আবদুল মোনেম অর্থনৈতিক অঞ্চলের লাইসেন্স প্রদান

  • amzad khan
  • আপডেট সময় : ১২:৩৭:০০ অপরাহ্ণ, বৃহস্পতিবার, ৫ জানুয়ারি ২০১৭
  • ৭৫৮ বার পড়া হয়েছে

নিউজ ডেস্ক:

দেশের সার্বিক আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন তথা শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখার উদ্দেশে আবদুল মোনেম অর্থনৈতিক অঞ্চলের লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে। গত মঙ্গলবার কারওয়ান বাজারে বেজা সম্মেলন কক্ষে এ  লাইসেন্স প্রদান অনুষ্ঠান করা হয়।

মুন্সীগঞ্জ জেলার গজারিয়া উপজেলার চর বাউশিয়া ও চর জাজিরা মৌজায় অবস্থিত এই অর্থনৈতিক অঞ্চলে জমির পরিমাণ ১৪২.৪১৯০ একর।এই অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার জন্য অনুমোদিত মাস্টার প্ল্যান অনুযায়ী ভূমি উন্নয়নসহ শিল্পকারখানা স্থাপন করা হবে। সমগ্র এলাকার পরিবেশগত প্রভাব নিরুপণ সমীক্ষা এরই মধ্যে সম্পন্ন হয়েছে এবং তা পরিবেশ অধিদপ্তর কর্তৃক অনুমোদিত হয়েছে। এই অঞ্চলে কেন্দ্রীয় শিল্পবর্জ্য শোধনাগার, পানি শোধনাগার, পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা, অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থাসহ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয় শর্তাবলী প্রতিপালিত হবে।

প্রাথমিক পর্যায়ে প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকা মূলধন বিনিয়োগের বিপরীতে এই অর্থনৈতিক অঞ্চলে ভূমি ক্রয়, ভূমি উন্নয়ন এবং বিদ্যুৎ ব্যবস্থা, নিজস্ব পানি সরবরাহ ব্যবস্থা, তিতাস থেকে সরবরাহকৃত গ্যাস সংযোগসহ অর্থনৈতিক অঞ্চলের সকল সর্বাধুনিক পরিসেবা সুবিধাদি থাকবে, যা এই অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিনিয়োগকারীদেরকে সরবরাহ করা হবে। এর পাশাপাশি প্রয়োজনীয় অভ্যন্তরীণ সড়ক, আধুনিক নিষ্কাশন ব্যবস্থা, জীববৈচিত্র্য রক্ষাকল্পে দীর্ঘ জলাধার এবং পরিবেশবান্ধব সবুজের সমারোহ থাকবে।

প্রস্তাবিত শিল্প খাতের মধ্যে পোশাক ও বস্ত্র শিল্প, মোটর যন্ত্রাংশ সংযোজন শিল্প, মিশ্র খাদ্য শিল্প, প্যাকেজিং শিল্প ইত্যাদি রয়েছে। ইতিমধ্যে এই অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিনিয়োগের জন্য জাপানসহ বিভিন্ন দেশের পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। আরো কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বিনিয়োগের বিষয়ে আলোচনা চলমান আছে

পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে প্রথম বছর থেকে দক্ষ-অদক্ষ নারী-পুরুষ মিলিয়ে প্রায় ১০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হবে, যা ৫ বছরের মধ্যে লক্ষাধিকে উন্নীত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

লাইসেন্স প্রদান অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান পবন চৌধুরী। অনুষ্ঠানে বেজার নির্বাহী সদস্য এম এমদাদুল হক ও মো. আব্দুস সামাদসহ পদস্থ কর্মকর্তা এবং এএমইজেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও এ এস এম মাঈনুদ্দিন মোনেম ও আবদুল মোনেম লিমিটেডের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ এস এম মহিউদ্দিন মোনেমসহ অন্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন তরান্বিতকরণ, আগামী ১৫ বছরের মধ্যে ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা, ১ কোটি লোকের কর্মসংস্থান সৃষ্টি, ২০২১ সালের মধ্যে ৪০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রপ্তানি আয় এবং ২০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগের প্রত্যাশা নিয়ে অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার কার্যক্রম প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে বাস্তবায়িত হচ্ছে।

বেজা ইতিমধ্যে ১০টি স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানকে ১৩টি বেসরকারি অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা করার প্রাক-যোগ্যতা লাইসেন্স প্রদান করেছে।আবদুল মোনেম অর্থনৈতিক অঞ্চল (এএমইজেড) লিমিটেড বাংলাদেশের অন্যতম প্রথিতযশা নির্মাণ প্রতিষ্ঠান আবদুল মোনেম লিমিটেডের একটি সহযোগী প্রতিষ্ঠান।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

আবদুল মোনেম অর্থনৈতিক অঞ্চলের লাইসেন্স প্রদান

আপডেট সময় : ১২:৩৭:০০ অপরাহ্ণ, বৃহস্পতিবার, ৫ জানুয়ারি ২০১৭

নিউজ ডেস্ক:

দেশের সার্বিক আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন তথা শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখার উদ্দেশে আবদুল মোনেম অর্থনৈতিক অঞ্চলের লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে। গত মঙ্গলবার কারওয়ান বাজারে বেজা সম্মেলন কক্ষে এ  লাইসেন্স প্রদান অনুষ্ঠান করা হয়।

মুন্সীগঞ্জ জেলার গজারিয়া উপজেলার চর বাউশিয়া ও চর জাজিরা মৌজায় অবস্থিত এই অর্থনৈতিক অঞ্চলে জমির পরিমাণ ১৪২.৪১৯০ একর।এই অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার জন্য অনুমোদিত মাস্টার প্ল্যান অনুযায়ী ভূমি উন্নয়নসহ শিল্পকারখানা স্থাপন করা হবে। সমগ্র এলাকার পরিবেশগত প্রভাব নিরুপণ সমীক্ষা এরই মধ্যে সম্পন্ন হয়েছে এবং তা পরিবেশ অধিদপ্তর কর্তৃক অনুমোদিত হয়েছে। এই অঞ্চলে কেন্দ্রীয় শিল্পবর্জ্য শোধনাগার, পানি শোধনাগার, পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা, অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থাসহ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয় শর্তাবলী প্রতিপালিত হবে।

প্রাথমিক পর্যায়ে প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকা মূলধন বিনিয়োগের বিপরীতে এই অর্থনৈতিক অঞ্চলে ভূমি ক্রয়, ভূমি উন্নয়ন এবং বিদ্যুৎ ব্যবস্থা, নিজস্ব পানি সরবরাহ ব্যবস্থা, তিতাস থেকে সরবরাহকৃত গ্যাস সংযোগসহ অর্থনৈতিক অঞ্চলের সকল সর্বাধুনিক পরিসেবা সুবিধাদি থাকবে, যা এই অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিনিয়োগকারীদেরকে সরবরাহ করা হবে। এর পাশাপাশি প্রয়োজনীয় অভ্যন্তরীণ সড়ক, আধুনিক নিষ্কাশন ব্যবস্থা, জীববৈচিত্র্য রক্ষাকল্পে দীর্ঘ জলাধার এবং পরিবেশবান্ধব সবুজের সমারোহ থাকবে।

প্রস্তাবিত শিল্প খাতের মধ্যে পোশাক ও বস্ত্র শিল্প, মোটর যন্ত্রাংশ সংযোজন শিল্প, মিশ্র খাদ্য শিল্প, প্যাকেজিং শিল্প ইত্যাদি রয়েছে। ইতিমধ্যে এই অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিনিয়োগের জন্য জাপানসহ বিভিন্ন দেশের পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। আরো কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বিনিয়োগের বিষয়ে আলোচনা চলমান আছে

পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে প্রথম বছর থেকে দক্ষ-অদক্ষ নারী-পুরুষ মিলিয়ে প্রায় ১০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হবে, যা ৫ বছরের মধ্যে লক্ষাধিকে উন্নীত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

লাইসেন্স প্রদান অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান পবন চৌধুরী। অনুষ্ঠানে বেজার নির্বাহী সদস্য এম এমদাদুল হক ও মো. আব্দুস সামাদসহ পদস্থ কর্মকর্তা এবং এএমইজেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও এ এস এম মাঈনুদ্দিন মোনেম ও আবদুল মোনেম লিমিটেডের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ এস এম মহিউদ্দিন মোনেমসহ অন্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন তরান্বিতকরণ, আগামী ১৫ বছরের মধ্যে ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা, ১ কোটি লোকের কর্মসংস্থান সৃষ্টি, ২০২১ সালের মধ্যে ৪০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রপ্তানি আয় এবং ২০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগের প্রত্যাশা নিয়ে অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার কার্যক্রম প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে বাস্তবায়িত হচ্ছে।

বেজা ইতিমধ্যে ১০টি স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানকে ১৩টি বেসরকারি অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা করার প্রাক-যোগ্যতা লাইসেন্স প্রদান করেছে।আবদুল মোনেম অর্থনৈতিক অঞ্চল (এএমইজেড) লিমিটেড বাংলাদেশের অন্যতম প্রথিতযশা নির্মাণ প্রতিষ্ঠান আবদুল মোনেম লিমিটেডের একটি সহযোগী প্রতিষ্ঠান।