শনিবার | ২৯ নভেম্বর ২০২৫ | হেমন্তকাল
শিরোনাম :
Logo বাংলাদেশের কলম, ভারতের কণ্ঠ—নতুন গানে উপমহাদেশের একতা Logo খালেদা জিয়ার দ্রুত সুস্থতা কামনায় দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা Logo টেকনাফে বিজিবির অভিযানে আগ্নেয়াস্ত্রসহ একজন সন্ত্রাসী আটক Logo মহেশখালীতে কোস্ট গার্ডের অভিযানে দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্র, গোলা-বারুদ ও আগ্নেয়াস্ত্র তৈরির সরঞ্জামাদিসহ আগ্নেয়াস্ত্র তৈরির কারিগর আটক: Logo সাতক্ষীরা-০২ এ ধানের শীষের জয়ে নতুন অধ্যায়—বিএনপির একতাবদ্ধ ঘোষণা Logo বুটেক্স অ্যালামনাই ইউএসএ-এর আত্মপ্রকাশ: যুক্তরাষ্ট্রে টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারদের মিলনমেলা ও কমিটি গঠন Logo বুটেক্সের প্রথম সমাবর্তন আগামী ২৭ ডিসেম্বর Logo রাবিতে ইলা মিত্রকে নিয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত Logo নোবিপ্রবির সঙ্গে তুরস্কের রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর Logo নোবিপ্রবিতে গবেষণা, বৈশ্বিক র‌্যাঙ্কিং এবং সরকারের নীতিনির্ধারকদের করণীয় শীর্ষক প্রশিক্ষণ

পলাশবাড়ী হাসপাতালের নার্সদের কাছে দুঃখ ও ক্ষমা প্রার্থনা হামলাকারীর।

  • নীলকন্ঠ ডেস্ক: নীলকন্ঠ ডেস্ক:
  • আপডেট সময় : ০৪:০৬:৪৮ অপরাহ্ণ, মঙ্গলবার, ১ জুলাই ২০২৫
  • ৭৪৪ বার পড়া হয়েছে
 বায়েজিদ, পলাশবাড়ী (গাইবান্ধা)  :
গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সিনিয়র স্টাফ নার্স আমেনা বেগমের  (ঝর্ণা) উপর হামলা ও হাসপাতালের ভাঙচুরের ঘটনায় নার্স ও রোগীর স্বজনদের মধ্যে চলমান দ্বন্দ্বের অবসান ঘটেছে। সম্প্রতি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে আয়োজিত এক সমঝোতা বৈঠকে এ ঘটনা মীমাংসা হয়।
উল্লেখ্য, গত ১১ জুন রাতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এক রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে উত্তেজিত স্বজনরা নার্স আমেনা বেগমের উপর হামলা চালায় এবং হাসপাতালে ভাঙচুর চালায়। হামলাকারী সিফাত এবং এমদাদুল পৌরসভার উদয়সাগর গ্রামের বাসিন্দা জানা গেছে। এই হামলায় নার্স আমেনা বেগমের মাথা ফেটে যাওয়া সহ তিনি গুরুতর আহত হয়েছিলেন। ঘটনার পর ভুক্তভোগী নার্স পলাশবাড়ী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
ঘটনার প্রেক্ষিতে গত ২৮ জুন (শনিবার) সকাল ১০টায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের হলরুমে একটি সমঝোতা বৈঠকের আয়োজন করা হয়। এতে উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনা হয়। আলোচনার একপর্যায়ে রোগীর স্বজনরা তাদের দায় স্বীকার করে দুঃখপ্রকাশ করেন এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও আহত নার্সের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করেন। তারা ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না করার প্রতিশ্রুতি দেন এবং হাসপাতালের ক্ষয়ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণ প্রদানে সম্মত হন।
বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সালাহউদ্দিন আহমেদ খান। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন পলাশবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জুলফিকার আলী ভুট্রো, উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির আবু বকর সিদ্দিক, পলাশবাড়ী প্রেসক্লাবের সাংগঠনিক সম্পাদক সাংবাদিক আব্দুল মতিন, সাংবাদিক শামীম হাসান, হাসপাতালের নার্সবৃন্দ, অভিযুক্তদের আত্মীয়-স্বজন এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
বৈঠকে উপস্থিত পলাশবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বলেন, হাসপাতাল অতিগুরুত্বপূর্ণ একটি সেবাপ্রদানকারী প্রতিষ্ঠান। সেবাপ্রদান কার্যক্রম ব্যাহত হয় এমন কোনো কর্মকান্ড হাসপাতালে ঘটানো একটি অপরাধমূলক কর্মকান্ড বলে বিবেচিত।” তিনি আরো বলেন, “অদুর ভবিষ্যতে হাসপাতালে এসে কোনো দূর্বৃত্ত হামলা চালালে তাকে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হবে।”
সভাপতির বক্তব্যে উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ সালাহউদ্দিন আহমেদ সেবা প্রত্যাশীদের উদ্দ্যেশ্যে বলেন, “ডাক্তার এবং নার্সদের কাজই হলো রোগীর সেবা করা। সেই মানসিকতা থেকেই আমরা এই পেশায় এসেছি। তবে সেবা গ্রহণ করতে এসে একটু ধৈর্য্য ও সহনশীল হতে হয়। সেটি আমরা আপনাদের নিকট থেকে প্রত্যাশা করছি।
বৈঠকের শেষাংশে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও আহত নার্স আমেনা বেগম (ঝর্ণা বেগম) মানবিক বিবেচনায় অভিযুক্তদের ক্ষমা করে দেন এবং ঘটনার amicable settlement এর মাধ্যমে পরিবেশ শান্তিপূর্ণভাবে পুনঃপ্রতিষ্ঠা পায়।
স্থানীয়ভাবে এ ধরনের পদক্ষেপকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন সচেতন মহল। তারা মনে করেন, আইনগত প্রক্রিয়ার পাশাপাশি আলোচনার মাধ্যমে সমাধান সামাজিক স্থিতি রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

বাংলাদেশের কলম, ভারতের কণ্ঠ—নতুন গানে উপমহাদেশের একতা

পলাশবাড়ী হাসপাতালের নার্সদের কাছে দুঃখ ও ক্ষমা প্রার্থনা হামলাকারীর।

আপডেট সময় : ০৪:০৬:৪৮ অপরাহ্ণ, মঙ্গলবার, ১ জুলাই ২০২৫
 বায়েজিদ, পলাশবাড়ী (গাইবান্ধা)  :
গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সিনিয়র স্টাফ নার্স আমেনা বেগমের  (ঝর্ণা) উপর হামলা ও হাসপাতালের ভাঙচুরের ঘটনায় নার্স ও রোগীর স্বজনদের মধ্যে চলমান দ্বন্দ্বের অবসান ঘটেছে। সম্প্রতি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে আয়োজিত এক সমঝোতা বৈঠকে এ ঘটনা মীমাংসা হয়।
উল্লেখ্য, গত ১১ জুন রাতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এক রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে উত্তেজিত স্বজনরা নার্স আমেনা বেগমের উপর হামলা চালায় এবং হাসপাতালে ভাঙচুর চালায়। হামলাকারী সিফাত এবং এমদাদুল পৌরসভার উদয়সাগর গ্রামের বাসিন্দা জানা গেছে। এই হামলায় নার্স আমেনা বেগমের মাথা ফেটে যাওয়া সহ তিনি গুরুতর আহত হয়েছিলেন। ঘটনার পর ভুক্তভোগী নার্স পলাশবাড়ী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
ঘটনার প্রেক্ষিতে গত ২৮ জুন (শনিবার) সকাল ১০টায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের হলরুমে একটি সমঝোতা বৈঠকের আয়োজন করা হয়। এতে উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনা হয়। আলোচনার একপর্যায়ে রোগীর স্বজনরা তাদের দায় স্বীকার করে দুঃখপ্রকাশ করেন এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও আহত নার্সের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করেন। তারা ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না করার প্রতিশ্রুতি দেন এবং হাসপাতালের ক্ষয়ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণ প্রদানে সম্মত হন।
বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সালাহউদ্দিন আহমেদ খান। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন পলাশবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জুলফিকার আলী ভুট্রো, উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির আবু বকর সিদ্দিক, পলাশবাড়ী প্রেসক্লাবের সাংগঠনিক সম্পাদক সাংবাদিক আব্দুল মতিন, সাংবাদিক শামীম হাসান, হাসপাতালের নার্সবৃন্দ, অভিযুক্তদের আত্মীয়-স্বজন এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
বৈঠকে উপস্থিত পলাশবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বলেন, হাসপাতাল অতিগুরুত্বপূর্ণ একটি সেবাপ্রদানকারী প্রতিষ্ঠান। সেবাপ্রদান কার্যক্রম ব্যাহত হয় এমন কোনো কর্মকান্ড হাসপাতালে ঘটানো একটি অপরাধমূলক কর্মকান্ড বলে বিবেচিত।” তিনি আরো বলেন, “অদুর ভবিষ্যতে হাসপাতালে এসে কোনো দূর্বৃত্ত হামলা চালালে তাকে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হবে।”
সভাপতির বক্তব্যে উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ সালাহউদ্দিন আহমেদ সেবা প্রত্যাশীদের উদ্দ্যেশ্যে বলেন, “ডাক্তার এবং নার্সদের কাজই হলো রোগীর সেবা করা। সেই মানসিকতা থেকেই আমরা এই পেশায় এসেছি। তবে সেবা গ্রহণ করতে এসে একটু ধৈর্য্য ও সহনশীল হতে হয়। সেটি আমরা আপনাদের নিকট থেকে প্রত্যাশা করছি।
বৈঠকের শেষাংশে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও আহত নার্স আমেনা বেগম (ঝর্ণা বেগম) মানবিক বিবেচনায় অভিযুক্তদের ক্ষমা করে দেন এবং ঘটনার amicable settlement এর মাধ্যমে পরিবেশ শান্তিপূর্ণভাবে পুনঃপ্রতিষ্ঠা পায়।
স্থানীয়ভাবে এ ধরনের পদক্ষেপকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন সচেতন মহল। তারা মনে করেন, আইনগত প্রক্রিয়ার পাশাপাশি আলোচনার মাধ্যমে সমাধান সামাজিক স্থিতি রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।