দু’বোনের যৌননির্যাতনের কষ্টগাথা লেখা ছিল বাড়ির দেয়ালে !

  • amzad khan
  • আপডেট সময় : ০৬:২৯:২৭ অপরাহ্ণ, রবিবার, ৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৭
  • ৭৪৯ বার পড়া হয়েছে

নিউজ ডেস্ক:

ভারতের মধ্য প্রদেশের দেবাস এলাকায় ন্যাক্কারজনক ঘটনাটি ঘটে। নিষ্পাপ দুটি মেয়ে শিশু তাদের বাড়ির দেয়ালে লেখে রাখে, প্রিয় মা- আমাদেরকে এই নরকে ফেলে তুই কীভাবে চলে গেলি! তুই জানিস আমাদের সঙ্গে কী ঘটছে? আমাদের লড়াই করার শক্তি দে যাতে করে আমরা বাবাকে খতম করতে পারি।

শেষ পর্যন্ত লোকজনের নজরে একদিন পড়ে লেখাগুলো। এরপরই তাদের মুক্তি ঘটে ‘নরক’ থেকে। এই নরক মানে নিজবাড়িতে গত পাঁচবছর ধরে তাদের সৎপিতা নির্মম যৌননির্যাতন করে যাচ্ছিল শিশু দুটির ওপর।শেষ দিকে পিতা নামের ওই নরপিশাচের লালসা থেকে বাঁচতে ১২ ও ১১ বছর বয়সী দুই সহোদরা পাঁচটি করে পোশাক পড়ে থাকতো। যাতে করে এতগুলো পোশাক খোলার উসিলায় কিছু সময় তারা পেতে পারে পরিত্রাণের। একপর্যায়ে বড় বোনটি বাড়ি ছেড়ে পালিয়েও গিয়েছিল। কিন্তু ছোট বোনের দুর্ভোগের কথা ভেবে ফিরে আসে।

জানা গেছে, শিশু দুটির মায়ের ক্যান্সার ছিল। তখনো তাদের ওপর চলছিল নারকীয় কাণ্ড, তবে কিছুটা নিরবে। সম্প্রতি তাদের মা মারা যাওয়ার পর বেপরোয়া হয়ে ওঠে দুরাচার লোকটি। এ অবস্থায় শিশু দুটি তাদের সৎ দাদীকে ঘটনা জানায়। কিন্তু তাতে কোনো ফল হয়নি। উল্টো ঘটনা ফাঁস হওয়া ঠেকাতে মুকেশ শিশু দুটির স্কুল যাওয়া বন্ধ করে দেয়। সে শিশু দুটিকে বলতো- সামনের দিনে অন্য লোকে জোরজবরদস্তি এমন কিছু করবেই তাই সে নিজেই এমন করছে। যখন কোনোভাবেই কিছু হচ্ছিল না। তখন শিশু দুটি তাদের বাড়ির বাইরের দেয়াল নিজেদের দুঃখ ভরা কাহিনী লেখা শুরু করে। এতেই বিষয়টি জানাজানি হয় এবং চাইল্ড লাইন নামে একটি সংস্থা তৎপর হয়। তারা মুকেশের বিরুদ্ধে মামলা করলে পুলিশ শিশু দুটিকে উদ্ধার ও মুকেশকে গ্রেফতারর করে। সূত্র: এনবিটি।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

দু’বোনের যৌননির্যাতনের কষ্টগাথা লেখা ছিল বাড়ির দেয়ালে !

আপডেট সময় : ০৬:২৯:২৭ অপরাহ্ণ, রবিবার, ৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৭

নিউজ ডেস্ক:

ভারতের মধ্য প্রদেশের দেবাস এলাকায় ন্যাক্কারজনক ঘটনাটি ঘটে। নিষ্পাপ দুটি মেয়ে শিশু তাদের বাড়ির দেয়ালে লেখে রাখে, প্রিয় মা- আমাদেরকে এই নরকে ফেলে তুই কীভাবে চলে গেলি! তুই জানিস আমাদের সঙ্গে কী ঘটছে? আমাদের লড়াই করার শক্তি দে যাতে করে আমরা বাবাকে খতম করতে পারি।

শেষ পর্যন্ত লোকজনের নজরে একদিন পড়ে লেখাগুলো। এরপরই তাদের মুক্তি ঘটে ‘নরক’ থেকে। এই নরক মানে নিজবাড়িতে গত পাঁচবছর ধরে তাদের সৎপিতা নির্মম যৌননির্যাতন করে যাচ্ছিল শিশু দুটির ওপর।শেষ দিকে পিতা নামের ওই নরপিশাচের লালসা থেকে বাঁচতে ১২ ও ১১ বছর বয়সী দুই সহোদরা পাঁচটি করে পোশাক পড়ে থাকতো। যাতে করে এতগুলো পোশাক খোলার উসিলায় কিছু সময় তারা পেতে পারে পরিত্রাণের। একপর্যায়ে বড় বোনটি বাড়ি ছেড়ে পালিয়েও গিয়েছিল। কিন্তু ছোট বোনের দুর্ভোগের কথা ভেবে ফিরে আসে।

জানা গেছে, শিশু দুটির মায়ের ক্যান্সার ছিল। তখনো তাদের ওপর চলছিল নারকীয় কাণ্ড, তবে কিছুটা নিরবে। সম্প্রতি তাদের মা মারা যাওয়ার পর বেপরোয়া হয়ে ওঠে দুরাচার লোকটি। এ অবস্থায় শিশু দুটি তাদের সৎ দাদীকে ঘটনা জানায়। কিন্তু তাতে কোনো ফল হয়নি। উল্টো ঘটনা ফাঁস হওয়া ঠেকাতে মুকেশ শিশু দুটির স্কুল যাওয়া বন্ধ করে দেয়। সে শিশু দুটিকে বলতো- সামনের দিনে অন্য লোকে জোরজবরদস্তি এমন কিছু করবেই তাই সে নিজেই এমন করছে। যখন কোনোভাবেই কিছু হচ্ছিল না। তখন শিশু দুটি তাদের বাড়ির বাইরের দেয়াল নিজেদের দুঃখ ভরা কাহিনী লেখা শুরু করে। এতেই বিষয়টি জানাজানি হয় এবং চাইল্ড লাইন নামে একটি সংস্থা তৎপর হয়। তারা মুকেশের বিরুদ্ধে মামলা করলে পুলিশ শিশু দুটিকে উদ্ধার ও মুকেশকে গ্রেফতারর করে। সূত্র: এনবিটি।