মঙ্গলবার | ১৭ মার্চ ২০২৬ | বসন্তকাল
শিরোনাম :
Logo বার কাউন্সিল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে খুবির ৪২ শিক্ষার্থী আইনজীবী Logo ইসলামপুর গাছতলা দরবার শরীফে ইফতার মাহফিল Logo চাঁদপুরে মানবদূত স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের উদ্যোগে ঈদ উপহার বিতরণ Logo চাঁদপুর বড় স্টেশন প্রধানীয়া বাড়িতে মরহুমদের রুহের মাগফিরাত কামনায় ইফতার ও দোয়া মাহফিল Logo জাবিতে জাতীয় ছাত্রশক্তির পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা Logo প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সচিব পদমর্যাদায় খুবি অধ্যাপক আবদুল আওয়াল Logo বিভাগীয় পদোন্নতি প্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তাকে র‍্যাংক ব্যাজ পরিধান Logo চাঁদপুরে মানবদূত স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের উদ্যোগে পথচারীদের মাঝে ইফতার বিতরণ ও দোয়া মাহফিল Logo জনপ্রিয় ব্র্যান্ড কাচ্চি ডাইন চাঁদপুর শাখায় ভোক্তা অভিযান, ব্যাখ্যা দিল কর্তৃপক্ষ Logo চাঁদপুর জেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সভা অনুষ্ঠিত

অসুস্থ মায়ের জীবন চলছে দুই শিশু সন্তানের রিক্সার প্যাডেলের চাপে

  • Nil Kontho
  • আপডেট সময় : ০৫:৫১:৪৬ অপরাহ্ণ, সোমবার, ২ এপ্রিল ২০১৮
  • ৭৮২ বার পড়া হয়েছে

জাহিদুর রহমান তারিক,ঝিনাইদহঃ  তিন মাস মায়ের পেটে থাকতে বাবা শাহাদত হোসেন সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন। শোকে মুহ্যমান সদ্য বিধবা মা হাসিনা খাতুন স্বামীর ভিটে ত্যাগ করেন কিছুদন পরই। ওঠে নানা বাড়ি ঝিনাইদহ শহরের ব্যাপারীপাড়ায়। হাসিনার কোল জুড়ে আসে দুই জোমজ ভাই হাসান ও খায়রুল। বাবা মায়ের নতুন বিয়ের প্রস্তাব প্রত্যাখান করে পরের বাড়ি ঝির কাজ করে দুই ছেলেকে পড়ালেখা করাতো হাসিনা। কিন্তু বিধি বাম ! মাত্র ৩২ বছর বয়সে কিডনি, হার্ট ও এ্যজমায় আক্রান্ত হন হাসিনা। মায়ের জীবন বাঁচাতে মাত্র ১০ বছর বয়সে রিক্সার প্যাডেলে পা রাখে দুই ভাই হাসান ও খায়রুল। তিন বছর ধরে তারা দু’ভাই ঝিনাইদহ শহরে ভাড়া করা রিক্সা চালিয়ে মায়ের হাতে যতসামান্ন টাকা তুলে দিচ্ছে। তাই দিয়ে মায়ের চিকিৎসা ও সংসার চালানো দুরুহ হয়ে পড়ছে। হাসান ও খায়রুল রোববার বেলা তিনটা পর্যন্ত দুই রিক্সার ভাড়া হিসেবে চার’শ টাকা তুলতে পারেনি। এইসএসএস সড়কে তারা ভাবছিলো কি ভাবে আজকের মালিক ভাড়া দিবে। এ প্রতিনিধির সাথে কথা হলে হাসান ও খায়রুল তাদের কলাবাগানপাড়ার বস্তিতে নিয়ে যান। তারা ভাড়া থাকেন বাসন্তি নামে এক হিন্দু মহিলার বাড়িতে। ঘিঞ্জি পরিবেশে মা হাসিনা তখন দুপরের খাবার তৈরী করছিলো। সাংবাদিক পরিচয় জেনে হাসিনা বেগম তার অসহায়াত্বের কথা জানান। তিনি বলেন, দীর্ঘ ৫ বছর তিনি কিডনি, হার্ট ও এ্যজমা রোগে আক্রান্ত। দুই ছেলের শিশু বয়স হলেও তারাই সংসারের হাল ধরেছে। আমি আর পরের বাড়িতে কাজ করতে পারি না। ওদের পড়ালেখা করানো সখ থাকলেও বেঁচে থাকার তাগিদে আর হয়ে ওঠছে না। ডাক্তাররা যে ব্যবস্থাপত্র দিয়েছেন তাতে প্রতি সপ্তায় হাসিনা খাতুনের এক হাজার টাকার ওষুধ লাগে। মায়ের এই চিকিৎসা খরচ ওঠাতেই কাকডাকা ভোর থেকে রিক্সা নিয়ে বেরিয়ে পড়ে হাসান ও খায়রুল। যে বয়সে বই হাতে স্কুলে যাওয়ার কথা, সহপাঠিদের সাথে হৈ হুল্লোড় করে খেলা করার সময়, সেই বয়সে জীবন যুদ্ধের এক কঠিন সংগ্রামে লিপ্ত শিশু হাসান ও খায়রুল। সমাজের কোন বিত্তবান ও দানশীল ব্যক্তি ০১৭৭৯-৬১৭০১১ হাসিনা খাতুনের এই নাম্বারে যোগাযোগ করতে পারেন।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

বার কাউন্সিল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে খুবির ৪২ শিক্ষার্থী আইনজীবী

অসুস্থ মায়ের জীবন চলছে দুই শিশু সন্তানের রিক্সার প্যাডেলের চাপে

আপডেট সময় : ০৫:৫১:৪৬ অপরাহ্ণ, সোমবার, ২ এপ্রিল ২০১৮

জাহিদুর রহমান তারিক,ঝিনাইদহঃ  তিন মাস মায়ের পেটে থাকতে বাবা শাহাদত হোসেন সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন। শোকে মুহ্যমান সদ্য বিধবা মা হাসিনা খাতুন স্বামীর ভিটে ত্যাগ করেন কিছুদন পরই। ওঠে নানা বাড়ি ঝিনাইদহ শহরের ব্যাপারীপাড়ায়। হাসিনার কোল জুড়ে আসে দুই জোমজ ভাই হাসান ও খায়রুল। বাবা মায়ের নতুন বিয়ের প্রস্তাব প্রত্যাখান করে পরের বাড়ি ঝির কাজ করে দুই ছেলেকে পড়ালেখা করাতো হাসিনা। কিন্তু বিধি বাম ! মাত্র ৩২ বছর বয়সে কিডনি, হার্ট ও এ্যজমায় আক্রান্ত হন হাসিনা। মায়ের জীবন বাঁচাতে মাত্র ১০ বছর বয়সে রিক্সার প্যাডেলে পা রাখে দুই ভাই হাসান ও খায়রুল। তিন বছর ধরে তারা দু’ভাই ঝিনাইদহ শহরে ভাড়া করা রিক্সা চালিয়ে মায়ের হাতে যতসামান্ন টাকা তুলে দিচ্ছে। তাই দিয়ে মায়ের চিকিৎসা ও সংসার চালানো দুরুহ হয়ে পড়ছে। হাসান ও খায়রুল রোববার বেলা তিনটা পর্যন্ত দুই রিক্সার ভাড়া হিসেবে চার’শ টাকা তুলতে পারেনি। এইসএসএস সড়কে তারা ভাবছিলো কি ভাবে আজকের মালিক ভাড়া দিবে। এ প্রতিনিধির সাথে কথা হলে হাসান ও খায়রুল তাদের কলাবাগানপাড়ার বস্তিতে নিয়ে যান। তারা ভাড়া থাকেন বাসন্তি নামে এক হিন্দু মহিলার বাড়িতে। ঘিঞ্জি পরিবেশে মা হাসিনা তখন দুপরের খাবার তৈরী করছিলো। সাংবাদিক পরিচয় জেনে হাসিনা বেগম তার অসহায়াত্বের কথা জানান। তিনি বলেন, দীর্ঘ ৫ বছর তিনি কিডনি, হার্ট ও এ্যজমা রোগে আক্রান্ত। দুই ছেলের শিশু বয়স হলেও তারাই সংসারের হাল ধরেছে। আমি আর পরের বাড়িতে কাজ করতে পারি না। ওদের পড়ালেখা করানো সখ থাকলেও বেঁচে থাকার তাগিদে আর হয়ে ওঠছে না। ডাক্তাররা যে ব্যবস্থাপত্র দিয়েছেন তাতে প্রতি সপ্তায় হাসিনা খাতুনের এক হাজার টাকার ওষুধ লাগে। মায়ের এই চিকিৎসা খরচ ওঠাতেই কাকডাকা ভোর থেকে রিক্সা নিয়ে বেরিয়ে পড়ে হাসান ও খায়রুল। যে বয়সে বই হাতে স্কুলে যাওয়ার কথা, সহপাঠিদের সাথে হৈ হুল্লোড় করে খেলা করার সময়, সেই বয়সে জীবন যুদ্ধের এক কঠিন সংগ্রামে লিপ্ত শিশু হাসান ও খায়রুল। সমাজের কোন বিত্তবান ও দানশীল ব্যক্তি ০১৭৭৯-৬১৭০১১ হাসিনা খাতুনের এই নাম্বারে যোগাযোগ করতে পারেন।