আদালতে শমসের মবিন বললেন, ‘আমি বিএনপি করতাম’, পল্টিবাজ নেতা বললেন পিপি

  • নীলকন্ঠ ডেস্ক: নীলকন্ঠ ডেস্ক:
  • আপডেট সময় : ০৭:১৯:৫৬ অপরাহ্ণ, সোমবার, ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৫
  • ৭১০ বার পড়া হয়েছে

ঢাকার যাত্রাবাড়ী থানায় করা পারভেজ মিয়া হত্যা মামলায় ‘তৃণমূল বিএনপি’র চেয়ারম্যান শমসের মবিন চৌধুরীকে চারদিনের রিমান্ডে দিয়েছেন আদালত। সোমবার (১০ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জিএম ফারহান ইশতিয়াকের আদালত এ আদেশ দেন।

রিমান্ডের শুনানির সময় আদালতের কাছে নিজের মুক্তিযোদ্ধা পরিচয় তুলে ধরেন শমসের মবিন চৌধুরী। বলেন, ‘মাননীয় আদালত, ৫ আগস্ট তো আমি বাসায় ছিলাম। আমি কোনো খুনের ঘটনার সঙ্গে জড়িত নই। আমি তো প্রমাণ করে দিতে পারব ৫ আগস্ট আমি বাসায় ছিলাম। আমাকে রিমান্ডে দেওয়ার আবেদন নাকচ করা হোক।’

একপর্যায়ে শমসের মবিন চৌধুরী আদালতকে বলেন, ‘আমি তো ১৫ বছর বিএনপির রাজনীতি করেছি মাননীয় আদালত।’ শমসের মবিন চৌধুরীর এ বক্তব্যের পর ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের প্রধান পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ওমর ফারুক ফারুকী তার রিমান্ডের যুক্তি তুলে ধরে বলেন, শমসের মবিন চৌধুরী পল্টিবাজ নেতা। তিনি ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার অন্যতম সহযোগী। জুলাই–আগস্টে গণহত্যার ষড়যন্ত্রের সঙ্গে যারা যুক্ত ছিলেন, তাদের একজন হলেন শমসের মবিন চৌধুরী।

এদিন সকালে আসামিদের কারাগার থেকে আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা যাত্রাবাড়ী থানার উপপরিদর্শক নাজমুল হাসান। এসময় রাষ্ট্রপক্ষে পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ওমর ফারুক ফারুকী রিমান্ডের পক্ষে শুনানি করেন।

অন্যদিকে আসামিপক্ষে তার আইনজীবীরা রিমান্ড বাতিল ও জামিন চেয়ে আবেদন করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত চারদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

মামলা সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ৫ আগস্ট সকাল ১০টা থেকেই যাত্রাবাড়ী এলাকায় শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করছিল ছাত্র-জনতা। ওইদিন বিকেল ৫টায় যাত্রাবাড়ী থানার সামনে চৌরাস্তার উপরে পারভেজ মিয়া আসামিদের ছোঁড়া গুলিতে আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে শুরুতর জখম হন। পরে তাকে মুগদা মেডিকেলে ও পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে পারভেজ মিয়াকে বাঁচানো যায়নি।

ট্যাগস :

আদালতে শমসের মবিন বললেন, ‘আমি বিএনপি করতাম’, পল্টিবাজ নেতা বললেন পিপি

আপডেট সময় : ০৭:১৯:৫৬ অপরাহ্ণ, সোমবার, ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৫

ঢাকার যাত্রাবাড়ী থানায় করা পারভেজ মিয়া হত্যা মামলায় ‘তৃণমূল বিএনপি’র চেয়ারম্যান শমসের মবিন চৌধুরীকে চারদিনের রিমান্ডে দিয়েছেন আদালত। সোমবার (১০ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জিএম ফারহান ইশতিয়াকের আদালত এ আদেশ দেন।

রিমান্ডের শুনানির সময় আদালতের কাছে নিজের মুক্তিযোদ্ধা পরিচয় তুলে ধরেন শমসের মবিন চৌধুরী। বলেন, ‘মাননীয় আদালত, ৫ আগস্ট তো আমি বাসায় ছিলাম। আমি কোনো খুনের ঘটনার সঙ্গে জড়িত নই। আমি তো প্রমাণ করে দিতে পারব ৫ আগস্ট আমি বাসায় ছিলাম। আমাকে রিমান্ডে দেওয়ার আবেদন নাকচ করা হোক।’

একপর্যায়ে শমসের মবিন চৌধুরী আদালতকে বলেন, ‘আমি তো ১৫ বছর বিএনপির রাজনীতি করেছি মাননীয় আদালত।’ শমসের মবিন চৌধুরীর এ বক্তব্যের পর ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের প্রধান পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ওমর ফারুক ফারুকী তার রিমান্ডের যুক্তি তুলে ধরে বলেন, শমসের মবিন চৌধুরী পল্টিবাজ নেতা। তিনি ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার অন্যতম সহযোগী। জুলাই–আগস্টে গণহত্যার ষড়যন্ত্রের সঙ্গে যারা যুক্ত ছিলেন, তাদের একজন হলেন শমসের মবিন চৌধুরী।

এদিন সকালে আসামিদের কারাগার থেকে আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা যাত্রাবাড়ী থানার উপপরিদর্শক নাজমুল হাসান। এসময় রাষ্ট্রপক্ষে পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ওমর ফারুক ফারুকী রিমান্ডের পক্ষে শুনানি করেন।

অন্যদিকে আসামিপক্ষে তার আইনজীবীরা রিমান্ড বাতিল ও জামিন চেয়ে আবেদন করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত চারদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

মামলা সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ৫ আগস্ট সকাল ১০টা থেকেই যাত্রাবাড়ী এলাকায় শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করছিল ছাত্র-জনতা। ওইদিন বিকেল ৫টায় যাত্রাবাড়ী থানার সামনে চৌরাস্তার উপরে পারভেজ মিয়া আসামিদের ছোঁড়া গুলিতে আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে শুরুতর জখম হন। পরে তাকে মুগদা মেডিকেলে ও পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে পারভেজ মিয়াকে বাঁচানো যায়নি।