বুধবার | ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | শীতকাল
শিরোনাম :
Logo নবম পে স্কেল বাস্তবায়নের দাবিতে খুবি অফিসার্স কল্যাণ পরিষদের মানববন্ধন Logo গণমাধ্যমে লেখালেখি: পেশাগত নীতিনৈতিকতা ও দায়িত্ববোধ – ড. মাহরুফ চৌধুরী Logo স্টুডেন্ট স্কয়ার: শিক্ষার্থী থেকেই টেকসই পরিবর্তনের সূচনা Logo কেউ নির্বাচনী আচরণ বিধিমালা ভঙ্গ করলে আইনি ব্যবস্থা : স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা Logo এনবিআরের ওয়েবসাইটে এইচএস কোডভিত্তিক আমদানি তথ্য প্রকাশ Logo গাজীপুর-৪ আসনের দুই প্রার্থীর হাতে তৌফিক সুলতান স্যারের ‘জ্ঞানের জগৎ’ বই Logo পবিত্র লাইলাতুল বরাত আনজুমান ট্রাস্ট’র ব্যবস্থাপনায় কর্মসূচি Logo পলাশবাড়ীতে ব্যবসায়ীকে ছুরিকাঘাতের ঘটনায় দোকান বন্ধ রেখে বিক্ষোভ Logo পলাশবাড়ীর কালিবাড়ী হাটে পেটে ও মাথায় ছুরিকাঘাতে আহত মুরগীর ব্যবসায়ী Logo ক্যারিয়ার ডেভেলপমেন্টের ক্ষেত্রে সুস্পষ্ট কর্মপরিকল্পনা থাকতে হবে: উপ-উপাচার্য

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় অনন্য নিদর্শন, ১৯১৩ সালে পিরোজপুরে কাঠের তৈরি দৃষ্টিনন্দন মমিন মসজিদ !

  • amzad khan
  • আপডেট সময় : ০৮:০৩:১৯ অপরাহ্ণ, সোমবার, ২০ মার্চ ২০১৭
  • ৮২৯ বার পড়া হয়েছে

নিউজ ডেস্ক:

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় কাঠের তৈরি হস্তশিল্পসমৃদ্ধ দৃষ্টিনন্দন মুসলিম স্থাপত্যের অনন্য নিদর্শন বাংলাদেশের পিরোজপুর জেলার ঐতিহ্যবাহী ‘মমিন মসজিদ’। পুরো মসজিদটি নির্মাণে কাঠের কারুকাজ ও ক্যালিওগ্রাফি খচিত সামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে। এগুলোর সংযোগ স্থাপনেও লোহা বা তারকাটা ব্যবহার করা হয়নি। সৌন্দর্যবর্ধনে ব্যবহৃত হয়েছে সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক রঙ। ১৯১৩ সালে পিরোজপুর জেলার মঠবাড়িয়া থানার বুড়িরচর গ্রামের অধিবাসী মমিন উদ্দিন আকন নিজ বাড়িতেই এ মসজিদের নির্মাণ কাজ শুরু করেন। ১৯২০ সালে এ মসজিদটির নির্মাণ কাজ সাত বছরে শেষ হয়।

২১ জন সুদক্ষ কারিগরের নিরলস পরিশ্রমের ফসল কাঠশিল্পের অনন্য নিদর্শন মমিন মসজিদ। মসজিদটি ১৬ হাত দৈর্ঘ্য, ১২ হাত প্রস্থ এবং উচ্চতায় ১৫ হাত। চার পাশের বেড়া তিনটি অংশে বিভক্ত। যার উপর এবং নিচ

কাঠের কারুকাজ দিয়ে তৈরি। দুই পাশ দিয়ে ডাবল বেড়া। ভেতরে একরকম আর বাইরে আরেক রকম। ভেতরের কারুকাজ করা বেড়া খুলে আলাদা করা যায়। বাংলাদেশের বেশির ভাগ মসজিদ বাঁশ-টিন, ইট-বালি-সিমেন্টে তৈরি হলেও কাঠের তৈরি মসজিদ খুবই বিরল। যদিও এ ধরনের কাঠের তৈরি মসজিদ এক সময় ভারতের কাশ্মীরে ছিল বলে জানা যায়।

বুড়িচর গ্রামের যুবক মমিন উদ্দিন আকন বাড়ি থেকে দূরের মসজিদে নামাজ পড়তে যেতে কষ্ট হয় বিধায় একটি মসজিদ নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেন। তার ইচ্ছানুযায়ী বিভিন্ন মসজিদ পরিদর্শনের মাধ্যমে কারুশিল্প ডিজাইন ও ক্যালিওগ্রাফি সম্পর্কে ধারণা নেন। সাদামাটা জীবন-যাপনে অভ্যস্ত মমিন উদ্দিন সাধারণ ঘরে বসবাস করে অনিন্দ্য সুন্দর দৃষ্টিনন্দন ক্যালিওগ্রাফি ও প্রাকৃতিক ফুল, ফল এবং গাছের আদলে মসজিদ নির্মাণে নিজেকে নিয়োজিত করেন। মসজিদ নির্মাণের জন্য তিনি চট্টগ্রাম ও মিয়ানমার থেকে লোহা ও সেগুন কাঠ সংগ্রহ করেন। তৎকালীন সময়ে তিনি বরিশাল জেলার স্বরূপকাঠী থানা থেকে ২১ জন কারিগর নিয়োগ করেন। তার তত্ত্বাবধানে মসজিদের পুরো পরিকল্পনা, কারুকার্য, ক্যালিওগ্রাফি তৈরি করা হয়। মসজিদটির প্রবেশদ্বারে এবং মেহরাবে একটি করে ক্যালিওগ্রাফির নকশা বসানো হয়।

বৃষ্টি, বন্যা ও যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে মসজিদটির রঙ ও স্থাপনার কিছু ক্ষতি হয়। মমিন উদ্দিন আকনের নাতি মসজিদটির রক্ষণাবেক্ষণের যথাযথ তদারকির জন্য পত্রপত্রিকায় লেখালেখি করেন। ফলে ২০০৩ সালে বাংলাদেশ সরকারের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ কাঠের তৈরি এ মসজিদটিকে পুরাকীর্তি ঘোষণা দিয়ে এর রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব গ্রহণ করে।
প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ সর্বশেষ ২০০৮ সালে মসজিদটি সংস্কার কাজ সম্পন্ন করে।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

নবম পে স্কেল বাস্তবায়নের দাবিতে খুবি অফিসার্স কল্যাণ পরিষদের মানববন্ধন

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় অনন্য নিদর্শন, ১৯১৩ সালে পিরোজপুরে কাঠের তৈরি দৃষ্টিনন্দন মমিন মসজিদ !

আপডেট সময় : ০৮:০৩:১৯ অপরাহ্ণ, সোমবার, ২০ মার্চ ২০১৭

নিউজ ডেস্ক:

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় কাঠের তৈরি হস্তশিল্পসমৃদ্ধ দৃষ্টিনন্দন মুসলিম স্থাপত্যের অনন্য নিদর্শন বাংলাদেশের পিরোজপুর জেলার ঐতিহ্যবাহী ‘মমিন মসজিদ’। পুরো মসজিদটি নির্মাণে কাঠের কারুকাজ ও ক্যালিওগ্রাফি খচিত সামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে। এগুলোর সংযোগ স্থাপনেও লোহা বা তারকাটা ব্যবহার করা হয়নি। সৌন্দর্যবর্ধনে ব্যবহৃত হয়েছে সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক রঙ। ১৯১৩ সালে পিরোজপুর জেলার মঠবাড়িয়া থানার বুড়িরচর গ্রামের অধিবাসী মমিন উদ্দিন আকন নিজ বাড়িতেই এ মসজিদের নির্মাণ কাজ শুরু করেন। ১৯২০ সালে এ মসজিদটির নির্মাণ কাজ সাত বছরে শেষ হয়।

২১ জন সুদক্ষ কারিগরের নিরলস পরিশ্রমের ফসল কাঠশিল্পের অনন্য নিদর্শন মমিন মসজিদ। মসজিদটি ১৬ হাত দৈর্ঘ্য, ১২ হাত প্রস্থ এবং উচ্চতায় ১৫ হাত। চার পাশের বেড়া তিনটি অংশে বিভক্ত। যার উপর এবং নিচ

কাঠের কারুকাজ দিয়ে তৈরি। দুই পাশ দিয়ে ডাবল বেড়া। ভেতরে একরকম আর বাইরে আরেক রকম। ভেতরের কারুকাজ করা বেড়া খুলে আলাদা করা যায়। বাংলাদেশের বেশির ভাগ মসজিদ বাঁশ-টিন, ইট-বালি-সিমেন্টে তৈরি হলেও কাঠের তৈরি মসজিদ খুবই বিরল। যদিও এ ধরনের কাঠের তৈরি মসজিদ এক সময় ভারতের কাশ্মীরে ছিল বলে জানা যায়।

বুড়িচর গ্রামের যুবক মমিন উদ্দিন আকন বাড়ি থেকে দূরের মসজিদে নামাজ পড়তে যেতে কষ্ট হয় বিধায় একটি মসজিদ নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেন। তার ইচ্ছানুযায়ী বিভিন্ন মসজিদ পরিদর্শনের মাধ্যমে কারুশিল্প ডিজাইন ও ক্যালিওগ্রাফি সম্পর্কে ধারণা নেন। সাদামাটা জীবন-যাপনে অভ্যস্ত মমিন উদ্দিন সাধারণ ঘরে বসবাস করে অনিন্দ্য সুন্দর দৃষ্টিনন্দন ক্যালিওগ্রাফি ও প্রাকৃতিক ফুল, ফল এবং গাছের আদলে মসজিদ নির্মাণে নিজেকে নিয়োজিত করেন। মসজিদ নির্মাণের জন্য তিনি চট্টগ্রাম ও মিয়ানমার থেকে লোহা ও সেগুন কাঠ সংগ্রহ করেন। তৎকালীন সময়ে তিনি বরিশাল জেলার স্বরূপকাঠী থানা থেকে ২১ জন কারিগর নিয়োগ করেন। তার তত্ত্বাবধানে মসজিদের পুরো পরিকল্পনা, কারুকার্য, ক্যালিওগ্রাফি তৈরি করা হয়। মসজিদটির প্রবেশদ্বারে এবং মেহরাবে একটি করে ক্যালিওগ্রাফির নকশা বসানো হয়।

বৃষ্টি, বন্যা ও যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে মসজিদটির রঙ ও স্থাপনার কিছু ক্ষতি হয়। মমিন উদ্দিন আকনের নাতি মসজিদটির রক্ষণাবেক্ষণের যথাযথ তদারকির জন্য পত্রপত্রিকায় লেখালেখি করেন। ফলে ২০০৩ সালে বাংলাদেশ সরকারের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ কাঠের তৈরি এ মসজিদটিকে পুরাকীর্তি ঘোষণা দিয়ে এর রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব গ্রহণ করে।
প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ সর্বশেষ ২০০৮ সালে মসজিদটি সংস্কার কাজ সম্পন্ন করে।