মঙ্গলবার | ৩ মার্চ ২০২৬ | বসন্তকাল
শিরোনাম :
Logo তারকা ও ভক্তদের হৃদয়ের বন্ধন: সুপারস্টার ডি এ তায়েব অফিসিয়াল ফ্যান ক্লাবের ইফতার মাহফিল Logo শতাধিক রোজাদারদের মুখে হাসি ফোটালেন বিজয়ীর ফাউন্ডার তানিয়া ইশতিয়াক খান Logo পলাশবাড়ীতে স্বামীর নির্যাতনের শিকার গৃহবধূর মৃত্যু!! আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেয়ার চেষ্টা Logo পলাশবাড়ী পৌর শহরে সড়কের গাছ চুরি চিহৃিন্ত চক্র আইনি ব্যবস্থা গ্রহনের দাবী Logo এসিএস ইন্টারন্যাশনাল স্টুডেন্ট চাপ্টার খুলনা ইউনিভার্সিটি’র নেতৃত্বে শাহরিয়ার-কমানিং Logo বেরোবি জাতীয়তাবাদী কর্মকর্তা ফোরাম নেতৃত্বে রোকনুজ্জামান – মামদুদুর  Logo শ্যামনগরে প্রেসক্লাব সভাপতির বিরুদ্ধে অভিযোগে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন Logo যশোর বেনাপোল দিয়ে ভারত থেকে আসলো আওয়ামী লীগের সাবেক এমপির মরদেহ Logo জীবননগরে পবিত্র মাহে রমজান মাস উপলক্ষে সুলভ মূল্যে কৃষি পণ্য বিক্রয় কার্যক্রমের উদ্বোধন Logo ইরানসহ মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের প্রেক্ষিতে বাংলাদেশিদের খোঁজ রাখছেন প্রধানমন্ত্রী

চাঁদপুরে মাদক নির্মূলে সাহসিকতার সাথে কাজ করছে সহকারী পরিচালক মুহাঃ মিজানুর রহমান

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (Department of Narcotics Control, DNC) হলো গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালেয়ের অধীনে একটি সংস্থা, যা দেশে মাদক উৎপাদন ও ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে কাজ করে। এই অধিদপ্তরের মূল কাজগুলোর মধ্যে রয়েছে অবৈধ মাদকের প্রবাহ রোধ করা, ঔষধ ও অন্যান্য শিল্পে ব্যবহৃত বৈধ মাদকের আমদানি, পরিবহন ও ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করা, মাদকাসক্তদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করা এবং মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা।
নিষিদ্ধ জগতে অস্ত্রের পর মাদকই সবচেয়ে লাভজনক ব্যবসা। প্রবাদে আছে চোরে না শুনে ধর্মের কাহিনী। বর্তমানে দেশের এমন কোনো জায়গা নেই যেখানে মাদকের কেনাবেচা হয় না। শহর থেকে শুরু করে গ্রামেও এটি সহজলভ্য।
চাঁদপুর জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের এপ্রিল মাসে মুহাঃ মিজানুর রহমান সহকারী পরিচালক হিসেবে যোগদানের পর মে থেকে আগস্ট পর্যন্ত ৫২১ টি চাঁদপুরে মাদক রিবোধী অভিযানে ৫৮ জন মাদক পাচারকারী ও বিক্রেতাকে আটক করা হয়েছে। তাদের কাছে থেকে ৭ হাজার ২শ’ ৫৪ পিচ ইয়াবা ট্যাবলেট, ৬শ’ ৪৮ বোতল ফেন্সিডিল, ৪ কেজি ১২৮ গ্রাাম গাঁজা, ২ লাখ ২৩ হাজার ৩০ টাকা, ৮টি মোবাইল সেট উদ্ধার করা হয়েছে। আটককৃতদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে ৫০টি মামলা করা হয়েছে।
চাঁদপুরের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মুহাঃ মিজানুর রহমান
জেলার বিভিন্ন স্কুলে ক্যাম্পিং, কারাবন্দীদের সংশোধনের লক্ষ্যে একাধিক সতচেতনতা সভা, মাদ্রাসা, মসজিদ, পাড়া-মহল্লা, ওয়ার্ডে-ওয়ার্ডে ও হাট-বাজারে সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, ইভটিজিং, বাল্য বিবাহ ও মাদক বিরোধী সচেতনতামূলক মতবিনিময় সভা, মাদক নির্মূলে লিফলেট, জ্যামিতি বক্স ও কলম বিতরন করে জেলা জুড়ে ব্যাপক গণসচেতনা সৃষ্টি করেছেন। বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের মাঝে মাদকের কুফল তুলে ধরে মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিহাদ’ ঘোষণা করতে উৎসাহিত করেছেন। তার এমনজনকল্যাণকর সচেতনতামূলক এসব সভায় জেলা প্রশাসন, পুলিশ বিভাগ, জনপ্রতিনিধি, রাজনীতিবিদ, সাংবাদিকসহ সর্বস্তরের লোকজন অংশ নেন।
রোববার (৩১ আগষ্ট) এক সাক্ষাৎকারে মাদক নির্মূলের সাফল্য প্রসঙ্গে চাঁদপুরের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহকারী-পরিচালক মিজানুর রহমান বলেন’ কেউ অপরাধ করলে ছাড় পাওয়ার সুযোগ নেই। মাদক সমস্য শুধু বাংলাদেশের নয়। সারা পৃথবীতে এখন মাদক একটি বড় সমস্যা।
তিনি বলেন, মাদক সেবনে মানুষের শারীরিক ও মানসিক উভয়প্রকার ক্ষতিসাধন হয়। একজন মাদকাসক্ত ব্যক্তির মস্তিষ্ক ও শ্বাসযন্ত্রের কার্যক্ষমতা দিন দিন কমতে থাকে। এসব জীবন বিধ্বংসী ক্ষতিকারক দ্রব্য সেবনের ফলে যুবসমাজের সামাজিক মূল্যবোধের চরম অবক্ষয় ঘটছে। এরই পরিণাম স্বরূপ ছেলেমেয়ের হাতে মা-বাবা খুন, ছিনতাই, চাঁদাবাজি, রাহাজানি এখনকার নৈমিত্তিক ঘটনা। একজন বাবা, একজন মা এবং তার পরিবারের সদস্যরা, তাদের পরিবার নিয়ে স্বপ্ন থাকে। স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য চেষ্টা থাকে। সেখানে যদি দেখা যায় যে এরকম পরিস্থিতি, তখন স্বাভাবিকভাবেই তখন স্বপ্নভঙ্গের সম্ভাবনা থাকে। মাদকদ্রব্য সেবনে এই প্রতিটি ব্যক্তি নিজেরা যেমন ধ্বংস হচ্ছেন, একই সাথে তারা বিপর্যস্ত করে তুলছেন তাদের পরিবারের সদস্যদের জীবন।
সকরারী পরিচালক বলেন, আজকে যারা স্কুল বা কলেজে পড়ছে, তারা বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ। তাদের নিয়ে পরিবার, স্বজন, প্রতিবেশীসহ সবাই স্বপ্ন দেখে। কিন্তু কোনো কারণে কেউ যদি মাদকে আসক্ত হয়ে পড়ে, তাহলে তাকে নিয়ে আর কেউ স্বপ্ন দেখে না। মাদকাসক্তির কারণে পরিবার, প্রতিবেশী বা সমাজ চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে যায়। মাদকাসক্তি সবকিছুকেই ধ্বংস করে দেয়।
মিজানুর রহমান বলেন, সমাজের মানুষকে সচেতন হতে হবে, যারা মাদকের সাথে জড়িত তাদেরকে সমাজ থেকে প্রতিহত করতে হবে, মাদক মুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠিত করতে হবে।প্রশাসনকে সহযোগিতা করতে হবে।
স্কুল- কলেজে সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি মাদকের ভয়াবহ কুফল সম্পর্কে শিক্ষাদান ও বেকারদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। সর্বোপরি মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে আমাদের সকলকে সচেতন হতে হবে।
ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

তারকা ও ভক্তদের হৃদয়ের বন্ধন: সুপারস্টার ডি এ তায়েব অফিসিয়াল ফ্যান ক্লাবের ইফতার মাহফিল

চাঁদপুরে মাদক নির্মূলে সাহসিকতার সাথে কাজ করছে সহকারী পরিচালক মুহাঃ মিজানুর রহমান

আপডেট সময় : ০৯:০৭:০৪ অপরাহ্ণ, রবিবার, ৩১ আগস্ট ২০২৫
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (Department of Narcotics Control, DNC) হলো গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালেয়ের অধীনে একটি সংস্থা, যা দেশে মাদক উৎপাদন ও ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে কাজ করে। এই অধিদপ্তরের মূল কাজগুলোর মধ্যে রয়েছে অবৈধ মাদকের প্রবাহ রোধ করা, ঔষধ ও অন্যান্য শিল্পে ব্যবহৃত বৈধ মাদকের আমদানি, পরিবহন ও ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করা, মাদকাসক্তদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করা এবং মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা।
নিষিদ্ধ জগতে অস্ত্রের পর মাদকই সবচেয়ে লাভজনক ব্যবসা। প্রবাদে আছে চোরে না শুনে ধর্মের কাহিনী। বর্তমানে দেশের এমন কোনো জায়গা নেই যেখানে মাদকের কেনাবেচা হয় না। শহর থেকে শুরু করে গ্রামেও এটি সহজলভ্য।
চাঁদপুর জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের এপ্রিল মাসে মুহাঃ মিজানুর রহমান সহকারী পরিচালক হিসেবে যোগদানের পর মে থেকে আগস্ট পর্যন্ত ৫২১ টি চাঁদপুরে মাদক রিবোধী অভিযানে ৫৮ জন মাদক পাচারকারী ও বিক্রেতাকে আটক করা হয়েছে। তাদের কাছে থেকে ৭ হাজার ২শ’ ৫৪ পিচ ইয়াবা ট্যাবলেট, ৬শ’ ৪৮ বোতল ফেন্সিডিল, ৪ কেজি ১২৮ গ্রাাম গাঁজা, ২ লাখ ২৩ হাজার ৩০ টাকা, ৮টি মোবাইল সেট উদ্ধার করা হয়েছে। আটককৃতদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে ৫০টি মামলা করা হয়েছে।
চাঁদপুরের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মুহাঃ মিজানুর রহমান
জেলার বিভিন্ন স্কুলে ক্যাম্পিং, কারাবন্দীদের সংশোধনের লক্ষ্যে একাধিক সতচেতনতা সভা, মাদ্রাসা, মসজিদ, পাড়া-মহল্লা, ওয়ার্ডে-ওয়ার্ডে ও হাট-বাজারে সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, ইভটিজিং, বাল্য বিবাহ ও মাদক বিরোধী সচেতনতামূলক মতবিনিময় সভা, মাদক নির্মূলে লিফলেট, জ্যামিতি বক্স ও কলম বিতরন করে জেলা জুড়ে ব্যাপক গণসচেতনা সৃষ্টি করেছেন। বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের মাঝে মাদকের কুফল তুলে ধরে মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিহাদ’ ঘোষণা করতে উৎসাহিত করেছেন। তার এমনজনকল্যাণকর সচেতনতামূলক এসব সভায় জেলা প্রশাসন, পুলিশ বিভাগ, জনপ্রতিনিধি, রাজনীতিবিদ, সাংবাদিকসহ সর্বস্তরের লোকজন অংশ নেন।
রোববার (৩১ আগষ্ট) এক সাক্ষাৎকারে মাদক নির্মূলের সাফল্য প্রসঙ্গে চাঁদপুরের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহকারী-পরিচালক মিজানুর রহমান বলেন’ কেউ অপরাধ করলে ছাড় পাওয়ার সুযোগ নেই। মাদক সমস্য শুধু বাংলাদেশের নয়। সারা পৃথবীতে এখন মাদক একটি বড় সমস্যা।
তিনি বলেন, মাদক সেবনে মানুষের শারীরিক ও মানসিক উভয়প্রকার ক্ষতিসাধন হয়। একজন মাদকাসক্ত ব্যক্তির মস্তিষ্ক ও শ্বাসযন্ত্রের কার্যক্ষমতা দিন দিন কমতে থাকে। এসব জীবন বিধ্বংসী ক্ষতিকারক দ্রব্য সেবনের ফলে যুবসমাজের সামাজিক মূল্যবোধের চরম অবক্ষয় ঘটছে। এরই পরিণাম স্বরূপ ছেলেমেয়ের হাতে মা-বাবা খুন, ছিনতাই, চাঁদাবাজি, রাহাজানি এখনকার নৈমিত্তিক ঘটনা। একজন বাবা, একজন মা এবং তার পরিবারের সদস্যরা, তাদের পরিবার নিয়ে স্বপ্ন থাকে। স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য চেষ্টা থাকে। সেখানে যদি দেখা যায় যে এরকম পরিস্থিতি, তখন স্বাভাবিকভাবেই তখন স্বপ্নভঙ্গের সম্ভাবনা থাকে। মাদকদ্রব্য সেবনে এই প্রতিটি ব্যক্তি নিজেরা যেমন ধ্বংস হচ্ছেন, একই সাথে তারা বিপর্যস্ত করে তুলছেন তাদের পরিবারের সদস্যদের জীবন।
সকরারী পরিচালক বলেন, আজকে যারা স্কুল বা কলেজে পড়ছে, তারা বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ। তাদের নিয়ে পরিবার, স্বজন, প্রতিবেশীসহ সবাই স্বপ্ন দেখে। কিন্তু কোনো কারণে কেউ যদি মাদকে আসক্ত হয়ে পড়ে, তাহলে তাকে নিয়ে আর কেউ স্বপ্ন দেখে না। মাদকাসক্তির কারণে পরিবার, প্রতিবেশী বা সমাজ চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে যায়। মাদকাসক্তি সবকিছুকেই ধ্বংস করে দেয়।
মিজানুর রহমান বলেন, সমাজের মানুষকে সচেতন হতে হবে, যারা মাদকের সাথে জড়িত তাদেরকে সমাজ থেকে প্রতিহত করতে হবে, মাদক মুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠিত করতে হবে।প্রশাসনকে সহযোগিতা করতে হবে।
স্কুল- কলেজে সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি মাদকের ভয়াবহ কুফল সম্পর্কে শিক্ষাদান ও বেকারদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। সর্বোপরি মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে আমাদের সকলকে সচেতন হতে হবে।