কুড়িগ্রামে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক সড়ক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এবং উলিপুর উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডা. রেজওয়ানুল হককে আসামি করে কুড়িগ্রাম চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি মানহানীর মামলা দায়ের করা হয়েছে। রোববার (১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উলিপুর উপজেলার দায়িত্ব প্রাপ্ত সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ফারহানা খান-এর আদালতে এ পিটিশন মামলা দায়ের করা হয়।
মঞ্জুরুল কাদের (মমিনুল) নামে এক ব্যক্তি বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। বাদী উলিপুর উপজেলা বিএনপির সদস্য এবং একজন গণমাধ্যম কর্মী।
সংশ্লিষ্ট আদালতের পেশকার রফিকুল ইসলাম পিটিশনের বরাতে বলেন, উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডা. রেজওয়ানুল হক সরকারি কর্মচারী হওয়া স্বত্বেও জনগণের কাজ না করে সর্বদায় মামলায় উল্লেখিত আসাসিদ্বয়ের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ নির্দেশে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের একজন এজেন্ট হিসাবে কাজ করেছেন।
গত ১৫ মে উপজেলা প্রাণী সম্পদ কার্যালয়ে কৃত্রিম প্রজনন সেচ্ছাসেবী সদস্য, পশু পালন খামারী ও কৃত্রিম প্রজনন কর্মীদের উপস্থিতে এক মত বিনিময় সভায় ডা. রেজওয়ানুল হক রাষ্ট্র ক্ষমতার প্রভাবে প্রভাবিত হয়ে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান ও বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে নিয়ে নানা ধরনের কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেন। সেই সঙ্গে বিএনপি ও তাদের নেতাকর্মীদের নিয়ে গালাগালি করেন। সেসময় বিষয়টি নিয়ে উলিপুর থানায় অভিযোগ দেয়া হলেও পুলিশ আইনগত কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। তাই বাদী বাধ্য হয়ে আদালতে পিটিশন মামলাটি দায়ের করেছেন।
বাদী মমিনুল ইসলাম বলেন, উস্কানিমূলক বক্তব্যসহ অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করায় ওই মত বিনিময় সভায় উপস্থিত ব্যক্তিদের সম্মুখে ও সমাজে, আমার ও আমার নেতা ও নেত্রীর যথেষ্ট মান সম্মানের ক্ষতি হয়েছে। তাই এ সম্মানহানির ক্ষতিপূরণ এবং আসামীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে এ মামলা দায়ের করেছি।
আদালতের পেশকার রফিকুল ইসলাম বলেন, ন্যায় আদালত বাদীর ফৌজদারী কার্যবিধির ৫০০/১০৯ ধারার অভিযোগের আর্জি শোনেন এবং ঘটনা তদন্তে উলিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন। তদন্ত প্রতিবেদন প্রাপ্তি সাপেক্ষে মামলার পরবর্তী আদেশ দিবেন বিজ্ঞ বিচারক।