বৃহস্পতিবার | ১৫ জানুয়ারি ২০২৬ | শীতকাল
শিরোনাম :
Logo ঝালকাঠির নবগ্রাম বাজারে বসত ঘরে আগুন, অগ্নি দগ্ধ শিশু Logo ভারতীয় নাগরিকদের ইরান ছাড়ার নির্দেশ Logo গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিলে তরুণরা বৈষম্যহীন বাংলাদেশ পাবে: আলী রীয়াজ Logo বাংলাদেশের মধ্যমেয়াদি অর্থনৈতিক সম্ভাবনার উন্নতি হয়েছে: বিশ্বব্যাংক Logo আপিলে প্রার্থিতা ফিরে পেলেন চাঁদপুর-২ আসনে লেবার পার্টির নাসিমা নাজনীন সরকার Logo আমরা বিএনপি পরিবারের উদ্যোগে সাতক্ষীরার ৯নং ওয়ার্ডে তারেক রহমানের ৮ দফা রাষ্ট্র বিনির্মাণ কর্মসূচির লিফলেট বিতরণ Logo আবেদনের শর্ত পূরণ ছাড়াই খুবির সমাজবিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি Logo দায়মুক্তি আইনের বিরুদ্ধে সিরাজগঞ্জে প্রতিবাদ, বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি ক্যাবের Logo চুয়াডাঙ্গা-ঝিনাইদহে প্রতারক চক্রের বেপরোয়া তান্ডব, চাকরীর প্রলোভনে ৬ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার পর বিপাকে ভুক্তভোগী পরিবার, থানায় অভিযোগ দায়ের Logo সাতক্ষীরায় ইয়াবা, অবৈধ অর্থ ও অস্ত্রসহ শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী ইয়াসিন আরাফাতসহ  গ্রেফতার- ৩

ভ্যানে গুলিবিদ্ধ লাশের স্তূপ, শনাক্ত ৪ পুলিশ সদস্য

  • নীলকন্ঠ ডেস্ক: নীলকন্ঠ ডেস্ক:
  • আপডেট সময় : ১২:৩১:৫৩ অপরাহ্ণ, বুধবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৪
  • ৭৯০ বার পড়া হয়েছে

সাভারের আশুলিয়ায় ভ্যানে গুলিবিদ্ধ লাশের স্তূপ করার একটি লোমহর্ষক ভিডিও ভাইরাল নেট দুনিয়ায়। গোপনে ধারণ করা এমন নৃশংস ঘটনার ভিডিও প্রকাশ্যে আসতে আরও একবার পুলিশের ওপর ক্ষোভ তৈরি হয়েছে জনমনে। দাবি উঠেছে, এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের সর্বোচ্চ বিচারের।

জানা গেছে, নৃশংস এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ঢাকা জেলা ডিবি ও থানা পুলিশের চার সদস্য প্রাথমিকভাবে শনাক্ত হয়েছে।

এছাড়া ‘নির্দেশদাতা’ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) আবদুল্লাহিল কাফীকে গ্রেপ্তারের পর নেওয়া হয়েছে ৮ দিনের রিমান্ডে।

১ মিনিটের ১৪ সেকেন্ডের ভিডিওতে প্রদর্শিত পুলিশ সদস্যদের ব্যাপারে আশুলিয়া থানায় কর্মরত কয়েকজন সদস্যের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা অভিযুক্তদের শনাক্ত করেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন পুলিশ সদস্য ভিডিওতে থাকা ঢাকা জেলা উত্তর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) আরাফাত, ডিবি পুলিশের কনস্টেবল রেজাউল করিম, আশুলিয়া থানার সহকারী উপপরিদর্শক বিশ্বজিৎ রায় ও কনস্টেবল মুকুল বলে জানিয়েছেন।

ভিডিওর শুরুর দিকে লাশের স্তূপের পাশ দিয়ে হেঁটে যাওয়া পুলিশের ভেস্ট ও হেলমেট পরিহিত ঢাকা জেলা উত্তর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) আরাফাত হোসেন। তার বাড়ি বরিশালের হিজলায়। পাশেই হেঁটে যাওয়া (মুখে হালকা দাড়ি) ডিবি পুলিশের কনস্টেবল রেজাউল করিম। ভিডিওর শেষাংশে থাকা হাতে হেলমেট ও পুলিশের ভেস্ট পরিহিত আশুলিয়া থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) বিশ্বজিৎ রায় ও তার সামনে কচুপাতা রঙয়ের গেঞ্জি পরা (থানার ভেস্ট পরিহিত) কনস্টেবল মুকুল বলে প্রাথমিকভাবে শনাক্ত হয়েছে।

যদিও সহকারী উপপরিদর্শক বিশ্বজিৎ রায় বলেন, ‘আমার কোনো অস্ত্র নাই। ভিডিওতে থাকা ওই ব্যক্তি আমি নই। ’

এ ব্যাপারে ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার আহম্মদ মুঈদ বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি পর্যালোচনা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে চার সদস্যের তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। ইতোমধ্যে হত্যায় জড়িত কয়েকজন শনাক্তও হয়েছেন।

প্রত্যক্ষদর্শী দোকানদার শহিদুল ইসলাম বলেন, একটি ড্রোন উড়িয়ে আন্দোলনরত ছাত্র-জনতার অবস্থান শনাক্ত করা হয়। তবে সেটি পুলিশের ড্রোন কি না তা জানি না। থানার বিভিন্ন গলিতে ছাত্র-জনতা প্রবেশ করলে তাদের লক্ষ্য করে গুলি ছুড়ে পুলিশ। এ সময় বেশ কয়েকজন গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। পুলিশ লাশগুলো থানার সামনে নিয়ে যায়। সেখানে একটি পুলিশভ্যানে লাশগুলো রেখে জ্বালিয়ে দেওয়া হয়।

এ ব্যাপারে ঢাকা জেলা উত্তর গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ বিপ্লব বলেন, আমরা সেদিন ‘ঢাকা জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবদুল্লাহিল কাফীর নির্দেশনা পালন করেছি। জানা গেছে, সাভার ও আশুলিয়ায় ১৮ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে পুলিশের গুলিতে ৫৪ জন নিহত হয়েছেন। গুলিবিদ্ধ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন সাড়ে ৫ শতাধিক মানুষ। যাদের অনেকেই চিরতরে পঙ্গু হয়ে গেছেন।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

ঝালকাঠির নবগ্রাম বাজারে বসত ঘরে আগুন, অগ্নি দগ্ধ শিশু

ভ্যানে গুলিবিদ্ধ লাশের স্তূপ, শনাক্ত ৪ পুলিশ সদস্য

আপডেট সময় : ১২:৩১:৫৩ অপরাহ্ণ, বুধবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৪

সাভারের আশুলিয়ায় ভ্যানে গুলিবিদ্ধ লাশের স্তূপ করার একটি লোমহর্ষক ভিডিও ভাইরাল নেট দুনিয়ায়। গোপনে ধারণ করা এমন নৃশংস ঘটনার ভিডিও প্রকাশ্যে আসতে আরও একবার পুলিশের ওপর ক্ষোভ তৈরি হয়েছে জনমনে। দাবি উঠেছে, এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের সর্বোচ্চ বিচারের।

জানা গেছে, নৃশংস এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ঢাকা জেলা ডিবি ও থানা পুলিশের চার সদস্য প্রাথমিকভাবে শনাক্ত হয়েছে।

এছাড়া ‘নির্দেশদাতা’ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) আবদুল্লাহিল কাফীকে গ্রেপ্তারের পর নেওয়া হয়েছে ৮ দিনের রিমান্ডে।

১ মিনিটের ১৪ সেকেন্ডের ভিডিওতে প্রদর্শিত পুলিশ সদস্যদের ব্যাপারে আশুলিয়া থানায় কর্মরত কয়েকজন সদস্যের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা অভিযুক্তদের শনাক্ত করেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন পুলিশ সদস্য ভিডিওতে থাকা ঢাকা জেলা উত্তর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) আরাফাত, ডিবি পুলিশের কনস্টেবল রেজাউল করিম, আশুলিয়া থানার সহকারী উপপরিদর্শক বিশ্বজিৎ রায় ও কনস্টেবল মুকুল বলে জানিয়েছেন।

ভিডিওর শুরুর দিকে লাশের স্তূপের পাশ দিয়ে হেঁটে যাওয়া পুলিশের ভেস্ট ও হেলমেট পরিহিত ঢাকা জেলা উত্তর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) আরাফাত হোসেন। তার বাড়ি বরিশালের হিজলায়। পাশেই হেঁটে যাওয়া (মুখে হালকা দাড়ি) ডিবি পুলিশের কনস্টেবল রেজাউল করিম। ভিডিওর শেষাংশে থাকা হাতে হেলমেট ও পুলিশের ভেস্ট পরিহিত আশুলিয়া থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) বিশ্বজিৎ রায় ও তার সামনে কচুপাতা রঙয়ের গেঞ্জি পরা (থানার ভেস্ট পরিহিত) কনস্টেবল মুকুল বলে প্রাথমিকভাবে শনাক্ত হয়েছে।

যদিও সহকারী উপপরিদর্শক বিশ্বজিৎ রায় বলেন, ‘আমার কোনো অস্ত্র নাই। ভিডিওতে থাকা ওই ব্যক্তি আমি নই। ’

এ ব্যাপারে ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার আহম্মদ মুঈদ বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি পর্যালোচনা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে চার সদস্যের তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। ইতোমধ্যে হত্যায় জড়িত কয়েকজন শনাক্তও হয়েছেন।

প্রত্যক্ষদর্শী দোকানদার শহিদুল ইসলাম বলেন, একটি ড্রোন উড়িয়ে আন্দোলনরত ছাত্র-জনতার অবস্থান শনাক্ত করা হয়। তবে সেটি পুলিশের ড্রোন কি না তা জানি না। থানার বিভিন্ন গলিতে ছাত্র-জনতা প্রবেশ করলে তাদের লক্ষ্য করে গুলি ছুড়ে পুলিশ। এ সময় বেশ কয়েকজন গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। পুলিশ লাশগুলো থানার সামনে নিয়ে যায়। সেখানে একটি পুলিশভ্যানে লাশগুলো রেখে জ্বালিয়ে দেওয়া হয়।

এ ব্যাপারে ঢাকা জেলা উত্তর গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ বিপ্লব বলেন, আমরা সেদিন ‘ঢাকা জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবদুল্লাহিল কাফীর নির্দেশনা পালন করেছি। জানা গেছে, সাভার ও আশুলিয়ায় ১৮ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে পুলিশের গুলিতে ৫৪ জন নিহত হয়েছেন। গুলিবিদ্ধ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন সাড়ে ৫ শতাধিক মানুষ। যাদের অনেকেই চিরতরে পঙ্গু হয়ে গেছেন।