মঙ্গলবার | ১৩ জানুয়ারি ২০২৬ | শীতকাল
শিরোনাম :
Logo সুন্দরবনে হরিণ শিকার রোধে কোস্ট গার্ডের অভিযান, জব্দ বিপুল পরিমাণ মাংস ও ফাঁদ Logo ‘সেনা হেফাজতে জীবননগর পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের মৃত্যু’ Logo শিয়ালকোলে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগে সংঘর্ষ: নারীসহ অন্তত ৮ জন আহত Logo সুপারস্টার ডি এ তায়েব অফিসিয়াল ফ্যান ক্লাবের সভাপতি এপেক্স সাঈদ আহসান , সম্পাদক সাংবাদিক অপু চৌধুরী Logo পরিকল্পিতভাবে ব্রাকসু নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করা হচ্ছে, অভিযোগ শিবির সমর্থিত বেরোবি শিক্ষার্থী পরিষদ প্যানেলের  Logo ব্রাকসু নির্বাচনের চতুর্থত বার পুনঃতফসিল ঘোষণা  Logo খুবিতে প্রথম বর্ষের ভর্তি কার্যক্রম: পরিদর্শনে উপাচার্য ও উপ-উপাচার্য Logo গণভোট সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টিতে দেশজুড়ে ব্যাপক কর্মসূচি Logo যৌন নিপীড়নের দায়ে খুবি শিক্ষককে দুই বছরের অব্যাহিত  Logo বারিষাব ইউনিয়নের ১০৩/৭৭ আল-তৌফিকী সড়ক পাকা ও আধুনিকীকরণের জরুরি প্রয়োজন

ঠাকুরগাঁওয়ে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে আহত ২০!

  • amzad khan
  • আপডেট সময় : ০৫:৫৮:১৭ অপরাহ্ণ, বুধবার, ৪ জানুয়ারি ২০১৭
  • ৮১৮ বার পড়া হয়েছে

নিউজ ডেস্ক:

ঠাকুরগাঁওয়ে ছাত্রলীগের ৬৯ তম প্রতিষ্ঠাবাষির্কী উপলক্ষে সংগঠনটির দু’গ্রুপের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে ২০ জন আহত হয়েছে। বুধবার বেলা ১২ টায় দিকে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ৬ রাউন্ড গুলি ও ১০টি টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে।

সংঘর্ষের সময় ছাত্রলীগের কর্মীরা দেশীয় অস্ত্রসহ লাঠিসোটা নিয়ে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া শুরু করে। সংঘর্ষ চলাকালে জেলা আওয়ামী লীগের নেতা ও পুলিশকে অসহায় অবস্থায় দেখা যায়।

এদিকে ঠাকুরগাঁও জেলার আওয়ামী লীগের নেতাদের নির্দেশ অমান্য করে পুলিশের সামনেই ছাত্রলীগের মিজান ও রনি গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষে পুরো ঠাকুরগাঁও শহর রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। এসময় জেলার প্রভাবশালী নেতারা ছাত্রলীগ কর্মীদের কাছে লাঞ্চিত হয়ে সরে পড়েন। প্রায় ২ ঘণ্টাব্যাপী এ সংঘর্ষে শহরের সকল প্রকার দোকান বন্ধ হয়ে যায়।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, ছাত্রলীগের ৬৯ প্রতিষ্ঠা বাষির্কী উপলক্ষে গত রবিবার রাত থেকে ছাত্রলীগের বিদ্রোহী মিজান গ্রুপ জেলা কার্যালয় দখল করে রাখে। অফিস কক্ষ বন্ধ থাকায় রাত ১২টা ১ মিনিটে বাইরে কেক কেটে প্রতিষ্ঠা বাষির্কী উদযাপন করা হয়। অপরদিকে কেন্দ্রীয় ঘোষিত কমিটি সকাল থেকে প্রতিষ্ঠাবাষির্কীর প্রস্তুতি গ্রহণ করে।

বেলা সাড়ে ১২টায় কেন্দ্রীয় ঘোষিত ছাত্রলীগের সভাপতি রনি শহরের বলাকা সিনেমা হলের সামনে থেকে একটি র‌্যালি বের করে চৌরাস্তায় পৌঁছালে বিদ্রোহী গ্রুপ উত্তেজিত হয়ে পড়ে। পরে রনি গ্রুপ জেলা কার্যালয় দখলে নিতে গেলে উভয় পক্ষের মাঝে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। উভয় পক্ষের মধ্যে প্রায় ২ ঘণ্টা ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়। এতে ইট পাটকেলের আঘাতে উভয় পক্ষের কমপক্ষে ২০ জন ছাত্রলীগের কর্মী আহত হয়।

এ সময় পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণেনে আনার জন্য ১০ রাউন্ড টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে। পুলিশ ব্যারিকেট দিয়ে রনি গ্রুপকে সরিয়ে দিলে বিদ্রোহী গ্রুপ আবার ব্যারিকেট ভেঙ্গে শহরের চৌরাস্তা দখলে নেয়।

স্থানীয়রা জানায়, ঠাকুরগাঁও ছাত্রলীগের দুইটি গ্রুপ আছে। এক গ্রুপ নিয়ন্ত্রণ করেন মিজান। তিনি জেলা নেতাদের দ্বারা গঠিত জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি। তিনি জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি দবিরুল ইসলাম এমপির ছত্রছায়ায় চলেন। অপরদিকে, কেন্দ্র অনুমোদিত কমিটির সভাপতি রনি। তিনি ঠাকুরগাঁও সদর -১ আসনের এমপি রমেশ চন্দ্র সেনের অনুসারী।

কেন্দ্রীয় ঘোষিত জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মাহাবুর রহমান রনি জানান, আমরা ছাত্রলীগের আসল কমিটি। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আমরা উদযাপন করবো সবাইকে নিয়ে। কিন্তু বিদ্রোহী গ্রুপ আমাদের দলীয় কার্যালয়ে আসতে বাধা দিলে এ সংঘর্ষ বাধে।

বিদ্রোহী গ্রুপের সভাপতি মিজান জানান, আমরা ছাত্রলীগের মাঠের নেতা কর্মীদের নিয়ে কমিটি গঠন করেছি। ওই গ্রুপের জেলা ছাত্রলীগ গঠনে কোন অবদান নেই। আমরা দলীয় কার্যালয়ে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করেছি। রনি গ্রুপের লোকজন আমাদের উপর ইট পাটকেল নিক্ষেপ করলে আমরা তাদের ধাওয়া দেই।

সদর থানার ওসি মশিউর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, দুই দলকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে রাখা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

সুন্দরবনে হরিণ শিকার রোধে কোস্ট গার্ডের অভিযান, জব্দ বিপুল পরিমাণ মাংস ও ফাঁদ

ঠাকুরগাঁওয়ে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে আহত ২০!

আপডেট সময় : ০৫:৫৮:১৭ অপরাহ্ণ, বুধবার, ৪ জানুয়ারি ২০১৭

নিউজ ডেস্ক:

ঠাকুরগাঁওয়ে ছাত্রলীগের ৬৯ তম প্রতিষ্ঠাবাষির্কী উপলক্ষে সংগঠনটির দু’গ্রুপের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে ২০ জন আহত হয়েছে। বুধবার বেলা ১২ টায় দিকে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ৬ রাউন্ড গুলি ও ১০টি টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে।

সংঘর্ষের সময় ছাত্রলীগের কর্মীরা দেশীয় অস্ত্রসহ লাঠিসোটা নিয়ে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া শুরু করে। সংঘর্ষ চলাকালে জেলা আওয়ামী লীগের নেতা ও পুলিশকে অসহায় অবস্থায় দেখা যায়।

এদিকে ঠাকুরগাঁও জেলার আওয়ামী লীগের নেতাদের নির্দেশ অমান্য করে পুলিশের সামনেই ছাত্রলীগের মিজান ও রনি গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষে পুরো ঠাকুরগাঁও শহর রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। এসময় জেলার প্রভাবশালী নেতারা ছাত্রলীগ কর্মীদের কাছে লাঞ্চিত হয়ে সরে পড়েন। প্রায় ২ ঘণ্টাব্যাপী এ সংঘর্ষে শহরের সকল প্রকার দোকান বন্ধ হয়ে যায়।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, ছাত্রলীগের ৬৯ প্রতিষ্ঠা বাষির্কী উপলক্ষে গত রবিবার রাত থেকে ছাত্রলীগের বিদ্রোহী মিজান গ্রুপ জেলা কার্যালয় দখল করে রাখে। অফিস কক্ষ বন্ধ থাকায় রাত ১২টা ১ মিনিটে বাইরে কেক কেটে প্রতিষ্ঠা বাষির্কী উদযাপন করা হয়। অপরদিকে কেন্দ্রীয় ঘোষিত কমিটি সকাল থেকে প্রতিষ্ঠাবাষির্কীর প্রস্তুতি গ্রহণ করে।

বেলা সাড়ে ১২টায় কেন্দ্রীয় ঘোষিত ছাত্রলীগের সভাপতি রনি শহরের বলাকা সিনেমা হলের সামনে থেকে একটি র‌্যালি বের করে চৌরাস্তায় পৌঁছালে বিদ্রোহী গ্রুপ উত্তেজিত হয়ে পড়ে। পরে রনি গ্রুপ জেলা কার্যালয় দখলে নিতে গেলে উভয় পক্ষের মাঝে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। উভয় পক্ষের মধ্যে প্রায় ২ ঘণ্টা ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়। এতে ইট পাটকেলের আঘাতে উভয় পক্ষের কমপক্ষে ২০ জন ছাত্রলীগের কর্মী আহত হয়।

এ সময় পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণেনে আনার জন্য ১০ রাউন্ড টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে। পুলিশ ব্যারিকেট দিয়ে রনি গ্রুপকে সরিয়ে দিলে বিদ্রোহী গ্রুপ আবার ব্যারিকেট ভেঙ্গে শহরের চৌরাস্তা দখলে নেয়।

স্থানীয়রা জানায়, ঠাকুরগাঁও ছাত্রলীগের দুইটি গ্রুপ আছে। এক গ্রুপ নিয়ন্ত্রণ করেন মিজান। তিনি জেলা নেতাদের দ্বারা গঠিত জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি। তিনি জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি দবিরুল ইসলাম এমপির ছত্রছায়ায় চলেন। অপরদিকে, কেন্দ্র অনুমোদিত কমিটির সভাপতি রনি। তিনি ঠাকুরগাঁও সদর -১ আসনের এমপি রমেশ চন্দ্র সেনের অনুসারী।

কেন্দ্রীয় ঘোষিত জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মাহাবুর রহমান রনি জানান, আমরা ছাত্রলীগের আসল কমিটি। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আমরা উদযাপন করবো সবাইকে নিয়ে। কিন্তু বিদ্রোহী গ্রুপ আমাদের দলীয় কার্যালয়ে আসতে বাধা দিলে এ সংঘর্ষ বাধে।

বিদ্রোহী গ্রুপের সভাপতি মিজান জানান, আমরা ছাত্রলীগের মাঠের নেতা কর্মীদের নিয়ে কমিটি গঠন করেছি। ওই গ্রুপের জেলা ছাত্রলীগ গঠনে কোন অবদান নেই। আমরা দলীয় কার্যালয়ে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করেছি। রনি গ্রুপের লোকজন আমাদের উপর ইট পাটকেল নিক্ষেপ করলে আমরা তাদের ধাওয়া দেই।

সদর থানার ওসি মশিউর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, দুই দলকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে রাখা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।