত্র ইউনিয়নের বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশের সাথে সংহতি জানিয়ে জাহাঙ্গীরনগর ফটোগ্রাফি সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক ফারিয়া জামান নিকি বলেন, অটোরিকশার ঝুঁকির বিষয়গুলো আমরা অস্বীকার করতে পারিনা কিন্তু একবারে সকল অটোরিকশা নিষিদ্ধ করার মাধ্যমে একটা পেশাকে মুছে দেওয়া এ সমস্যার সমাধান হতে পারেনা। আলোচনা ও সুষ্ঠু পদক্ষেপের মাধ্যমে অটোরিকশা সমস্যা সমাধান করা সম্ভব। সেটি না করে সমাবেশ থেকে শ্রমিক নেতাদের গণগ্রেপ্তার করে জনমনে ভীতির সঞ্চার করা হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, অটোরিকশা সমস্যার সুষ্ঠু সমাধান না করে সিলেটে আবাদি-অনাবাদি বিতর্ক সৃষ্টি করা হয়েছে। বলা হচ্ছে যারা অটরিকশা চালান তাদের বেশিরভাগই সিলেটের স্থানীয় বাসিন্দা নয়, বাইরে থেকে এসে অটোরিকশা চালান। এই অপপ্রচারের ফলে রিকশালকদের ওপরে সামাজিক ও অর্থনৈতিক নিপীড়ন আরো প্রকট আকার ধারণ করেছে।
এছাড়াও জাবি ছাত্র ইউনিয়নের সদস্য এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটক ও নাট্যতত্ব বিভাগ ৫৩ তম আবর্তনের শিক্ষার্থী অদ্রিতা রায় বলেন, কোনপ্রকার সতর্কতা ছাড়াই সিলেটে অটোরিকশা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এই রিকশাচালকরা গরিব মানুষ এবং হুট করে অন্য কোন পেশা বা ব্যবসা শুরু করা সম্ভব না। ফলে জীবিকা নির্বাহের জন্য এই লক্ষাধিক রিকশাশ্রমিকের অনেকেই ছিনতাইসহ অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকান্ডের সাথে জড়িয়ে পরতে পারে।
জুলাই অভ্যুত্থানের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, এই শ্রমিকদের রক্তের ওপরেই ইন্টেরিম সরকার দাঁড়িয়ে আছে। এই রিকশাচালকেরা জুলাইয়ে আহতদের হাসপাতালে নিয়েছেন, শহীদদের লাশ বহন করে নিয়ে গেছেন। জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম আইকনিক একটি ছবি যেখানে একজন রিকশাচালক আন্দোলনকারীদের স্যালুট দিচ্ছেন যেটি জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তঃর্জাতিক মহলে সাড়া ফেলেছে। অথচ জুলাইয়ের পরবর্তী সময়ে দেখা যাচ্ছে সেই রিকশাচালকদের পেটেই লাত্থি দেওয়া হচ্ছে। যাদের রক্তে জুলাই আন্দোলন সফল হয়েছে তাদেরকে সম্মানটুকু দেন, যেহেতু রিকশাচালকদের ছবি ব্যবহার করেন তাদের দাবিটাও মেনে নেন।
সমাবেশের সমাপনি বক্তব্যে ছাত্র ইউনিয়ন জাবি সংসদের সভাপতি এবং নৃবিজ্ঞান বিভাগ ৫০ তম আবর্তনের শিক্ষার্থী অদ্রি অংকুর বলেন, ২০১৯ সালের ৫ই নভেম্বর আজকের এই দিনে তৎকালীন উপাচার্য ফারজানা ইসলাম দূর্নীতি বিরোধী আন্দোলন কারীদের ওপর ছাত্রলীগ লেলিয়ে দিয়ে আন্দোলন দমন করার চেষ্টা করেছিলেন। গণঅভ্যুত্থানের পরে এসেও ক্ষমতা ব্যবহার করে আন্দোলন দমন করার যে সংস্কৃতি এর খুব একটা পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছেনা। পূর্বে যেমন ছাত্রলীগ, পুলিশসহ বিভিন্ন পক্ষের সহায়তায় আন্দোলনকারীদের দমন করা হতো এখনো অনেকটা সেই চিত্রই দেখা যাচ্ছে। ছাত্র-শ্রমিক-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে যে নতুন বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন আমরা দেখেছিলাম সেখানে শ্রমিকরাই পদে পদে সরকারের দ্বারা নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। গতকাল সিলেটে রিকশাচালকদের ন্যায্য দাবিতে করা আন্দোলনে সংহতি জানাতে গেলে সেখান থেকে ছাত্র ও শ্রমিকনেতাদের গণগ্রেপ্তার করা হয়। ছাত্রনেতাদের মুক্তি দেওয়া হলেও শ্রমিকনেতারা এখনো জেলে আছেন। আমরা বলতে চাই অটোরিকশা চালকদের ১১ দফা দাবি আলোচনা সাপেক্ষে মেনে নিতে হবে এবং গ্রেপ্তারকৃত সকল ছাত্র ও শ্রমিকনেতাদের অবিলম্বে মুক্তি দিতে হবে।

























































