তারাবিতে কোরআনের বার্তা : পর্ব-২৭

  • নীলকন্ঠ অনলাইন নীলকন্ঠ অনলাইন
  • আপডেট সময় : ০৪:৩৫:৩৩ অপরাহ্ণ, শুক্রবার, ২৮ মার্চ ২০২৫
  • ৭১৩ বার পড়া হয়েছে
সুরা নাজম

সুরার বক্তব্য শুরু হয়েছে এভাবে যে, মুহাম্মাদ (সা.) পথভ্রষ্ট ব্যক্তি নন। তিনি নিজের পক্ষ থেকে কোনো কথা বলেন না, বরং তিনি ওহির অনুসরণ করেন। ইসরা ও মিরাজ সম্পর্কে তিনি যা বর্ণনা করেছেন, তা তাঁর অনুমাননির্ভর নয়, বরং নিজ চোখ দেখা অকাট্য সত্য। তিনি জিবরাঈল (আ.)-কে তাঁর নিজস্ব অবয়বে দেখেছেন। তিনি সিদরাতুল মুনতাহাসহ ঊর্ধ্বজগত্ ভ্রমণ করেছেন।

আদেশ-নিষেধ-হেদায়েত

১. আল্লাহ ফেরেশতাদের প্রজ্ঞা দান করেছেন। (আয়াত : ৪-৬)

২. রাসুল (সা.) সংশয়গ্রস্ত হতেন না। (আয়াত : ১১-১২)

৩. নবী-রাসুলরা বিভ্রমের শিকার হতেন না। (আয়াত : ১৭)

৪. জ্ঞানহীন মানুষরাই অনুমানের পেছনে ছোটে। (আয়াত : ২৮)

৫. দুনিয়ামুখী মানুষরাই আল্লাহ বিমুখ। (আয়াত : ২৯)

৬. স্বল্প জ্ঞানের অধিকারীরাই পার্থিব জীবনে মত্ত হয়। (আয়াত : ৩০)

৭. সকল পাপ পরিহার করো। বিশেষত যা গুরুতর। (আয়াত : ৩২)

৮. অভাবীদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়ো না। (আয়াত : ৩৩-৩৪)

৯. চেষ্টানুপাতেই আল্লাহ মানুষকে দেন। (আয়াত : ৩৯-৪০)

১০. নারী-পুরুষকে আল্লাহই যুগল বন্দী করেন। (আয়াত : ৪৫)

১১. আল্লাহর অনুগ্রহের ব্যাপারে সন্দেহ পোষণ কোরো না। (আয়াত : ৫৫)

সুরা কামার

মহানবী (সা.)-এর দাওয়াতের বিরুদ্ধে মক্কার কাফিররা যে হঠকারিতা করেছিল এ সুরায় সে সাবধান করা হয়েছে। কিয়ামত সংঘটিত হওয়ার যে খবর মহানবী (সা.) দিয়েছেন, তা অবশ্যই সত্য। মহানবী (সা.)-এর আঙুলের ইশারায় চাঁদ দ্বিখণ্ডিত হওয়া তারই প্রমাণ। পরে মক্কার কাফিরদের সামনে নুহ (আ.)-এর জাতি, আদ জাতি, সামুদ জাতি, লুত (আ.)-এর জাতি এবং ফেরাউনের অনুসারীদের অবস্থা সংক্ষেপে বর্ণনা করা হয়েছে।

আদেশ-নিষেধ-হেদায়েত
১. প্রবৃত্তির অনুসরণ করো না। (আয়াত : ৩)
২. আল্লাহ কোরআন সহজ করেছেন। (আয়াত : ১৭)

৩. আল্লাহ সবকিছু নির্ধারিত পরিমাণে সৃষ্টি করেছেন। (৪৯-৫০)

সুরা আর-রহমান

আলোচ্য সুরায় কিয়ামত ও জান্নাত-জাহান্নাম সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করা হয়েছে। এই সুরায় আল্লাহর অসংখ্য নিয়ামতের কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে। দ্বিনের নিয়ামত, কোরআনের নিয়ামত ও মানব সৃষ্টির বিষয়টিকে এখানে সব কিছুর ওপর স্থান দেওয়া হয়েছে। আল্লাহর তাসবিহ ও তাঁর প্রশংসাগীতির মাধ্যমে সুরাটি শেষ করা হয়েছে।

আদেশ-নিষেধ-হেদায়েত

১. মাতৃভাষা আল্লাহর দান। তিনিই মানুষকে ভাষায় শিখিয়েছেন। (আয়াত : ৩-৪)

২. ওজনে কম দিয়ো না। (আয়াত : ৯-১০)

৩. প্রবাল আল্লাহর বিশেষ সৃষ্টি। সুতরাং তা সংরক্ষণ করা আবশ্যক। (আয়াত : ২২-২৩)

৪. আকাশমণ্ডলীর সীমা অতিক্রম করাও সম্ভব। (আয়াত : ৩৩)

সুরা ওয়াকিয়া
কিয়ামতের দিন এ পৃথিবী কী ভয়াবহ আকার ধারণ করবে, তার চিত্র বর্ণনা করার মাধ্যমে সুরাটি শুরু হয়েছে। সুরার শুরুতেই বলা হয়েছে যে, মানুষ তিন ধরনের। ডানপন্থী, বামপন্থী ও অগ্রগামী। এ সুরায় বিপদাপদে আল্লাহর করুণার কথা তুলে ধরা হয়েছে। এই খবর জানানো হয়েছে যে, পবিত্র সত্তা ফেরেশতারা পবিত্রতা ছাড়া কোরআন স্পর্শ করে না। সুরার শেষে ওই তিন ধরনের মানুষের পরিণতি ও প্রতিফল বর্ণনা করা হয়েছে।

আদেশ-নিষেধ-হেদায়েত

১. হতভাগ্য বামদিকের দল। (আয়াত : ৯)

২. নির্ধারিত সময়েই মৃত্যু হবে। (আয়াত : ৬০)

৩. আল্লাহর কোরআন সংরক্ষিত। (আয়াত : ৭৭-৭৯)

৪. আল্লাহর বাণীকে তুচ্ছ জ্ঞান কোরো না। (আয়াত : ৮০-৮১)

৫. আল্লাহ মানুষের খুব কাছেই। (আয়াত : ৮৫)

সুরা হাদিদ

আলোচ্য সুরা শুরু হয়েছে মহান আল্লাহর তাসবিহের মাধ্যমে। এই সুরায় ঈমান, সংগ্রাম, আল্লাহর পথে ব্যয়, ফিতনা থেকে দূরে থাকা ইত্যাদি বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। মুনাফিকদের দ্বিমুখী মনোভাব প্রকাশ করে দেওয়া হয়েছে। সুরায় তাকওয়া অর্জন করতে বলা হয়েছে। নবী-রাসুলদের পথ অনুসরণ করতে বলা হয়েছে। সুরার শেষে বলা হয়েছে আল্লাহ যাকে ইচ্ছা বিশেষ রহমতে সিক্ত করেন।

আদেশ-নিষেধ-হেদায়েত

১. সবকিছু আল্লাহর দিকেই প্রত্যাবর্তিত হবে। (আয়াত : ৫)

২. সম্পদের প্রকৃত মালিক আল্লাহ। (আয়াত : ১০)

৩. নিঃশর্ত ঋণদাতার জন্য সম্মানজনক পুরস্কার। (আয়াত : ১১)

৪. মুমিন কোমল হূদয়ের অধিকারী। (আয়াত : ১৬)

৫. হূদয়ের কঠোরতা নিন্দনীয়। (আয়াত : ১৬)

৬. নিঃশর্ত ঋণ দানতুল্য। (আয়াত : ১৮)

৭. কার্পণ্য কোরো না। (আয়াত : ২৪)

৮. ইসলামে বৈরাগ্য নেই। (আয়াত : ২৭)

সুরা মুজাদালা

সুরার শুরুতে আল্লাহর গুণাবলী ইত্যাদি উল্লেখ করা হয়েছে। আল্লাহর মহত্ত্ব ও অনুকম্পা বর্ণনার মাধ্যমে এই সুরা শুরু ও শেষ করা হয়েছে। এই সুরায় জিহার, কাফফারা, মুনাজাতের হুকুম, মজলিসের শিষ্টাচার, কোনো কাজ শুরু করার আগে রাসুল (সা.)-এর সদকা দেওয়া ইত্যাদি বিষয় বর্ণিত হয়েছে।

আদেশ-নিষেধ-হেদায়েত

১. আল্লাহ মানুষের অনুযোগ শোনেন। (আয়াত : ১)

২. রাসুলের বিরুদ্ধাচারীরা অপদস্থ হবে। (আয়াত : ৫)

৩. ষড়যন্ত্র কোরো না। (আয়াত : ৮)

৪. আল্লাহর শাস্তি প্রত্যাশা কোরো না। (আয়াত : ৮)

৫. বৈঠকে অন্যের জন্য জায়গা করে দাও। (আয়াত : ১১)

৬. আল্লাহর শত্রুদের সঙ্গে বন্ধুত্ব কোরো না। (আয়াত : ১৪)

৭. মিথ্যা শপথ কোরো না। (আয়াত : ১৬)

৮. দ্বিন বিদ্বেষীরা লাঞ্ছিত হবে এবং সত্যপন্থীরাই বিজয়ী হবে। (আয়াত : ২০-২১)

সুরা হাশর

এই সুরায় শরিয়তের কতিপয় বিধান বর্ণিত হয়েছে। যেমন—মদিনা থেকে ইহুদিদের বনি নজিরকে দেশান্তর করা, ফাই ও গনিমতের আহকাম, তাকওয়া ইত্যাদি বিষয় আলোচিত হয়েছে। অনুরূপভাবে ইহুদিদের সঙ্গে মুনাফিকদের সখ্য, কোরআনের মাহাত্ম্য ও তাত্পর্য এবং আল্লাহ তাআলার বিশেষ কিছু নাম বিবৃত হয়েছে।

আদেশ-নিষেধ-হেদায়েত

১. বাস্তুচ্যূত মুসলিমদের আশ্রয় দাও। (আয়াত : ৮)

২. মুসলমানের প্রতি বিদ্বেষ রেখো না। (আয়াত : ১০)

৩. অনাগত দিনের জন্য প্রস্তুত থাকো। (আয়াত : ১৮)

৪. আল্লাহকে ভুলে যেয়ো না। (আয়াত : ১৯)

৫. কোরআনের প্রতি বিনীত হও। (আয়াত : ২১)

সুরা মুমতাহিনা

এই সুরায় যেসব মুশরিক মুসলিমদের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ, যারা মুসলিমদের সঙ্গে যুদ্ধ করে না এবং যেসব মুমিন নারী হিজরত করেছেন, তাদের বিধি-বিধান বর্ণিত হয়েছে। সুরার প্রারম্ভে মুশরিকদের সঙ্গে বন্ধুত্ব ও বন্ধুত্বের উপকরণ অবলম্বনে নিষেধ করা হয়েছে। যুদ্ধ কিংবা শান্তিপূর্ণ অবস্থায় আহলে কিতাবদের সঙ্গে মুসলিমদের সম্পর্কের মূলনীতিও বর্ণিত হয়েছে।

আদেশ-নিষেধ-হেদায়েত

১. আল্লাহবিমুখদের বন্ধু কোরো না। (আয়াত : ১)

২. জেনে-বুঝে সত্যবিমুখ হয়ো না। (আয়াত : ১)

৩. বিপদে আল্লাহমুখী হও। (আয়াত : ৪)

৪. অহেতুক শত্রুতা নয়। (আয়াত : ৮)

৫. পরকালে অবিশ্বাসীদের বন্ধু কোরো না। (আয়াত : ১৩)

গ্রন্থনা : মুফতি আতাউর রহমান

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

তারাবিতে কোরআনের বার্তা : পর্ব-২৭

আপডেট সময় : ০৪:৩৫:৩৩ অপরাহ্ণ, শুক্রবার, ২৮ মার্চ ২০২৫
সুরা নাজম

সুরার বক্তব্য শুরু হয়েছে এভাবে যে, মুহাম্মাদ (সা.) পথভ্রষ্ট ব্যক্তি নন। তিনি নিজের পক্ষ থেকে কোনো কথা বলেন না, বরং তিনি ওহির অনুসরণ করেন। ইসরা ও মিরাজ সম্পর্কে তিনি যা বর্ণনা করেছেন, তা তাঁর অনুমাননির্ভর নয়, বরং নিজ চোখ দেখা অকাট্য সত্য। তিনি জিবরাঈল (আ.)-কে তাঁর নিজস্ব অবয়বে দেখেছেন। তিনি সিদরাতুল মুনতাহাসহ ঊর্ধ্বজগত্ ভ্রমণ করেছেন।

আদেশ-নিষেধ-হেদায়েত

১. আল্লাহ ফেরেশতাদের প্রজ্ঞা দান করেছেন। (আয়াত : ৪-৬)

২. রাসুল (সা.) সংশয়গ্রস্ত হতেন না। (আয়াত : ১১-১২)

৩. নবী-রাসুলরা বিভ্রমের শিকার হতেন না। (আয়াত : ১৭)

৪. জ্ঞানহীন মানুষরাই অনুমানের পেছনে ছোটে। (আয়াত : ২৮)

৫. দুনিয়ামুখী মানুষরাই আল্লাহ বিমুখ। (আয়াত : ২৯)

৬. স্বল্প জ্ঞানের অধিকারীরাই পার্থিব জীবনে মত্ত হয়। (আয়াত : ৩০)

৭. সকল পাপ পরিহার করো। বিশেষত যা গুরুতর। (আয়াত : ৩২)

৮. অভাবীদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়ো না। (আয়াত : ৩৩-৩৪)

৯. চেষ্টানুপাতেই আল্লাহ মানুষকে দেন। (আয়াত : ৩৯-৪০)

১০. নারী-পুরুষকে আল্লাহই যুগল বন্দী করেন। (আয়াত : ৪৫)

১১. আল্লাহর অনুগ্রহের ব্যাপারে সন্দেহ পোষণ কোরো না। (আয়াত : ৫৫)

সুরা কামার

মহানবী (সা.)-এর দাওয়াতের বিরুদ্ধে মক্কার কাফিররা যে হঠকারিতা করেছিল এ সুরায় সে সাবধান করা হয়েছে। কিয়ামত সংঘটিত হওয়ার যে খবর মহানবী (সা.) দিয়েছেন, তা অবশ্যই সত্য। মহানবী (সা.)-এর আঙুলের ইশারায় চাঁদ দ্বিখণ্ডিত হওয়া তারই প্রমাণ। পরে মক্কার কাফিরদের সামনে নুহ (আ.)-এর জাতি, আদ জাতি, সামুদ জাতি, লুত (আ.)-এর জাতি এবং ফেরাউনের অনুসারীদের অবস্থা সংক্ষেপে বর্ণনা করা হয়েছে।

আদেশ-নিষেধ-হেদায়েত
১. প্রবৃত্তির অনুসরণ করো না। (আয়াত : ৩)
২. আল্লাহ কোরআন সহজ করেছেন। (আয়াত : ১৭)

৩. আল্লাহ সবকিছু নির্ধারিত পরিমাণে সৃষ্টি করেছেন। (৪৯-৫০)

সুরা আর-রহমান

আলোচ্য সুরায় কিয়ামত ও জান্নাত-জাহান্নাম সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করা হয়েছে। এই সুরায় আল্লাহর অসংখ্য নিয়ামতের কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে। দ্বিনের নিয়ামত, কোরআনের নিয়ামত ও মানব সৃষ্টির বিষয়টিকে এখানে সব কিছুর ওপর স্থান দেওয়া হয়েছে। আল্লাহর তাসবিহ ও তাঁর প্রশংসাগীতির মাধ্যমে সুরাটি শেষ করা হয়েছে।

আদেশ-নিষেধ-হেদায়েত

১. মাতৃভাষা আল্লাহর দান। তিনিই মানুষকে ভাষায় শিখিয়েছেন। (আয়াত : ৩-৪)

২. ওজনে কম দিয়ো না। (আয়াত : ৯-১০)

৩. প্রবাল আল্লাহর বিশেষ সৃষ্টি। সুতরাং তা সংরক্ষণ করা আবশ্যক। (আয়াত : ২২-২৩)

৪. আকাশমণ্ডলীর সীমা অতিক্রম করাও সম্ভব। (আয়াত : ৩৩)

সুরা ওয়াকিয়া
কিয়ামতের দিন এ পৃথিবী কী ভয়াবহ আকার ধারণ করবে, তার চিত্র বর্ণনা করার মাধ্যমে সুরাটি শুরু হয়েছে। সুরার শুরুতেই বলা হয়েছে যে, মানুষ তিন ধরনের। ডানপন্থী, বামপন্থী ও অগ্রগামী। এ সুরায় বিপদাপদে আল্লাহর করুণার কথা তুলে ধরা হয়েছে। এই খবর জানানো হয়েছে যে, পবিত্র সত্তা ফেরেশতারা পবিত্রতা ছাড়া কোরআন স্পর্শ করে না। সুরার শেষে ওই তিন ধরনের মানুষের পরিণতি ও প্রতিফল বর্ণনা করা হয়েছে।

আদেশ-নিষেধ-হেদায়েত

১. হতভাগ্য বামদিকের দল। (আয়াত : ৯)

২. নির্ধারিত সময়েই মৃত্যু হবে। (আয়াত : ৬০)

৩. আল্লাহর কোরআন সংরক্ষিত। (আয়াত : ৭৭-৭৯)

৪. আল্লাহর বাণীকে তুচ্ছ জ্ঞান কোরো না। (আয়াত : ৮০-৮১)

৫. আল্লাহ মানুষের খুব কাছেই। (আয়াত : ৮৫)

সুরা হাদিদ

আলোচ্য সুরা শুরু হয়েছে মহান আল্লাহর তাসবিহের মাধ্যমে। এই সুরায় ঈমান, সংগ্রাম, আল্লাহর পথে ব্যয়, ফিতনা থেকে দূরে থাকা ইত্যাদি বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। মুনাফিকদের দ্বিমুখী মনোভাব প্রকাশ করে দেওয়া হয়েছে। সুরায় তাকওয়া অর্জন করতে বলা হয়েছে। নবী-রাসুলদের পথ অনুসরণ করতে বলা হয়েছে। সুরার শেষে বলা হয়েছে আল্লাহ যাকে ইচ্ছা বিশেষ রহমতে সিক্ত করেন।

আদেশ-নিষেধ-হেদায়েত

১. সবকিছু আল্লাহর দিকেই প্রত্যাবর্তিত হবে। (আয়াত : ৫)

২. সম্পদের প্রকৃত মালিক আল্লাহ। (আয়াত : ১০)

৩. নিঃশর্ত ঋণদাতার জন্য সম্মানজনক পুরস্কার। (আয়াত : ১১)

৪. মুমিন কোমল হূদয়ের অধিকারী। (আয়াত : ১৬)

৫. হূদয়ের কঠোরতা নিন্দনীয়। (আয়াত : ১৬)

৬. নিঃশর্ত ঋণ দানতুল্য। (আয়াত : ১৮)

৭. কার্পণ্য কোরো না। (আয়াত : ২৪)

৮. ইসলামে বৈরাগ্য নেই। (আয়াত : ২৭)

সুরা মুজাদালা

সুরার শুরুতে আল্লাহর গুণাবলী ইত্যাদি উল্লেখ করা হয়েছে। আল্লাহর মহত্ত্ব ও অনুকম্পা বর্ণনার মাধ্যমে এই সুরা শুরু ও শেষ করা হয়েছে। এই সুরায় জিহার, কাফফারা, মুনাজাতের হুকুম, মজলিসের শিষ্টাচার, কোনো কাজ শুরু করার আগে রাসুল (সা.)-এর সদকা দেওয়া ইত্যাদি বিষয় বর্ণিত হয়েছে।

আদেশ-নিষেধ-হেদায়েত

১. আল্লাহ মানুষের অনুযোগ শোনেন। (আয়াত : ১)

২. রাসুলের বিরুদ্ধাচারীরা অপদস্থ হবে। (আয়াত : ৫)

৩. ষড়যন্ত্র কোরো না। (আয়াত : ৮)

৪. আল্লাহর শাস্তি প্রত্যাশা কোরো না। (আয়াত : ৮)

৫. বৈঠকে অন্যের জন্য জায়গা করে দাও। (আয়াত : ১১)

৬. আল্লাহর শত্রুদের সঙ্গে বন্ধুত্ব কোরো না। (আয়াত : ১৪)

৭. মিথ্যা শপথ কোরো না। (আয়াত : ১৬)

৮. দ্বিন বিদ্বেষীরা লাঞ্ছিত হবে এবং সত্যপন্থীরাই বিজয়ী হবে। (আয়াত : ২০-২১)

সুরা হাশর

এই সুরায় শরিয়তের কতিপয় বিধান বর্ণিত হয়েছে। যেমন—মদিনা থেকে ইহুদিদের বনি নজিরকে দেশান্তর করা, ফাই ও গনিমতের আহকাম, তাকওয়া ইত্যাদি বিষয় আলোচিত হয়েছে। অনুরূপভাবে ইহুদিদের সঙ্গে মুনাফিকদের সখ্য, কোরআনের মাহাত্ম্য ও তাত্পর্য এবং আল্লাহ তাআলার বিশেষ কিছু নাম বিবৃত হয়েছে।

আদেশ-নিষেধ-হেদায়েত

১. বাস্তুচ্যূত মুসলিমদের আশ্রয় দাও। (আয়াত : ৮)

২. মুসলমানের প্রতি বিদ্বেষ রেখো না। (আয়াত : ১০)

৩. অনাগত দিনের জন্য প্রস্তুত থাকো। (আয়াত : ১৮)

৪. আল্লাহকে ভুলে যেয়ো না। (আয়াত : ১৯)

৫. কোরআনের প্রতি বিনীত হও। (আয়াত : ২১)

সুরা মুমতাহিনা

এই সুরায় যেসব মুশরিক মুসলিমদের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ, যারা মুসলিমদের সঙ্গে যুদ্ধ করে না এবং যেসব মুমিন নারী হিজরত করেছেন, তাদের বিধি-বিধান বর্ণিত হয়েছে। সুরার প্রারম্ভে মুশরিকদের সঙ্গে বন্ধুত্ব ও বন্ধুত্বের উপকরণ অবলম্বনে নিষেধ করা হয়েছে। যুদ্ধ কিংবা শান্তিপূর্ণ অবস্থায় আহলে কিতাবদের সঙ্গে মুসলিমদের সম্পর্কের মূলনীতিও বর্ণিত হয়েছে।

আদেশ-নিষেধ-হেদায়েত

১. আল্লাহবিমুখদের বন্ধু কোরো না। (আয়াত : ১)

২. জেনে-বুঝে সত্যবিমুখ হয়ো না। (আয়াত : ১)

৩. বিপদে আল্লাহমুখী হও। (আয়াত : ৪)

৪. অহেতুক শত্রুতা নয়। (আয়াত : ৮)

৫. পরকালে অবিশ্বাসীদের বন্ধু কোরো না। (আয়াত : ১৩)

গ্রন্থনা : মুফতি আতাউর রহমান