রবিবার | ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | শীতকাল
শিরোনাম :
Logo পলাশবাড়ী উপজেলায় ৭১ টি ভোট কেন্দ্রের মধ্যে অতিগুরুত্বপুর্ন ১১ টি ও সাধারণ ৬০ টি ভোট কেন্দ্র নির্দ্ধারন Logo বাঁধন খুলনা জোনের বার্ষিক সাধারণ সভা: নতুন নেতৃত্বে শরিফুল ও আতিকুল Logo খুবিতে কয়রা ম্যানগ্রোভ ফ্যামিলির নেতৃত্বে আরেফিন–সাবির Logo মির্জাপুরে চিত্রনায়ক ডি এ তায়েবের মায়ের তৃতীয় মৃত্যুবার্ষিকী পালিত Logo বীরগঞ্জে বিএনপি’র নির্বাচনী জনসভা অনুষ্ঠিত Logo অবাধ সুষ্ঠু নিরপেক্ষ ও গ্রহনযোগ্য করতে সকল গণমাধ্যম কর্মীদের  সহযোগিতা চাইলেন পলাশবাড়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসার  Logo বর্ণাঢ্য আয়োজনে চাঁদপুরে জেলা জুয়েলার্স সমিতির অভিষেক ও ফ্যামিলি ডে অনুষ্ঠিত Logo পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেবেন চাঁদপুর জেলা কারাগারের ২ নারীসহ ৩৩ কয়েদি Logo ‘বাংলাদেশপন্থী’ এক অস্পষ্ট ধারণা: রাষ্ট্র না মানুষ আগে?-ড. মাহরুফ চৌধুরী Logo দাঁড়িপাল্লা বিজয়ী হলে কয়রা কে পৌরসভা করা হবে -জামায়াত নেতা মাওলানা আবুল কালাম আজাদ

জীবননগর বড় ভায়ের আঘাতে ছোট ভাই নিহত : আটক ৪

  • rahul raj
  • আপডেট সময় : ১১:১৬:০১ পূর্বাহ্ণ, সোমবার, ৯ জুলাই ২০১৮
  • ৭৪৫ বার পড়া হয়েছে

নিউজ ডেস্ক: জীবননগরে বড় ভায়ের রডের আঘাতে ছোট ভাই নিহত হয়েছেন। গত শনিবার রাতে উপজেলার কন্দর্পপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহতের লাশ ময়নাতদন্ত শেষে গতকাল রবিবার মাগরিবের পর নিজ গ্রামের বৈদ্যনাথপুর ঈদগাহ ময়দানে নামাজের জানাযা শেষে বৈদ্যনাথপুর কবরস্থানে দাফন করা হয়। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ কন্দর্পপুর গ্রাম থেকে চারজনকে আটক করেছে। রাস্তার জমি দখল করাকে কেন্দ্র করে বড় ভাই আনোয়ার হোসেন রড দিয়ে মাথায় আঘাত করলে ছোট ভাই গিয়াস উদ্দিন নিহত হন। আটককৃতরা হলেন- কন্দর্পপুর গ্রামের আনোয়ার হোসেনের ছেলে জাহাঙ্গীল আলম (২৭), জিহাদ (২২), একই গ্রামের আবজেল হোসেনের ছেলে আমিনুর রহমান (৫৫) ও দুলাল ইসলাম (২৪)। নিহত গিয়াসউদ্দিন জীবননগর উপজেলার হাসাদহ ইউনিয়নের কন্দর্পপুর গ্রামের মৃত বীর মুক্তিযোদ্ধা জয়নাল আবেদীনের ছেলে।
অভিযুক্তরা হলেন- জীবননগর উপজেলার হাসাদহ ইউনিয়নের কন্দর্পপুর গ্রামের মৃত আব্দুল বারীর ছেলে আনোয়ার হোসেন, আনোয়ার হোসেনের ছেলে জাহাঙ্গীর আলম, জিহাদ হোসেন, আলমগীর হোসেন, আবজেল হোসেনের ছেলে আমিনুর রহমান, আমিনুর রহমানের ছেলে কৌশিক, দুদুলের মধ্যে আনোয়ার হোসেন, কৌশিক ও দুদুল পলাতক আছে।
নিহত গিয়াসউদ্দিনের ভাই আরিফ অভিযোগ করে বলেন, রাস্তার যে জমি নিয়ে আনোয়ারের সাথে আমাদের দ্বন্দ সেই জমির মালিকও আমরা। যেখান দিয়ে রাস্তা দেওয়া হচ্ছে ওই জমির সামনে আমার একটি ভাইয়ের ঘর আছে সেই ঘরটি সরিয়ে নেওয়ার জন্য আমরা তার কাছ থেকে সময় নিয়ে ছিলাম এবং সবাই এক সাথে বসে তার সমাধান করাও হয়েছিল। কিন্তু হঠাৎ আনোয়ার ও তার ছেলেসহ দলবল মিলে আমাদের উপর অতর্কিত হামলা চালায় এবং আমার ভাইয়ের ঘরের ভিতরে যেয়ে তারা সকলে মারধর করতে থাকে। আমার ভাই তার পা চিপে ধরে প্রাণ ভিক্ষা চেয়েছিল তারা মাপ না করে আনোয়ারের হাতে থাকা রড দিয়ে তার মাথায় আঘাত করে। সঙ্গে সঙ্গে আমার ভাইয়ের মাথা ফেটে রক্ত বের হতে থাকে। এ সময় আমরা ঘটনাস্থানে গেলে তার আমাদের উপর হামলা চালায়।
এ ব্যাপারে হাসাদহ ইউপি সদস্য সোহেল রানা গিয়াসউদ্দিনের মৃত্যুর সংবাদ নিশ্চিত করে বলেন, নিহত গিয়াসউদ্দিন ও আনোয়ার আপন চাচাতো ভাই। তাদের দুই পরিবারের মধ্যে রাস্তার জমি নিয়ে বেশ কিছুদিন আগে থেকেই পারিবারিক সমস্য হচ্ছিল। মাঝে গ্রামের সুধী ব্যক্তিরা বসে এটি মিমাংশা করে দেয় তারপরও আনোয়ার ও তার ছেলেরা মিলে গিয়াসউদ্দিনদের উপর হামলা করে। এতে বেশ কয়েক জন আহত হয়। এ ঘটনায় গিয়াসউদ্দিনের মাথায় গুরুত্বর আঘাত লাগায় তাকে চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নিয়ে যায়। সেখানে গত শনিবার রাত ২টার সময় তার মৃত্যু হয়।
জীবননগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি ) মাহমুদুর রহমান জানান, গিয়াসউদ্দিন (৪২) কন্দর্পপুর গ্রামে বাড়ির পাশে রাস্তার জমি নিয়ে তার চাচাতো ভাই আনোয়ার হোসেনের সাথে একটি মতদ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়। রাস্তার ওই জমি নিয়ে এক পর্যায় উভয়পক্ষের মধ্যে মিমাংশা হয়ে যায়। গত বুধবার সকালে রাস্তার জমি নিয়ে আবারও তাদের মধ্যে কথাকাটাকাটি হয়। এক পর্যায় আনোয়ার ও তার ছেলেরা একত্রিত হয়ে গিয়াসউদ্দিন ও তার স্ত্রী এবং ভাইদের মারধর করে। আনোয়ার হোসেন ও তার ছেলেরা রড দিয়ে চাচাতো ভাই গিয়াসউদ্দিনের মাথায় আঘাত করে। রক্তাক্ত জখম অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে জীবননগর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তার অবস্থা গুরুতর হওয়ায় বিকাল ৪টার দিকে যশোর সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। কর্তব্যরত চিকিৎসক সেখানেও তার অবস্থার কোন উন্নতি না হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে ঢাকায় রেফার্ড করেন ঢাকা। পিজি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শনিবার রাতে মারা যান।’ তিনি আরও জানান, অভিযুক্তরা গাঢাকা দিয়েছে। ৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে চারজনকে আটক করা হয়েছে এবং বাকি তিনজনকে আটকের জন্য চেষ্টা চলছে। এদিকে গিয়াসউদ্দিনের মৃত্যুতে গোটা এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

ট্যাগস :

পলাশবাড়ী উপজেলায় ৭১ টি ভোট কেন্দ্রের মধ্যে অতিগুরুত্বপুর্ন ১১ টি ও সাধারণ ৬০ টি ভোট কেন্দ্র নির্দ্ধারন

জীবননগর বড় ভায়ের আঘাতে ছোট ভাই নিহত : আটক ৪

আপডেট সময় : ১১:১৬:০১ পূর্বাহ্ণ, সোমবার, ৯ জুলাই ২০১৮

নিউজ ডেস্ক: জীবননগরে বড় ভায়ের রডের আঘাতে ছোট ভাই নিহত হয়েছেন। গত শনিবার রাতে উপজেলার কন্দর্পপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহতের লাশ ময়নাতদন্ত শেষে গতকাল রবিবার মাগরিবের পর নিজ গ্রামের বৈদ্যনাথপুর ঈদগাহ ময়দানে নামাজের জানাযা শেষে বৈদ্যনাথপুর কবরস্থানে দাফন করা হয়। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ কন্দর্পপুর গ্রাম থেকে চারজনকে আটক করেছে। রাস্তার জমি দখল করাকে কেন্দ্র করে বড় ভাই আনোয়ার হোসেন রড দিয়ে মাথায় আঘাত করলে ছোট ভাই গিয়াস উদ্দিন নিহত হন। আটককৃতরা হলেন- কন্দর্পপুর গ্রামের আনোয়ার হোসেনের ছেলে জাহাঙ্গীল আলম (২৭), জিহাদ (২২), একই গ্রামের আবজেল হোসেনের ছেলে আমিনুর রহমান (৫৫) ও দুলাল ইসলাম (২৪)। নিহত গিয়াসউদ্দিন জীবননগর উপজেলার হাসাদহ ইউনিয়নের কন্দর্পপুর গ্রামের মৃত বীর মুক্তিযোদ্ধা জয়নাল আবেদীনের ছেলে।
অভিযুক্তরা হলেন- জীবননগর উপজেলার হাসাদহ ইউনিয়নের কন্দর্পপুর গ্রামের মৃত আব্দুল বারীর ছেলে আনোয়ার হোসেন, আনোয়ার হোসেনের ছেলে জাহাঙ্গীর আলম, জিহাদ হোসেন, আলমগীর হোসেন, আবজেল হোসেনের ছেলে আমিনুর রহমান, আমিনুর রহমানের ছেলে কৌশিক, দুদুলের মধ্যে আনোয়ার হোসেন, কৌশিক ও দুদুল পলাতক আছে।
নিহত গিয়াসউদ্দিনের ভাই আরিফ অভিযোগ করে বলেন, রাস্তার যে জমি নিয়ে আনোয়ারের সাথে আমাদের দ্বন্দ সেই জমির মালিকও আমরা। যেখান দিয়ে রাস্তা দেওয়া হচ্ছে ওই জমির সামনে আমার একটি ভাইয়ের ঘর আছে সেই ঘরটি সরিয়ে নেওয়ার জন্য আমরা তার কাছ থেকে সময় নিয়ে ছিলাম এবং সবাই এক সাথে বসে তার সমাধান করাও হয়েছিল। কিন্তু হঠাৎ আনোয়ার ও তার ছেলেসহ দলবল মিলে আমাদের উপর অতর্কিত হামলা চালায় এবং আমার ভাইয়ের ঘরের ভিতরে যেয়ে তারা সকলে মারধর করতে থাকে। আমার ভাই তার পা চিপে ধরে প্রাণ ভিক্ষা চেয়েছিল তারা মাপ না করে আনোয়ারের হাতে থাকা রড দিয়ে তার মাথায় আঘাত করে। সঙ্গে সঙ্গে আমার ভাইয়ের মাথা ফেটে রক্ত বের হতে থাকে। এ সময় আমরা ঘটনাস্থানে গেলে তার আমাদের উপর হামলা চালায়।
এ ব্যাপারে হাসাদহ ইউপি সদস্য সোহেল রানা গিয়াসউদ্দিনের মৃত্যুর সংবাদ নিশ্চিত করে বলেন, নিহত গিয়াসউদ্দিন ও আনোয়ার আপন চাচাতো ভাই। তাদের দুই পরিবারের মধ্যে রাস্তার জমি নিয়ে বেশ কিছুদিন আগে থেকেই পারিবারিক সমস্য হচ্ছিল। মাঝে গ্রামের সুধী ব্যক্তিরা বসে এটি মিমাংশা করে দেয় তারপরও আনোয়ার ও তার ছেলেরা মিলে গিয়াসউদ্দিনদের উপর হামলা করে। এতে বেশ কয়েক জন আহত হয়। এ ঘটনায় গিয়াসউদ্দিনের মাথায় গুরুত্বর আঘাত লাগায় তাকে চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নিয়ে যায়। সেখানে গত শনিবার রাত ২টার সময় তার মৃত্যু হয়।
জীবননগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি ) মাহমুদুর রহমান জানান, গিয়াসউদ্দিন (৪২) কন্দর্পপুর গ্রামে বাড়ির পাশে রাস্তার জমি নিয়ে তার চাচাতো ভাই আনোয়ার হোসেনের সাথে একটি মতদ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়। রাস্তার ওই জমি নিয়ে এক পর্যায় উভয়পক্ষের মধ্যে মিমাংশা হয়ে যায়। গত বুধবার সকালে রাস্তার জমি নিয়ে আবারও তাদের মধ্যে কথাকাটাকাটি হয়। এক পর্যায় আনোয়ার ও তার ছেলেরা একত্রিত হয়ে গিয়াসউদ্দিন ও তার স্ত্রী এবং ভাইদের মারধর করে। আনোয়ার হোসেন ও তার ছেলেরা রড দিয়ে চাচাতো ভাই গিয়াসউদ্দিনের মাথায় আঘাত করে। রক্তাক্ত জখম অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে জীবননগর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তার অবস্থা গুরুতর হওয়ায় বিকাল ৪টার দিকে যশোর সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। কর্তব্যরত চিকিৎসক সেখানেও তার অবস্থার কোন উন্নতি না হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে ঢাকায় রেফার্ড করেন ঢাকা। পিজি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শনিবার রাতে মারা যান।’ তিনি আরও জানান, অভিযুক্তরা গাঢাকা দিয়েছে। ৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে চারজনকে আটক করা হয়েছে এবং বাকি তিনজনকে আটকের জন্য চেষ্টা চলছে। এদিকে গিয়াসউদ্দিনের মৃত্যুতে গোটা এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।