রাজধানীর বাজারে শুরু হয়নি চিরচেনা হাঁকডাক, দামেও স্বস্তি

  • নীলকন্ঠ অনলাইন নীলকন্ঠ অনলাইন
  • আপডেট সময় : ০৭:২৯:৪৭ অপরাহ্ণ, শুক্রবার, ৪ এপ্রিল ২০২৫
  • ৭০৭ বার পড়া হয়েছে
ঈদের ছুটি শেষে সবে মাত্র রাজধানীতে ফিরতে শুরু করেছেন নগরবাসী। তাই বাজারগুলোতে ক্রেতার সংখ্যাও কম। শাক-সবজি, মুরগিসহ বেশিরভাগ নিত্য পণ্যও বিক্রি হচ্ছে কম দামেই। নেই চিরচেনা ক্রেতা-বিক্রেতার হাঁকডাক, কোনো কোলাহল।

আজ শুক্রবার (৪ এপ্রিল) ঈদের ছুটির পাশাপাশি সাপ্তাহিক ছুটির দিনে কেরানীগঞ্জের জিনজিরা ও আগানগর এবং রাজধানীর নয়াবাজার, কারওয়ান বাজার ও নিউমার্কেট কাঁচাবাজারসহ বেশ কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা যায়, বিক্রেতারা পণ্য সাজিয়ে বসে আছেন, তবে দেখা নেই ক্রেতার। বিক্রেতার সংখ্যাও বেশ কম। এতে অনেকটাই কম দামে বিক্রি হচ্ছে বেশিরভাগ নিত্য পণ্য।

বিক্রেতারা বলছেন- বাজারে পর্যাপ্ত পণ্য আছে, কিন্তু ক্রেতা নেই। এতে দাম কমেছে। রাজধানীর কারওয়ান বাজারের মুদি দোকানি কিবরিয়া বলেন, ঈদের ছুটি শেষে মানুষ এখনো ঢাকায় ফেরেনি। বাজারে ক্রেতা নেই। পণ্য বিক্রি করব কার কাছে?

বাজারে পণ্যের দাম কমায় স্বস্তিতে ভোক্তারও। তারা বলছেন, বাজারে ক্রেতা না থাকায় বেশি দরদাম করতে হচ্ছে না। তুলনামূলক সস্তাতেই পাওয়া যাচ্ছে বেশিরভাগ পণ্য। সামাদ নামে এক ক্রেতা বলেন, হাতেগোনা দুই-একটি ছাড়া দাম কমেছে বেশিরভাগ পণ্যের। শাক-সবজির দাম বেশি কমেছে, মাছের একটু চড়া রয়েছে; মুরগিতেও স্বস্তি আছে।

বাজারে প্রতি কেজি করলা ৬০-৭০ টাকা, বরবটি ৩০-৪০ টাকা, ঢ্যাঁড়শ ৩০ টাকা, আলু ২০-২২ টাকা, মিষ্টি আলু ৩০ টাকা, লতি ৪০-৫০ টাকা ও পটোল ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর প্রতি কেজি পেঁপে ৫০ টাকা, গাজর ৩০ টাকা, টমেটো ২০ টাকা, কহি ৩০ টাকা, শিম ২৫ টাকা, সজনে ডাটা ১২০ টাকা ও ধনেপাতা ৩০-৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এছাড়া রমজানজুড়ে ভোগানো লেবু, বেগুন ও শসার দাম কমেছে। প্রতি কেজি বেগুন ৫০-৭০ টাকা ও শসা বিক্রি হচ্ছে ৩০-৪০ টাকায়। আর প্রতি হালি লেবু বিক্রি হচ্ছে ৩০-৪০ টাকায়।

আর বাজারে প্রতি পিস চালকুমড়া ৫০ টাকা ও লাউয়ের জন্য গুনতে হচ্ছে ৫০-৬০ টাকা। এছাড়া খুচরা পর্যায়ে প্রতিকেজি কাঁচামরিচ বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৪০ থেকে ৬০ টাকায়।

রাজধানীর কারওয়ান বাজারের সবজি বিক্রেতা আনিস বলেন, ক্রেতা না থাকায় শাক-সবজির দাম কেজিতে ১০ টাকা পর্যন্ত কমেছে। তবে দাম বেড়েছে কাঁচা পেঁপের।

দাম কমেছে মাংসের বাজারেও। কেজিতে ২০-৩০ টাকা পর্যন্ত কমেছে ব্রয়লার ও সোনালি মুরগির দাম। প্রতিকেজি ব্রয়লার মুরগি ২০০-২১০ টাকা ও সোনালি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৩০০-৩২০ টাকায়।

এছাড়া দেশি মুরগি ৬৫০-৬৮০ টাকা, সাদা লেয়ার ২৭০ টাকা ও লাল লেয়ার বিক্রি হচ্ছে ৩০০ টাকায়। আর জাতভেদে প্রতি পিস হাঁস বিক্রি হচ্ছে ৬০০-৭০০ টাকায়।

বিক্রেতারা বলছেন, চাহিদা না থাকায় দাম কমেছে। কেরানীগঞ্জের আগানগর বাজারের মুরগি বিক্রেতা রিপন বলেন, ঈদের ছুটি শেষে এখনো মানুষ আসেনি। মুরগি খাওয়ার মানুষ নাই। এতে চাহিদা কমায় দামও কমেছে।

মুরগির দাম কমলেও বাজারে স্থিতিশীল রয়েছে গরু ও খাসির মাংসের দাম। বর্তমানে বাজারে প্রতি কেজি গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৭৫০-৮০০ টাকায়। এছাড়া প্রতি কেজি খাসির মাংস ১ হাজার ২৫০ টাকা ও ছাগলের মাংস বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ১০০ টাকায়।

বাজারে আগের দামেই বিক্রি হচ্ছে ডিমও। প্রতি ডজন লাল ডিম ১১৫-১২০ টাকা ও সাদা ডিম বিক্রি হচ্ছে ১১০-১১৫ টাকায়। আর প্রতি ডজন হাঁসের ডিম ১৮০-২০০ টাকা ও দেশি মুরগির ডিম ২২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

যদিও মহল্লার দোকানগুলোতে বাজারের সঙ্গে ডিমের দামে রয়েছে বিস্তর ফারাক। কোথাও কোথাও প্রতি ডজন লাল ডিম ১৩০-১৩৫ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। তবে দাম বৃদ্ধির কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি দোকানিরা।

বাজারে মাছের দামে কিছুটা ভিন্নতা লক্ষ্য করা গেছে। বেশিরভাগ মাছের দাম স্থিতিশীল থাকলেও ওঠানামা করেছে হাতেগোনা দুই-একটি মাছের দাম। বিক্রেতারা বলছেন, বেশিরভাগ মাছের দাম আগে মতো রয়েছে। তবে হাতেগোনা কয়েকটির দাম বেড়েছে।

বাজারে প্রতি কেজি রুই ৩৫০ থেকে ৪২০ টাকা, কাতল ৩৮০ থেকে ৪৫০ টাকা, চাষের শিং ৫৫০ টাকা, চাষের মাগুর ৫০০ টাকা, চাষের কৈ ২০০ থেকে ২৫০ টাকা, কোরাল ৭৫০ টাকা, চাষের পাঙাশ ১৮০ থেকে ২২০ টাকা ও তেলাপিয়া ১৮০ থেকে ২২০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।

এছাড়া প্রতি কেজি বোয়াল ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকা, পোয়া ৪৫০ টাকা, আইড় ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা, টেংরা ৬৫০ থেকে ৭০০ টাকা, দেশি কৈ ১ হাজার ৩০০ টাকা থেকে ১ হাজার ৭০০ টাকা ও শিং ১ হাজার ৪০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

যদিও এখন পর্যন্ত চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে চাল। বাজারে প্রতি কেজি মিনিকেট ৮৬-৯০ টাকা, আটাইশ ৬০-৬২ টাকা ও নাজিরশাইল ৭৬-৮৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া প্রতি কেজি পোলাও চাল বিক্রি হচ্ছে ১১৬-১১৮ টাকায়।

এ দিকে বাজারে স্থিতিশীল রয়েছে আদা ও পেঁয়াজের দাম। খুচরা পর্যায়ে প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকায়। এছাড়া প্রতিকেজি আদা বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকায়।

ট্যাগস :

রাজধানীর বাজারে শুরু হয়নি চিরচেনা হাঁকডাক, দামেও স্বস্তি

আপডেট সময় : ০৭:২৯:৪৭ অপরাহ্ণ, শুক্রবার, ৪ এপ্রিল ২০২৫
ঈদের ছুটি শেষে সবে মাত্র রাজধানীতে ফিরতে শুরু করেছেন নগরবাসী। তাই বাজারগুলোতে ক্রেতার সংখ্যাও কম। শাক-সবজি, মুরগিসহ বেশিরভাগ নিত্য পণ্যও বিক্রি হচ্ছে কম দামেই। নেই চিরচেনা ক্রেতা-বিক্রেতার হাঁকডাক, কোনো কোলাহল।

আজ শুক্রবার (৪ এপ্রিল) ঈদের ছুটির পাশাপাশি সাপ্তাহিক ছুটির দিনে কেরানীগঞ্জের জিনজিরা ও আগানগর এবং রাজধানীর নয়াবাজার, কারওয়ান বাজার ও নিউমার্কেট কাঁচাবাজারসহ বেশ কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা যায়, বিক্রেতারা পণ্য সাজিয়ে বসে আছেন, তবে দেখা নেই ক্রেতার। বিক্রেতার সংখ্যাও বেশ কম। এতে অনেকটাই কম দামে বিক্রি হচ্ছে বেশিরভাগ নিত্য পণ্য।

বিক্রেতারা বলছেন- বাজারে পর্যাপ্ত পণ্য আছে, কিন্তু ক্রেতা নেই। এতে দাম কমেছে। রাজধানীর কারওয়ান বাজারের মুদি দোকানি কিবরিয়া বলেন, ঈদের ছুটি শেষে মানুষ এখনো ঢাকায় ফেরেনি। বাজারে ক্রেতা নেই। পণ্য বিক্রি করব কার কাছে?

বাজারে পণ্যের দাম কমায় স্বস্তিতে ভোক্তারও। তারা বলছেন, বাজারে ক্রেতা না থাকায় বেশি দরদাম করতে হচ্ছে না। তুলনামূলক সস্তাতেই পাওয়া যাচ্ছে বেশিরভাগ পণ্য। সামাদ নামে এক ক্রেতা বলেন, হাতেগোনা দুই-একটি ছাড়া দাম কমেছে বেশিরভাগ পণ্যের। শাক-সবজির দাম বেশি কমেছে, মাছের একটু চড়া রয়েছে; মুরগিতেও স্বস্তি আছে।

বাজারে প্রতি কেজি করলা ৬০-৭০ টাকা, বরবটি ৩০-৪০ টাকা, ঢ্যাঁড়শ ৩০ টাকা, আলু ২০-২২ টাকা, মিষ্টি আলু ৩০ টাকা, লতি ৪০-৫০ টাকা ও পটোল ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর প্রতি কেজি পেঁপে ৫০ টাকা, গাজর ৩০ টাকা, টমেটো ২০ টাকা, কহি ৩০ টাকা, শিম ২৫ টাকা, সজনে ডাটা ১২০ টাকা ও ধনেপাতা ৩০-৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এছাড়া রমজানজুড়ে ভোগানো লেবু, বেগুন ও শসার দাম কমেছে। প্রতি কেজি বেগুন ৫০-৭০ টাকা ও শসা বিক্রি হচ্ছে ৩০-৪০ টাকায়। আর প্রতি হালি লেবু বিক্রি হচ্ছে ৩০-৪০ টাকায়।

আর বাজারে প্রতি পিস চালকুমড়া ৫০ টাকা ও লাউয়ের জন্য গুনতে হচ্ছে ৫০-৬০ টাকা। এছাড়া খুচরা পর্যায়ে প্রতিকেজি কাঁচামরিচ বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৪০ থেকে ৬০ টাকায়।

রাজধানীর কারওয়ান বাজারের সবজি বিক্রেতা আনিস বলেন, ক্রেতা না থাকায় শাক-সবজির দাম কেজিতে ১০ টাকা পর্যন্ত কমেছে। তবে দাম বেড়েছে কাঁচা পেঁপের।

দাম কমেছে মাংসের বাজারেও। কেজিতে ২০-৩০ টাকা পর্যন্ত কমেছে ব্রয়লার ও সোনালি মুরগির দাম। প্রতিকেজি ব্রয়লার মুরগি ২০০-২১০ টাকা ও সোনালি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৩০০-৩২০ টাকায়।

এছাড়া দেশি মুরগি ৬৫০-৬৮০ টাকা, সাদা লেয়ার ২৭০ টাকা ও লাল লেয়ার বিক্রি হচ্ছে ৩০০ টাকায়। আর জাতভেদে প্রতি পিস হাঁস বিক্রি হচ্ছে ৬০০-৭০০ টাকায়।

বিক্রেতারা বলছেন, চাহিদা না থাকায় দাম কমেছে। কেরানীগঞ্জের আগানগর বাজারের মুরগি বিক্রেতা রিপন বলেন, ঈদের ছুটি শেষে এখনো মানুষ আসেনি। মুরগি খাওয়ার মানুষ নাই। এতে চাহিদা কমায় দামও কমেছে।

মুরগির দাম কমলেও বাজারে স্থিতিশীল রয়েছে গরু ও খাসির মাংসের দাম। বর্তমানে বাজারে প্রতি কেজি গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৭৫০-৮০০ টাকায়। এছাড়া প্রতি কেজি খাসির মাংস ১ হাজার ২৫০ টাকা ও ছাগলের মাংস বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ১০০ টাকায়।

বাজারে আগের দামেই বিক্রি হচ্ছে ডিমও। প্রতি ডজন লাল ডিম ১১৫-১২০ টাকা ও সাদা ডিম বিক্রি হচ্ছে ১১০-১১৫ টাকায়। আর প্রতি ডজন হাঁসের ডিম ১৮০-২০০ টাকা ও দেশি মুরগির ডিম ২২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

যদিও মহল্লার দোকানগুলোতে বাজারের সঙ্গে ডিমের দামে রয়েছে বিস্তর ফারাক। কোথাও কোথাও প্রতি ডজন লাল ডিম ১৩০-১৩৫ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। তবে দাম বৃদ্ধির কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি দোকানিরা।

বাজারে মাছের দামে কিছুটা ভিন্নতা লক্ষ্য করা গেছে। বেশিরভাগ মাছের দাম স্থিতিশীল থাকলেও ওঠানামা করেছে হাতেগোনা দুই-একটি মাছের দাম। বিক্রেতারা বলছেন, বেশিরভাগ মাছের দাম আগে মতো রয়েছে। তবে হাতেগোনা কয়েকটির দাম বেড়েছে।

বাজারে প্রতি কেজি রুই ৩৫০ থেকে ৪২০ টাকা, কাতল ৩৮০ থেকে ৪৫০ টাকা, চাষের শিং ৫৫০ টাকা, চাষের মাগুর ৫০০ টাকা, চাষের কৈ ২০০ থেকে ২৫০ টাকা, কোরাল ৭৫০ টাকা, চাষের পাঙাশ ১৮০ থেকে ২২০ টাকা ও তেলাপিয়া ১৮০ থেকে ২২০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।

এছাড়া প্রতি কেজি বোয়াল ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকা, পোয়া ৪৫০ টাকা, আইড় ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা, টেংরা ৬৫০ থেকে ৭০০ টাকা, দেশি কৈ ১ হাজার ৩০০ টাকা থেকে ১ হাজার ৭০০ টাকা ও শিং ১ হাজার ৪০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

যদিও এখন পর্যন্ত চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে চাল। বাজারে প্রতি কেজি মিনিকেট ৮৬-৯০ টাকা, আটাইশ ৬০-৬২ টাকা ও নাজিরশাইল ৭৬-৮৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া প্রতি কেজি পোলাও চাল বিক্রি হচ্ছে ১১৬-১১৮ টাকায়।

এ দিকে বাজারে স্থিতিশীল রয়েছে আদা ও পেঁয়াজের দাম। খুচরা পর্যায়ে প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকায়। এছাড়া প্রতিকেজি আদা বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকায়।