রবিবার | ১৮ জানুয়ারি ২০২৬ | শীতকাল
শিরোনাম :
Logo পলাশবাড়ীতে প্রতিবন্ধী সেবা সংস্থা ‘প্রসেস’এর ১০ম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত Logo আমরা বিএনপি পরিবার’উদ্যোগে সাতক্ষীরায় -৭নং ওয়ার্ডে ঘরে ঘরে ৮ দফার বার্তা Logo সাংবাদিকদের ‘পোষা কুকুর’ মন্তব্যে তোলপাড়, তোপের মুখে বক্তব্য প্রত্যাহার ড. বদিউল আলমের Logo জীবননগরে কমিউনিটি ক্লিনিকে চিকিৎসা সরঞ্জামাদি বিতরণ Logo জনতার কাফেলা ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে : আদিলুর রহমান খান Logo বাঁচতে চায় ক্যান্সারে আক্রান্ত খুবির সাবেক শিক্ষার্থী মুজাহিদ Logo জোট-মহাজোটের বাইরে ইসলামের একক শক্তি হাতপাখা -হাফেজ মাওলানা মুহাম্মদ মাকসুদুর রহমান Logo চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার সাহাপুর গ্রামে নবনির্মিত একটি দৃষ্টিনন্দন মসজিদের শুভ উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। Logo খালেদা জিয়ার স্মরণে নাগরিক শোকসভা চলছে, উপস্থিত রয়েছেন তারেক রহমান Logo চাঁদপুর পৌরসভার ৭ নং ওয়ার্ড বিএনপি ও এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে এক যৌথ সাংগঠনিক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

ফের উ. কোরিয়ার নাকের ডগায় সামরিক মহড়া চালাল যুক্তরাষ্ট্র !

  • amzad khan
  • আপডেট সময় : ১০:৫১:১৫ পূর্বাহ্ণ, মঙ্গলবার, ২২ আগস্ট ২০১৭
  • ৭৭৭ বার পড়া হয়েছে

নিউজ ডেস্ক:

উত্তর কোরিয়াকে চাপে রাখতে ফের পিয়ংইয়ংয়ের নাকের ডগায় সামরিক মহড়া চালাল যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়া।

স্বাভাবিকভাবেই এ ধরনের পদক্ষেপে ক্ষেপে গিয়ে যা কিছু একটা করার চেষ্টা করে থাকে উত্তর কোরিয়া।

এবার তারা কী ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখাবে? আবার কি পরমাণু ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালাবে নাকি অন্য কিছু করে দেখাবে?

উত্তর কোরিয়ার ওপর জাতিসংঘের নতুন নিষেধাজ্ঞার জবাবে প্রশান্ত মহাসাগরে যুক্তরাষ্ট্রের গুয়াম দ্বীপের সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালানোর হুমকি দেয় দেশটি। কিন্তু গত সপ্তাহে হামলার পরিকল্পনা স্থগিত করেন কিম জং-উন। কিন্তু তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের আচরণের ওপর নজর রাখছেন তারা।

যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার বাৎসরিক সামরিক মহড়া বন্ধের জন্য উত্তর কোরিয়া আহ্বান জানানোর পরও তা স্থগিত না করায় নিন্দা জানিয়েছে কিম জং-উনের প্রশাসন। ওয়াশিংটনের দাবি, ধরনের দিক থেকে এটি আত্মরক্ষামূলক সামরিক মহড়া। কিন্তু উত্তর কোরিয়ার দাবি, এটি তাদের বিরুদ্ধে আগ্রাসন চালানোর প্রস্তুতিমূলক মহড়া।

সম্প্রতি চীন ও রাশিয়া বলেছে, উত্তর কোরিয়ার পরমাণু ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা বন্ধের বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্রকে সামরিক মহড়া বন্ধ রাখতে হবে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ জোসেফ ডানফোর্ড বলেছেন, যেকোনো পর্যায়ে সমঝোতার জন্য তাদের সামরিক মহড়া বন্ধের পরিকল্পনা নেই।

রোববার উত্তর কোরীয় সরকারের সংবাদপত্র রোডোং সিনমুনের এক সম্পাদকীয়তে বলা হয়েছে, ‘এই মহড়া কোরীয় উপদ্বীপের পরিস্থিতি আরো খারাপ পর্যায়ে নিয়ে যাবে এবং এমন এক পরমাণু যুদ্ধ বাঁধিয়ে দেবে, যা নিয়ন্ত্রণ করা যাবে না। ’

যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়া প্রতিবছর দুইবার যৌথ সামরিক মহড়া চালায়। ব্যাপকসংখ্যক সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম থাকে মহড়া দুটিতে।

প্রতি বসন্তে কয়েক সপ্তাহ ধরে ‘ফোয়াল ইগল/কি রিজলভ’ শীর্ষক সামরিক মহড়া হয়ে থাকে। আর হেমন্তে কয়েক দিন ধরে ‘উলচি-ফ্রিডম গার্ডিয়ান’ নামে সামরিক মহড়া হয়ে থাকে। এবার সোমবার থেকে আগামী ১০ দিন ধরে স্থল, জল ও আকাশে এ মহড়া চলবে। এ ছাড়া সন্ত্রাসী হামলা মোকাবিলার প্রস্তুতি নিয়েও মহড়া হবে।

উলচি-ফ্রিডম গার্ডিয়ান সামরিক মহড়ায় দক্ষিণ কোরিয়া ৫০ হাজার সেনা মোতায়েন করে থাকে এবং যুক্তরাষ্ট্রের ২৫ হাজার ৩০ হাজার সেনা এতে অংশ নেয়। কোনো কোনোবার অন্য মিত্রদেরও এ মহড়ায় ডাকা হয়। গত বছর এ মহড়ায় অংশ নেয় যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, ডেনমার্ক, ফিলিপাইনসহ নয়টি দেশের সেনারা।

দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র ১৯৭৬ সাল থেকে উলচি-ফ্রিডম গার্ডিয়ান নামে যৌথ সামরিক মহড়া চালিয়ে আসছে। কোরিয়ার সপ্তম শতকের সামরিক নেতা ‍উলচি মুনডেয়কের নামে এ মহড়ার নামকরণ করা হয়েছে। ওই শতকে চীনের একটি আগ্রাসন প্রতিহত করেছিলেন উলচি।

বছরের প্রথম দিকে ফোয়াল ইগল-কি রিজলভ মহড়ার সময় উত্তর কোরিয়া পরমাণু যুদ্ধের হুমকি দিলেও শেষ পর্যন্ত ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার মধ্য দিয়ে তাদের হুমকি শেষ হয়। কিন্তু দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, ১৯৫৩ সালে সামরিক চুক্তির আওতায় প্রতিরক্ষামূলক এই মহড়া করে থাকে তারা।

২০১৫ সালে উলচি-ফ্রিডম গার্ডিয়ান মহড়ার পর সীমান্তে উত্তর কোরিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়ার সেনারা গোলাগুলিতে লিপ্ত হয়। সেবার কোনো প্রাণহানি হয়নি। তবে এ ধরনের কোনো মহাড় মানতে নারাজ পিয়ংইয়ং। তা ছাড়া এবার এমন সময় এ মহড়া হচ্ছে, যখন তাদের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। এখন দেখার বিষয়, উত্তর কোরিয়া শেষ পর্যন্ত কী ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখায়।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

পলাশবাড়ীতে প্রতিবন্ধী সেবা সংস্থা ‘প্রসেস’এর ১০ম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত

ফের উ. কোরিয়ার নাকের ডগায় সামরিক মহড়া চালাল যুক্তরাষ্ট্র !

আপডেট সময় : ১০:৫১:১৫ পূর্বাহ্ণ, মঙ্গলবার, ২২ আগস্ট ২০১৭

নিউজ ডেস্ক:

উত্তর কোরিয়াকে চাপে রাখতে ফের পিয়ংইয়ংয়ের নাকের ডগায় সামরিক মহড়া চালাল যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়া।

স্বাভাবিকভাবেই এ ধরনের পদক্ষেপে ক্ষেপে গিয়ে যা কিছু একটা করার চেষ্টা করে থাকে উত্তর কোরিয়া।

এবার তারা কী ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখাবে? আবার কি পরমাণু ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালাবে নাকি অন্য কিছু করে দেখাবে?

উত্তর কোরিয়ার ওপর জাতিসংঘের নতুন নিষেধাজ্ঞার জবাবে প্রশান্ত মহাসাগরে যুক্তরাষ্ট্রের গুয়াম দ্বীপের সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালানোর হুমকি দেয় দেশটি। কিন্তু গত সপ্তাহে হামলার পরিকল্পনা স্থগিত করেন কিম জং-উন। কিন্তু তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের আচরণের ওপর নজর রাখছেন তারা।

যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার বাৎসরিক সামরিক মহড়া বন্ধের জন্য উত্তর কোরিয়া আহ্বান জানানোর পরও তা স্থগিত না করায় নিন্দা জানিয়েছে কিম জং-উনের প্রশাসন। ওয়াশিংটনের দাবি, ধরনের দিক থেকে এটি আত্মরক্ষামূলক সামরিক মহড়া। কিন্তু উত্তর কোরিয়ার দাবি, এটি তাদের বিরুদ্ধে আগ্রাসন চালানোর প্রস্তুতিমূলক মহড়া।

সম্প্রতি চীন ও রাশিয়া বলেছে, উত্তর কোরিয়ার পরমাণু ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা বন্ধের বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্রকে সামরিক মহড়া বন্ধ রাখতে হবে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ জোসেফ ডানফোর্ড বলেছেন, যেকোনো পর্যায়ে সমঝোতার জন্য তাদের সামরিক মহড়া বন্ধের পরিকল্পনা নেই।

রোববার উত্তর কোরীয় সরকারের সংবাদপত্র রোডোং সিনমুনের এক সম্পাদকীয়তে বলা হয়েছে, ‘এই মহড়া কোরীয় উপদ্বীপের পরিস্থিতি আরো খারাপ পর্যায়ে নিয়ে যাবে এবং এমন এক পরমাণু যুদ্ধ বাঁধিয়ে দেবে, যা নিয়ন্ত্রণ করা যাবে না। ’

যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়া প্রতিবছর দুইবার যৌথ সামরিক মহড়া চালায়। ব্যাপকসংখ্যক সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম থাকে মহড়া দুটিতে।

প্রতি বসন্তে কয়েক সপ্তাহ ধরে ‘ফোয়াল ইগল/কি রিজলভ’ শীর্ষক সামরিক মহড়া হয়ে থাকে। আর হেমন্তে কয়েক দিন ধরে ‘উলচি-ফ্রিডম গার্ডিয়ান’ নামে সামরিক মহড়া হয়ে থাকে। এবার সোমবার থেকে আগামী ১০ দিন ধরে স্থল, জল ও আকাশে এ মহড়া চলবে। এ ছাড়া সন্ত্রাসী হামলা মোকাবিলার প্রস্তুতি নিয়েও মহড়া হবে।

উলচি-ফ্রিডম গার্ডিয়ান সামরিক মহড়ায় দক্ষিণ কোরিয়া ৫০ হাজার সেনা মোতায়েন করে থাকে এবং যুক্তরাষ্ট্রের ২৫ হাজার ৩০ হাজার সেনা এতে অংশ নেয়। কোনো কোনোবার অন্য মিত্রদেরও এ মহড়ায় ডাকা হয়। গত বছর এ মহড়ায় অংশ নেয় যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, ডেনমার্ক, ফিলিপাইনসহ নয়টি দেশের সেনারা।

দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র ১৯৭৬ সাল থেকে উলচি-ফ্রিডম গার্ডিয়ান নামে যৌথ সামরিক মহড়া চালিয়ে আসছে। কোরিয়ার সপ্তম শতকের সামরিক নেতা ‍উলচি মুনডেয়কের নামে এ মহড়ার নামকরণ করা হয়েছে। ওই শতকে চীনের একটি আগ্রাসন প্রতিহত করেছিলেন উলচি।

বছরের প্রথম দিকে ফোয়াল ইগল-কি রিজলভ মহড়ার সময় উত্তর কোরিয়া পরমাণু যুদ্ধের হুমকি দিলেও শেষ পর্যন্ত ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার মধ্য দিয়ে তাদের হুমকি শেষ হয়। কিন্তু দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, ১৯৫৩ সালে সামরিক চুক্তির আওতায় প্রতিরক্ষামূলক এই মহড়া করে থাকে তারা।

২০১৫ সালে উলচি-ফ্রিডম গার্ডিয়ান মহড়ার পর সীমান্তে উত্তর কোরিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়ার সেনারা গোলাগুলিতে লিপ্ত হয়। সেবার কোনো প্রাণহানি হয়নি। তবে এ ধরনের কোনো মহাড় মানতে নারাজ পিয়ংইয়ং। তা ছাড়া এবার এমন সময় এ মহড়া হচ্ছে, যখন তাদের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। এখন দেখার বিষয়, উত্তর কোরিয়া শেষ পর্যন্ত কী ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখায়।