বৃহস্পতিবার | ৫ মার্চ ২০২৬ | বসন্তকাল
শিরোনাম :
Logo নোবিপ্রবিতে ছাত্রী হলের নামাজ ঘরকে গণরুমে রূপান্তরের অভিযোগ Logo যমুনা রোড স্পোর্টিং ক্লাবের উদ্যোগে ইফতার মাহফিল Logo দৈনিক চাঁদপুর খবর পরিবারের উদ্যোগে ইফতার মাহফিল ও দোয়া অনুষ্ঠান Logo পলাশবাড়ী মহিলা ডিগ্রী কলেজে অতিরিক্ত  ফি আদায়ের অভিযোগ Logo খুবির সিরাজগঞ্জ এসোসিয়েশনের নতুন নেতৃত্বে মমিন ও সিয়াম। Logo ঝিনাইদহ স্টুডেন্ট ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন’র নেতৃত্বে রাতুল-তৌকির Logo চাঁদপুর সেন্ট্রাল রোটারি ক্লাবের রামাদান খাদ্য সামগ্রী বিতরণ Logo সুন্দরবন-এ বিশেষ অভিযানে জাহাঙ্গীর বাহিনীর ১ সদস্য আটক, অস্ত্র-গুলিসহ উদ্ধার Logo সুপারস্টার ডি এ তায়েব অফিসিয়াল ফ্যান ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক অপু চৌধুরীর কৃতজ্ঞতা Logo সুন্দরবন-এ শুরু হলো গোলপাতা আহরণ মৌসুম

নদীর জায়গা দখল করে গড়ে উঠছে ঘরবাড়ি, দোকানপাট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান

  • rahul raj
  • আপডেট সময় : ০৭:০৫:৪২ অপরাহ্ণ, বৃহস্পতিবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০
  • ৭৪৩ বার পড়া হয়েছে

স্টাফ রিপোর্টার, ঝিনাইদহঃ
ঝিনাইদহ জেলার ৬টি উপজেলার বুক চিরে বয়ে গেছে ১২টি ছোট-বড় নদ-নদী। কিন্তু খননের অভাব আর অবৈধ দখলদারদের কারণে নদীগুলো পরিণত হয়েছে মরা খালে। এখন আর যৌবন নেই এই সব নদ বা নদীগুলোতে। যে কারণে এই জেলায় এখন আর আগের মতো দেশীয় প্রজাতির মাছ পাওয়া যায় না। শুষ্ক মৌসুমে পানি থাকে না। সেখানে চাষ করা হয় ধান, পাট, সরিষাসহ নানা ফসলের। এই সুযোগে নদীর পাড়ের জায়গা দখল করতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে এলাকার প্রভাবশালী অবৈধ দখলদাররা। ঝিনাইদহে নদীর জায়গা দখল করে গড়ে উঠছে ঘরবাড়ি, দোকানপাট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। এই জেলার বিভিন্ন নদ-নদীর এলাকা সরজমিন ঘুরে দেখা গেছে-ঝিনাইদহের উপর দিয়ে বয়ে গেছে নবগঙ্গা, চিত্রা, কুমার, বেগবতি, গড়াই, ইছামতি, ডাকুয়া, কালীগঙ্গা, কোদলা, ফটকী, বুড়ি নদী ও কপোতাক্ষ নদ। যার মোট আয়তন ১ হাজার ৬শ’ ৪১ দশমিক ৭৫ হেক্টর। ঝিনাইদহ শহরের বুক চিরে বয়ে যাওয়া নবগঙ্গা নদী। নদীর বিভিন্ন স্থানে অবৈধভাবে নদীর জায়গা দখল করে নির্মাণ করা হচ্ছে ঘরবাড়ি, দোকানপাট ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। এই শহরের সমস্ত ড্রেনের ময়লা আবর্জনা গিয়ে পড়ছে এই নদীতে। যে কারণে নদীর পানি পচে দুর্গন্ধ হয়ে গেছে। এসব কারণে একদিকে যেমন কমছে নদীর প্রশস্ততা, সেই সঙ্গে ধ্বংস হচ্ছে দেশীয় প্রজাতির মাছসহ জলজ প্রাণী ও সেই সঙ্গে পরিবেশ পড়ছে হুমকির মুখে। তাই দ্রুততম সময়ের মধ্যে সরকারকে ব্যবস্থা গ্রহণ করার দাবি এই শহরে বসবাসরত লাখ লাখ সাধারণ মানুষের। ঝিনাইদহ শহরের কাঞ্চননগর এলাকার রাশেদ মালিতা বলেন, ছোটকালে দেখেছি নবগঙ্গা নদীতে বড় বড় পাল তোলা নৌকা আসতো। এই নৌকা ধোপাঘাটা ব্রিজ এলাকায় নোঙর ফেলে ব্যবসায়ীরা ঝিনাইদহ শহরে ব্যবসা করতে আসতো। কিন্তু আজ সেই নদীতে এখন ডিঙি নৌকাও চলে না। বর্ষা মৌসুমে একটু পানি থাকলেও শীত মৌসুমে পানি শুকিয়ে মাটি ফেটে চৌচির হয়ে যায়। তখন নদীর এপাড় ওপাড়ের মানুষ হেঁটে হেঁটেই নদী পার হয়ে যায়। এ ব্যাপারে ঝিনাইদহের জেলা প্রশাসক সরোজ কুমার নাথ বলেন, নবগঙ্গা নদীর উৎসমুখ চুয়াডাঙ্গাতে বন্ধ হয়ে আছে। চুয়াডাঙ্গার মাথাভাঙা নদী থেকে আসা এ নদীটির মুখ বহুবছর ধরে বন্ধ হয়ে আছে। এ বছর চুয়াডাঙ্গা জেলাকে অনুরোধ করা হয়েছে উৎসমুখ খনন করার জন্য। সেখানকার জেলা প্রশাসন জানিয়েছেন উৎসমুখ খনন করার জন্য মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাবনা পাঠিয়েছেন। সেখানে খনন করা হলেই চিত্রা, বেগবতি আর নবগঙ্গা নদী কিছুটা হলেও পানির স্রোত ফিরে পাবে। এ ছাড়া যেসব স্থানে অবৈধ দখলদার রয়েছে সেখানেও দ্রুতই অভিযান চালিয়ে দখলদারদের উচ্ছেদ করা হবে বলে জানান তিনি।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

নোবিপ্রবিতে ছাত্রী হলের নামাজ ঘরকে গণরুমে রূপান্তরের অভিযোগ

নদীর জায়গা দখল করে গড়ে উঠছে ঘরবাড়ি, দোকানপাট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান

আপডেট সময় : ০৭:০৫:৪২ অপরাহ্ণ, বৃহস্পতিবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০

স্টাফ রিপোর্টার, ঝিনাইদহঃ
ঝিনাইদহ জেলার ৬টি উপজেলার বুক চিরে বয়ে গেছে ১২টি ছোট-বড় নদ-নদী। কিন্তু খননের অভাব আর অবৈধ দখলদারদের কারণে নদীগুলো পরিণত হয়েছে মরা খালে। এখন আর যৌবন নেই এই সব নদ বা নদীগুলোতে। যে কারণে এই জেলায় এখন আর আগের মতো দেশীয় প্রজাতির মাছ পাওয়া যায় না। শুষ্ক মৌসুমে পানি থাকে না। সেখানে চাষ করা হয় ধান, পাট, সরিষাসহ নানা ফসলের। এই সুযোগে নদীর পাড়ের জায়গা দখল করতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে এলাকার প্রভাবশালী অবৈধ দখলদাররা। ঝিনাইদহে নদীর জায়গা দখল করে গড়ে উঠছে ঘরবাড়ি, দোকানপাট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। এই জেলার বিভিন্ন নদ-নদীর এলাকা সরজমিন ঘুরে দেখা গেছে-ঝিনাইদহের উপর দিয়ে বয়ে গেছে নবগঙ্গা, চিত্রা, কুমার, বেগবতি, গড়াই, ইছামতি, ডাকুয়া, কালীগঙ্গা, কোদলা, ফটকী, বুড়ি নদী ও কপোতাক্ষ নদ। যার মোট আয়তন ১ হাজার ৬শ’ ৪১ দশমিক ৭৫ হেক্টর। ঝিনাইদহ শহরের বুক চিরে বয়ে যাওয়া নবগঙ্গা নদী। নদীর বিভিন্ন স্থানে অবৈধভাবে নদীর জায়গা দখল করে নির্মাণ করা হচ্ছে ঘরবাড়ি, দোকানপাট ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। এই শহরের সমস্ত ড্রেনের ময়লা আবর্জনা গিয়ে পড়ছে এই নদীতে। যে কারণে নদীর পানি পচে দুর্গন্ধ হয়ে গেছে। এসব কারণে একদিকে যেমন কমছে নদীর প্রশস্ততা, সেই সঙ্গে ধ্বংস হচ্ছে দেশীয় প্রজাতির মাছসহ জলজ প্রাণী ও সেই সঙ্গে পরিবেশ পড়ছে হুমকির মুখে। তাই দ্রুততম সময়ের মধ্যে সরকারকে ব্যবস্থা গ্রহণ করার দাবি এই শহরে বসবাসরত লাখ লাখ সাধারণ মানুষের। ঝিনাইদহ শহরের কাঞ্চননগর এলাকার রাশেদ মালিতা বলেন, ছোটকালে দেখেছি নবগঙ্গা নদীতে বড় বড় পাল তোলা নৌকা আসতো। এই নৌকা ধোপাঘাটা ব্রিজ এলাকায় নোঙর ফেলে ব্যবসায়ীরা ঝিনাইদহ শহরে ব্যবসা করতে আসতো। কিন্তু আজ সেই নদীতে এখন ডিঙি নৌকাও চলে না। বর্ষা মৌসুমে একটু পানি থাকলেও শীত মৌসুমে পানি শুকিয়ে মাটি ফেটে চৌচির হয়ে যায়। তখন নদীর এপাড় ওপাড়ের মানুষ হেঁটে হেঁটেই নদী পার হয়ে যায়। এ ব্যাপারে ঝিনাইদহের জেলা প্রশাসক সরোজ কুমার নাথ বলেন, নবগঙ্গা নদীর উৎসমুখ চুয়াডাঙ্গাতে বন্ধ হয়ে আছে। চুয়াডাঙ্গার মাথাভাঙা নদী থেকে আসা এ নদীটির মুখ বহুবছর ধরে বন্ধ হয়ে আছে। এ বছর চুয়াডাঙ্গা জেলাকে অনুরোধ করা হয়েছে উৎসমুখ খনন করার জন্য। সেখানকার জেলা প্রশাসন জানিয়েছেন উৎসমুখ খনন করার জন্য মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাবনা পাঠিয়েছেন। সেখানে খনন করা হলেই চিত্রা, বেগবতি আর নবগঙ্গা নদী কিছুটা হলেও পানির স্রোত ফিরে পাবে। এ ছাড়া যেসব স্থানে অবৈধ দখলদার রয়েছে সেখানেও দ্রুতই অভিযান চালিয়ে দখলদারদের উচ্ছেদ করা হবে বলে জানান তিনি।