বুধবার | ৪ মার্চ ২০২৬ | বসন্তকাল
শিরোনাম :
Logo নোবিপ্রবিতে ছাত্রী হলের নামাজ ঘরকে গণরুমে রূপান্তরের অভিযোগ Logo যমুনা রোড স্পোর্টিং ক্লাবের উদ্যোগে ইফতার মাহফিল Logo দৈনিক চাঁদপুর খবর পরিবারের উদ্যোগে ইফতার মাহফিল ও দোয়া অনুষ্ঠান Logo পলাশবাড়ী মহিলা ডিগ্রী কলেজে অতিরিক্ত  ফি আদায়ের অভিযোগ Logo খুবির সিরাজগঞ্জ এসোসিয়েশনের নতুন নেতৃত্বে মমিন ও সিয়াম। Logo ঝিনাইদহ স্টুডেন্ট ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন’র নেতৃত্বে রাতুল-তৌকির Logo চাঁদপুর সেন্ট্রাল রোটারি ক্লাবের রামাদান খাদ্য সামগ্রী বিতরণ Logo সুন্দরবন-এ বিশেষ অভিযানে জাহাঙ্গীর বাহিনীর ১ সদস্য আটক, অস্ত্র-গুলিসহ উদ্ধার Logo সুপারস্টার ডি এ তায়েব অফিসিয়াল ফ্যান ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক অপু চৌধুরীর কৃতজ্ঞতা Logo সুন্দরবন-এ শুরু হলো গোলপাতা আহরণ মৌসুম

এক হাত নেই,তবুও কাজ করে সংসার চালান আজগর হোসেন

জীবনযুদ্ধে হার না মানা এক যোদ্ধা আজগর হোসেন (৩০)। তিনি একজন দিনমজুর। দুর্ঘটনায় হারিয়েছেন একটি হাত। পুরো পরিবার এখন নির্ভরশীল তার এক হাতের ওপর। ঘরে ২ মেয়ে ও স্ত্রীকে নিয়ে আজগর হোসেনের সংসার। তার আয়ে কোনোরকম চলছে পরিবারটি।

এলাকায় কাজ না থাকলেও বর্তমানে চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার বাঁচাইয়া মেসার্স এসএবি বিকস ফিল্ডে শ্রমিকের কাজ করের তিনি। ওই ইটভাটায় শ্রমিকের কাজ করে যে টাকা উপার্জন করেন, তা দিয়ে চলে পরিবারটি।
জানা যায়, ২০ বছর আগে ইটভাটায় এক দুর্ঘটনায় আজগর হোসেন হারিয়ে ফেলেন তার ডান হাতটি। এক হাত না থাকলেও জীবন সংগ্রামে ঠিকে থাকার প্রত্যয়ে কাজ করে যাচ্ছেন তিনি। কোনো ভিক্ষাবৃত্তি না করে আত্মনির্ভরশীল হতে কাজ করছেন সে।

তবে এমন বাস্তবতায় তিনি থেমে থাকেননি। এক হাত নিয়েই ধরেন সংসারের হাল। যদিও আগের চেয়ে তার উপার্জন কমেছে, তবুও পরিবারকে বাঁচাতে দিন রাত পরিশ্রম করে চলছেন আজগর হোসেন। আজগর হোসেন নোয়াখালী জেলার সুবর্নচর উপজেলার চররশিদ গ্রামের অধিবাসী আব্দুল মালেকের ছেলে। বর্তমানে সে কচুয়ার বাচাঁইয়া ইটভাটায় শ্রমিকের কাজ করছেন।

শ্রমিক মো. আজগর হোসেন বলেন, আমার জায়গা জমি বলতে ভিটেমাটি ছাড়া কিছুই নেই। ২০০৫ সালে ইটভাটায় কাজ করতে গিয়ে দূর্ঘটনায় আমার ডান হাতটি নষ্ট হয়ে কাটা পড়ে । আমি এই এক হাত দিয়ে ইটভাটায় মাটি কাটা, ইট সারিবদ্ধ সহ বিভিন্ন কাজ করে থাকি। তবে আমার এক হাত নেই বলে আগের মতো কেউ আর কাজে নিতে চায় না। শরীরে যতক্ষণ দম আছে এক হাতেই কাজ করে যাব, তবুও ভিক্ষার মতো নিচু কাজ করব না।

অন্য শ্রমিকরা বলেন, আজগর হোসেন ও তার পরিবার নিয়ে খুব কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন। এক হাতের ওপর চলছে পুরো সংসার। মেয়ে ও পরিবারের খরচ যোগান দিতে না পারায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন তারা।

এ বিষয়ে মের্সাস এসএবি বিকস্ এর পরিচালক মো. এমরান হোসেন জনি বলেন, এ ইটভাটায় প্রায় শতাধিক শ্রমিক কাজ করে। কেউ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসেন। তারই মধ্যে আজগর হোসেন তার এক হাত নেই, তবুও তিনি কাজ করে যাচ্ছেন। তার মতো অন্যরা এভাবে কাজ করলেও হয়তো ভিক্ষাবৃত্তি রোধ করা যেত। আজগর হোসেন অনেক মানুষের অনুপ্রেরনা।

ছবি: কচুয়ার বাচাঁইয়া ইটভাটায় কাজ করছেন এক হাত না থাকা আজগর হোসেন।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

নোবিপ্রবিতে ছাত্রী হলের নামাজ ঘরকে গণরুমে রূপান্তরের অভিযোগ

এক হাত নেই,তবুও কাজ করে সংসার চালান আজগর হোসেন

আপডেট সময় : ০৩:২১:২৫ অপরাহ্ণ, সোমবার, ৫ মে ২০২৫

জীবনযুদ্ধে হার না মানা এক যোদ্ধা আজগর হোসেন (৩০)। তিনি একজন দিনমজুর। দুর্ঘটনায় হারিয়েছেন একটি হাত। পুরো পরিবার এখন নির্ভরশীল তার এক হাতের ওপর। ঘরে ২ মেয়ে ও স্ত্রীকে নিয়ে আজগর হোসেনের সংসার। তার আয়ে কোনোরকম চলছে পরিবারটি।

এলাকায় কাজ না থাকলেও বর্তমানে চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার বাঁচাইয়া মেসার্স এসএবি বিকস ফিল্ডে শ্রমিকের কাজ করের তিনি। ওই ইটভাটায় শ্রমিকের কাজ করে যে টাকা উপার্জন করেন, তা দিয়ে চলে পরিবারটি।
জানা যায়, ২০ বছর আগে ইটভাটায় এক দুর্ঘটনায় আজগর হোসেন হারিয়ে ফেলেন তার ডান হাতটি। এক হাত না থাকলেও জীবন সংগ্রামে ঠিকে থাকার প্রত্যয়ে কাজ করে যাচ্ছেন তিনি। কোনো ভিক্ষাবৃত্তি না করে আত্মনির্ভরশীল হতে কাজ করছেন সে।

তবে এমন বাস্তবতায় তিনি থেমে থাকেননি। এক হাত নিয়েই ধরেন সংসারের হাল। যদিও আগের চেয়ে তার উপার্জন কমেছে, তবুও পরিবারকে বাঁচাতে দিন রাত পরিশ্রম করে চলছেন আজগর হোসেন। আজগর হোসেন নোয়াখালী জেলার সুবর্নচর উপজেলার চররশিদ গ্রামের অধিবাসী আব্দুল মালেকের ছেলে। বর্তমানে সে কচুয়ার বাচাঁইয়া ইটভাটায় শ্রমিকের কাজ করছেন।

শ্রমিক মো. আজগর হোসেন বলেন, আমার জায়গা জমি বলতে ভিটেমাটি ছাড়া কিছুই নেই। ২০০৫ সালে ইটভাটায় কাজ করতে গিয়ে দূর্ঘটনায় আমার ডান হাতটি নষ্ট হয়ে কাটা পড়ে । আমি এই এক হাত দিয়ে ইটভাটায় মাটি কাটা, ইট সারিবদ্ধ সহ বিভিন্ন কাজ করে থাকি। তবে আমার এক হাত নেই বলে আগের মতো কেউ আর কাজে নিতে চায় না। শরীরে যতক্ষণ দম আছে এক হাতেই কাজ করে যাব, তবুও ভিক্ষার মতো নিচু কাজ করব না।

অন্য শ্রমিকরা বলেন, আজগর হোসেন ও তার পরিবার নিয়ে খুব কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন। এক হাতের ওপর চলছে পুরো সংসার। মেয়ে ও পরিবারের খরচ যোগান দিতে না পারায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন তারা।

এ বিষয়ে মের্সাস এসএবি বিকস্ এর পরিচালক মো. এমরান হোসেন জনি বলেন, এ ইটভাটায় প্রায় শতাধিক শ্রমিক কাজ করে। কেউ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসেন। তারই মধ্যে আজগর হোসেন তার এক হাত নেই, তবুও তিনি কাজ করে যাচ্ছেন। তার মতো অন্যরা এভাবে কাজ করলেও হয়তো ভিক্ষাবৃত্তি রোধ করা যেত। আজগর হোসেন অনেক মানুষের অনুপ্রেরনা।

ছবি: কচুয়ার বাচাঁইয়া ইটভাটায় কাজ করছেন এক হাত না থাকা আজগর হোসেন।