বুধবার | ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | শীতকাল
শিরোনাম :
Logo নবম পে স্কেল বাস্তবায়নের দাবিতে খুবি অফিসার্স কল্যাণ পরিষদের মানববন্ধন Logo গণমাধ্যমে লেখালেখি: পেশাগত নীতিনৈতিকতা ও দায়িত্ববোধ – ড. মাহরুফ চৌধুরী Logo স্টুডেন্ট স্কয়ার: শিক্ষার্থী থেকেই টেকসই পরিবর্তনের সূচনা Logo কেউ নির্বাচনী আচরণ বিধিমালা ভঙ্গ করলে আইনি ব্যবস্থা : স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা Logo এনবিআরের ওয়েবসাইটে এইচএস কোডভিত্তিক আমদানি তথ্য প্রকাশ Logo গাজীপুর-৪ আসনের দুই প্রার্থীর হাতে তৌফিক সুলতান স্যারের ‘জ্ঞানের জগৎ’ বই Logo পবিত্র লাইলাতুল বরাত আনজুমান ট্রাস্ট’র ব্যবস্থাপনায় কর্মসূচি Logo পলাশবাড়ীতে ব্যবসায়ীকে ছুরিকাঘাতের ঘটনায় দোকান বন্ধ রেখে বিক্ষোভ Logo পলাশবাড়ীর কালিবাড়ী হাটে পেটে ও মাথায় ছুরিকাঘাতে আহত মুরগীর ব্যবসায়ী Logo ক্যারিয়ার ডেভেলপমেন্টের ক্ষেত্রে সুস্পষ্ট কর্মপরিকল্পনা থাকতে হবে: উপ-উপাচার্য

জিজ্ঞাসা: জিনের সঙ্গে কথা বলা সম্ভব?

  • নীলকন্ঠ ডেস্ক: নীলকন্ঠ ডেস্ক:
  • আপডেট সময় : ০২:৫২:২১ অপরাহ্ণ, সোমবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৫
  • ৭৭৪ বার পড়া হয়েছে
আমার হুসাইনুল কারিম। আমি ঢাকার মুগদা এলাকায় বসবাস করি। আমাদের এলাকায় এক ব্যক্তির দাবি, তার বশে জিন রয়েছে। তিনি নিয়মিত জিনের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের মাধ্যমে বিভিন্ন অজানা ও গোপন বিষয় জানতে পারেন। আমার জানার বিষয় হলো, জিন বশ করা, তার সঙ্গে কথা বলা সম্ভব কি? শরিয়তের দৃষ্টিতে জিনের মাধ্যমে তদবির করা জায়েজ?

প্রাজ্ঞ আলেমরা বলেন, জিনের সঙ্গে মানুষের সাক্ষাৎ সম্ভব। কোরআনের একাধিক আয়াত ও ঐতিহাসিক বিভিন্ন বর্ণনা থেকে তা প্রমাণিত। যেমন রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সঙ্গে জিনদের সাক্ষাতের ব্যাপারে অবতীর্ণ হয়েছে, ‘স্মরণ করো! যখন আমি তোমার প্রতি জিনদের একটি দলকে আকৃষ্ট করেছিলাম, যারা কোরআন পাঠ শুনেছিল। যখন তারা তার নিকট পৌঁছাল, তখন তারা বলল, চুপ করে শুনো। কোরআন পাঠ শেষে তারা নিজ সম্প্রদায়ের কাছে সতর্ককারী হিসেবে ফিরে গেল।’ (সুরা আহকাফ, আয়াত : ২৯)

আল্লামা ইবনে ইসহাকের সূত্রে আল্লামা ইবনে কাসির (রহ.) এই ঘটনাকে হিজরতের পূর্বে বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেছেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) তায়েফ থেকে ফেরার পথে এক উপত্যকার নামাজ আদায় করছিলেন। তখন জিনদের একটি দল তার কোরআন তিলাওয়াত শুনে থেমে যায় এবং রাসুল (সা.)-এর প্রতি ঈমানের ঘোষণা দেয়। আল্লামা ইবনে ইসহাক ও ইবনে সাদের মতে, সেই দলে দুই গোত্রের ৭০ থেকে ৯০ জন জিন উপস্থিত ছিল। (তাফসিরে ইবনে কাসির)
দ্বিতীয়ত, মানুষের দ্বারা জিন বশ করা সম্ভব। আল্লাহ তাআলা জিনদের ওপর সুলাইমান (আ.)-এর কর্তৃত্ব দান করেছিলেন। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘তাঁর প্রতিপালকের অনুমতিক্রমে জিনদের কতক তার সামনে কাজ করত। তাদের মধ্যে যে আমার নির্দেশ অমান্য করে তাকে আমি জ্বলন্ত অগ্নি-শাস্তি আস্বাদন করাব।’ (সুরা সাবা, আয়াত  : ১২)

তবে কোরআনে কিছু আয়াত ও শব্দ ব্যবহার করে অথবা তান্ত্রিক সাধনার মাধ্যমে জিন বশ করা শরিয়তের দৃষ্টিতে নিষিদ্ধ। কেননা এটা সুলাইমান (আ.)-এর বৈশিষ্ট্য। তাঁর নিম্নোক্ত দোয়ার কারণে রাসুলুল্লাহ (সা.) একটি জিনকে বন্দি করা থেকে বিরত ছিলেন। সুলাইমান (আ.) দোয়া করেছিলেন, ‘সে বলল, হে আমার প্রতিপালক! আমাকে ক্ষমা কোরো এবং আমাকে দান কোরো এমন এক রাজ্য যার অধিকারী আমি ছাড়া কেউ না হয়। তুমি পরম দাতা। তখন আমি তার অধীন করে দিলাম বায়ুকে, যা তার আদেশে, সে যেখানে ইচ্ছা করত সেখানে মৃদুমন্দভাবে প্রবাহিত হতো; এবং শয়তানদেরকে, যারা সকলেই ছিল প্রাসাদ-নির্মাণকারী ও ডুবুরি এবং শৃঙ্খলে আবদ্ধ আরো অনেককে।’ (সুরা সোয়াদ, আয়াত : ৩৫-৩৮)

জিনের সঙ্গে স্বাভাবিক দেখা-সাক্ষাৎ ও কথোপকথন নিষিদ্ধ নয়। কারো সঙ্গে জিনদের কথা হলে তাদেরকে দ্বিনের দাওয়াত দেওয়া উত্তম।

তৃতীয়ত, জিনরা গোপন বিষয় জানেন—এমনটি বিশ্বাস করা ঠিক নয়। বিশেষত তা যদি গায়েব জানার অর্থে হয়ে থাকে। অদৃশ্যের খবর কেবল মহান আল্লাহই জানেন। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘তাঁর হাতেই রয়েছে অদৃশ্যের চাকািঠি। তিনি ছাড়া কেউ তা জানেন না।’ (সুরা আনআম, আয়াত : ৫৯)

আল্লাহ সর্ববিষয়ে সবচেয়ে ভালো জানেন।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

নবম পে স্কেল বাস্তবায়নের দাবিতে খুবি অফিসার্স কল্যাণ পরিষদের মানববন্ধন

জিজ্ঞাসা: জিনের সঙ্গে কথা বলা সম্ভব?

আপডেট সময় : ০২:৫২:২১ অপরাহ্ণ, সোমবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৫
আমার হুসাইনুল কারিম। আমি ঢাকার মুগদা এলাকায় বসবাস করি। আমাদের এলাকায় এক ব্যক্তির দাবি, তার বশে জিন রয়েছে। তিনি নিয়মিত জিনের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের মাধ্যমে বিভিন্ন অজানা ও গোপন বিষয় জানতে পারেন। আমার জানার বিষয় হলো, জিন বশ করা, তার সঙ্গে কথা বলা সম্ভব কি? শরিয়তের দৃষ্টিতে জিনের মাধ্যমে তদবির করা জায়েজ?

প্রাজ্ঞ আলেমরা বলেন, জিনের সঙ্গে মানুষের সাক্ষাৎ সম্ভব। কোরআনের একাধিক আয়াত ও ঐতিহাসিক বিভিন্ন বর্ণনা থেকে তা প্রমাণিত। যেমন রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সঙ্গে জিনদের সাক্ষাতের ব্যাপারে অবতীর্ণ হয়েছে, ‘স্মরণ করো! যখন আমি তোমার প্রতি জিনদের একটি দলকে আকৃষ্ট করেছিলাম, যারা কোরআন পাঠ শুনেছিল। যখন তারা তার নিকট পৌঁছাল, তখন তারা বলল, চুপ করে শুনো। কোরআন পাঠ শেষে তারা নিজ সম্প্রদায়ের কাছে সতর্ককারী হিসেবে ফিরে গেল।’ (সুরা আহকাফ, আয়াত : ২৯)

আল্লামা ইবনে ইসহাকের সূত্রে আল্লামা ইবনে কাসির (রহ.) এই ঘটনাকে হিজরতের পূর্বে বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেছেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) তায়েফ থেকে ফেরার পথে এক উপত্যকার নামাজ আদায় করছিলেন। তখন জিনদের একটি দল তার কোরআন তিলাওয়াত শুনে থেমে যায় এবং রাসুল (সা.)-এর প্রতি ঈমানের ঘোষণা দেয়। আল্লামা ইবনে ইসহাক ও ইবনে সাদের মতে, সেই দলে দুই গোত্রের ৭০ থেকে ৯০ জন জিন উপস্থিত ছিল। (তাফসিরে ইবনে কাসির)
দ্বিতীয়ত, মানুষের দ্বারা জিন বশ করা সম্ভব। আল্লাহ তাআলা জিনদের ওপর সুলাইমান (আ.)-এর কর্তৃত্ব দান করেছিলেন। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘তাঁর প্রতিপালকের অনুমতিক্রমে জিনদের কতক তার সামনে কাজ করত। তাদের মধ্যে যে আমার নির্দেশ অমান্য করে তাকে আমি জ্বলন্ত অগ্নি-শাস্তি আস্বাদন করাব।’ (সুরা সাবা, আয়াত  : ১২)

তবে কোরআনে কিছু আয়াত ও শব্দ ব্যবহার করে অথবা তান্ত্রিক সাধনার মাধ্যমে জিন বশ করা শরিয়তের দৃষ্টিতে নিষিদ্ধ। কেননা এটা সুলাইমান (আ.)-এর বৈশিষ্ট্য। তাঁর নিম্নোক্ত দোয়ার কারণে রাসুলুল্লাহ (সা.) একটি জিনকে বন্দি করা থেকে বিরত ছিলেন। সুলাইমান (আ.) দোয়া করেছিলেন, ‘সে বলল, হে আমার প্রতিপালক! আমাকে ক্ষমা কোরো এবং আমাকে দান কোরো এমন এক রাজ্য যার অধিকারী আমি ছাড়া কেউ না হয়। তুমি পরম দাতা। তখন আমি তার অধীন করে দিলাম বায়ুকে, যা তার আদেশে, সে যেখানে ইচ্ছা করত সেখানে মৃদুমন্দভাবে প্রবাহিত হতো; এবং শয়তানদেরকে, যারা সকলেই ছিল প্রাসাদ-নির্মাণকারী ও ডুবুরি এবং শৃঙ্খলে আবদ্ধ আরো অনেককে।’ (সুরা সোয়াদ, আয়াত : ৩৫-৩৮)

জিনের সঙ্গে স্বাভাবিক দেখা-সাক্ষাৎ ও কথোপকথন নিষিদ্ধ নয়। কারো সঙ্গে জিনদের কথা হলে তাদেরকে দ্বিনের দাওয়াত দেওয়া উত্তম।

তৃতীয়ত, জিনরা গোপন বিষয় জানেন—এমনটি বিশ্বাস করা ঠিক নয়। বিশেষত তা যদি গায়েব জানার অর্থে হয়ে থাকে। অদৃশ্যের খবর কেবল মহান আল্লাহই জানেন। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘তাঁর হাতেই রয়েছে অদৃশ্যের চাকািঠি। তিনি ছাড়া কেউ তা জানেন না।’ (সুরা আনআম, আয়াত : ৫৯)

আল্লাহ সর্ববিষয়ে সবচেয়ে ভালো জানেন।