শুক্রবার | ২০ মার্চ ২০২৬ | বসন্তকাল
শিরোনাম :
Logo ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানালেন মানবদূত স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের আহ্বায়ক মোঃ সাইফুল ইসলাম আকাশ Logo ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানালেন পাক্ষিক চাঁদনগরের সম্পাদক সাবিত্রী রানী ঘোষ Logo শতাধিক অসহায় মানুষের মাঝে যমুনা রোড স্পোর্টিং ক্লাবের ঈদ উপহার বিতরণ Logo ইফতার মাহফিল থেকে সামাজিক জাগরণ: মাদকবিরোধী আন্দোলনে কাপাসিয়ার ঐক্য Logo ২০৩০ বিশ্বকাপ পর্যন্ত আনচেলত্তির চুক্তি বাড়াতে যাচ্ছে ব্রাজিল Logo কাবুলে পাকিস্তানের হামলার পর সংযম প্রদর্শনের আহ্বান চীনের Logo ঈদযাত্রা সুষ্ঠু ও সুন্দর করতে সব ইউনিটের ফোর্স নিয়োজিত থাকবে: আইজিপি Logo চাঁদপুরে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ ড্যাবের উদ্যোগে ঈদ উপহার বিতরণ ও ইফতার মাহফিল Logo মাদকমুক্ত কাপাসিয়া গড়ার অঙ্গীকার যুব সংগঠনের মিলনমেলায় নতুন দিগন্ত Logo চাঁদপুরে জিএম বাংলা লিমিটেডের ঈদ উপহার: অসহায় ও এতিমদের মুখে হাসি

‘জুলাই বিপ্লব’ এ আহতদের নিয়ে পাটাতন কুবির আলোচনা সভা

  • নীলকন্ঠ ডেস্ক: নীলকন্ঠ ডেস্ক:
  • আপডেট সময় : ১১:০৩:১৩ অপরাহ্ণ, বুধবার, ১১ ডিসেম্বর ২০২৪
  • ৮৯৮ বার পড়া হয়েছে
কুবি প্রতিনিধি:
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) বুদ্ধিবৃত্তিক সংগঠন ‘পাটাতন’ এর উদ্দ্যোগে ‘জুলাই বিপ্লব পরবর্তী নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে ক্যাম্পাসের ভূমিকা’ প্রসঙ্গে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (১১ ডিসেম্বর) বিকেল সাড়ে ৩ টার দিকে সংগঠনটির সভাপতি মাসুম বিল্লাহ’র সঞ্চালনায় কোরআন তেলাওয়াত ও জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে প্রশাসনিক ভবনের ৪১১ নাম্বার কক্ষে আলোচনা সভাটি শুরু হয়।
এরপর আহত শিক্ষার্থীরা জুলাই বিপ্লবের সময়ের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেন। আলোচনা শেষে আন্দোলনে আহত উপস্থিত শিক্ষার্থীদের ফুল দিয়ে বরণ করেন ‘পাটাতন’।
উক্ত আলোচনা সভায় আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. মুতাসীম বিল্লাহ এবং প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসান খান। এছাড়া, জুলাই বিপ্লবে আহত শিক্ষার্থী জারা বিনতে শহীদের পিতা শংকুচাইল ডিগ্রী কলেজের শিক্ষক শহীদুল ইসলামসহ জুলাই বিপ্লবে আহত অন্যান্য শিক্ষার্থীরাও উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনায় প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মুতাসিম বিল্লাহ বলেন, ‘আজকে আমি প্রথমেই স্মরণ করছি শহীদ আব্দুল কাইয়ুমকে। এতো শহিদের রক্তের বিনিময়ে আমরা ফ্যাসিবাদের উৎখাত করার পরও কেন আমরা ফ্যাসিবাদী চিন্তা-চেতনা, ধ্যান-ধারণা থেকে বের হয়ে আসতে পারছি না? জুলাই বিপ্লবের পর জাতিকে উন্নতির দিকে নিয়ে যাওয়াটাই আমাদের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। আমরা ফ্যাসিবাদ শাসকদের তাড়িয়েছি কিন্তু তাদের রেখে যাওয়া সিস্টেমকে বিতাড়িত করতে পারিনি। এই জায়গাটায় কাজ করা বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। জুলাই বিপ্লব পরবর্তী সুন্দর বাংলাদেশ বিনির্মানে আমাদের ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে প্রত্যেক মানুষের যদি সমান অধিকার নিশ্চিত করতে পারি এবং এটা যদি আমরা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসগুলো থেকে শুরু করতে পারি তাহলে জুলাই অভ্যুত্থানের দেখা স্বপ্ন আমরা বাস্তবায়ন করতে পারব।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ২০১৭-১৮ সেশনের শিক্ষার্থী ওমর ফারুক বলেন, ‘বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সূচনা ঘটে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের উপর পুলিশি হামলার মাধ্যমে। তারপর  ঢাকায় আমাদের বোনদের এবং শিক্ষার্থীদের উপর ছাত্রলীগের অশিক্ষিত টোকাইরা যখন হামলা করে, তা দেখে আমরা ঘরে বসে থাকতে পারি নাই। আমরা তখন কোনকিছুর পরোয়া না করে আন্দোলনে নেমেছিলাম। কিন্তু এখন বর্তমান সময়ে সমন্বয়ক নিয়ে পলিটিক্স চলতেছে। অনেকেই নিজেদের এখন সমন্বয়ক দাবী করছে। যখন আমরা অনেকে আন্দোলনের সময় আহত হয়েছিলাম, হাসপাতালে ছিলাম তখন তো এতো সমন্বয়ক দেখি নাই, গুটিকয়েকজন আহতদের খোঁজ খবর নিয়েছে। আমরা আসলে এই বাংলাদেশ দেখার জন্য আন্দোলন করি নাই।’
কুমিল্লা পলিটেকনিকের শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান শুভ  বলেন, ‘একটা মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলে হয়ে আমাদের প্রথম দায়িত্ব ছিলো আন্দোলনে যোগ দেয়া। কারণ আমাদের এতো টাকা নেই যে আমরা টাকা দিয়ে বা কোন কোটায় চাকরি পাবো। তাই আমি এই বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনে যোগ দেই প্রথম থেকেই । আন্দোলন চলাকালীন টমছম ব্রীজের কাছে গুলাগুলির সময় আমার চোখে গুলি লাগে এবং আমার এক চোখ হারাই৷ এখন অবধি আমার চোখের ৫ টি অপারেশন হয়েছে। আমার চোখের চিকিৎসার টাকা বহন করেন ছাত্রশিবির এবং ভাইয়েরা। তারপর ৫ আগষ্ট আমরা স্বাধীন হই। কিন্তু এখনো চাচ্ছে অনেকে আমাদের মধ্যে ফাটল তৈরি করতে। আমরা সবাই এক থাকবো এবং দেশের কাজে আবারও একসাথে নামবো।’
আন্দোলনকারী জারার অভিভাবক (বাবা) বলেন, ‘আমরা হয়তো ধরেই নিয়েছিলাম যে আমরা আগামী ৪৫ সাল পর্যন্ত এই অন্ধকারচ্ছন্ন এবং হাসিনার স্বৈরাচারের কবল থেকে আমাদের রক্ষা হবে না। কিন্তু আমাদের সন্তানেরা এই স্বৈরাচারের কবল থেকে, বৈষম্য থেকে আমাদের জাতিকে উদ্ধার করেছে। এই আন্দোলনে আমার স্ত্রী সন্তানও যোগদান করেছিলো। আমার মেয়ে ভিক্টোরিয়াতে পড়ে, সেও জীবনের ঝুকি নিয়ে প্রতিটি আন্দোলনে গিয়েছে।’
পাটাতনের সভাপতি মাসুম বিল্লাহ বলেন, ‘আজকে এই প্রোগ্রামের আয়োজন করার প্রধান উদ্দেশ্য ছিল কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়কে একটা জ্ঞানের রাজ্যে পরিনত করা। তাছাড়া জুলাই বিপ্লব শহিদ, আহত সবাইকে আরো একবার স্মরণ করা এবং তাদের এই চেতনাকে ধারণ করে ভবিষ্যতে বাংলাদেশ বিনির্মানে সহযোগিতা করা।’
ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানালেন মানবদূত স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের আহ্বায়ক মোঃ সাইফুল ইসলাম আকাশ

‘জুলাই বিপ্লব’ এ আহতদের নিয়ে পাটাতন কুবির আলোচনা সভা

আপডেট সময় : ১১:০৩:১৩ অপরাহ্ণ, বুধবার, ১১ ডিসেম্বর ২০২৪
কুবি প্রতিনিধি:
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) বুদ্ধিবৃত্তিক সংগঠন ‘পাটাতন’ এর উদ্দ্যোগে ‘জুলাই বিপ্লব পরবর্তী নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে ক্যাম্পাসের ভূমিকা’ প্রসঙ্গে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (১১ ডিসেম্বর) বিকেল সাড়ে ৩ টার দিকে সংগঠনটির সভাপতি মাসুম বিল্লাহ’র সঞ্চালনায় কোরআন তেলাওয়াত ও জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে প্রশাসনিক ভবনের ৪১১ নাম্বার কক্ষে আলোচনা সভাটি শুরু হয়।
এরপর আহত শিক্ষার্থীরা জুলাই বিপ্লবের সময়ের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেন। আলোচনা শেষে আন্দোলনে আহত উপস্থিত শিক্ষার্থীদের ফুল দিয়ে বরণ করেন ‘পাটাতন’।
উক্ত আলোচনা সভায় আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. মুতাসীম বিল্লাহ এবং প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসান খান। এছাড়া, জুলাই বিপ্লবে আহত শিক্ষার্থী জারা বিনতে শহীদের পিতা শংকুচাইল ডিগ্রী কলেজের শিক্ষক শহীদুল ইসলামসহ জুলাই বিপ্লবে আহত অন্যান্য শিক্ষার্থীরাও উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনায় প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মুতাসিম বিল্লাহ বলেন, ‘আজকে আমি প্রথমেই স্মরণ করছি শহীদ আব্দুল কাইয়ুমকে। এতো শহিদের রক্তের বিনিময়ে আমরা ফ্যাসিবাদের উৎখাত করার পরও কেন আমরা ফ্যাসিবাদী চিন্তা-চেতনা, ধ্যান-ধারণা থেকে বের হয়ে আসতে পারছি না? জুলাই বিপ্লবের পর জাতিকে উন্নতির দিকে নিয়ে যাওয়াটাই আমাদের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। আমরা ফ্যাসিবাদ শাসকদের তাড়িয়েছি কিন্তু তাদের রেখে যাওয়া সিস্টেমকে বিতাড়িত করতে পারিনি। এই জায়গাটায় কাজ করা বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। জুলাই বিপ্লব পরবর্তী সুন্দর বাংলাদেশ বিনির্মানে আমাদের ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে প্রত্যেক মানুষের যদি সমান অধিকার নিশ্চিত করতে পারি এবং এটা যদি আমরা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসগুলো থেকে শুরু করতে পারি তাহলে জুলাই অভ্যুত্থানের দেখা স্বপ্ন আমরা বাস্তবায়ন করতে পারব।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ২০১৭-১৮ সেশনের শিক্ষার্থী ওমর ফারুক বলেন, ‘বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সূচনা ঘটে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের উপর পুলিশি হামলার মাধ্যমে। তারপর  ঢাকায় আমাদের বোনদের এবং শিক্ষার্থীদের উপর ছাত্রলীগের অশিক্ষিত টোকাইরা যখন হামলা করে, তা দেখে আমরা ঘরে বসে থাকতে পারি নাই। আমরা তখন কোনকিছুর পরোয়া না করে আন্দোলনে নেমেছিলাম। কিন্তু এখন বর্তমান সময়ে সমন্বয়ক নিয়ে পলিটিক্স চলতেছে। অনেকেই নিজেদের এখন সমন্বয়ক দাবী করছে। যখন আমরা অনেকে আন্দোলনের সময় আহত হয়েছিলাম, হাসপাতালে ছিলাম তখন তো এতো সমন্বয়ক দেখি নাই, গুটিকয়েকজন আহতদের খোঁজ খবর নিয়েছে। আমরা আসলে এই বাংলাদেশ দেখার জন্য আন্দোলন করি নাই।’
কুমিল্লা পলিটেকনিকের শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান শুভ  বলেন, ‘একটা মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলে হয়ে আমাদের প্রথম দায়িত্ব ছিলো আন্দোলনে যোগ দেয়া। কারণ আমাদের এতো টাকা নেই যে আমরা টাকা দিয়ে বা কোন কোটায় চাকরি পাবো। তাই আমি এই বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনে যোগ দেই প্রথম থেকেই । আন্দোলন চলাকালীন টমছম ব্রীজের কাছে গুলাগুলির সময় আমার চোখে গুলি লাগে এবং আমার এক চোখ হারাই৷ এখন অবধি আমার চোখের ৫ টি অপারেশন হয়েছে। আমার চোখের চিকিৎসার টাকা বহন করেন ছাত্রশিবির এবং ভাইয়েরা। তারপর ৫ আগষ্ট আমরা স্বাধীন হই। কিন্তু এখনো চাচ্ছে অনেকে আমাদের মধ্যে ফাটল তৈরি করতে। আমরা সবাই এক থাকবো এবং দেশের কাজে আবারও একসাথে নামবো।’
আন্দোলনকারী জারার অভিভাবক (বাবা) বলেন, ‘আমরা হয়তো ধরেই নিয়েছিলাম যে আমরা আগামী ৪৫ সাল পর্যন্ত এই অন্ধকারচ্ছন্ন এবং হাসিনার স্বৈরাচারের কবল থেকে আমাদের রক্ষা হবে না। কিন্তু আমাদের সন্তানেরা এই স্বৈরাচারের কবল থেকে, বৈষম্য থেকে আমাদের জাতিকে উদ্ধার করেছে। এই আন্দোলনে আমার স্ত্রী সন্তানও যোগদান করেছিলো। আমার মেয়ে ভিক্টোরিয়াতে পড়ে, সেও জীবনের ঝুকি নিয়ে প্রতিটি আন্দোলনে গিয়েছে।’
পাটাতনের সভাপতি মাসুম বিল্লাহ বলেন, ‘আজকে এই প্রোগ্রামের আয়োজন করার প্রধান উদ্দেশ্য ছিল কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়কে একটা জ্ঞানের রাজ্যে পরিনত করা। তাছাড়া জুলাই বিপ্লব শহিদ, আহত সবাইকে আরো একবার স্মরণ করা এবং তাদের এই চেতনাকে ধারণ করে ভবিষ্যতে বাংলাদেশ বিনির্মানে সহযোগিতা করা।’