মঙ্গলবার | ৩ মার্চ ২০২৬ | বসন্তকাল
শিরোনাম :
Logo তারকা ও ভক্তদের হৃদয়ের বন্ধন: সুপারস্টার ডি এ তায়েব অফিসিয়াল ফ্যান ক্লাবের ইফতার মাহফিল Logo শতাধিক রোজাদারদের মুখে হাসি ফোটালেন বিজয়ীর ফাউন্ডার তানিয়া ইশতিয়াক খান Logo পলাশবাড়ীতে স্বামীর নির্যাতনের শিকার গৃহবধূর মৃত্যু!! আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেয়ার চেষ্টা Logo পলাশবাড়ী পৌর শহরে সড়কের গাছ চুরি চিহৃিন্ত চক্র আইনি ব্যবস্থা গ্রহনের দাবী Logo এসিএস ইন্টারন্যাশনাল স্টুডেন্ট চাপ্টার খুলনা ইউনিভার্সিটি’র নেতৃত্বে শাহরিয়ার-কমানিং Logo বেরোবি জাতীয়তাবাদী কর্মকর্তা ফোরাম নেতৃত্বে রোকনুজ্জামান – মামদুদুর  Logo শ্যামনগরে প্রেসক্লাব সভাপতির বিরুদ্ধে অভিযোগে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন Logo যশোর বেনাপোল দিয়ে ভারত থেকে আসলো আওয়ামী লীগের সাবেক এমপির মরদেহ Logo জীবননগরে পবিত্র মাহে রমজান মাস উপলক্ষে সুলভ মূল্যে কৃষি পণ্য বিক্রয় কার্যক্রমের উদ্বোধন Logo ইরানসহ মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের প্রেক্ষিতে বাংলাদেশিদের খোঁজ রাখছেন প্রধানমন্ত্রী

গুম হওয়া শিক্ষার্থীদের খোঁজে ইবিতে মানববন্ধন

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) গুম হওয়া দুই শিক্ষার্থী ওয়ালিউল্লাহ ও আল-মুকাদ্দাসের সন্ধান ও ফিরিয়ে আনার দাবিতে মানববন্ধন করেছে শাখা ছাত্রশিবির। শনিবার (৩০ আগস্ট) আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবসে দুপুরে প্রশাসন ভবন সামনে এ কর্মসূচি পালন করেন ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা।
এ সময় শিক্ষার্থীরা ‘ওয়ালি-মোকাদ্দাস ভাইয়ের খোঁজ নাই, প্রশাসনের লজ্জা নাই; আওয়ামী লীগের ঠিকানা, এই বাংলায় হবে না; অ্যাকশন অ্যাকশন ডাইরেক্ট অ্যাকশন; আওয়ামী লীগের ঠিকানা, এই ক্যাম্পাসে হবে না; গুমকারীদের ঠিকানা, এই ক্যাম্পাসে হবে না; গুমকারীদের বিরুদ্ধে, ডাইরেক্ট অ্যাকশন’—এমন স্লোগান দিতে দেখা যায়।
শাখা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি ইউসুব আলী বলেন, ‘২০২৪ সালের ৫ই আগস্টে ফ্যাসিস্ট শাসনের পতনের পর এক বছর ২৫ দিন সময় অতিবাহিত হবার পরেও আমরা এই গুম হওয়া ভাইদের হদিস পাইনি। আমাদের ভাইরা কী অবস্থায় আছে, সেই খবরটি দিন। আমরা বিশ্ববিদ্যালয়কে স্পষ্ট করে বলতে চাই — এই গুমের পেছনে তৎকালীন প্রশাসনের ব্যক্তিবর্গ জড়িত ছিল। অনতিবিলম্বে জড়িতদের চিহ্নিত করে শাস্তি নিশ্চিত করুন। শিক্ষার্থীরা দোষীদের চিহ্নিত করতে শুরু করলে, আপনাদের গদি ধরে রাখা কঠিন হবে।’
গুমের শিকার শিক্ষার্থী ওয়ালিউল্লাহ’র বড় ভাই খালিদ সাইফুল্লাহ বলেন, ‘আমি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় বর্তমান প্রশাসনের কাছে অনুরোধ জানাবো, সেই সময়ে যেই প্রশাসন ছিল, তাদের সহযোগিতা ছাড়া এই ধরনের কাজ সম্ভব ছিল না। আমরা জানতে পেরেছিলাম, সেই সময়ের প্রশাসনের যোগসাজশেই তাদের চিহ্নিত করা হয়েছিল।’
শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘দ্রুত গুম কমিশনের রিপোর্ট শিক্ষার্থী ও জাতির সামনে প্রকাশ করুন। সেসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি, প্রো-ভিসি, প্রক্টর, ওয়ালিউল্লাহ ও আল-মুকাদ্দাসের হল শাহ আজিজুর রহমান হলের প্রভোস্ট, ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে ধরুন, তাহলে অনেক তথ্য পাওয়া যাবে। আপনাদের মুখে কেন কুলুপ? আপনারা কেউ গুমের সাথে জড়িত কিনা, আমার তো সন্দেহ হয়।’
শিবির নেতা আরও বলেন, ‘সুশীল ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন চুন থেকে পান খসলেই উদ্বোধন করতে চায়, কিন্তু ওয়ালিউল্লাহ-মুকাদ্দাসের ব্যাপারে কোনো খোঁজ বের করতে পারে না। তাদের ব্যাপারে ভিসিকে কথা বলতে দেখি না, প্রো-ভিসি স্যার মাঝে মাঝে কথা বললেও তা পর্যাপ্ত না। আমরা দ্রুত সময়ের মধ্যে আমার ভাইদের সন্ধান চাই। আইনের মধ্যে দিয়ে আপনারা প্রশাসনে আসেননি, শিক্ষার্থীদের রক্তের ওপর দিয়ে আপনারা প্রশাসনে বসেছেন। আমরা যখন স্টেপ নেবো, তখন আপনারা পালাতে বাধ্য হবেন।’
প্রসঙ্গত, ২০১২ সালের ৪ঠা ফেব্রুয়ারি ঢাকা থেকে কুষ্টিয়া যাওয়ার পথে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থী আল-মুকাদ্দাস এবং ওয়ালীউল্লাহ গুম হন। গুমের পর তাদের কোথায় রাখা হলো? বেঁচে আছেন না মারা গেছেন? এসব প্রশ্নের জবাব খুঁজছেন পরিবার ও শিক্ষার্থীরা।
ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

তারকা ও ভক্তদের হৃদয়ের বন্ধন: সুপারস্টার ডি এ তায়েব অফিসিয়াল ফ্যান ক্লাবের ইফতার মাহফিল

গুম হওয়া শিক্ষার্থীদের খোঁজে ইবিতে মানববন্ধন

আপডেট সময় : ১০:০৬:৫৪ অপরাহ্ণ, শনিবার, ৩০ আগস্ট ২০২৫
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) গুম হওয়া দুই শিক্ষার্থী ওয়ালিউল্লাহ ও আল-মুকাদ্দাসের সন্ধান ও ফিরিয়ে আনার দাবিতে মানববন্ধন করেছে শাখা ছাত্রশিবির। শনিবার (৩০ আগস্ট) আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবসে দুপুরে প্রশাসন ভবন সামনে এ কর্মসূচি পালন করেন ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা।
এ সময় শিক্ষার্থীরা ‘ওয়ালি-মোকাদ্দাস ভাইয়ের খোঁজ নাই, প্রশাসনের লজ্জা নাই; আওয়ামী লীগের ঠিকানা, এই বাংলায় হবে না; অ্যাকশন অ্যাকশন ডাইরেক্ট অ্যাকশন; আওয়ামী লীগের ঠিকানা, এই ক্যাম্পাসে হবে না; গুমকারীদের ঠিকানা, এই ক্যাম্পাসে হবে না; গুমকারীদের বিরুদ্ধে, ডাইরেক্ট অ্যাকশন’—এমন স্লোগান দিতে দেখা যায়।
শাখা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি ইউসুব আলী বলেন, ‘২০২৪ সালের ৫ই আগস্টে ফ্যাসিস্ট শাসনের পতনের পর এক বছর ২৫ দিন সময় অতিবাহিত হবার পরেও আমরা এই গুম হওয়া ভাইদের হদিস পাইনি। আমাদের ভাইরা কী অবস্থায় আছে, সেই খবরটি দিন। আমরা বিশ্ববিদ্যালয়কে স্পষ্ট করে বলতে চাই — এই গুমের পেছনে তৎকালীন প্রশাসনের ব্যক্তিবর্গ জড়িত ছিল। অনতিবিলম্বে জড়িতদের চিহ্নিত করে শাস্তি নিশ্চিত করুন। শিক্ষার্থীরা দোষীদের চিহ্নিত করতে শুরু করলে, আপনাদের গদি ধরে রাখা কঠিন হবে।’
গুমের শিকার শিক্ষার্থী ওয়ালিউল্লাহ’র বড় ভাই খালিদ সাইফুল্লাহ বলেন, ‘আমি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় বর্তমান প্রশাসনের কাছে অনুরোধ জানাবো, সেই সময়ে যেই প্রশাসন ছিল, তাদের সহযোগিতা ছাড়া এই ধরনের কাজ সম্ভব ছিল না। আমরা জানতে পেরেছিলাম, সেই সময়ের প্রশাসনের যোগসাজশেই তাদের চিহ্নিত করা হয়েছিল।’
শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘দ্রুত গুম কমিশনের রিপোর্ট শিক্ষার্থী ও জাতির সামনে প্রকাশ করুন। সেসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি, প্রো-ভিসি, প্রক্টর, ওয়ালিউল্লাহ ও আল-মুকাদ্দাসের হল শাহ আজিজুর রহমান হলের প্রভোস্ট, ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে ধরুন, তাহলে অনেক তথ্য পাওয়া যাবে। আপনাদের মুখে কেন কুলুপ? আপনারা কেউ গুমের সাথে জড়িত কিনা, আমার তো সন্দেহ হয়।’
শিবির নেতা আরও বলেন, ‘সুশীল ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন চুন থেকে পান খসলেই উদ্বোধন করতে চায়, কিন্তু ওয়ালিউল্লাহ-মুকাদ্দাসের ব্যাপারে কোনো খোঁজ বের করতে পারে না। তাদের ব্যাপারে ভিসিকে কথা বলতে দেখি না, প্রো-ভিসি স্যার মাঝে মাঝে কথা বললেও তা পর্যাপ্ত না। আমরা দ্রুত সময়ের মধ্যে আমার ভাইদের সন্ধান চাই। আইনের মধ্যে দিয়ে আপনারা প্রশাসনে আসেননি, শিক্ষার্থীদের রক্তের ওপর দিয়ে আপনারা প্রশাসনে বসেছেন। আমরা যখন স্টেপ নেবো, তখন আপনারা পালাতে বাধ্য হবেন।’
প্রসঙ্গত, ২০১২ সালের ৪ঠা ফেব্রুয়ারি ঢাকা থেকে কুষ্টিয়া যাওয়ার পথে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থী আল-মুকাদ্দাস এবং ওয়ালীউল্লাহ গুম হন। গুমের পর তাদের কোথায় রাখা হলো? বেঁচে আছেন না মারা গেছেন? এসব প্রশ্নের জবাব খুঁজছেন পরিবার ও শিক্ষার্থীরা।