সুরা সাফ্ফ
এ সুরার মূল আলোচ্য বিষয় যুদ্ধ ও আল্লাহর দুশমনদের সঙ্গে যুদ্ধ, আল্লাহর পথে প্রাণ বিসর্জন, মুজাহিদদের সওয়াব বিষয়ে বর্ণনা করা হয়েছে। এছাড়াও শরিয়তের কিছু বিধান বর্ণিত হয়েছে।
আদেশ-নিষেধ-হেদায়েত
১. কথা ও কাজে মিল রেখো। (আয়াত : ২)
২. আল্লাহর পথে সংগ্রাম করো। (আয়াত : ৪)
৩. দ্বিনের দাওয়াত প্রত্যাখ্যান কোরো না। (আয়াত : ৭)
৪. দ্বিনি কাজে সাহায্য করো। (আয়াত : ১৪)
সুরা জুমা
এই সুরায় জুমার নামাজের বিধান বর্ণনা করা হয়েছে। আল্লাহর পবিত্রতা ও নিরঙ্কুশ মাহাত্ম্য বর্ণনা করে এ সুরা শুরু হয়েছে। এরপর রাসুল (সা.) এর বিভিন্ন গুণাগুণ আলোচনা করা হয়েছে। ইহুদিদের তাওরাতের বিধি-বিধান ছেড়ে দেওয়া প্রসঙ্গে এসেছে। জুমার নামাজ আদায়ে উত্সাহ ও তাগিদ দিয়ে সুরা শেষ করা হয়েছে।
আদেশ-নিষেধ-হেদায়েত
১. শিক্ষা নবীদের অন্যতম মিশন। (আয়াত : ২)
২. আসমানি শিক্ষার মর্ম অনুধাবন করো। (আয়াত : ৫)
৩. জুমার নামাজে অংশ নাও। (আয়াত : ৯)
৪. নামাজ শেষে জীবিকার অনুসন্ধান করো। (আয়াত : ১০)
৫. নামাজ ছেড়ে যেয়ো না। (আয়াত : ১১)
সুরা মুনাফিকুন
এই সুরায় শরিয়তের কিছু বিধান বর্ণিত হয়েছে। মুনাফিকদের বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করে সুরা শুরু হয়েছে। ঈমানের মিথ্যা দাবি, মিথ্যা কসম, আল্লাহর রাসুল (সা.) ও তাঁর সঙ্গীদের ওপর তাদের দুর্বলতা এবং মানুষদের দ্বিন থেকে সরানোর অপচেষ্টা সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।
আদেশ-নিষেধ-হেদায়েত
১. মিথ্যা বলা মুনাফিকের বৈশিষ্ট্য। (আয়াত : ১)
২. মিথ্যা শপথ কোরো না। (আয়াত : ২)
৩. ধারাবাহিক পাপাচার বোধ-বুদ্ধি লোপ করে। (আয়াত : ৩)
৪. সীমাহীন পাপাচার ক্ষমার দুয়ার বন্ধ করে। (আয়াত : ৬)
৫. দ্বিনি কাজে নিরুত্সাহিত কোরো না। (আয়াত : ৭)
৬. মৃত্যু আসার আগে আল্লাহর জন্য ব্যয় করো। (আয়াত : ১০)
সুরা তাগাবুন
আলোচ্য সুরায় আকিদাবিষয়ক আলোচনা গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আল্লাহর গুণাগুণ ও কুদরত বর্ণনা করে মানুষ সৃষ্টির কথা বলা হয়েছে। এরপর আল্লাহ ও তাঁর রাসুল (সা.)-এর প্রতি ঈমান আনার দাওয়াত দেওয়া হয়েছে। আল্লাহর দ্বীনের সমুন্নতায় তাকওয়া অর্জন ও তাঁর রাস্তায় ব্যয়ের আদেশ দেওয়া হয়েছে। কৃপণতা ও ইতরতা করতে নিষেধ করা হয়েছে।
আদেশ-নিষেধ-হেদায়েত
১. আল্লাহ মানুষকে সর্বোত্তম আকৃতি দিয়েছেন। (আয়াত : ৩)
২. আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের আনুগত্য করো। (আয়াত : ১২)
৩. পরিবারের ব্যাপারেও সতর্ক থেকো। (আয়াত : ১৪)
৪. মানুষকে ক্ষমা করো। (আয়াত : ১৪)
সুরা তালাক
এ সুরায় হুকুম বাস্তবায়নের সময় পরিবারের গঠনের অবস্থা ও স্বামী-স্ত্রীর বিচ্ছেদের আহকাম ইত্যাদি আলোচিত হয়েছে। তালাকে সুন্নতের বিধি-বিধান, ইদ্দত ও ইদ্দতের আহকাম ইত্যাদির আলোচনার মাধ্যমে সুরাটি শুরু হয়েছে। এরপর হায়েজহীন নারীর ইদ্দতের হুকুম, গর্ভবতী নারীর ইদ্দতের হুকুম ইত্যাদি আলোচনা করা হয়েছে। ইদ্দতাবস্থায় খরচপাতি ও বাসস্থান দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। আল্লাহর হুকুম ও সীমারেখা অতিক্রম করতে নিষেধ করে সুরাটি শেষ করা হয়েছে।
আদেশ-নিষেধ-হেদায়েত
১. তালাকের ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় করো। (আয়াত : ১)
২. আল্লাহর অবাধ্যতা নিজের প্রতি অবিচার। (আয়াত : ১)
৩. বাসস্থান স্ত্রীর অধিকার। (আয়াত : ৬)
৪. পরিবারের জন্য উদারভাবে খরচ করো। (আয়াত : ৭)
৫. পরিবার প্রধানের ওপর বোঝা চাপিয়ো না। (আয়াত : ৭)
সুরা তাহরিম
উম্মাহাতুল মুমিনিনদের সম্পৃক্ত বিভিন্ন আহকাম আলোচিত হয়েছে মদিনায় অবতীর্ণ এ সুরায়। ঈমানদার পরিবার জাহান্নামকে ভয় করা ও প্রতিদান সম্পর্কে সতর্ক থাকা এবং কাফের-মুনাফিকদের বিপক্ষে ঘর-পরিবার ও স্ত্রী-সন্তানের কারণে বিরত না থাকার কথা বলা হয়েছে। শেষে দুই ধরনের নারীর উদাহরণ টেনে সুরা শেষ করা হয়েছে।
আদেশ-নিষেধ-হেদায়েত
১. বৈধ জিনিস অবৈধ কোরো না। (আয়াত : ১)
২. ভুল হলে অনুতপ্ত হও। (আয়াত : ৪)
৩. রাসুলের বিরুদ্ধাচারণ কোরো না। (আয়াত : ৪)
৪. উত্তম স্ত্রীর বৈশিষ্ট্য পাঁচটি : তারা হবে আত্মসমর্পণকারী, বিশ্বাসী, অনুগত, তওবাকারী, ইবাদতকারী, রোজা পালনকারী অকুমারী ও কুমারী।’ (আয়াত : ৫)
৫. পরিবারকে জাহান্নাম থেকে রক্ষা করো। (আয়াত : ৬)
৬. তওবা পাপমোচন করে। (আয়াত : ৮)
সুরা মুলক
এই সুরায় আকিদার মৌলিক বিষয়গুলো আলোচিত হয়েছে। সাত আসমান সৃষ্টি এবং চাঁদ-তারার মাধ্যমে সেগুলোর সজ্জা এবং শয়তান বিতাড়নে ব্যাবহারের কথা বলা হয়েছে। বলা হয়েছে, পৃথিবীর একই নিয়মে পরিচালিত। তাতে পরিবর্তন বা স্খলন হবে না। আল্লাহর রাসুলের দাওয়াত অস্বীকারকারীদের সতর্ক করে সুরার ইতি টানা হয়েছে।
আদেশ-নিষেধ-হেদায়েত
১. আল্লাহ জীবন-মৃত্যু দিয়ে পরীক্ষা করেন। (আয়াত : ২)
২. জ্ঞান ও প্রজ্ঞার সদ্ব্যবহার করো। (আয়াত : ১০)
৩. আল্লাহ ভূমিকে সুগম করেছেন। (আয়াত : ১৫)
সুরা কালাম
কলমের কসমের মাধ্যমে সুরা শুরু হয়েছে। যাতে কলমের পবিত্রতা ফুটে ওঠে। এরপর রাসুলের চরিত্র-মাধুর্যের কথা বলা হয়েছে। নবুওয়াত-রিসালত, পুনরুত্থান ও আখেরাত এবং কিয়ামতের দিন মুমিন ও কাফিরদের পরিণতি সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।
আদেশ-নিষেধ-হেদায়েত
১. মহানবী (সা.) সর্বোত্তম আদর্শের অধিকারী। (আয়াত : ৪-৬)
২. মিথ্যাবাদীদের অনুসরণ কোরো না। (আয়াত : ৮-৯)
৩. কথায় কথায় শপথ ভালো নয়। (আয়াত : ১০)
৪. পরনিন্দা নিন্দনীয়। (আয়াত : ১১)
৫. রূঢ়তা মুমিনের বৈশিষ্ট্য নয়। (আয়াত : ১৩-১৪)
৬. অভাবীদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়ো না। (আয়াত : ২৩-২৪)
৭. সীমা লঙ্ঘনকারী বঞ্চিত হয়। (আয়াত : ২৬-২৭)
সুরা হাক্কা
এই সুরায়ও আকিদার মৌলিক বিষয়গুলো আলোচিত হয়েছে। সুরা শুরু হয়েছে কিয়ামতের দিনের ভয়াবহতা ও আগের জাতিগোষ্ঠীকে শাস্তি প্রদানের ঘোষণা দিয়ে। রাসুল (সা.)-এর সত্যতা, ওহি পৌঁছানের ক্ষেত্রে তাঁর আমানত, কোরআন মুমিনদের জন্য রহমত ও কাফিরদের জন্য আফসোস ইত্যাদি আলোচনার মাধ্যমে সুরা শেষ করা হয়েছে।
আদেশ-নিষেধ-হেদায়েত
১. সামগ্রিক পাপ বিপর্যয় ডেকে আনে। (আয়াত : ৯)
২. মৃত্যুই জীবনের শেষ নয়। (আয়াত : ২৭)
৩. অভাবীদের অন্নদান করো। (আয়াত : ৩৩-৩৪)
৪. কোরআন কোন কাব্য নয়। (আয়াত : ৪০-৪১)
সুরা মাআরিজ
এই সুরায় পুনরুত্থান, হাশর-নশর, হিসাব-নিকাশ, প্রতিদান ও জাহান্নামের শাস্তি ইত্যাদি সম্পর্কে আলোচনা রয়েছে। আল্লাহর রাসুল (সা.)-এর দাওয়াতের প্রতি মক্কার কাফিরদের অবস্থান, তাচ্ছিল্যতা করে তাদের আল্লাহর আজাব সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা এবং দ্রুত আজাব পেতে চাওয়া ইত্যাদি আলোচিত হয়েছে। কাফিরদের যে শাস্তি দেওয়া হবে সুরার সমাপ্তি টানা হয়েছে।
আদেশ-নিষেধ-হেদায়েত
১. আল্লাহর কাছে শাস্তি চেয়ো না। (আয়াত : ১-২)
২. মানুষ অস্থির চিত্ত। যা নিন্দনীয়। (আয়াত : ১৯-২১)
৩. যথা নিয়মে নামাজ আদায় করো। (আয়াত : ২২-২৩)
৪. অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াও। (আয়াত : ২৪-২৫)
৫. আল্লাহর শাস্তিকে ভয় করো। (আয়াত : ২৭-২৮)
৬. ব্যভিচার কোরো না। (আয়াত : ২৯-৩০)
৭. নামাজে যত্নবান হও। (আয়াত : ৩৪-৩৫)
৮. মিথ্যা প্রত্যাশা ভালো নয়। (আয়াত : ৩৮-৩৯)
সুরা নুহ
ঈমানের বিভিন্ন উপাদান, আল্লাহর ইবাদত ও আনুগত্য, মূর্তি ও পৌত্তলিকতার অসারতা এবং আল্লাহর অস্তিত্ব ও কুদরতের প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়েছে। নুহ (আ.)-কে তাঁর জাতির কাছে আল্লাহর দাওয়াত নিয়ে পাঠানো প্রসঙ্গ আলোচিত হয়েছে সুরার শুরুতে। এরপর সমগ্র পৃথিবীর সৃষ্টি ও মানুষের কল্যাণে হিরারত্ন ও ধনভাণ্ডার ইত্যাদির কথা বলা হয়েছে। নুহ (আ.)-এর জাতির ধ্বংসের বর্ণনা দিয়ে সুরা শেষ হয়েছে।
আদেশ-নিষেধ-হেদায়েত
১. দিন-রাত আল্লাহর পথে আহ্বান করো। (আয়াত : ৫-৬)
২. প্রকাশ্যে ও গোপনে দ্বিনের কাজ করো। (আয়াত : ৮-৯)
৩. অনাবৃষ্টি হলে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাও। (আয়াত : ১০-১১)
৪. প্রশস্ত পথ আল্লাহর দান। (আয়াত : ১৯-২০)
৫. অন্যদের বিভ্রান্ত কোরো না। (আয়াত : ২৪)
৬. জালিমের বিরুদ্ধে আল্লাহর সাহায্য চাও। (আয়াত : ২৬)
৭. পরিবারের জন্য দোয়া করো। (আয়াত : ২৮)
সুরা জিন
এই সুরার দুইটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে : জিন জাতি এবং মানুষকে দাওয়াত দেওয়ার ক্ষেত্রে নবী করিম (সা.)-এর প্রতি কিছু নির্দেশনা। জানানো হয়েছে যে, জিনদের মধ্যেই মুমিন ও কাফির রয়েছে। রাসুল (সা.) কারো লাভ-ক্ষতি করতে পারেন না। কাউকে আল্লাহর শাস্তি থেকে মুক্তি দিতে পারেন না এবং আজাবের ক্ষণকাল সম্পর্কে জানেন না।
আদেশ-নিষেধ-হেদায়েত
১. অসৎ কাজে জিনের সহায়তা নিয়ো না। (আয়াত : ৬)
২. জিনরা অদৃশ্যের কোনো সংবাদ জানে না। (আয়াত : ১০)
৩. জিনরা আল্লাহর হুকুমের সামনে অসহায়। (আয়াত : ১২)
৪. আল্লাহর স্মরণ থেকে বিমুখ হয়ো না। (আয়াত : ১৭)
৫. মসজিদ কেবল আল্লাহর জন্য। (আয়াত : ১৮)
৬. আল্লাহর রাসুলরা সুরক্ষিত। (আয়াত : ২৭)
গ্রন্থনা: মুফতি আতাউর রহমান