#পরিবারের অসচ্ছলতায় হচ্ছে বাল্যবিবাহ; আর বাল্যবিবাহের কারনেই বাড়ছে আত্মহত্যা
# ইউনিসেফের প্রতিবেদন অনুযায়ী বাংলাদেশের ৬৪% নারীর বিয়ে হয় ১৮ বছরের আগে
# অশিক্ষা, দারিদ্র, নিরাপত্তাহীনতা ও সামাজিক নানা কুসংস্কারের ফলে ঘটছে বাল্যবিবাহ
“জনমত গঠন, শিক্ষার প্রসার এবং আইন প্রয়োগের মাধ্যমে বাল্য বিবাহ রোধ করা সম্ভব”
নিউজ ডেস্ক: চুয়াডাঙ্গা জেলার বিভিন্নস্থানে একই দিনে ৭ নারী আত্মহত্যার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে অসুস্থ্য হয়ে সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। গতকাল সকাল-দুপুর ও রাতের বিভিন্ন সময়ে পৃথক পৃথকস্থানে এই আত্মহত্যার চেষ্টা করে। বাল্যবিবাহের কারণেই জীবন দিতে হচ্ছে এ দেশের অসংখ্যা মেয়েদের। চুয়াডাঙ্গায় বিষপানে একই দিনে ৭ নারী আত্মহত্যার চেষ্টা তারই প্রমাণ করে। গতকাল শুক্রবার জেলার বিভিন্ন জায়গায় আত্মহত্যার চেষ্টাকারি নারীরা চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধিন আছে। অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে আত্মহত্যা চেষ্টাকারী প্রায়ই নারীই বাল্যবিবাহের শিকার। আর্থিক অসচ্ছলতা, অশিক্ষা, নিরাপত্তাহীনতা, পারিবারিক কলহ ও সামাজিক নানা কুসংস্কারের ফলে প্রতিনিয়ত ঘটছে বাল্যবিবাহ। আর এই কারণে বয়সের অসামাঞ্জ্যসতা, পারিবারিক দ্বন্ব ও শ্বশুর-শাশুড়ির গঞ্জনা এবং স্বামীর সাথে মনোমালিন্যের ফলে বাড়ছে আত্মহত্যা। গতকাল চুয়াডাঙ্গার বিভিন্নস্থানে আত্মহত্যার চেষ্টাকারী নারীরা হলেন- চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার ডিঙ্গেদহের নজরুল ইসলামের স্ত্রী রুমকি (২২), দামুড়হুদা উপজেলার বিষ্ণপুরের হাফিজুলের স্ত্রী জলি (২০), একই উপজেলার রামনগরের সাগর হোসেনের স্ত্রী জুলিখা (১৮), হাজরাহাটি তালতলার জোয়ার্দ্দারপাড়ার আরিফের স্ত্রী রুনু (২০), চুয়াডাঙ্গার সাতগাড়ীর রবিউলের স্ত্রী শিমলা (১৯), চুয়াডাঙ্গা কেদারগঞ্জের আকাশের স্ত্রী পপি (১৮) ও চুয়াডাঙ্গা মোহাম্মদ জুমার লোকমানের কন্যা রিজিয়া (১৭)।
এদের আত্মহত্যা চেষ্টা করার নির্দিষ্ট কোনো কারন জানা না গেলেও এই নারীদের ও তাদের স্বজনদের সাথে কথা বলে বুঝা গেছে পারিবারিক কলহের জের ধরে এই স্বেচ্ছায় অপমৃত্যুর পথ বেছে নিয়েছেন তারা। আত্মহত্যার চেষ্টাকারি কয়েকজন নারীর সাথে কথা বললে তারা জানায় অল্প বয়সেই তাদের বিয়ে হয়েছে। নানা কারণে শাশুড়ী কিম্বা স্বামীর সাথে তাদের ঝামেলা লেগেই থাকে। আর ঝামেলা লাগার কারণ হিসেবে রয়েছে স্বামীর সাথে স্ত্রীর বয়সের অসামাঞ্জ্যসতা, পারিবারিক নানা খুটিনাতিতে বেশী বয়সী শাশুড়ীর সাথে অল্প বয়সী বউমা’র ঝগড়া; সেই সাথে আর্থিক অসচ্ছলতা তো আছেই। একই দিনে ৭ নারীর আত্মহত্যার চেষ্টা ঘটনাাটা স্বাভাবিক মনে হলেও একটু গভীরে গেলেই বেরিয়ে আসছে এই আত্মহত্যার চেষ্টাগুলো মূলত বাল্যবিবাহের কুফল। তবে এরিপোর্ট লেখা পর্যন্ত আত্মহত্যার চেষ্টাকারি প্রত্যোকে হাসপাতালে চিকিৎসাধিন আছেন। তাদের মধ্যে দুই-একজনের অবস্থা সংকটাপন্ন হলেও কেউ মারা যাননি।
উল্লেখ্য, ইউনিসেফের শিশু ও নারী বিষয়ক প্রতিবেদনে অনুসারে বাংলাদেশের ৬৪% নারীর বিয়ে হয় ১৮ বছরের আগে। বাল্য বিবাহ নিরোধ আইন অনুসারে ছেলেদের বিবাহের বয়স নুন্যতম একুশ এবং মেয়েদের বয়স আঠারো হওয়া বাধ্যতামূলক। অশিক্ষা, দারিদ্র, নিরাপত্তাহীনতা ও সামাজিক নানা কুসংস্কারের কারনে এ আইনের তোয়াক্কা না করে বাল্যবিবাহ হয়ে আসছে। বাল্যবিবাহের প্রধান কুফল- নারী শিক্ষার অগ্রগতি ব্যাহত হওয়া ছাড়াও বাল্যবিবাহের কারনে মাতৃমৃত্যুর ঝুঁকি বৃদ্ধি পাচ্ছে। বাল্যবিবাহের ফলে বিবাহ বিচ্ছেদের আশংকা তৈরী হওয়া ছাড়াও নানা পারিবারিক অশান্তি দেখা যাচ্ছে।
শুক্রবার
২৮শে মার্চ, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ
২৮শে মার্চ, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ