রবিবার | ১৮ জানুয়ারি ২০২৬ | শীতকাল
শিরোনাম :
Logo পলাশবাড়ীতে প্রতিবন্ধী সেবা সংস্থা ‘প্রসেস’এর ১০ম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত Logo আমরা বিএনপি পরিবার’উদ্যোগে সাতক্ষীরায় -৭নং ওয়ার্ডে ঘরে ঘরে ৮ দফার বার্তা Logo সাংবাদিকদের ‘পোষা কুকুর’ মন্তব্যে তোলপাড়, তোপের মুখে বক্তব্য প্রত্যাহার ড. বদিউল আলমের Logo জীবননগরে কমিউনিটি ক্লিনিকে চিকিৎসা সরঞ্জামাদি বিতরণ Logo জনতার কাফেলা ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে : আদিলুর রহমান খান Logo বাঁচতে চায় ক্যান্সারে আক্রান্ত খুবির সাবেক শিক্ষার্থী মুজাহিদ Logo জোট-মহাজোটের বাইরে ইসলামের একক শক্তি হাতপাখা -হাফেজ মাওলানা মুহাম্মদ মাকসুদুর রহমান Logo চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার সাহাপুর গ্রামে নবনির্মিত একটি দৃষ্টিনন্দন মসজিদের শুভ উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। Logo খালেদা জিয়ার স্মরণে নাগরিক শোকসভা চলছে, উপস্থিত রয়েছেন তারেক রহমান Logo চাঁদপুর পৌরসভার ৭ নং ওয়ার্ড বিএনপি ও এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে এক যৌথ সাংগঠনিক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শিকলে বাঁধা সাকুর কপালে জোটেনি প্রতিবন্ধী ভাতাকার্ড

  • rahul raj
  • আপডেট সময় : ০৬:২১:৫৩ অপরাহ্ণ, মঙ্গলবার, ২৯ ডিসেম্বর ২০২০
  • ৯১২ বার পড়া হয়েছে

বায়েজীদ (গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি)  :

দুই বছর আগে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে রাজিব মিয়া সাকু (১৭)। এর পর থেকে শিকলে বন্দি জীবন কাটছে তার। কিন্তু অসহায় দরিদ্র পরিবারের এই সাকুর কপালে জোটেনি সরকারি সুযযোগ-সুবিধা কিংবা প্রতিবন্ধী ভাতা কার্ড।

প্রতিবন্ধী রাজিব মিয়া সাকুর বাড়ি গাইবান্ধা সদর উপজেলার ঘাগোয়া ইউনিয়নের দারিয়াপুর পশ্চিমপাড়া গ্রামের মৃত শাহজাহান মিয়া ও বিধবা বেওয়া বেওয়ার ছেলে।

স্থানীয়রা জানায়, দুই বছর ধরে যুবক সন্তানকে শিকলে বেঁধে রেখেছেন অসহায় মা। কোনোমতে নুন-ভাতে কাটে তাঁদের জীবন। ছেলের চিকিৎসার চিন্তা তাদের কাছে বিলাসিতার সমান! তাই বিধবা মাকেই ছেলের খাওয়ানো থেকে শুরু করে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার যাবতীয় কাজ করতে হয়। তিনি চোখ বুজলে ছেলের কী হবে? তা ভেবে চোখের পানি ফেলেন মা। এখন পর্যন্ত ওই ছেলেটির কপালে জোটেনি সরকারি সহায়তাসহ প্রতিবন্ধী ভাতা কার্ড।

স্বজনরা জানান, দারিয়াপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ২য় শ্রেণি পর্যন্ত পড়েছিলো সাকু মিয়া। এরপর পরিবারের দারিদ্রতার কারণে তার লেখা-পড়া বন্ধ হয়ে যায়। তাই মাকে সাহায্য করতে যোগ দেন কাজে। এরপর ১৪-১৫ বছর বয়সে হঠাৎ সে অমানুষিক আচারণ শুরু করে। এরপর তার মা তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসকরা জানান তার মানসিক সমস্যা দেখা দিয়েছে। রংপুরে কিছুদিন চিকিৎসার পর অর্থের অভাবে তাও বন্ধ হয়ে যায়। এরপর সাকু মিয়াকে বাড়িতে নিয়ে আসেন তার মা রমিছা বেওয়া। ফলে তার মানষিক রোগ আরও বেড়ে যায়। বেপরোয়া হয়ে ওসে সে। কাছে যাকে পায় তাকে কামড়ে দেয়। যানবাহনে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। ছেলে-মেয়েকে মারধর করে। কোন উপায় না পেয়ে ছেলেকে শিকলে বেঁধে রাখেন তার মা।

আরো জানা যায়, রমিছা বেওয়ার বসবাস উপযোগি ঘর-দর্জা কিছুই নেই। অন্যের জায়গায় একটু চালা তুলে কোন মতে দিন কাটছে তার। ঝড় বৃষ্টির সাথে লড়াই করে থাকতে হয় পাগল ছেলেকে নিয়ে। ছেলের প্রতিবন্ধী ভাতাসহ নিজের বিধবা ভাতাও পানটি তিনি। ঝিঁয়ের বাড়ির কাজই তার একমাত্র সম্বল।

গাইবান্ধা সদর উপজেলা সমাজসেবা অফিসার নাসির উদ্দিন সাহ  বলেন, প্রতিবন্ধী রাজিব হোসেন সাকুর সহায়তা দেওয়া ব্যবস্থা করা হবে।

 

 

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

পলাশবাড়ীতে প্রতিবন্ধী সেবা সংস্থা ‘প্রসেস’এর ১০ম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত

শিকলে বাঁধা সাকুর কপালে জোটেনি প্রতিবন্ধী ভাতাকার্ড

আপডেট সময় : ০৬:২১:৫৩ অপরাহ্ণ, মঙ্গলবার, ২৯ ডিসেম্বর ২০২০

বায়েজীদ (গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি)  :

দুই বছর আগে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে রাজিব মিয়া সাকু (১৭)। এর পর থেকে শিকলে বন্দি জীবন কাটছে তার। কিন্তু অসহায় দরিদ্র পরিবারের এই সাকুর কপালে জোটেনি সরকারি সুযযোগ-সুবিধা কিংবা প্রতিবন্ধী ভাতা কার্ড।

প্রতিবন্ধী রাজিব মিয়া সাকুর বাড়ি গাইবান্ধা সদর উপজেলার ঘাগোয়া ইউনিয়নের দারিয়াপুর পশ্চিমপাড়া গ্রামের মৃত শাহজাহান মিয়া ও বিধবা বেওয়া বেওয়ার ছেলে।

স্থানীয়রা জানায়, দুই বছর ধরে যুবক সন্তানকে শিকলে বেঁধে রেখেছেন অসহায় মা। কোনোমতে নুন-ভাতে কাটে তাঁদের জীবন। ছেলের চিকিৎসার চিন্তা তাদের কাছে বিলাসিতার সমান! তাই বিধবা মাকেই ছেলের খাওয়ানো থেকে শুরু করে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার যাবতীয় কাজ করতে হয়। তিনি চোখ বুজলে ছেলের কী হবে? তা ভেবে চোখের পানি ফেলেন মা। এখন পর্যন্ত ওই ছেলেটির কপালে জোটেনি সরকারি সহায়তাসহ প্রতিবন্ধী ভাতা কার্ড।

স্বজনরা জানান, দারিয়াপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ২য় শ্রেণি পর্যন্ত পড়েছিলো সাকু মিয়া। এরপর পরিবারের দারিদ্রতার কারণে তার লেখা-পড়া বন্ধ হয়ে যায়। তাই মাকে সাহায্য করতে যোগ দেন কাজে। এরপর ১৪-১৫ বছর বয়সে হঠাৎ সে অমানুষিক আচারণ শুরু করে। এরপর তার মা তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসকরা জানান তার মানসিক সমস্যা দেখা দিয়েছে। রংপুরে কিছুদিন চিকিৎসার পর অর্থের অভাবে তাও বন্ধ হয়ে যায়। এরপর সাকু মিয়াকে বাড়িতে নিয়ে আসেন তার মা রমিছা বেওয়া। ফলে তার মানষিক রোগ আরও বেড়ে যায়। বেপরোয়া হয়ে ওসে সে। কাছে যাকে পায় তাকে কামড়ে দেয়। যানবাহনে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। ছেলে-মেয়েকে মারধর করে। কোন উপায় না পেয়ে ছেলেকে শিকলে বেঁধে রাখেন তার মা।

আরো জানা যায়, রমিছা বেওয়ার বসবাস উপযোগি ঘর-দর্জা কিছুই নেই। অন্যের জায়গায় একটু চালা তুলে কোন মতে দিন কাটছে তার। ঝড় বৃষ্টির সাথে লড়াই করে থাকতে হয় পাগল ছেলেকে নিয়ে। ছেলের প্রতিবন্ধী ভাতাসহ নিজের বিধবা ভাতাও পানটি তিনি। ঝিঁয়ের বাড়ির কাজই তার একমাত্র সম্বল।

গাইবান্ধা সদর উপজেলা সমাজসেবা অফিসার নাসির উদ্দিন সাহ  বলেন, প্রতিবন্ধী রাজিব হোসেন সাকুর সহায়তা দেওয়া ব্যবস্থা করা হবে।