শুক্রবার | ১৬ জানুয়ারি ২০২৬ | শীতকাল
শিরোনাম :
Logo জোট-মহাজোটের বাইরে ইসলামের একক শক্তি হাতপাখা -হাফেজ মাওলানা মুহাম্মদ মাকসুদুর রহমান Logo চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার সাহাপুর গ্রামে নবনির্মিত একটি দৃষ্টিনন্দন মসজিদের শুভ উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। Logo খালেদা জিয়ার স্মরণে নাগরিক শোকসভা চলছে, উপস্থিত রয়েছেন তারেক রহমান Logo চাঁদপুর পৌরসভার ৭ নং ওয়ার্ড বিএনপি ও এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে এক যৌথ সাংগঠনিক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। Logo শহীদ হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে উত্তাল Logo কচুয়ায় কাদিরখিল সমাজ কল্যাণ যুব সংঘের মাদকবিরোধী ও উন্নয়নমূলক আলোচনা সভা Logo সংবাদ সংগ্রহে গিয়ে হামলার শিকার যমুনা টিভির সাতক্ষীরা প্রতিনিধি Logo পথিকৃৎ শিল্পীদের শিল্পকর্ম সংরক্ষণ করা প্রয়োজন : খুবি উপাচার্য Logo ছন্দে ফিরছে ঝিনাইদহ জেলা, একযুগ পর ঝিনাইদহ পেল সফল জেলা প্রশাসক একের পর এক ঝিনাইদহ শহর দখলমুক্ত করছেন জেলা প্রশাসক, আমজনতার অভিনন্দন Logo ইবিতে বিএনপিপন্থী শিক্ষককে ঘিরে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ শাখা ছাত্রদলের

ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে গত এক মাস ধরে কোন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নেই

  • rahul raj
  • আপডেট সময় : ০৩:৪৬:৩৪ অপরাহ্ণ, সোমবার, ২৩ ডিসেম্বর ২০১৯
  • ৭৪১ বার পড়া হয়েছে

জাহিদুর রহমান তারিক, ঝিনাইদহঃ
বিশ্বাস করুন আর নাই করুন ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে গত এক মাস ধরে কোন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নেই। শিশু ও গাইনি ছাড়া সব বিভাগে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পদ শুন্য রয়েছে। সবচে গুরংত্বপুর্ন অজ্ঞান, কার্ডিওলজি, মেডিসিন ও সার্জারি বিভাগে চিকিৎসক না থাকায় ১৮ লাখ মানুষের চিকিৎসা কেন্দ্রটি মুখ থুবড়ে পড়েছে। প্রতিদিন প্রায় পনের’শ রোগী চরম দুর্ভোগে পড়েছে। দুরদুরান্তের রোগীরা চিকিৎসা না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন। এদিকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পদ শুন্য থাকায় প্রতিদিন প্রচুর পরিমান ওষুধ ‘মিসইউস’ হচ্ছে। মেডিসিনের কাজ ডাঃ জাকির হোসেনকে দিয়ে চালানো হচ্ছে। বলা যায় তিনিই এখন গোটা হাসপাতাল সামলাচ্ছেন। তথ্য নিয়ে জানা গেছে, ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে একজন তত্বাবধায়ক, একজন আবাসিক মেডিকেল অফিসার, ইর্মাজেন্সি মেডিকেল অফিসার ও বিভিন্ন বিভাগে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ধরে মোট ৪০ জন মেডিকেল অফিসারের পদ রয়েছে। এ সব পদের মধ্যে কর্মরত আছেন মাত্র ১৬ জন। এর মধ্যে আবার তিনজন ডেপুটেশনে কাজ করছেন। বাকী ২৪টি পড়ে কোন চিকিৎসক নেই। যারা আছেন, তাদের মধ্যে প্রশাসনকি পদের অনেকেই ট্রেনিংয়ে ও মেডিকেল অফিসররা প্রায় জরুরী প্রয়োজনে সিএল, পোষ্টমটেম, মেডিকেল বোর্ডে, ভিকটিম ও কোর্টে হাজিরা দিয়ে থাকেন। এতে চিকিৎসা সেবা মারাত্মক ব্যহত হচ্ছে। ফলে প্রতিদিন এই ১৬ জন ডাক্তারের মধ্যে অনেকেই হাসপাতালে আসতে পারেন না। শনিবার দুপুরে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতাল পরিদর্শন করে দেখা গেছে তত্বাবধায়ক ডাঃ আইয়ূব আলী জরুরী কাজে খুলনা গেছেন। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের চেম্বারের সামনে কোন রোগী নেই। সুত্র জানায়, নভেম্বর মাসে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালের ৪ জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক পদোন্নতি পেয়ে ডিসেম্বরের প্রথম দিকে চলে গেছেন। সেই সব পদে এখনো কোন চিকিৎসককে পদায়ন করা হয়নি। ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালের পরিসংখ্যান অফিসার আব্দুল কাদের জানান, বর্তমানে হাসপাতালে নাক-কান-গলা, হাড়জোড়, চক্ষু, অজ্ঞান, কার্ডিওলজি, মেডিসিন ও সার্জারি বিভাগে কোন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নেই। গাইনি বিভাগে ডাঃ আলাউদ্দীন ও শিশু বিভাগে ডাঃ আনোয়ারুল কর্মরত আছেন। সার্জারি বিভাগের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডাঃ জাহিদকে জরুরী প্রয়োজনে ডেপুটিশেন দিয়ে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে রাখা হয়েছে। সবচে গুরুত্বপুর্ন অজ্ঞান বিভাগে কোন চিকিৎসক নেই। অজ্ঞান বিভাগে ডাঃ আব্দুর রহমানকে ডেপুটেশনে কাজ করানো হচ্ছে। তত্বাবধায়ক পদটিতেও ডাঃ আইয়ুব আলীকে ডেপুটেশনে রাখা হয়েছে। হাসপাতালের সব অপারেশন বন্ধের পথে। এক কথায় জোড়াতালি দিয়ে চলছে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতাল। স্বাস্থ্য সচিবের বাড়ি ঝিনাইদহে হলেও এ ব্যাপারে তিনি নিশ্চুপ বলে অনেকেই মন্তব্য করেন। সাধুহাটী ইউনিয়ন থেকে চিকিৎসার জন্য আসা রোকনুজ্জামান নামে এক টাইলস মিস্ত্রি অভিযোগ করেন, আমরা ভোট দিয়ে জনপ্রতিনিধি বানায়। অথচ তারা আমাদের সমস্যা দেখেন না। হাসপাতালে এসে শুনি বছরের পর বছর ডাক্তার থাকে না। কোন পদায়ন নেই। তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন জনপ্রতিনিধিরা আসলে করেন কি ? হিরা খাতুন নামে এক রোগী জানান, তারা হাসপাতালে এসে বেড পান না। অনেক রোগী মেঝে, বারান্দা ও সিড়ি ঘরে চিকিৎসা নেন। অথচ আড়াই’শ বেডের নতুন ভবনটি আজো চালু হচ্ছে না। জুয়েল মাজহার নামে এক ছাত্র অভিযোগ করেন, তিনি কানের ডাক্তারের কাছে এসেছিলেন। কিন্তু এসে জানতে পারেন এই বিভাগে কোন চিকিৎসকই নেই। জুয়েলের মতো ১০/১২ জন রোগী চিকিৎসা নিয়ে তাদের ক্ষোভ ও অসন্তোষের কথা জানান। বিষয়টি নিয়ে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাঃ অপুর্ব কুমার জানান, পদোন্নতি পাওয়ায় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা চলে গেছেন। সে সব পদে কোন ডাক্তার আসেনি। তিনি বলেন প্রতিদিন এক হাজারেরও বেশি রোগী আউটডোরে চিকিৎসা নেন। আর ভর্তি হন তিন’শর উপরে। এই বিশাল রোগীর চাপ ডাক্তার সংকটের কারণে আমরা হিমশিম খাচ্ছি।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

জোট-মহাজোটের বাইরে ইসলামের একক শক্তি হাতপাখা -হাফেজ মাওলানা মুহাম্মদ মাকসুদুর রহমান

ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে গত এক মাস ধরে কোন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নেই

আপডেট সময় : ০৩:৪৬:৩৪ অপরাহ্ণ, সোমবার, ২৩ ডিসেম্বর ২০১৯

জাহিদুর রহমান তারিক, ঝিনাইদহঃ
বিশ্বাস করুন আর নাই করুন ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে গত এক মাস ধরে কোন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নেই। শিশু ও গাইনি ছাড়া সব বিভাগে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পদ শুন্য রয়েছে। সবচে গুরংত্বপুর্ন অজ্ঞান, কার্ডিওলজি, মেডিসিন ও সার্জারি বিভাগে চিকিৎসক না থাকায় ১৮ লাখ মানুষের চিকিৎসা কেন্দ্রটি মুখ থুবড়ে পড়েছে। প্রতিদিন প্রায় পনের’শ রোগী চরম দুর্ভোগে পড়েছে। দুরদুরান্তের রোগীরা চিকিৎসা না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন। এদিকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পদ শুন্য থাকায় প্রতিদিন প্রচুর পরিমান ওষুধ ‘মিসইউস’ হচ্ছে। মেডিসিনের কাজ ডাঃ জাকির হোসেনকে দিয়ে চালানো হচ্ছে। বলা যায় তিনিই এখন গোটা হাসপাতাল সামলাচ্ছেন। তথ্য নিয়ে জানা গেছে, ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে একজন তত্বাবধায়ক, একজন আবাসিক মেডিকেল অফিসার, ইর্মাজেন্সি মেডিকেল অফিসার ও বিভিন্ন বিভাগে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ধরে মোট ৪০ জন মেডিকেল অফিসারের পদ রয়েছে। এ সব পদের মধ্যে কর্মরত আছেন মাত্র ১৬ জন। এর মধ্যে আবার তিনজন ডেপুটেশনে কাজ করছেন। বাকী ২৪টি পড়ে কোন চিকিৎসক নেই। যারা আছেন, তাদের মধ্যে প্রশাসনকি পদের অনেকেই ট্রেনিংয়ে ও মেডিকেল অফিসররা প্রায় জরুরী প্রয়োজনে সিএল, পোষ্টমটেম, মেডিকেল বোর্ডে, ভিকটিম ও কোর্টে হাজিরা দিয়ে থাকেন। এতে চিকিৎসা সেবা মারাত্মক ব্যহত হচ্ছে। ফলে প্রতিদিন এই ১৬ জন ডাক্তারের মধ্যে অনেকেই হাসপাতালে আসতে পারেন না। শনিবার দুপুরে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতাল পরিদর্শন করে দেখা গেছে তত্বাবধায়ক ডাঃ আইয়ূব আলী জরুরী কাজে খুলনা গেছেন। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের চেম্বারের সামনে কোন রোগী নেই। সুত্র জানায়, নভেম্বর মাসে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালের ৪ জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক পদোন্নতি পেয়ে ডিসেম্বরের প্রথম দিকে চলে গেছেন। সেই সব পদে এখনো কোন চিকিৎসককে পদায়ন করা হয়নি। ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালের পরিসংখ্যান অফিসার আব্দুল কাদের জানান, বর্তমানে হাসপাতালে নাক-কান-গলা, হাড়জোড়, চক্ষু, অজ্ঞান, কার্ডিওলজি, মেডিসিন ও সার্জারি বিভাগে কোন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নেই। গাইনি বিভাগে ডাঃ আলাউদ্দীন ও শিশু বিভাগে ডাঃ আনোয়ারুল কর্মরত আছেন। সার্জারি বিভাগের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডাঃ জাহিদকে জরুরী প্রয়োজনে ডেপুটিশেন দিয়ে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে রাখা হয়েছে। সবচে গুরুত্বপুর্ন অজ্ঞান বিভাগে কোন চিকিৎসক নেই। অজ্ঞান বিভাগে ডাঃ আব্দুর রহমানকে ডেপুটেশনে কাজ করানো হচ্ছে। তত্বাবধায়ক পদটিতেও ডাঃ আইয়ুব আলীকে ডেপুটেশনে রাখা হয়েছে। হাসপাতালের সব অপারেশন বন্ধের পথে। এক কথায় জোড়াতালি দিয়ে চলছে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতাল। স্বাস্থ্য সচিবের বাড়ি ঝিনাইদহে হলেও এ ব্যাপারে তিনি নিশ্চুপ বলে অনেকেই মন্তব্য করেন। সাধুহাটী ইউনিয়ন থেকে চিকিৎসার জন্য আসা রোকনুজ্জামান নামে এক টাইলস মিস্ত্রি অভিযোগ করেন, আমরা ভোট দিয়ে জনপ্রতিনিধি বানায়। অথচ তারা আমাদের সমস্যা দেখেন না। হাসপাতালে এসে শুনি বছরের পর বছর ডাক্তার থাকে না। কোন পদায়ন নেই। তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন জনপ্রতিনিধিরা আসলে করেন কি ? হিরা খাতুন নামে এক রোগী জানান, তারা হাসপাতালে এসে বেড পান না। অনেক রোগী মেঝে, বারান্দা ও সিড়ি ঘরে চিকিৎসা নেন। অথচ আড়াই’শ বেডের নতুন ভবনটি আজো চালু হচ্ছে না। জুয়েল মাজহার নামে এক ছাত্র অভিযোগ করেন, তিনি কানের ডাক্তারের কাছে এসেছিলেন। কিন্তু এসে জানতে পারেন এই বিভাগে কোন চিকিৎসকই নেই। জুয়েলের মতো ১০/১২ জন রোগী চিকিৎসা নিয়ে তাদের ক্ষোভ ও অসন্তোষের কথা জানান। বিষয়টি নিয়ে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাঃ অপুর্ব কুমার জানান, পদোন্নতি পাওয়ায় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা চলে গেছেন। সে সব পদে কোন ডাক্তার আসেনি। তিনি বলেন প্রতিদিন এক হাজারেরও বেশি রোগী আউটডোরে চিকিৎসা নেন। আর ভর্তি হন তিন’শর উপরে। এই বিশাল রোগীর চাপ ডাক্তার সংকটের কারণে আমরা হিমশিম খাচ্ছি।