মঙ্গলবার | ৩ মার্চ ২০২৬ | বসন্তকাল
শিরোনাম :
Logo তারকা ও ভক্তদের হৃদয়ের বন্ধন: সুপারস্টার ডি এ তায়েব অফিসিয়াল ফ্যান ক্লাবের ইফতার মাহফিল Logo শতাধিক রোজাদারদের মুখে হাসি ফোটালেন বিজয়ীর ফাউন্ডার তানিয়া ইশতিয়াক খান Logo পলাশবাড়ীতে স্বামীর নির্যাতনের শিকার গৃহবধূর মৃত্যু!! আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেয়ার চেষ্টা Logo পলাশবাড়ী পৌর শহরে সড়কের গাছ চুরি চিহৃিন্ত চক্র আইনি ব্যবস্থা গ্রহনের দাবী Logo এসিএস ইন্টারন্যাশনাল স্টুডেন্ট চাপ্টার খুলনা ইউনিভার্সিটি’র নেতৃত্বে শাহরিয়ার-কমানিং Logo বেরোবি জাতীয়তাবাদী কর্মকর্তা ফোরাম নেতৃত্বে রোকনুজ্জামান – মামদুদুর  Logo শ্যামনগরে প্রেসক্লাব সভাপতির বিরুদ্ধে অভিযোগে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন Logo যশোর বেনাপোল দিয়ে ভারত থেকে আসলো আওয়ামী লীগের সাবেক এমপির মরদেহ Logo জীবননগরে পবিত্র মাহে রমজান মাস উপলক্ষে সুলভ মূল্যে কৃষি পণ্য বিক্রয় কার্যক্রমের উদ্বোধন Logo ইরানসহ মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের প্রেক্ষিতে বাংলাদেশিদের খোঁজ রাখছেন প্রধানমন্ত্রী

উন্নত মানের গমের দাম বেড়েছে মণে ৫০০ টাকা !

  • amzad khan
  • আপডেট সময় : ০৮:০২:৩৩ অপরাহ্ণ, মঙ্গলবার, ১৭ জানুয়ারি ২০১৭
  • ৮৫৯ বার পড়া হয়েছে

নিউজ ডেস্ক:

সরবরাহ সংকটে রাজধানীসহ দেশের বাজারে এক সপ্তাহের ব্যবধানে উন্নত মানের কানাডিয়ান গমের দাম মণপ্রতি ৫০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। এর প্রভাবে ময়দার দামও বস্তায় ৩০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি মিল মালিকরা অভিযোগ করছেন, আমদানিকারকরা কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে দাম বাড়িয়েছেন।

রাজধানী ও আশপাশ এলাকার আটা-ময়দার মিল মালিকরা জানিয়েছেন, এক সপ্তাহ আগে প্রতি মণ (৩৭ কেজি ৩২০ গ্রাম) উন্নত মানের গমের (মাছি মাথা) দাম ছিল ৯৮০ থেকে ১ হাজার টাকা। বর্তমানে তা দেড় হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। শস্যটির দরবৃদ্ধির প্রভাবে এরই মধ্যে ময়দার দাম ৫০ কেজির বস্তায় ২৫০-৩০০ টাকা বেড়েছে।

বর্তমান দামের গমে তৈরি ময়দা বাজারে এলে দাম আরো বাড়বে বলে ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন। তারা বলছেন, উন্নত মানের গমের দাম বেড়ে যাওয়ায় আটা তৈরির গমের দামও মণপ্রতি ৫০ টাকা বাড়ানো হয়েছে।

রাজধানীর পুরান ঢাকার মৌলভীবাজারের একজন আটা-ময়দা ব্যবসায়ী জানিয়েছেন, গম আমদানিকারকরা ছয় মাস আগেও প্রতি মণ কানাডিয়ান গম ৮০০ টাকায় বিক্রি করেছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে দাম স্থিতিশীল থাকায় হঠাত্ তারা দাম বাড়িয়ে ১ হাজার ৪০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা নির্ধারণ করেন। আমদানিকারকদের কাছ থেকে মিল মালিকরা সরবরাহ আদেশ কিনেছিলেন। বর্তমানে তাদের সরবরাহ না দিয়ে অন্যত্র চড়া মূল্যে গম বিক্রি করা হচ্ছে বলে ওই ব্যবসায়ী অভিযোগ করেন।

গতকাল বিকালে মৌলভীবাজারে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এক সপ্তাহ আগে ৫০ কেজির প্রতি বস্তা উন্নত মানের ময়দার দাম ছিল ১ হাজার ৩০০ থেকে ১ হাজার ৩২০ টাকা। গতকাল তা বিক্রি হয়েছে ১ হাজার ৫০০ থেকে ১ হাজার ৬০০ টাকায়। কোথাও কোথাও ১ হাজার ৭০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকায়ও বিক্রি হয়েছে বলে এ বাজারের একজন ব্যবসায়ী জানিয়েছেন।

ক্ষুদ্র ও মাঝারি আটা-ময়দার মিল মালিকরা জানিয়েছেন, কানাডিয়ান গমে উন্নত মানের ময়দা তৈরি হয়। পাউরুটি, বিস্কুটসহ ফাস্টফুডের অধিকাংশ তৈরি হয় এই কানাডিয়ান গম থেকে। গমের দাম অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ার প্রভাব রুটি-বিস্কুটসহ অন্যান্য পণ্যের ওপর পড়বে, যদি না সহসা এটির দাম কমে আসে।

এ সম্পর্কে জানতে চাইলে সিটি গ্রুপের মহাব্যবস্থাপক বিশ্বজিত সাহা বণিক বার্তাকে বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি টন কানাডিয়ান গমের দাম ছিল ২২০ ডলার। বর্তমানে তা ২৮০ ডলার হয়েছে। এ কারণে দাম বেড়েছে। তিনি জানান, তারা গম আমদানি করলেও তা নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় আটা-ময়দা তৈরির পর বিপণন করেন।

নারায়ণগঞ্জের চান ফ্লাওয়ার মিলের ব্যবসায়ী জানান, সাত থেকে ১০ দিনের ব্যবধানে তাদের বাজারে প্রতি মণ কানাডিয়ান গমের দাম ৫০০ টাকা বেড়েছে। আগে যে গমের দাম ১ হাজার টাকা মণ ছিল, বর্তমানে তা দেড় হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, কানাডিয়ান গম নৌপথে দেশে আসে। বর্তমানে শীতে ঘন কুয়াশার কারণে জাহাজ আসতে দেরি হচ্ছে। এছাড়া আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কিছুটা বেড়ে যাওয়ার সুযোগ নিচ্ছেন বড় বড় আমদানিকারক।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

তারকা ও ভক্তদের হৃদয়ের বন্ধন: সুপারস্টার ডি এ তায়েব অফিসিয়াল ফ্যান ক্লাবের ইফতার মাহফিল

উন্নত মানের গমের দাম বেড়েছে মণে ৫০০ টাকা !

আপডেট সময় : ০৮:০২:৩৩ অপরাহ্ণ, মঙ্গলবার, ১৭ জানুয়ারি ২০১৭

নিউজ ডেস্ক:

সরবরাহ সংকটে রাজধানীসহ দেশের বাজারে এক সপ্তাহের ব্যবধানে উন্নত মানের কানাডিয়ান গমের দাম মণপ্রতি ৫০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। এর প্রভাবে ময়দার দামও বস্তায় ৩০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি মিল মালিকরা অভিযোগ করছেন, আমদানিকারকরা কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে দাম বাড়িয়েছেন।

রাজধানী ও আশপাশ এলাকার আটা-ময়দার মিল মালিকরা জানিয়েছেন, এক সপ্তাহ আগে প্রতি মণ (৩৭ কেজি ৩২০ গ্রাম) উন্নত মানের গমের (মাছি মাথা) দাম ছিল ৯৮০ থেকে ১ হাজার টাকা। বর্তমানে তা দেড় হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। শস্যটির দরবৃদ্ধির প্রভাবে এরই মধ্যে ময়দার দাম ৫০ কেজির বস্তায় ২৫০-৩০০ টাকা বেড়েছে।

বর্তমান দামের গমে তৈরি ময়দা বাজারে এলে দাম আরো বাড়বে বলে ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন। তারা বলছেন, উন্নত মানের গমের দাম বেড়ে যাওয়ায় আটা তৈরির গমের দামও মণপ্রতি ৫০ টাকা বাড়ানো হয়েছে।

রাজধানীর পুরান ঢাকার মৌলভীবাজারের একজন আটা-ময়দা ব্যবসায়ী জানিয়েছেন, গম আমদানিকারকরা ছয় মাস আগেও প্রতি মণ কানাডিয়ান গম ৮০০ টাকায় বিক্রি করেছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে দাম স্থিতিশীল থাকায় হঠাত্ তারা দাম বাড়িয়ে ১ হাজার ৪০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা নির্ধারণ করেন। আমদানিকারকদের কাছ থেকে মিল মালিকরা সরবরাহ আদেশ কিনেছিলেন। বর্তমানে তাদের সরবরাহ না দিয়ে অন্যত্র চড়া মূল্যে গম বিক্রি করা হচ্ছে বলে ওই ব্যবসায়ী অভিযোগ করেন।

গতকাল বিকালে মৌলভীবাজারে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এক সপ্তাহ আগে ৫০ কেজির প্রতি বস্তা উন্নত মানের ময়দার দাম ছিল ১ হাজার ৩০০ থেকে ১ হাজার ৩২০ টাকা। গতকাল তা বিক্রি হয়েছে ১ হাজার ৫০০ থেকে ১ হাজার ৬০০ টাকায়। কোথাও কোথাও ১ হাজার ৭০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকায়ও বিক্রি হয়েছে বলে এ বাজারের একজন ব্যবসায়ী জানিয়েছেন।

ক্ষুদ্র ও মাঝারি আটা-ময়দার মিল মালিকরা জানিয়েছেন, কানাডিয়ান গমে উন্নত মানের ময়দা তৈরি হয়। পাউরুটি, বিস্কুটসহ ফাস্টফুডের অধিকাংশ তৈরি হয় এই কানাডিয়ান গম থেকে। গমের দাম অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ার প্রভাব রুটি-বিস্কুটসহ অন্যান্য পণ্যের ওপর পড়বে, যদি না সহসা এটির দাম কমে আসে।

এ সম্পর্কে জানতে চাইলে সিটি গ্রুপের মহাব্যবস্থাপক বিশ্বজিত সাহা বণিক বার্তাকে বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি টন কানাডিয়ান গমের দাম ছিল ২২০ ডলার। বর্তমানে তা ২৮০ ডলার হয়েছে। এ কারণে দাম বেড়েছে। তিনি জানান, তারা গম আমদানি করলেও তা নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় আটা-ময়দা তৈরির পর বিপণন করেন।

নারায়ণগঞ্জের চান ফ্লাওয়ার মিলের ব্যবসায়ী জানান, সাত থেকে ১০ দিনের ব্যবধানে তাদের বাজারে প্রতি মণ কানাডিয়ান গমের দাম ৫০০ টাকা বেড়েছে। আগে যে গমের দাম ১ হাজার টাকা মণ ছিল, বর্তমানে তা দেড় হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, কানাডিয়ান গম নৌপথে দেশে আসে। বর্তমানে শীতে ঘন কুয়াশার কারণে জাহাজ আসতে দেরি হচ্ছে। এছাড়া আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কিছুটা বেড়ে যাওয়ার সুযোগ নিচ্ছেন বড় বড় আমদানিকারক।