মঙ্গলবার | ৩ মার্চ ২০২৬ | বসন্তকাল
শিরোনাম :
Logo তারকা ও ভক্তদের হৃদয়ের বন্ধন: সুপারস্টার ডি এ তায়েব অফিসিয়াল ফ্যান ক্লাবের ইফতার মাহফিল Logo শতাধিক রোজাদারদের মুখে হাসি ফোটালেন বিজয়ীর ফাউন্ডার তানিয়া ইশতিয়াক খান Logo পলাশবাড়ীতে স্বামীর নির্যাতনের শিকার গৃহবধূর মৃত্যু!! আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেয়ার চেষ্টা Logo পলাশবাড়ী পৌর শহরে সড়কের গাছ চুরি চিহৃিন্ত চক্র আইনি ব্যবস্থা গ্রহনের দাবী Logo এসিএস ইন্টারন্যাশনাল স্টুডেন্ট চাপ্টার খুলনা ইউনিভার্সিটি’র নেতৃত্বে শাহরিয়ার-কমানিং Logo বেরোবি জাতীয়তাবাদী কর্মকর্তা ফোরাম নেতৃত্বে রোকনুজ্জামান – মামদুদুর  Logo শ্যামনগরে প্রেসক্লাব সভাপতির বিরুদ্ধে অভিযোগে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন Logo যশোর বেনাপোল দিয়ে ভারত থেকে আসলো আওয়ামী লীগের সাবেক এমপির মরদেহ Logo জীবননগরে পবিত্র মাহে রমজান মাস উপলক্ষে সুলভ মূল্যে কৃষি পণ্য বিক্রয় কার্যক্রমের উদ্বোধন Logo ইরানসহ মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের প্রেক্ষিতে বাংলাদেশিদের খোঁজ রাখছেন প্রধানমন্ত্রী

এক সাইকেলে ৫৩ বছর পার কচুয়ার টিউবওয়েল মিস্ত্রির জাহাঙ্গীর আলমের

১৯৭২ সালের তৎকালীন সরকারের কাছ থেকে পাওয়া জাপানি মডেলের সাইকেলটি আজো ব্যবহার করছেন টিউবওয়েল মিস্ত্রী জাহাঙ্গীর আলম। বাবার মৃত্যুর পর এই সাইকেল দিয়ে গ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চলে বাড়ি বাড়ি গিয়ে মানুষের টিউবওয়েল মেরামত করেন তিনি। বাবার স্মৃতি টুকু ধরে রাখতে প্রতিনিয়ত তিনি আজো এই সাইকেলটি ব্যবহার করছেন।

 

সাইকেল চালিয়ে বিভিন্ন এলাকায় টিউবওয়েল মেরামত করে যে টাকা উপার্জন হয় তাতে চলে তার সংসার। সংসারে স্ত্রী,১ ছেলে ও ২ মেয়ে রয়েছে তার। বলছি চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার পালাখাল গ্রামের প্রধানীয়া বাড়ির মৃত আব্দুর রবের ছেলে জাহাঙ্গীর আলমের কথা।

জানা যায়, জাহাঙ্গীর আলমের বাবা ছিলেন দক্ষ টিউবওয়েল মিস্ত্রী। তখনকার সময়ে তৎকালীন সরকারি চাকুরি করার সুবাদে সরকার তাকে জাপানি মডেলের একটি সাইকেল উপহার দেন। পরে কয়েক বছর ব্যবহারের পর তার মৃত্যুতে ছেলে জাহাঙ্গীর আলম দীর্ঘ অনেক বছর ধরে এ সাইকেলটি ব্যবহার করছেন। সাইকেলের টায়ার,টিউব ও স্কু পরিবর্তন ছাড়া তেমন কিছু কাজ করতে হয়নি তার। এখনো সাইকেলের রিং গুলো মরিচা পড়েনি। একমাত্র বাহন হিসেবে তিনি প্রতিনিয়িত এভাবে গ্রামান্তরে ছুটে চলেন জীবিকার তাগিদে। সংসারের উপার্জনক্রম একমাত্র ব্যক্তি হিসেবে এই বাহনটি নিয়ে ছুটে চলেন তিনি। বয়স ৬০ পেরিয়ে গেলেও এখনো সাইকেল চালিয়ে এলাকায় ঘুরে বেড়ান সে। একজন ভালো মিস্ত্রি হওয়ায় এলাকায় তার সুনাম রয়েছে। তার ব্যবহৃত সাইকেলটি বর্তমানে বয়স হয়েছে ৫৩ বছর।

টিউবওয়লে মিস্ত্রি জাহাঙ্গীর আলম জানান, বাবার মৃত্যুর পর আমি এই সাইকেলটি ব্যবহার করতেছি। সাইকেলটি আজো কোনো ধরনের নষ্ট বা অকোজা হয়নি। বাবার স্মৃতি ধরে আজো এখনো বেচেঁ আছি। এই সাইকেলটি দিয়ে আমি মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে টিউবওয়েল মেরামতের কাজ করি। এতে যে টাকা আয়, তাতেই চলে আমার সংসার। তাই সাইকেলটি হচ্ছে আমার একমাত্র বাহন। ভবিষ্যতেও চেষ্টা করব এই সাইকেলের মাধ্যমে বাবার স্মৃতি ধরে রাখতে।
স্থানীয় এলাকাবাসীরা বলেন, জাহাঙ্গীর আলম এভাবে সাইকেল চালিয়ে মানুষের বাড়ি গিয়ে টিউবওয়েল মেরামত করে আসছেন। তিনি একজন সহজ-সরল ও সৎ মানুষ। কখনো কারো সাথে বাকবিতন্ডা করেনি। বর্তমান যুগে এমন মানুষ কম দেখা যায়।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

তারকা ও ভক্তদের হৃদয়ের বন্ধন: সুপারস্টার ডি এ তায়েব অফিসিয়াল ফ্যান ক্লাবের ইফতার মাহফিল

এক সাইকেলে ৫৩ বছর পার কচুয়ার টিউবওয়েল মিস্ত্রির জাহাঙ্গীর আলমের

আপডেট সময় : ০৬:৩৫:৩১ অপরাহ্ণ, শুক্রবার, ৭ মার্চ ২০২৫

১৯৭২ সালের তৎকালীন সরকারের কাছ থেকে পাওয়া জাপানি মডেলের সাইকেলটি আজো ব্যবহার করছেন টিউবওয়েল মিস্ত্রী জাহাঙ্গীর আলম। বাবার মৃত্যুর পর এই সাইকেল দিয়ে গ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চলে বাড়ি বাড়ি গিয়ে মানুষের টিউবওয়েল মেরামত করেন তিনি। বাবার স্মৃতি টুকু ধরে রাখতে প্রতিনিয়ত তিনি আজো এই সাইকেলটি ব্যবহার করছেন।

 

সাইকেল চালিয়ে বিভিন্ন এলাকায় টিউবওয়েল মেরামত করে যে টাকা উপার্জন হয় তাতে চলে তার সংসার। সংসারে স্ত্রী,১ ছেলে ও ২ মেয়ে রয়েছে তার। বলছি চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার পালাখাল গ্রামের প্রধানীয়া বাড়ির মৃত আব্দুর রবের ছেলে জাহাঙ্গীর আলমের কথা।

জানা যায়, জাহাঙ্গীর আলমের বাবা ছিলেন দক্ষ টিউবওয়েল মিস্ত্রী। তখনকার সময়ে তৎকালীন সরকারি চাকুরি করার সুবাদে সরকার তাকে জাপানি মডেলের একটি সাইকেল উপহার দেন। পরে কয়েক বছর ব্যবহারের পর তার মৃত্যুতে ছেলে জাহাঙ্গীর আলম দীর্ঘ অনেক বছর ধরে এ সাইকেলটি ব্যবহার করছেন। সাইকেলের টায়ার,টিউব ও স্কু পরিবর্তন ছাড়া তেমন কিছু কাজ করতে হয়নি তার। এখনো সাইকেলের রিং গুলো মরিচা পড়েনি। একমাত্র বাহন হিসেবে তিনি প্রতিনিয়িত এভাবে গ্রামান্তরে ছুটে চলেন জীবিকার তাগিদে। সংসারের উপার্জনক্রম একমাত্র ব্যক্তি হিসেবে এই বাহনটি নিয়ে ছুটে চলেন তিনি। বয়স ৬০ পেরিয়ে গেলেও এখনো সাইকেল চালিয়ে এলাকায় ঘুরে বেড়ান সে। একজন ভালো মিস্ত্রি হওয়ায় এলাকায় তার সুনাম রয়েছে। তার ব্যবহৃত সাইকেলটি বর্তমানে বয়স হয়েছে ৫৩ বছর।

টিউবওয়লে মিস্ত্রি জাহাঙ্গীর আলম জানান, বাবার মৃত্যুর পর আমি এই সাইকেলটি ব্যবহার করতেছি। সাইকেলটি আজো কোনো ধরনের নষ্ট বা অকোজা হয়নি। বাবার স্মৃতি ধরে আজো এখনো বেচেঁ আছি। এই সাইকেলটি দিয়ে আমি মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে টিউবওয়েল মেরামতের কাজ করি। এতে যে টাকা আয়, তাতেই চলে আমার সংসার। তাই সাইকেলটি হচ্ছে আমার একমাত্র বাহন। ভবিষ্যতেও চেষ্টা করব এই সাইকেলের মাধ্যমে বাবার স্মৃতি ধরে রাখতে।
স্থানীয় এলাকাবাসীরা বলেন, জাহাঙ্গীর আলম এভাবে সাইকেল চালিয়ে মানুষের বাড়ি গিয়ে টিউবওয়েল মেরামত করে আসছেন। তিনি একজন সহজ-সরল ও সৎ মানুষ। কখনো কারো সাথে বাকবিতন্ডা করেনি। বর্তমান যুগে এমন মানুষ কম দেখা যায়।