বুধবার | ১৪ জানুয়ারি ২০২৬ | শীতকাল
শিরোনাম :
Logo চুয়াডাঙ্গা-ঝিনাইদহে প্রতারক চক্রের বেপরোয়া তান্ডব, চাকরীর প্রলোভনে ৬ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার পর বিপাকে ভুক্তভোগী পরিবার, থানায় অভিযোগ দায়ের Logo সাতক্ষীরায় ইয়াবা, অবৈধ অর্থ ও অস্ত্রসহ শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী ইয়াসিন আরাফাতসহ  গ্রেফতার- ৩ Logo নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ৫ নেতা কক্সবাজার থেকে গ্রেফতার Logo ইরান বিক্ষোভকারীদের ফাঁসি দিলে ‘অত্যন্ত কঠোর ব্যবস্থা’ নেওয়ার হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের Logo কোর্স ফি বৃদ্ধি ও ছাত্র প্রতিনিধি ইস্যুতে খুবি শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ Logo নির্বাচনে ভুয়া তথ্য মোকাবিলায় জাতিসংঘের সহায়তা চাইলেন প্রধান উপদেষ্টা Logo ঝিনাইদহে চাকরীর প্রলোভন দেখিয়ে ৬ লাখ টাকা হাতিয়ে নিল প্রতারক চক্র, বিপাকে ভুক্তভোগী পরিবার, থানায় অভিযোগ দায়ের Logo শেরপুরে সেবার আলোর উদ্যোগে শীতার্ত মানুষের মাঝে কম্বল বিতরণ Logo সাতক্ষীরা সরকারি কলেজে ছাত্রদলের উদ্যোগে ক্যাম্পাসে ঘড়ি স্থাপন Logo চাঁদপুর কাচ্চি ডাইন ব্রাঞ্চে র‌্যাফেল জয়ীদের হাতে আনন্দের পুরস্কার”

টেফনাফে অপার সম্ভাবনাময় সৌন্দর্য ও সীমান্ত বানিজ্য বন্ধের গভীর ষড়যন্ত্র

  • নীলকন্ঠ ডেস্ক: নীলকন্ঠ ডেস্ক:
  • আপডেট সময় : ১২:১৪:৪৮ পূর্বাহ্ণ, সোমবার, ১১ আগস্ট ২০২৫
  • ৯১০ বার পড়া হয়েছে

|| জিয়াবুল হক||

সীমান্ত উপজেলা টেকনাফ একটি অপার সম্ভাবনাময় স্থান। এটি বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণে প্রান্তে অবস্থিত একটি মিয়ানমার সীমান্ত ঘেঁষা উপজেলা এবং এখানে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও অর্থনৈতিক উভয় দিকেই প্রচুর সম্ভাবনা রয়েছে।

টেকনাফ তার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য বিখ্যাত, বিশেষ করে মেরিন ড্রাইভ সড়ক, সেন্টমার্টিন দ্বীপ, শাহপরীর দ্বীপের ঘোলার চর ও থানার ঐতিহ্যবাহী মার্থিনের কূপ পর্যটকদের কাছে খুবই জনপ্রিয়। এছাড়াও হ্নীলার সোলার পার্ক এবং সুপারি, লবন চাষের মতো খাতেও টেকনাফের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা রয়েছে। এমনকি সীমান্ত বানিজ্য গুলো বন্ধের গভীর ষড়যন্ত্র গন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। গত কয়েক বছর ধরে টেকনাফ উপজেলার সাবরাং ইউনিয়নের শাহপরীর দ্বীপ করিডোর ও বিগত এক বছর ধরে টেকনাফ স্থলবন্দর বন্ধের পথে। এই দুই বানিজ্যিক ব্যবসায় জড়িত লোকজন অসহায় হয়ে পড়েছে। সরকারি ভাবে কোন ধরনের উদ্যোগ নেয় বললে চলে। ফলে কিছু কিছু রাজনৈতিক ব্যক্তি টেকনাফ স্থলবন্দর বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে বন্ধের ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে। এতে টেকনাফের বৈধ ব্যবসায়ী খাতের অন্ধকার নেমে যাচ্ছে।

টেকনাফের অপার সম্ভাবনার কয়েকটি দিক নিচে তুলে ধরা হল —

পর্যটন:

টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়ক, যা কক্সবাজার থেকে টেকনাফ পর্যন্ত বিস্তৃত, এটি একটি আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্র। এছাড়া, সেন্টমার্টিন দ্বীপ, যা বাংলাদেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ, পর্যটকদের কাছে খুবই জনপ্রিয়। তার পাশাপাশি টেকনাফ মডেল থানার আঙ্গিনায় মাথিন ধীরাজের প্রেমের সাক্ষী মাথিনের কূপ ও শাহপরীর দ্বীপের ঘোলার চর এবং জালিয়ার দ্বীপের স্থান টেকনাফের পর্যটন শিল্পের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এই স্থান গুলো যদি সঠিক সময়ে সরকারি ভাবে পর্যটন খাতে উদ্যোগ নেয়া হলে টেকনাফের চিত্র পাল্টে যাবে বলে অনেক সচেতন মহলের অভিমত।

অর্থনীতি:

সুপারি ও লবন চাষ: টেকনাফে সুপারির বাম্পার ফলন হয় এবং এটি একটি লাভজনক অর্থনৈতিক খাত। আবহাওয়া অনুকূল থাকলে এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে সুপারির ফলন ভালো হয়। আর লবন চাষের জন্যও বিখ্যাত টেকনাফ।

নবায়নযোগ্য জ্বালানি:

টেকনাফে সোলার পার্ক স্থাপনের মাধ্যমে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ক্ষেত্রেও সম্ভাবনা রয়েছে।

মৎস্য সম্পদ: টেকনাফ উপকূলীয় এলাকা হওয়ায় এখানে মাছ ধরা একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক কার্যকলাপ। এখানে রয়েছে দীর্ঘ ১২০ কিলোমিটারের বঙ্গোপসাগর ও মিয়ানমার সীমান্ত ঘেঁষা নাফনদী।

ভূ-প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য:

টেকনাফে উঁচু ও লম্বা সৌন্দর্য পাহাড় এবং সমুদ্রের মনোরম দৃশ্যের জন্য পরিচিত। এটি একটি আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্র হওয়ার অন্যতম কারণ। কক্সবাজারের কিছু রাজনৈতিক ব্যক্তি পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা ৫ কিলোমিটার সমুদ্র সৈকতকে পুঁজি করে বাকি দীর্ঘ ১২০ কিলোমিটার সমুদ্র সৈকতের সৌন্দর্য উপভোগ করতে ইচ্ছুক দেশি-বিদেশি পর্যটকদের ভূল বুঝিয়ে ষড়যন্ত্রের লিপ্ত। এতে সরকার চাইলে অপার সম্ভাবনাময় টেকনাফকে বিশ্বের দাঁড় পান্তে পর্যটন অঞ্চল গড়ে তুলা সম্ভব।

টেকনাফের এই অপার সম্ভাবনাগুলো কাজে লাগিয়ে বর্তমান সরকারের এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে আরও বেশি মনোযোগ দেওয়া উচিত। এতে সরকারের রাজস্ব বৃদ্ধির পাশাপাশি এই জনপদের বেকার সংখ্যা কমার সম্ভাবনা রয়েছে।

জিয়াবুল হক,লেখক ও সাংবাদিক 

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

চুয়াডাঙ্গা-ঝিনাইদহে প্রতারক চক্রের বেপরোয়া তান্ডব, চাকরীর প্রলোভনে ৬ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার পর বিপাকে ভুক্তভোগী পরিবার, থানায় অভিযোগ দায়ের

টেফনাফে অপার সম্ভাবনাময় সৌন্দর্য ও সীমান্ত বানিজ্য বন্ধের গভীর ষড়যন্ত্র

আপডেট সময় : ১২:১৪:৪৮ পূর্বাহ্ণ, সোমবার, ১১ আগস্ট ২০২৫

|| জিয়াবুল হক||

সীমান্ত উপজেলা টেকনাফ একটি অপার সম্ভাবনাময় স্থান। এটি বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণে প্রান্তে অবস্থিত একটি মিয়ানমার সীমান্ত ঘেঁষা উপজেলা এবং এখানে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও অর্থনৈতিক উভয় দিকেই প্রচুর সম্ভাবনা রয়েছে।

টেকনাফ তার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য বিখ্যাত, বিশেষ করে মেরিন ড্রাইভ সড়ক, সেন্টমার্টিন দ্বীপ, শাহপরীর দ্বীপের ঘোলার চর ও থানার ঐতিহ্যবাহী মার্থিনের কূপ পর্যটকদের কাছে খুবই জনপ্রিয়। এছাড়াও হ্নীলার সোলার পার্ক এবং সুপারি, লবন চাষের মতো খাতেও টেকনাফের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা রয়েছে। এমনকি সীমান্ত বানিজ্য গুলো বন্ধের গভীর ষড়যন্ত্র গন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। গত কয়েক বছর ধরে টেকনাফ উপজেলার সাবরাং ইউনিয়নের শাহপরীর দ্বীপ করিডোর ও বিগত এক বছর ধরে টেকনাফ স্থলবন্দর বন্ধের পথে। এই দুই বানিজ্যিক ব্যবসায় জড়িত লোকজন অসহায় হয়ে পড়েছে। সরকারি ভাবে কোন ধরনের উদ্যোগ নেয় বললে চলে। ফলে কিছু কিছু রাজনৈতিক ব্যক্তি টেকনাফ স্থলবন্দর বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে বন্ধের ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে। এতে টেকনাফের বৈধ ব্যবসায়ী খাতের অন্ধকার নেমে যাচ্ছে।

টেকনাফের অপার সম্ভাবনার কয়েকটি দিক নিচে তুলে ধরা হল —

পর্যটন:

টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়ক, যা কক্সবাজার থেকে টেকনাফ পর্যন্ত বিস্তৃত, এটি একটি আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্র। এছাড়া, সেন্টমার্টিন দ্বীপ, যা বাংলাদেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ, পর্যটকদের কাছে খুবই জনপ্রিয়। তার পাশাপাশি টেকনাফ মডেল থানার আঙ্গিনায় মাথিন ধীরাজের প্রেমের সাক্ষী মাথিনের কূপ ও শাহপরীর দ্বীপের ঘোলার চর এবং জালিয়ার দ্বীপের স্থান টেকনাফের পর্যটন শিল্পের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এই স্থান গুলো যদি সঠিক সময়ে সরকারি ভাবে পর্যটন খাতে উদ্যোগ নেয়া হলে টেকনাফের চিত্র পাল্টে যাবে বলে অনেক সচেতন মহলের অভিমত।

অর্থনীতি:

সুপারি ও লবন চাষ: টেকনাফে সুপারির বাম্পার ফলন হয় এবং এটি একটি লাভজনক অর্থনৈতিক খাত। আবহাওয়া অনুকূল থাকলে এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে সুপারির ফলন ভালো হয়। আর লবন চাষের জন্যও বিখ্যাত টেকনাফ।

নবায়নযোগ্য জ্বালানি:

টেকনাফে সোলার পার্ক স্থাপনের মাধ্যমে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ক্ষেত্রেও সম্ভাবনা রয়েছে।

মৎস্য সম্পদ: টেকনাফ উপকূলীয় এলাকা হওয়ায় এখানে মাছ ধরা একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক কার্যকলাপ। এখানে রয়েছে দীর্ঘ ১২০ কিলোমিটারের বঙ্গোপসাগর ও মিয়ানমার সীমান্ত ঘেঁষা নাফনদী।

ভূ-প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য:

টেকনাফে উঁচু ও লম্বা সৌন্দর্য পাহাড় এবং সমুদ্রের মনোরম দৃশ্যের জন্য পরিচিত। এটি একটি আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্র হওয়ার অন্যতম কারণ। কক্সবাজারের কিছু রাজনৈতিক ব্যক্তি পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা ৫ কিলোমিটার সমুদ্র সৈকতকে পুঁজি করে বাকি দীর্ঘ ১২০ কিলোমিটার সমুদ্র সৈকতের সৌন্দর্য উপভোগ করতে ইচ্ছুক দেশি-বিদেশি পর্যটকদের ভূল বুঝিয়ে ষড়যন্ত্রের লিপ্ত। এতে সরকার চাইলে অপার সম্ভাবনাময় টেকনাফকে বিশ্বের দাঁড় পান্তে পর্যটন অঞ্চল গড়ে তুলা সম্ভব।

টেকনাফের এই অপার সম্ভাবনাগুলো কাজে লাগিয়ে বর্তমান সরকারের এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে আরও বেশি মনোযোগ দেওয়া উচিত। এতে সরকারের রাজস্ব বৃদ্ধির পাশাপাশি এই জনপদের বেকার সংখ্যা কমার সম্ভাবনা রয়েছে।

জিয়াবুল হক,লেখক ও সাংবাদিক