বুধবার | ১৮ মার্চ ২০২৬ | বসন্তকাল
শিরোনাম :
Logo ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানালেন মানবদূত স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের আহ্বায়ক মোঃ সাইফুল ইসলাম আকাশ Logo ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানালেন পাক্ষিক চাঁদনগরের সম্পাদক সাবিত্রী রানী ঘোষ Logo শতাধিক অসহায় মানুষের মাঝে যমুনা রোড স্পোর্টিং ক্লাবের ঈদ উপহার বিতরণ Logo ইফতার মাহফিল থেকে সামাজিক জাগরণ: মাদকবিরোধী আন্দোলনে কাপাসিয়ার ঐক্য Logo ২০৩০ বিশ্বকাপ পর্যন্ত আনচেলত্তির চুক্তি বাড়াতে যাচ্ছে ব্রাজিল Logo কাবুলে পাকিস্তানের হামলার পর সংযম প্রদর্শনের আহ্বান চীনের Logo ঈদযাত্রা সুষ্ঠু ও সুন্দর করতে সব ইউনিটের ফোর্স নিয়োজিত থাকবে: আইজিপি Logo চাঁদপুরে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ ড্যাবের উদ্যোগে ঈদ উপহার বিতরণ ও ইফতার মাহফিল Logo মাদকমুক্ত কাপাসিয়া গড়ার অঙ্গীকার যুব সংগঠনের মিলনমেলায় নতুন দিগন্ত Logo চাঁদপুরে জিএম বাংলা লিমিটেডের ঈদ উপহার: অসহায় ও এতিমদের মুখে হাসি

আলীকদম ভরিরমুখ স্কুলের জমি বেদখলের অভিযোগ

  • Nil Kontho
  • আপডেট সময় : ১২:০০:৪৩ পূর্বাহ্ণ, সোমবার, ২ জুলাই ২০১৮
  • ৭৮৩ বার পড়া হয়েছে

মো. ফরিদ উদ্দিন,লামা প্রতিনিধি: আলীকদম উপজেলার ভরিরমুখ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জমি দখল করে ঘরবাড়ি নির্মাণ ও বিক্রি করে চলেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহল জমি দখলে মেতে ওঠেছে বলে জানা গেছে। এতে বিদ্যালয়ের খেলার মাঠ সংকুচিত হয়ে শিক্ষার্থীদের খেলাধূলা বন্ধ হয়ে যাচেছ। অন্যদিকে সৌন্দর্য হারিয়েছে বিদ্যালয়টি। স্থানীয়দের করা একটি অভিযোগ থেকে এ তথ্য জানা যায়।

অভিযোগে জানা যায়, স্থানীয় কয়েকজন শিক্ষানুরাগী ১৯৬৫ সালে ভরিরমুখ প্রাথমিক বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করেন। এ সময় ২৮৯নং চৈক্ষ্যং মৌজার ১২৮ নং হোল্ডিং পরবর্তীতে ১১৫ নং খতিয়ানের দাগ নং-৭০২ থেকে ১৬০ শতাংশ জমি ভরিরমুখ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নামে জেলা প্রশাসক বরাদ্দ দেন। এ জমিতে গড়ে উঠে বিদ্যালয়ের টিনসেট ঘর। পরে সেখানে নতুন ভবন হয়। সম্প্রতি স্থানীয় মাস্টার নুর মোহাম্মদ, মোহাম্মদ হোসেন, মাওলানা আবদুল মান্নান ও মাষ্টার আবদুল হান্নান মিলে স্কুলের ১ একর ২০ শতক জমি দখলে নিয়ে ঘরবাড়ি তৈরী, বিক্রি ও চাষাবাদ করছেন বিনা বাধায়। স্থানীয় দেলোয়ার হোসেন বিদ্যালয়ের জমি দখলের বিষয়ে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে শিক্ষা কর্মকর্তাদের নিকট অভিযোগ করেও কোন সুরাহা পায়নি বলে জানান।

এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিদ্যালয় ভবনের সামনে ৪ শতকের মতো জমি রয়েছে। একাডেমিক ভবনসহ আনুমানিক ৪০ শতক জমি স্কুলের দখলে আছে। স্কুল ভবনের দক্ষিণ-পূর্ব দিকের সীমানায় একটি পাকা ঘর নির্মাণ হচ্ছে। আশপাশের স্কুলের জমিতে করা হচ্ছে চাষাবাদ। সীমানা প্রাচীর না থাকায় যে যার মতো গ্রাস করছে বিদ্যালয়ের জমি।

স্থানীয়রা অভিযোগ করে আরও জানান, দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়ের জমি দখল করে বাড়ি-ঘর ও ক্ষেত খামার করলেও স্কুল কর্তৃপক্ষ বা প্রশাসন তা বন্ধে পদক্ষেপ নিচ্ছে না। বিদ্যালয়ের জমিতে স্থাপনা না করা ও জায়গা ছেড়ে দিতে মৌখিকভাবে দখলদারদের বারবার নিষেধ করে ব্যর্থ হয়ে উপজেলা-জেলা শিক্ষা অফিসার বরাবর লিখিতভাবে অভিযোগ করেছি। কিন্তু বিদ্যালয়ের ১৬০ শতাংশ জমির মধ্যে দখলে আছে মাত্র ৪০ শতাংশ। বাকি সম্পত্তি উল্লেখিত ব্যক্তিদের দখলে রয়েছে।

সূত্র জানায়, স্থানীয় দুইজন শিক্ষক ও তাদের আত্মীয়-স্বজন মিলে স্কুলের ১২০ শতক জমি দখল করে আছেন। তবে তাদের দাবী এ জমি তাদের পৈত্রিক সম্পত্তি। অন্যদিকে স্থানীয়রা জানান, ম্যানেজিং কমিটি ও শিক্ষকদের সহায়তায় বিদ্যালয়ের সম্পত্তি ক্রমাগত বেদখলে চলে যাচ্ছে। ভরিরমুখ গ্রামের বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা নিয়মিত স্কুলে না আসায়, ক্লাশ না নেয়ায় অনিয়ম ও দুর্নীতি বাসা বেঁধেছে বিদ্যালয়টিতে।

বিদ্যালয়ের শিক্ষক আবদুল হান্নান বলেন, ভরিরমুখ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নির্মিত হয়েছে আমাদের জায়গায়। আমরা বিদ্যালয়ের জমি দখল করিনি। দীর্ঘ ১৯৪০ সাল থেকে ওই জমি নামে ও আমাদের দখলে রয়েছে। কেউ মিথ্যা অভিযোগ করলে আইনীভাবে লড়বো।

এ বিষয়ে আলীকদম উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. ইস্কান্দর নুরী জানায়, বিদ্যালয়ের জমি দখলের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করে নির্বাহী অফিসারকে জানাানো হযেছে। জমি বেদখল হয়ে থাকলে সার্ভেয়ার নিয়োগের মাধ্যমে জমি উদ্ধারে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানান তিনি।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানালেন মানবদূত স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের আহ্বায়ক মোঃ সাইফুল ইসলাম আকাশ

আলীকদম ভরিরমুখ স্কুলের জমি বেদখলের অভিযোগ

আপডেট সময় : ১২:০০:৪৩ পূর্বাহ্ণ, সোমবার, ২ জুলাই ২০১৮

মো. ফরিদ উদ্দিন,লামা প্রতিনিধি: আলীকদম উপজেলার ভরিরমুখ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জমি দখল করে ঘরবাড়ি নির্মাণ ও বিক্রি করে চলেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহল জমি দখলে মেতে ওঠেছে বলে জানা গেছে। এতে বিদ্যালয়ের খেলার মাঠ সংকুচিত হয়ে শিক্ষার্থীদের খেলাধূলা বন্ধ হয়ে যাচেছ। অন্যদিকে সৌন্দর্য হারিয়েছে বিদ্যালয়টি। স্থানীয়দের করা একটি অভিযোগ থেকে এ তথ্য জানা যায়।

অভিযোগে জানা যায়, স্থানীয় কয়েকজন শিক্ষানুরাগী ১৯৬৫ সালে ভরিরমুখ প্রাথমিক বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করেন। এ সময় ২৮৯নং চৈক্ষ্যং মৌজার ১২৮ নং হোল্ডিং পরবর্তীতে ১১৫ নং খতিয়ানের দাগ নং-৭০২ থেকে ১৬০ শতাংশ জমি ভরিরমুখ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নামে জেলা প্রশাসক বরাদ্দ দেন। এ জমিতে গড়ে উঠে বিদ্যালয়ের টিনসেট ঘর। পরে সেখানে নতুন ভবন হয়। সম্প্রতি স্থানীয় মাস্টার নুর মোহাম্মদ, মোহাম্মদ হোসেন, মাওলানা আবদুল মান্নান ও মাষ্টার আবদুল হান্নান মিলে স্কুলের ১ একর ২০ শতক জমি দখলে নিয়ে ঘরবাড়ি তৈরী, বিক্রি ও চাষাবাদ করছেন বিনা বাধায়। স্থানীয় দেলোয়ার হোসেন বিদ্যালয়ের জমি দখলের বিষয়ে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে শিক্ষা কর্মকর্তাদের নিকট অভিযোগ করেও কোন সুরাহা পায়নি বলে জানান।

এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিদ্যালয় ভবনের সামনে ৪ শতকের মতো জমি রয়েছে। একাডেমিক ভবনসহ আনুমানিক ৪০ শতক জমি স্কুলের দখলে আছে। স্কুল ভবনের দক্ষিণ-পূর্ব দিকের সীমানায় একটি পাকা ঘর নির্মাণ হচ্ছে। আশপাশের স্কুলের জমিতে করা হচ্ছে চাষাবাদ। সীমানা প্রাচীর না থাকায় যে যার মতো গ্রাস করছে বিদ্যালয়ের জমি।

স্থানীয়রা অভিযোগ করে আরও জানান, দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়ের জমি দখল করে বাড়ি-ঘর ও ক্ষেত খামার করলেও স্কুল কর্তৃপক্ষ বা প্রশাসন তা বন্ধে পদক্ষেপ নিচ্ছে না। বিদ্যালয়ের জমিতে স্থাপনা না করা ও জায়গা ছেড়ে দিতে মৌখিকভাবে দখলদারদের বারবার নিষেধ করে ব্যর্থ হয়ে উপজেলা-জেলা শিক্ষা অফিসার বরাবর লিখিতভাবে অভিযোগ করেছি। কিন্তু বিদ্যালয়ের ১৬০ শতাংশ জমির মধ্যে দখলে আছে মাত্র ৪০ শতাংশ। বাকি সম্পত্তি উল্লেখিত ব্যক্তিদের দখলে রয়েছে।

সূত্র জানায়, স্থানীয় দুইজন শিক্ষক ও তাদের আত্মীয়-স্বজন মিলে স্কুলের ১২০ শতক জমি দখল করে আছেন। তবে তাদের দাবী এ জমি তাদের পৈত্রিক সম্পত্তি। অন্যদিকে স্থানীয়রা জানান, ম্যানেজিং কমিটি ও শিক্ষকদের সহায়তায় বিদ্যালয়ের সম্পত্তি ক্রমাগত বেদখলে চলে যাচ্ছে। ভরিরমুখ গ্রামের বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা নিয়মিত স্কুলে না আসায়, ক্লাশ না নেয়ায় অনিয়ম ও দুর্নীতি বাসা বেঁধেছে বিদ্যালয়টিতে।

বিদ্যালয়ের শিক্ষক আবদুল হান্নান বলেন, ভরিরমুখ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নির্মিত হয়েছে আমাদের জায়গায়। আমরা বিদ্যালয়ের জমি দখল করিনি। দীর্ঘ ১৯৪০ সাল থেকে ওই জমি নামে ও আমাদের দখলে রয়েছে। কেউ মিথ্যা অভিযোগ করলে আইনীভাবে লড়বো।

এ বিষয়ে আলীকদম উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. ইস্কান্দর নুরী জানায়, বিদ্যালয়ের জমি দখলের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করে নির্বাহী অফিসারকে জানাানো হযেছে। জমি বেদখল হয়ে থাকলে সার্ভেয়ার নিয়োগের মাধ্যমে জমি উদ্ধারে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানান তিনি।