‘আমি স্টারলিংক বন্ধ করে দিলে তারা ধসে পড়বে’

টেসলা ও স্পেসএক্সের সিইও ইলন মাস্ক ইউক্রেনের প্রতি তার অসন্তোষ থাকা সত্ত্বেও দেশটির ইন্টারনেট সেবা বন্ধ করবেন না বলে জানিয়েছেন। টেক বিলিয়নিয়ার মাস্ক এবং মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও পোল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রাদোসল সিকোর্সকির সঙ্গে এক্স (সাবেক টুইটার)-এ বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েছেন।

রোববার সিকোর্সকি বলেন, পোল্যান্ড যদি ইউক্রেনের স্টারলিংক পরিষেবার খরচ চালিয়ে যেতে না পারে, তবে বিকল্প সরবরাহকারীর সন্ধান করতে হবে। মাস্কের স্টারলিংক ইউক্রেনের সামরিক বাহিনীর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ মাধ্যম হিসেবে কাজ করছে।

মাস্ক এক্স-এ মন্তব্য করে বলেন, আমি সরাসরি পুতিনকে ইউক্রেন ইস্যুতে দ্বৈত লড়াইয়ের চ্যালেঞ্জ জানিয়েছি। আমার স্টারলিংক ব্যবস্থা ইউক্রেনীয় বাহিনীর মেরুদণ্ড। আমি যদি এটি বন্ধ করে দিই, তাহলে তাদের সম্পূর্ণ ফ্রন্টলাইন ধসে পড়বে।মাস্ক আরও বলেন, আমি হতাশ যে এই যুদ্ধ দীর্ঘদিন ধরে চলছে এবং এটি একটি স্থবির পরিস্থিতিতে গিয়ে ঠেকেছে, যা ইউক্রেন অবশেষে হারবে।

মার্কো রুবিও মাস্কের সমর্থনে বলেন, কেউ ইউক্রেন থেকে স্টারলিংক বন্ধ করার হুমকি দেয়নি। আসলে স্টারলিংক ছাড়া ইউক্রেন অনেক আগেই এই যুদ্ধ হারিয়ে ফেলত এবং এখন রাশিয়া পোল্যান্ডের সীমান্তে থাকত।

পোলিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সমালোচনায় মাস্ক আরও বলেন, শান্ত থাকুন, ছোট মানুষ। আপনি সামান্য অর্থ ব্যয় করছেন এবং স্টারলিংকের কোনো বিকল্প নেই।এর আগে, রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনের গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদের প্রবেশাধিকার পাওয়ার জন্য স্টারলিংক সংযোগ বন্ধের হুমকি দিতে পারে।

তবে রোববার মাস্ক স্পষ্ট করে বলেন, আমি যতই ইউক্রেন নীতির সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করি না কেন, স্টারলিংক কখনো বন্ধ হবে না। রাশিয়ান বাহিনী অন্য সব যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত করতে পারলেও স্টারলিংক ব্যাহত করতে পারে না। আমরা কখনো এটি বন্ধ করব না বা এটিকে একটি চুক্তির অংশ বানাব না।

বর্তমানে ইউক্রেনে প্রায় ৪২ হাজার স্টারলিংক টার্মিনাল কাজ করছে, যার প্রায় অর্ধেকের অর্থায়ন করেছে পোল্যান্ড। এই টার্মিনালগুলো ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী এবং জরুরি পরিষেবার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

ট্যাগস :

‘আমি স্টারলিংক বন্ধ করে দিলে তারা ধসে পড়বে’

আপডেট সময় : ১২:৩১:৩৯ অপরাহ্ণ, সোমবার, ১০ মার্চ ২০২৫
টেসলা ও স্পেসএক্সের সিইও ইলন মাস্ক ইউক্রেনের প্রতি তার অসন্তোষ থাকা সত্ত্বেও দেশটির ইন্টারনেট সেবা বন্ধ করবেন না বলে জানিয়েছেন। টেক বিলিয়নিয়ার মাস্ক এবং মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও পোল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রাদোসল সিকোর্সকির সঙ্গে এক্স (সাবেক টুইটার)-এ বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েছেন।

রোববার সিকোর্সকি বলেন, পোল্যান্ড যদি ইউক্রেনের স্টারলিংক পরিষেবার খরচ চালিয়ে যেতে না পারে, তবে বিকল্প সরবরাহকারীর সন্ধান করতে হবে। মাস্কের স্টারলিংক ইউক্রেনের সামরিক বাহিনীর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ মাধ্যম হিসেবে কাজ করছে।

মাস্ক এক্স-এ মন্তব্য করে বলেন, আমি সরাসরি পুতিনকে ইউক্রেন ইস্যুতে দ্বৈত লড়াইয়ের চ্যালেঞ্জ জানিয়েছি। আমার স্টারলিংক ব্যবস্থা ইউক্রেনীয় বাহিনীর মেরুদণ্ড। আমি যদি এটি বন্ধ করে দিই, তাহলে তাদের সম্পূর্ণ ফ্রন্টলাইন ধসে পড়বে।মাস্ক আরও বলেন, আমি হতাশ যে এই যুদ্ধ দীর্ঘদিন ধরে চলছে এবং এটি একটি স্থবির পরিস্থিতিতে গিয়ে ঠেকেছে, যা ইউক্রেন অবশেষে হারবে।

মার্কো রুবিও মাস্কের সমর্থনে বলেন, কেউ ইউক্রেন থেকে স্টারলিংক বন্ধ করার হুমকি দেয়নি। আসলে স্টারলিংক ছাড়া ইউক্রেন অনেক আগেই এই যুদ্ধ হারিয়ে ফেলত এবং এখন রাশিয়া পোল্যান্ডের সীমান্তে থাকত।

পোলিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সমালোচনায় মাস্ক আরও বলেন, শান্ত থাকুন, ছোট মানুষ। আপনি সামান্য অর্থ ব্যয় করছেন এবং স্টারলিংকের কোনো বিকল্প নেই।এর আগে, রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনের গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদের প্রবেশাধিকার পাওয়ার জন্য স্টারলিংক সংযোগ বন্ধের হুমকি দিতে পারে।

তবে রোববার মাস্ক স্পষ্ট করে বলেন, আমি যতই ইউক্রেন নীতির সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করি না কেন, স্টারলিংক কখনো বন্ধ হবে না। রাশিয়ান বাহিনী অন্য সব যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত করতে পারলেও স্টারলিংক ব্যাহত করতে পারে না। আমরা কখনো এটি বন্ধ করব না বা এটিকে একটি চুক্তির অংশ বানাব না।

বর্তমানে ইউক্রেনে প্রায় ৪২ হাজার স্টারলিংক টার্মিনাল কাজ করছে, যার প্রায় অর্ধেকের অর্থায়ন করেছে পোল্যান্ড। এই টার্মিনালগুলো ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী এবং জরুরি পরিষেবার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।