শনিবার | ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | শীতকাল
শিরোনাম :
Logo জাবিতে নির্বাচনী বিতর্ক, প্রতীকী গণভোটে সংস্কারের পক্ষে রায় Logo খুবিতে ‘নৈয়ায়িক ভয়েসক্রাফট’ শীর্ষক বিতর্ক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত Logo খুবিতে ‘রান ফর ফিউচার বাংলাদেশ’ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত Logo প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সর্বোচ্চ ১০ বছর ও উপ-রাষ্ট্রপতি পদ সৃষ্টির প্রস্তাব বিএনপির Logo দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে শিরোপা ডেভেলপমেন্ট সোসাইটির অগ্রযাত্রা Logo প্যাপিরাস পাঠাগারের উদ্যোগে জাতীয় গ্রন্থাগার দিবস উদযাপন Logo হাইমচর উপজেলার নীলকমল ইউনিয়নে মোমবাতির প্রার্থী আহসান উল্লাহ দিনভর গণসংযোগ Logo হাল্ট প্রাইজ অ্যাট খুলনা ইউনিভার্সিটি-এর গ্র্যান্ড ফিনালে অনুষ্ঠিত Logo চাঁদপুরে ইসলামী ছাত্র শিবিরের ৪৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন, বর্ণাঢ্য র‍্যালিতে নেতাকর্মীদের ঢল Logo চাঁদপুর ল্যাবরেটরী স্কুলের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ

আশুরার রোজা প্রসঙ্গে মহানবী (সা.) যা বলেছেন

  • নীলকন্ঠ ডেস্ক: নীলকন্ঠ ডেস্ক:
  • আপডেট সময় : ০৩:৪৭:৪১ অপরাহ্ণ, মঙ্গলবার, ১৬ জুলাই ২০২৪
  • ৭৮৩ বার পড়া হয়েছে

আশুরা আরবি শব্দ। এর অর্থ হচ্ছে ১০। মহররমের ১০ তারিখকে আশুরা বলা হয়। ইসলামের দৃষ্টিতে মহররম একটি বিশেষ মর্যাদাপূর্ণ মাস।

অনেক ইতিহাস-ঐতিহ্য ও রহস্যময় তাৎপর্য নিহিত আছে এ মাসকে ঘিরে। এ মাসের ১০ তারিখ মুসলিম বিশ্বের তাৎপর্যপূর্ণ সেই আশুরার দিন। আশুরার ‍দিন অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ। এদিন রোজা রাখা মুস্তাহাব।

আশুরার রোজা
রাসুলুল্লাহ (সা.) আশুরার রোজা নিজে পালন করেছেন এবং উম্মতকে রাখার প্রতি নির্দেশ করেছেন। তাই তাঁর অনুসরণ করা আমাদের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ। আশুরার রোজার ফজিলত সম্পর্কে হাদিসে এসেছে, আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘রমজান মাসের রোজার পর সর্বোত্তম রোজা মহররম মাসে আশুরার রোজা। ’ (সুনানে কুবরা, হাদিস : ৮৪২১০)

আবু কাতাদা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে আশুরার রোজার ফজিলত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, এই রোজা বিগত বছরের গুনাহ মুছে দেয়। (মুসলিম, হাদিস : ১১৬২)

অন্য এক হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘আমি আল্লাহর প্রতিদান প্রত্যাশা করছি আরাফার রোজা বিগত বছর ও আগত বছরের গুনাহ মার্জনা করবে। আরো প্রত্যাশা করছি আশুরার রোজা বিগত বছরের গুনাহ মার্জনা করবে। ’ (সহিহ মুসলিম, হদিস : ১১৬২)

রাসুলুল্লাহ (সা.) এ রোজার ব্যাপারে খুব আগ্রহী থাকতেন। ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, ফজিলতপূর্ণ দিন হিসেবে আশুরার রোজা এবং এ মাসের রোজা অর্থাৎ রমজানের রোজার ব্যাপারে রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে যত বেশি আগ্রহী দেখেছি অন্য রোজার ব্যাপারে তদ্রূপ দেখিনি। (সহিহ বুখারি হাদিস, ১৮৬৭)

আশুরার রোজা যখন যেভাবে রাখতে হবে

আশুরার রোজা রাখার ক্ষেত্রে শরিয়তের বিধান হলো আশুরার রোজা হবে দুটি। অর্থাৎ জিলহজের ৯-১০ বা ১০-১১ যেকোনো পদ্ধতিতে আদায় করা যায়। আলেমদের মধ্যে আশুরার রোজার দিন প্রসঙ্গে দ্বিমত আছে। ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, তোমরা ৯ ও ১০ (এই দুই দিন) রোজা পালন করো এবং (এই ক্ষেত্রে) ইহুদিদের বিপরীত করো। (তিরমিজি, হাদিস : ৭৫৫)

একটি হাদিসে এমন পাওয়া যায়, আল্লাহর রাসুল (সা.) জীবনের শেষ বছর বলেছেন, ‘আমি যদি আগামী বছর বেঁচে থাকি তবে মহররমের ৯ তারিখেও সিয়াম পালন করব। ’ (মুসলিম, হাদিস : ২৫৫৭)

অন্য বর্ণনায় রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, ‘তোমরা আশুরার দিনে রোজা রাখো, তবে এ ক্ষেত্রে ইহুদিদের সঙ্গে মিল না হওয়ার জন্য ১০ তারিখের আগের দিন অথবা পরের দিন আরো একটি রোজা রেখে নিয়ো। ’ (মুসনাদে আহমদ, হাদিস : ২১৫৪)

তবে নবীজির আকাঙ্ক্ষার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে জিলহজের ৯ ও ১০ তারিখ রোজা রাখা উত্তম।

আল্লাহ তাআলা আমাদের পবিত্র আশুরার দিনের করণীয় যথাযথভাবে পালন করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

জাবিতে নির্বাচনী বিতর্ক, প্রতীকী গণভোটে সংস্কারের পক্ষে রায়

আশুরার রোজা প্রসঙ্গে মহানবী (সা.) যা বলেছেন

আপডেট সময় : ০৩:৪৭:৪১ অপরাহ্ণ, মঙ্গলবার, ১৬ জুলাই ২০২৪

আশুরা আরবি শব্দ। এর অর্থ হচ্ছে ১০। মহররমের ১০ তারিখকে আশুরা বলা হয়। ইসলামের দৃষ্টিতে মহররম একটি বিশেষ মর্যাদাপূর্ণ মাস।

অনেক ইতিহাস-ঐতিহ্য ও রহস্যময় তাৎপর্য নিহিত আছে এ মাসকে ঘিরে। এ মাসের ১০ তারিখ মুসলিম বিশ্বের তাৎপর্যপূর্ণ সেই আশুরার দিন। আশুরার ‍দিন অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ। এদিন রোজা রাখা মুস্তাহাব।

আশুরার রোজা
রাসুলুল্লাহ (সা.) আশুরার রোজা নিজে পালন করেছেন এবং উম্মতকে রাখার প্রতি নির্দেশ করেছেন। তাই তাঁর অনুসরণ করা আমাদের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ। আশুরার রোজার ফজিলত সম্পর্কে হাদিসে এসেছে, আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘রমজান মাসের রোজার পর সর্বোত্তম রোজা মহররম মাসে আশুরার রোজা। ’ (সুনানে কুবরা, হাদিস : ৮৪২১০)

আবু কাতাদা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে আশুরার রোজার ফজিলত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, এই রোজা বিগত বছরের গুনাহ মুছে দেয়। (মুসলিম, হাদিস : ১১৬২)

অন্য এক হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘আমি আল্লাহর প্রতিদান প্রত্যাশা করছি আরাফার রোজা বিগত বছর ও আগত বছরের গুনাহ মার্জনা করবে। আরো প্রত্যাশা করছি আশুরার রোজা বিগত বছরের গুনাহ মার্জনা করবে। ’ (সহিহ মুসলিম, হদিস : ১১৬২)

রাসুলুল্লাহ (সা.) এ রোজার ব্যাপারে খুব আগ্রহী থাকতেন। ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, ফজিলতপূর্ণ দিন হিসেবে আশুরার রোজা এবং এ মাসের রোজা অর্থাৎ রমজানের রোজার ব্যাপারে রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে যত বেশি আগ্রহী দেখেছি অন্য রোজার ব্যাপারে তদ্রূপ দেখিনি। (সহিহ বুখারি হাদিস, ১৮৬৭)

আশুরার রোজা যখন যেভাবে রাখতে হবে

আশুরার রোজা রাখার ক্ষেত্রে শরিয়তের বিধান হলো আশুরার রোজা হবে দুটি। অর্থাৎ জিলহজের ৯-১০ বা ১০-১১ যেকোনো পদ্ধতিতে আদায় করা যায়। আলেমদের মধ্যে আশুরার রোজার দিন প্রসঙ্গে দ্বিমত আছে। ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, তোমরা ৯ ও ১০ (এই দুই দিন) রোজা পালন করো এবং (এই ক্ষেত্রে) ইহুদিদের বিপরীত করো। (তিরমিজি, হাদিস : ৭৫৫)

একটি হাদিসে এমন পাওয়া যায়, আল্লাহর রাসুল (সা.) জীবনের শেষ বছর বলেছেন, ‘আমি যদি আগামী বছর বেঁচে থাকি তবে মহররমের ৯ তারিখেও সিয়াম পালন করব। ’ (মুসলিম, হাদিস : ২৫৫৭)

অন্য বর্ণনায় রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, ‘তোমরা আশুরার দিনে রোজা রাখো, তবে এ ক্ষেত্রে ইহুদিদের সঙ্গে মিল না হওয়ার জন্য ১০ তারিখের আগের দিন অথবা পরের দিন আরো একটি রোজা রেখে নিয়ো। ’ (মুসনাদে আহমদ, হাদিস : ২১৫৪)

তবে নবীজির আকাঙ্ক্ষার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে জিলহজের ৯ ও ১০ তারিখ রোজা রাখা উত্তম।

আল্লাহ তাআলা আমাদের পবিত্র আশুরার দিনের করণীয় যথাযথভাবে পালন করার তাওফিক দান করুন। আমিন।