মঙ্গলবার | ১৩ জানুয়ারি ২০২৬ | শীতকাল
শিরোনাম :
Logo সুপারস্টার ডি এ তায়েব অফিসিয়াল ফ্যান ক্লাবের সভাপতি এপেক্স সাঈদ আহসান , সম্পাদক সাংবাদিক অপু চৌধুরী Logo পরিকল্পিতভাবে ব্রাকসু নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করা হচ্ছে, অভিযোগ শিবির সমর্থিত বেরোবি শিক্ষার্থী পরিষদ প্যানেলের  Logo ব্রাকসু নির্বাচনের চতুর্থত বার পুনঃতফসিল ঘোষণা  Logo খুবিতে প্রথম বর্ষের ভর্তি কার্যক্রম: পরিদর্শনে উপাচার্য ও উপ-উপাচার্য Logo গণভোট সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টিতে দেশজুড়ে ব্যাপক কর্মসূচি Logo যৌন নিপীড়নের দায়ে খুবি শিক্ষককে দুই বছরের অব্যাহিত  Logo বারিষাব ইউনিয়নের ১০৩/৭৭ আল-তৌফিকী সড়ক পাকা ও আধুনিকীকরণের জরুরি প্রয়োজন Logo মোংলায় কোস্ট গার্ডের অভিযানে অপহৃত নারী উদ্ধার, অপহরণকারী আটক Logo রাকসুর উদ্যোগে সুপেয় পানির ফিল্টার স্থাপন Logo গণভোট উপলক্ষে পলাশবাড়ীতে গণসচেতনতায় প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের সাথে আলোচনা ও লিফলেট বিতরণ 

পলাশবাড়ীর আলোচিত ২২ কোটি টাকার মন্দির প্রতিষ্ঠাতা ‘হরিদাস’ সাধু নাকি প্রতারক।

  • নীলকন্ঠ ডেস্ক: নীলকন্ঠ ডেস্ক:
  • আপডেট সময় : ০৮:৪৩:০৮ অপরাহ্ণ, বুধবার, ৮ অক্টোবর ২০২৫
  • ৯০০ বার পড়া হয়েছে
বায়েজীদ, পলাশবাড়ী (গাইবান্ধা)  :
বর্তমান সময়ে পলাশবাড়ী উপজেলার সবচেয়ে আলোচিত মন্দির হলো শ্রী শ্রী রাধা গোবিন্দ ও কালী মন্দির, যা ২নং হোসেনপুর ইউনিয়নের মধ্যরামচন্দ্রপুর (নয়াপাড়া) গ্রামে অবস্থিত।
প্রতিষ্ঠাতার দাবি অনুযায়ী, এই মন্দিরটি আনুমানিক ২২ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এবং এটি বর্তমানে উত্তরবঙ্গের অন্যতম বৃহৎ ও দৃষ্টিনন্দন মন্দির হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে।
বিপুল অর্থে নির্মিত এই মন্দিরটির প্রতিষ্ঠাতা শ্রী হরিদাস বাবুর আয়ের উৎস নিয়ে জনমনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
বিশেষ করে ২০২২ সালের নভেম্বরে প্রতারণার দায়ে গ্রেফতার হওয়ার কিছু ভিডিও ও সংবাদ মূলধারার গণমাধ্যমে প্রকাশ হলে তাকে নিয়ে সাধারণ মানুষের জল্পনা কল্পনা শুরু হয়। আসুন জেনে নেওয়া যাক ২০২২ এর নভেম্বরে কিসের অপরাধে গ্রেফতার হয়েছিলেন ‘হরিদাস’!
হরিদাস চন্দ্র তরনীদাস, যিনি ধর্মান্তরিত হয়ে তাওহীদ ইসলাম নামেও পরিচিত, একজন প্রতারক চক্রের মূলহোতা হিসেবে ২০২২ সালের নভেম্বরে র‍্যাব ও জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) যৌথ অভিযানে গ্রেফতার হন।
তিনি প্রধানমন্ত্রীর পরিবারের সদস্যদের ভুয়া প্রটোকল অফিসার পরিচয়ে বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তা, চাকরিপ্রত্যাশী ও ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে অর্থ আত্মসাৎ করতেন।
হরিদাস চন্দ্র বগুড়ার শিবগঞ্জ থানার উথলী বাজার এলাকার গোপীনাথের ছেলে। তিনি ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়াকালীন অবৈধভাবে ভারতে যান এবং সেখানকার পঞ্চায়েত প্রধানের কাছ থেকে এতিম সার্টিফিকেট সংগ্রহ করেন।
উচ্চ মাধ্যমিক পাস ও ইলেকট্রনিকস বিষয়ে দুই বছরের বিশেষ প্রশিক্ষণ শেষে ২০১০ সালে দেশে ফিরে এসি মেকানিক হিসেবে কাজ শুরু করেন।
২০১৮ সালে সবজি বিক্রেতার সঙ্গে সাবলেট বাসা ভাড়া নিয়ে ২০১৯ সালে ধর্মান্তরিত হয়ে হরিদাস চন্দ্র থেকে তাওহীদ ইসলাম নাম ধারণ করেন। এরপর তিনি প্রধানমন্ত্রীর পরিবারের সদস্যদের প্রটোকল অফিসার পরিচয়ে বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তা ও চাকরিপ্রত্যাশীদের কাছ থেকে অর্থ আত্মসাৎ করতে থাকেন।
প্রতারণার কৌশল ও আর্থিক কেলেঙ্কারি :
হরিদাস চন্দ্র নিজেকে প্রধানমন্ত্রীর পরিবারের সদস্যদের প্রটোকল অফিসার হিসেবে পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তা, চাকরিপ্রত্যাশী ও ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে অর্থ আত্মসাৎ করতেন।
তিনি ফুলবাড়িয়া এলাকায় প্রায় এক বিঘা জমি কিনে প্যারিস সুইমিংপুল এন্টারটেইনমেন্ট পার্ক নামে একটি রিসোর্ট প্রতিষ্ঠা করেন। রিসোর্টে প্রবেশ মূল্য ৫০ টাকা, সুইমিংপুলে গোসল ১০০ টাকা এবং ঘোরাঘুরির জন্য ৫০ টাকা করে টিকিট বিক্রি করা শুরু করেন।
এছাড়া তিনি বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পে বিনিয়োগের প্রলোভন দেখিয়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করেন।
গ্রেফতার ও আইনি ব্যবস্থা :
২০২২ সালের ৭ নভেম্বর রাজধানীর বনানী এলাকায় র‍্যাব ও এনএসআইয়ের যৌথ অভিযানে হরিদাস চন্দ্র ও তার সহযোগী ইমরান মেহেদী হাসানকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের কাছ থেকে ৪টি মোবাইল, জালিয়াতিতে ব্যবহৃত বিভিন্ন ডকুমেন্ট এবং প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এডিট করা ভুয়া ছবি জব্দ করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, তারা ২০১৪ সাল থেকে শতাধিক মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।
ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

সুপারস্টার ডি এ তায়েব অফিসিয়াল ফ্যান ক্লাবের সভাপতি এপেক্স সাঈদ আহসান , সম্পাদক সাংবাদিক অপু চৌধুরী

পলাশবাড়ীর আলোচিত ২২ কোটি টাকার মন্দির প্রতিষ্ঠাতা ‘হরিদাস’ সাধু নাকি প্রতারক।

আপডেট সময় : ০৮:৪৩:০৮ অপরাহ্ণ, বুধবার, ৮ অক্টোবর ২০২৫
বায়েজীদ, পলাশবাড়ী (গাইবান্ধা)  :
বর্তমান সময়ে পলাশবাড়ী উপজেলার সবচেয়ে আলোচিত মন্দির হলো শ্রী শ্রী রাধা গোবিন্দ ও কালী মন্দির, যা ২নং হোসেনপুর ইউনিয়নের মধ্যরামচন্দ্রপুর (নয়াপাড়া) গ্রামে অবস্থিত।
প্রতিষ্ঠাতার দাবি অনুযায়ী, এই মন্দিরটি আনুমানিক ২২ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এবং এটি বর্তমানে উত্তরবঙ্গের অন্যতম বৃহৎ ও দৃষ্টিনন্দন মন্দির হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে।
বিপুল অর্থে নির্মিত এই মন্দিরটির প্রতিষ্ঠাতা শ্রী হরিদাস বাবুর আয়ের উৎস নিয়ে জনমনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
বিশেষ করে ২০২২ সালের নভেম্বরে প্রতারণার দায়ে গ্রেফতার হওয়ার কিছু ভিডিও ও সংবাদ মূলধারার গণমাধ্যমে প্রকাশ হলে তাকে নিয়ে সাধারণ মানুষের জল্পনা কল্পনা শুরু হয়। আসুন জেনে নেওয়া যাক ২০২২ এর নভেম্বরে কিসের অপরাধে গ্রেফতার হয়েছিলেন ‘হরিদাস’!
হরিদাস চন্দ্র তরনীদাস, যিনি ধর্মান্তরিত হয়ে তাওহীদ ইসলাম নামেও পরিচিত, একজন প্রতারক চক্রের মূলহোতা হিসেবে ২০২২ সালের নভেম্বরে র‍্যাব ও জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) যৌথ অভিযানে গ্রেফতার হন।
তিনি প্রধানমন্ত্রীর পরিবারের সদস্যদের ভুয়া প্রটোকল অফিসার পরিচয়ে বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তা, চাকরিপ্রত্যাশী ও ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে অর্থ আত্মসাৎ করতেন।
হরিদাস চন্দ্র বগুড়ার শিবগঞ্জ থানার উথলী বাজার এলাকার গোপীনাথের ছেলে। তিনি ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়াকালীন অবৈধভাবে ভারতে যান এবং সেখানকার পঞ্চায়েত প্রধানের কাছ থেকে এতিম সার্টিফিকেট সংগ্রহ করেন।
উচ্চ মাধ্যমিক পাস ও ইলেকট্রনিকস বিষয়ে দুই বছরের বিশেষ প্রশিক্ষণ শেষে ২০১০ সালে দেশে ফিরে এসি মেকানিক হিসেবে কাজ শুরু করেন।
২০১৮ সালে সবজি বিক্রেতার সঙ্গে সাবলেট বাসা ভাড়া নিয়ে ২০১৯ সালে ধর্মান্তরিত হয়ে হরিদাস চন্দ্র থেকে তাওহীদ ইসলাম নাম ধারণ করেন। এরপর তিনি প্রধানমন্ত্রীর পরিবারের সদস্যদের প্রটোকল অফিসার পরিচয়ে বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তা ও চাকরিপ্রত্যাশীদের কাছ থেকে অর্থ আত্মসাৎ করতে থাকেন।
প্রতারণার কৌশল ও আর্থিক কেলেঙ্কারি :
হরিদাস চন্দ্র নিজেকে প্রধানমন্ত্রীর পরিবারের সদস্যদের প্রটোকল অফিসার হিসেবে পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তা, চাকরিপ্রত্যাশী ও ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে অর্থ আত্মসাৎ করতেন।
তিনি ফুলবাড়িয়া এলাকায় প্রায় এক বিঘা জমি কিনে প্যারিস সুইমিংপুল এন্টারটেইনমেন্ট পার্ক নামে একটি রিসোর্ট প্রতিষ্ঠা করেন। রিসোর্টে প্রবেশ মূল্য ৫০ টাকা, সুইমিংপুলে গোসল ১০০ টাকা এবং ঘোরাঘুরির জন্য ৫০ টাকা করে টিকিট বিক্রি করা শুরু করেন।
এছাড়া তিনি বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পে বিনিয়োগের প্রলোভন দেখিয়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করেন।
গ্রেফতার ও আইনি ব্যবস্থা :
২০২২ সালের ৭ নভেম্বর রাজধানীর বনানী এলাকায় র‍্যাব ও এনএসআইয়ের যৌথ অভিযানে হরিদাস চন্দ্র ও তার সহযোগী ইমরান মেহেদী হাসানকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের কাছ থেকে ৪টি মোবাইল, জালিয়াতিতে ব্যবহৃত বিভিন্ন ডকুমেন্ট এবং প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এডিট করা ভুয়া ছবি জব্দ করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, তারা ২০১৪ সাল থেকে শতাধিক মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।