শনিবার | ২৯ নভেম্বর ২০২৫ | হেমন্তকাল
শিরোনাম :
Logo বাংলাদেশের কলম, ভারতের কণ্ঠ—নতুন গানে উপমহাদেশের একতা Logo খালেদা জিয়ার দ্রুত সুস্থতা কামনায় দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা Logo টেকনাফে বিজিবির অভিযানে আগ্নেয়াস্ত্রসহ একজন সন্ত্রাসী আটক Logo মহেশখালীতে কোস্ট গার্ডের অভিযানে দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্র, গোলা-বারুদ ও আগ্নেয়াস্ত্র তৈরির সরঞ্জামাদিসহ আগ্নেয়াস্ত্র তৈরির কারিগর আটক: Logo সাতক্ষীরা-০২ এ ধানের শীষের জয়ে নতুন অধ্যায়—বিএনপির একতাবদ্ধ ঘোষণা Logo বুটেক্স অ্যালামনাই ইউএসএ-এর আত্মপ্রকাশ: যুক্তরাষ্ট্রে টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারদের মিলনমেলা ও কমিটি গঠন Logo বুটেক্সের প্রথম সমাবর্তন আগামী ২৭ ডিসেম্বর Logo রাবিতে ইলা মিত্রকে নিয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত Logo নোবিপ্রবির সঙ্গে তুরস্কের রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর Logo নোবিপ্রবিতে গবেষণা, বৈশ্বিক র‌্যাঙ্কিং এবং সরকারের নীতিনির্ধারকদের করণীয় শীর্ষক প্রশিক্ষণ

ইবিতে শিক্ষককে ঘিরে যৌন হয়রানিসহ নানা অভিযোগ

  • নীলকন্ঠ ডেস্ক: নীলকন্ঠ ডেস্ক:
  • আপডেট সময় : ০৯:২৬:২৪ অপরাহ্ণ, মঙ্গলবার, ১ জুলাই ২০২৫
  • ৭৩০ বার পড়া হয়েছে
ইবি প্রতিনিধি:
কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. আজিজুল ইসলামের বিরুদ্ধে অশালীন ইঙ্গিত, বাজে মন্তব্য ও যৌন হয়রানিসহ উঠেছে নানা অভিযোগ।
গত ২২ জুন কয়েকজন শিক্ষার্থী বিভাগের সভাপতির কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দিলেও বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে ১ জুলাই মঙ্গলবার।
২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের এক ছাত্রী অভিযোগপত্রে উল্লেখ করেন, “স্যার আমাকে ইমোতে ভিডিও কল দিয়েছিলেন। আমি কল রিসিভ না করায় পরে অডিও কল দেন। তখন তিনি বলেন, অনেকদিন ধরে তোমাদের দেখা হয় না, তোমরা মোটা হয়েছো নাকি চিকন হয়েছো তা দেখার জন্য ভিডিও কল দিয়েছি। এরপর তিনি জিজ্ঞাসা করেন, ‘তোমার কি কথা বলার কেউ আছে?’ আমি না বলে উত্তর দিলে তিনি বলেন, ‘এখন বলছো কেউ নেই, কিন্তু কিছুদিন পর তো দেখব ক্যাম্পাসে কোনো ছেলের হাত ধরে ঘুরছো।”
তিনি আরও জানান, “স্যার ক্লাসে বিভিন্ন সময় আমাকে উদ্দেশ্য করে কুরুচিপূর্ণ ইঙ্গিতপূর্ণ কথা বলেন। আমার উচ্চতা নিয়ে অপমানজনক কৌতুক করেন। আমি বিবাহিত হওয়ায় বিয়ের পরের ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে অশালীন মন্তব্য করেন। এমনকি সবার সামনে আমাকে দাঁড় করিয়ে মেন্সট্রুয়েশন সাইকেল নিয়ে কুরুচিপূর্ণ কথা বলেন, যা অত্যন্ত অপমানজনক। এছাড়া বিভিন্ন সময় বডি শেমিং করা ও হুমকি দেন যে, তার কোর্সে আমি ভালো রেজাল্ট করতে পারব না।”
বিভাগের শিক্ষার্থীরা জানান, অভিযুক্ত শিক্ষক ড. আজিজুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে ছাত্রীদের সঙ্গে অশালীন আচরণ করে আসছেন। তিনি হোয়াটসঅ্যাপে কুরুচিপূর্ণ বার্তা পাঠান, ইচ্ছাকৃতভাবে পরীক্ষার নম্বর কমিয়ে দেন, রুমে ডেকে নিয়ে ব্যক্তিগত ও পারিবারিক বিষয় নিয়ে আপত্তিকর প্রশ্ন করেন, ক্লাসে সবার সামনে অশালীন মন্তব্য করেন, রাতের বেলায় ভিডিও কল দেন এবং কল না ধরলে রেজাল্ট খারাপ করার হুমকি দেন।
এছাড়াও, বিবাহিত ছাত্রীদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য, নিজের আন্ডারে প্রজেক্ট করানোর জন্য পছন্দের ছাত্রীদের বাধ্য করা, বডি শেমিংসহ নানাভাবে মানসিকভাবে হেনস্তা করার অভিযোগও রয়েছে। এতদিন শিক্ষার্থীরা ভয়ে মুখ না খুললেও এবার সাহস করে তার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ দায়ের করেছেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক ড. আজিজুল ইসলাম বলেন, “আমি কোনো শিক্ষার্থীকে হেনস্তা করিনি। বরং তারা আমার কথাবার্তা ও আচরণকে ভুলভাবে গ্রহণ করেছে। আমার ধারণা, একটি চক্র পরিকল্পিতভাবে আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে এই অভিযোগ তুলেছে। কখন, কোন পরিস্থিতিতে কী বলেছি, তা এই মুহূর্তে সঠিকভাবে মনে করতে পারছি না। বিভাগের বিভিন্ন কার্যক্রমের অংশ হিসেবে আমি বিভিন্ন প্রোগ্রাম ও মিটিং করেছি। এ সময় শিক্ষার্থীদের সুন্দর পোশাক পরতে উৎসাহিত করেছি। তবে বুঝতে পারিনি, সবার মানসিকতা একরকম নয়।”
বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. একেএম নাজমুল হুদা বলেন, “অভিযোগ পাওয়ার পর আমরা একাডেমিক কমিটির সভায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করি এবং তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করি। প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের প্রমাণ মিলেছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তিনি বিভাগের সব কার্যক্রম থেকে বিরত থাকবেন।”
ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

বাংলাদেশের কলম, ভারতের কণ্ঠ—নতুন গানে উপমহাদেশের একতা

ইবিতে শিক্ষককে ঘিরে যৌন হয়রানিসহ নানা অভিযোগ

আপডেট সময় : ০৯:২৬:২৪ অপরাহ্ণ, মঙ্গলবার, ১ জুলাই ২০২৫
ইবি প্রতিনিধি:
কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. আজিজুল ইসলামের বিরুদ্ধে অশালীন ইঙ্গিত, বাজে মন্তব্য ও যৌন হয়রানিসহ উঠেছে নানা অভিযোগ।
গত ২২ জুন কয়েকজন শিক্ষার্থী বিভাগের সভাপতির কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দিলেও বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে ১ জুলাই মঙ্গলবার।
২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের এক ছাত্রী অভিযোগপত্রে উল্লেখ করেন, “স্যার আমাকে ইমোতে ভিডিও কল দিয়েছিলেন। আমি কল রিসিভ না করায় পরে অডিও কল দেন। তখন তিনি বলেন, অনেকদিন ধরে তোমাদের দেখা হয় না, তোমরা মোটা হয়েছো নাকি চিকন হয়েছো তা দেখার জন্য ভিডিও কল দিয়েছি। এরপর তিনি জিজ্ঞাসা করেন, ‘তোমার কি কথা বলার কেউ আছে?’ আমি না বলে উত্তর দিলে তিনি বলেন, ‘এখন বলছো কেউ নেই, কিন্তু কিছুদিন পর তো দেখব ক্যাম্পাসে কোনো ছেলের হাত ধরে ঘুরছো।”
তিনি আরও জানান, “স্যার ক্লাসে বিভিন্ন সময় আমাকে উদ্দেশ্য করে কুরুচিপূর্ণ ইঙ্গিতপূর্ণ কথা বলেন। আমার উচ্চতা নিয়ে অপমানজনক কৌতুক করেন। আমি বিবাহিত হওয়ায় বিয়ের পরের ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে অশালীন মন্তব্য করেন। এমনকি সবার সামনে আমাকে দাঁড় করিয়ে মেন্সট্রুয়েশন সাইকেল নিয়ে কুরুচিপূর্ণ কথা বলেন, যা অত্যন্ত অপমানজনক। এছাড়া বিভিন্ন সময় বডি শেমিং করা ও হুমকি দেন যে, তার কোর্সে আমি ভালো রেজাল্ট করতে পারব না।”
বিভাগের শিক্ষার্থীরা জানান, অভিযুক্ত শিক্ষক ড. আজিজুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে ছাত্রীদের সঙ্গে অশালীন আচরণ করে আসছেন। তিনি হোয়াটসঅ্যাপে কুরুচিপূর্ণ বার্তা পাঠান, ইচ্ছাকৃতভাবে পরীক্ষার নম্বর কমিয়ে দেন, রুমে ডেকে নিয়ে ব্যক্তিগত ও পারিবারিক বিষয় নিয়ে আপত্তিকর প্রশ্ন করেন, ক্লাসে সবার সামনে অশালীন মন্তব্য করেন, রাতের বেলায় ভিডিও কল দেন এবং কল না ধরলে রেজাল্ট খারাপ করার হুমকি দেন।
এছাড়াও, বিবাহিত ছাত্রীদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য, নিজের আন্ডারে প্রজেক্ট করানোর জন্য পছন্দের ছাত্রীদের বাধ্য করা, বডি শেমিংসহ নানাভাবে মানসিকভাবে হেনস্তা করার অভিযোগও রয়েছে। এতদিন শিক্ষার্থীরা ভয়ে মুখ না খুললেও এবার সাহস করে তার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ দায়ের করেছেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক ড. আজিজুল ইসলাম বলেন, “আমি কোনো শিক্ষার্থীকে হেনস্তা করিনি। বরং তারা আমার কথাবার্তা ও আচরণকে ভুলভাবে গ্রহণ করেছে। আমার ধারণা, একটি চক্র পরিকল্পিতভাবে আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে এই অভিযোগ তুলেছে। কখন, কোন পরিস্থিতিতে কী বলেছি, তা এই মুহূর্তে সঠিকভাবে মনে করতে পারছি না। বিভাগের বিভিন্ন কার্যক্রমের অংশ হিসেবে আমি বিভিন্ন প্রোগ্রাম ও মিটিং করেছি। এ সময় শিক্ষার্থীদের সুন্দর পোশাক পরতে উৎসাহিত করেছি। তবে বুঝতে পারিনি, সবার মানসিকতা একরকম নয়।”
বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. একেএম নাজমুল হুদা বলেন, “অভিযোগ পাওয়ার পর আমরা একাডেমিক কমিটির সভায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করি এবং তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করি। প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের প্রমাণ মিলেছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তিনি বিভাগের সব কার্যক্রম থেকে বিরত থাকবেন।”