শিরোনাম :
Logo ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে : অন্তর্বর্তী সরকারের বিবৃতি Logo খুবিতে প্রথম আলো বন্ধুসভা ও খুবিসাস আয়োজিত কর্মশালা Logo কচুয়ার পূর্ব বিতারা জামালিয়া নূরানী হাফেজিয়া মাদরাসায় ছাত্রদের সবক প্রদান ও দোয়া মাহফিল Logo গুম হওয়া শিক্ষার্থীদের খোঁজে ইবিতে মানববন্ধন Logo হাজীগঞ্জ রাজারগাঁও সালিশ বৈঠকে প্রতিপক্ষের হামলায় আহত ৩ Logo নুরুল হক নুরের উপর হামলার প্রতিবাদে চাঁদপুর জেলা গণঅধিকার পরিষদের বিক্ষোভ Logo ইবিতে এম.ফিল, পিএইচডি প্রোগ্রামে ভর্তি পরীক্ষা সম্পন্ন Logo জেলা বিএনপির সভাপতির নামে মিথ্য গুজব ছড়ানের প্রতিবাদে পলাশবাড়ীতে বিক্ষোভ মিছিল। Logo ভিপি নুরের ওপর হামলা দেশে সংকটের নতুন মাত্রা যোগ করবে :হাফেজ মাওলানা মাকসুদুর রহমান Logo সাবেক ছাত্রনেতা রফিকুল ইসলাম রফিকের  উপকূলীয় অঞ্চলে সংকট সমাধানে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় সভা

গুম হওয়া শিক্ষার্থীদের খোঁজে ইবিতে মানববন্ধন

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) গুম হওয়া দুই শিক্ষার্থী ওয়ালিউল্লাহ ও আল-মুকাদ্দাসের সন্ধান ও ফিরিয়ে আনার দাবিতে মানববন্ধন করেছে শাখা ছাত্রশিবির। শনিবার (৩০ আগস্ট) আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবসে দুপুরে প্রশাসন ভবন সামনে এ কর্মসূচি পালন করেন ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা।
এ সময় শিক্ষার্থীরা ‘ওয়ালি-মোকাদ্দাস ভাইয়ের খোঁজ নাই, প্রশাসনের লজ্জা নাই; আওয়ামী লীগের ঠিকানা, এই বাংলায় হবে না; অ্যাকশন অ্যাকশন ডাইরেক্ট অ্যাকশন; আওয়ামী লীগের ঠিকানা, এই ক্যাম্পাসে হবে না; গুমকারীদের ঠিকানা, এই ক্যাম্পাসে হবে না; গুমকারীদের বিরুদ্ধে, ডাইরেক্ট অ্যাকশন’—এমন স্লোগান দিতে দেখা যায়।
শাখা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি ইউসুব আলী বলেন, ‘২০২৪ সালের ৫ই আগস্টে ফ্যাসিস্ট শাসনের পতনের পর এক বছর ২৫ দিন সময় অতিবাহিত হবার পরেও আমরা এই গুম হওয়া ভাইদের হদিস পাইনি। আমাদের ভাইরা কী অবস্থায় আছে, সেই খবরটি দিন। আমরা বিশ্ববিদ্যালয়কে স্পষ্ট করে বলতে চাই — এই গুমের পেছনে তৎকালীন প্রশাসনের ব্যক্তিবর্গ জড়িত ছিল। অনতিবিলম্বে জড়িতদের চিহ্নিত করে শাস্তি নিশ্চিত করুন। শিক্ষার্থীরা দোষীদের চিহ্নিত করতে শুরু করলে, আপনাদের গদি ধরে রাখা কঠিন হবে।’
গুমের শিকার শিক্ষার্থী ওয়ালিউল্লাহ’র বড় ভাই খালিদ সাইফুল্লাহ বলেন, ‘আমি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় বর্তমান প্রশাসনের কাছে অনুরোধ জানাবো, সেই সময়ে যেই প্রশাসন ছিল, তাদের সহযোগিতা ছাড়া এই ধরনের কাজ সম্ভব ছিল না। আমরা জানতে পেরেছিলাম, সেই সময়ের প্রশাসনের যোগসাজশেই তাদের চিহ্নিত করা হয়েছিল।’
শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘দ্রুত গুম কমিশনের রিপোর্ট শিক্ষার্থী ও জাতির সামনে প্রকাশ করুন। সেসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি, প্রো-ভিসি, প্রক্টর, ওয়ালিউল্লাহ ও আল-মুকাদ্দাসের হল শাহ আজিজুর রহমান হলের প্রভোস্ট, ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে ধরুন, তাহলে অনেক তথ্য পাওয়া যাবে। আপনাদের মুখে কেন কুলুপ? আপনারা কেউ গুমের সাথে জড়িত কিনা, আমার তো সন্দেহ হয়।’
শিবির নেতা আরও বলেন, ‘সুশীল ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন চুন থেকে পান খসলেই উদ্বোধন করতে চায়, কিন্তু ওয়ালিউল্লাহ-মুকাদ্দাসের ব্যাপারে কোনো খোঁজ বের করতে পারে না। তাদের ব্যাপারে ভিসিকে কথা বলতে দেখি না, প্রো-ভিসি স্যার মাঝে মাঝে কথা বললেও তা পর্যাপ্ত না। আমরা দ্রুত সময়ের মধ্যে আমার ভাইদের সন্ধান চাই। আইনের মধ্যে দিয়ে আপনারা প্রশাসনে আসেননি, শিক্ষার্থীদের রক্তের ওপর দিয়ে আপনারা প্রশাসনে বসেছেন। আমরা যখন স্টেপ নেবো, তখন আপনারা পালাতে বাধ্য হবেন।’
প্রসঙ্গত, ২০১২ সালের ৪ঠা ফেব্রুয়ারি ঢাকা থেকে কুষ্টিয়া যাওয়ার পথে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থী আল-মুকাদ্দাস এবং ওয়ালীউল্লাহ গুম হন। গুমের পর তাদের কোথায় রাখা হলো? বেঁচে আছেন না মারা গেছেন? এসব প্রশ্নের জবাব খুঁজছেন পরিবার ও শিক্ষার্থীরা।
ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে : অন্তর্বর্তী সরকারের বিবৃতি

গুম হওয়া শিক্ষার্থীদের খোঁজে ইবিতে মানববন্ধন

আপডেট সময় : ১০:০৬:৫৪ অপরাহ্ণ, শনিবার, ৩০ আগস্ট ২০২৫
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) গুম হওয়া দুই শিক্ষার্থী ওয়ালিউল্লাহ ও আল-মুকাদ্দাসের সন্ধান ও ফিরিয়ে আনার দাবিতে মানববন্ধন করেছে শাখা ছাত্রশিবির। শনিবার (৩০ আগস্ট) আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবসে দুপুরে প্রশাসন ভবন সামনে এ কর্মসূচি পালন করেন ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা।
এ সময় শিক্ষার্থীরা ‘ওয়ালি-মোকাদ্দাস ভাইয়ের খোঁজ নাই, প্রশাসনের লজ্জা নাই; আওয়ামী লীগের ঠিকানা, এই বাংলায় হবে না; অ্যাকশন অ্যাকশন ডাইরেক্ট অ্যাকশন; আওয়ামী লীগের ঠিকানা, এই ক্যাম্পাসে হবে না; গুমকারীদের ঠিকানা, এই ক্যাম্পাসে হবে না; গুমকারীদের বিরুদ্ধে, ডাইরেক্ট অ্যাকশন’—এমন স্লোগান দিতে দেখা যায়।
শাখা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি ইউসুব আলী বলেন, ‘২০২৪ সালের ৫ই আগস্টে ফ্যাসিস্ট শাসনের পতনের পর এক বছর ২৫ দিন সময় অতিবাহিত হবার পরেও আমরা এই গুম হওয়া ভাইদের হদিস পাইনি। আমাদের ভাইরা কী অবস্থায় আছে, সেই খবরটি দিন। আমরা বিশ্ববিদ্যালয়কে স্পষ্ট করে বলতে চাই — এই গুমের পেছনে তৎকালীন প্রশাসনের ব্যক্তিবর্গ জড়িত ছিল। অনতিবিলম্বে জড়িতদের চিহ্নিত করে শাস্তি নিশ্চিত করুন। শিক্ষার্থীরা দোষীদের চিহ্নিত করতে শুরু করলে, আপনাদের গদি ধরে রাখা কঠিন হবে।’
গুমের শিকার শিক্ষার্থী ওয়ালিউল্লাহ’র বড় ভাই খালিদ সাইফুল্লাহ বলেন, ‘আমি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় বর্তমান প্রশাসনের কাছে অনুরোধ জানাবো, সেই সময়ে যেই প্রশাসন ছিল, তাদের সহযোগিতা ছাড়া এই ধরনের কাজ সম্ভব ছিল না। আমরা জানতে পেরেছিলাম, সেই সময়ের প্রশাসনের যোগসাজশেই তাদের চিহ্নিত করা হয়েছিল।’
শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘দ্রুত গুম কমিশনের রিপোর্ট শিক্ষার্থী ও জাতির সামনে প্রকাশ করুন। সেসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি, প্রো-ভিসি, প্রক্টর, ওয়ালিউল্লাহ ও আল-মুকাদ্দাসের হল শাহ আজিজুর রহমান হলের প্রভোস্ট, ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে ধরুন, তাহলে অনেক তথ্য পাওয়া যাবে। আপনাদের মুখে কেন কুলুপ? আপনারা কেউ গুমের সাথে জড়িত কিনা, আমার তো সন্দেহ হয়।’
শিবির নেতা আরও বলেন, ‘সুশীল ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন চুন থেকে পান খসলেই উদ্বোধন করতে চায়, কিন্তু ওয়ালিউল্লাহ-মুকাদ্দাসের ব্যাপারে কোনো খোঁজ বের করতে পারে না। তাদের ব্যাপারে ভিসিকে কথা বলতে দেখি না, প্রো-ভিসি স্যার মাঝে মাঝে কথা বললেও তা পর্যাপ্ত না। আমরা দ্রুত সময়ের মধ্যে আমার ভাইদের সন্ধান চাই। আইনের মধ্যে দিয়ে আপনারা প্রশাসনে আসেননি, শিক্ষার্থীদের রক্তের ওপর দিয়ে আপনারা প্রশাসনে বসেছেন। আমরা যখন স্টেপ নেবো, তখন আপনারা পালাতে বাধ্য হবেন।’
প্রসঙ্গত, ২০১২ সালের ৪ঠা ফেব্রুয়ারি ঢাকা থেকে কুষ্টিয়া যাওয়ার পথে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থী আল-মুকাদ্দাস এবং ওয়ালীউল্লাহ গুম হন। গুমের পর তাদের কোথায় রাখা হলো? বেঁচে আছেন না মারা গেছেন? এসব প্রশ্নের জবাব খুঁজছেন পরিবার ও শিক্ষার্থীরা।