বৃহস্পতিবার, ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০২৫
বৃহস্পতিবার, ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০২৫

কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কে ডিবি হারুনের কোটি টাকার সম্পত্তি

জিয়াবুল হক, কক্সবাজার

কক্সবাজারে টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কে আলোচিত সাবেক ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মোহাম্মদ হারুন অর রশীদের কোটি টাকার সম্পদ পাওয়া গেছে।

টেকনাফ সদর ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ড রাজারছড়া এলাকায় হারুনের নিজের নামে চার পাশে বাউন্ডারি ঘেরা ৩৩ শতক জমি রয়েছে। এ জমির বর্তমান বাজার মূল্যে কোটি হবে বলে জানা যায়।

এদিকে সাবেক ডিবিপ্রধান ও ঢাকার অতিরিক্ত কমিশনার হারুন অর রশিদের অবৈধ সম্পদের তদন্ত শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এছাড়া তাঁর ও স্ত্রী শিরিন আক্তারের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করেছে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)।

স্থানীয় ভূমি রেজিস্ট্রি অফিসের নথিপত্র ঘেঁটে দেখা যায়, টেকনাফ মৌজার ৭৪৬৮ নম্বর খতিয়ানের ১০৪৭৫ দাগে ৮ শতাংশ এবং ১০৪৭৩ দাগে ২৫ শতাংশ জমি আছে হারুন অর রশিদের সৃজিত করা রয়েছে। ঠিকানা ব্যবহার করা হয়েছে মোহাম্মদপুর ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের পশ্চিম আগারগাঁও উত্তর অংশ। যার হোল্ডিং নম্বর ১২০৭। তার জমির খতিয়ানের নামজারি ও জমাভাগ মামলা নম্বর ছিল ২৪৪২ (আই)/২০২১-২২ এর ৩১/০১/২০২২ ইং তারিখের আদেশ মতে অত্র খতিয়ান সৃজন করা হয়েছে মর্মে উল্লেখ করা হয়। জমির বিক্রেতা ছিল টেকনাফ সদর ইউনিয়নের হাতিয়ারগুনা নেঙ্গুরবিলের আবদুল হাকিম, সাবরাং ইউনিয়নের চান্দলী পাড়ার সোনা আলী, হাবিয়া খাতুন, আবদুস সালাম।

খতিয়ানটি সত্যায়ন করেছেন টেকনাফ উপজেলা সহকারী ভূমি এরফানুল হক চৌধুরী এবং উপজেলা ভূমি অফিসের কানুনগো দেলাওয়ার হোসাইন ও ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা মো. হেলাল উদ্দিন। খতিয়ানটিতে দেখা যায়, হারুন অর রশিদের মালিকানাধীন মোট জমির পরিমাণ ৩৩ শতাংশ।
তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, পুলিশের শীর্ষ পদে থাকার সময় কোটি কোটি টাকার সম্পদ অর্জন করেছেন। কীভাবে প্রভাববলয় ব্যবহার করে এত সম্পদ অর্জন করেছেন, তা আস্তে আস্তে বেরিয়ে আসছে। শুধু হারুন অর রশিদ নই আরও অনেক সরকারী-বেসরকারী কর্মকর্তাদের নামে বেনামে টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ ও সেন্টমার্টিনে কোটি কোটি টাকার অবৈধ টাকায় সম্পত্তি কেনার অভিযোগ রয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, টেকনাফের সাবরাং ইউনিয়নের বাহারছড়া ঘাট এলাকায় মেরিন ড্রাইভের তীরে গেইট দিয়ে চার পাশে বাউন্ডারি জমি ঘেরা দেওয়া হয়। এ জমির দেখবালের দায়িত্বে থাকা মোস্তাক মিয়া নামে একজন ব্যক্তিকে পাওয়া গেছে। তবে জমিটি এক বিএনপি নেতার তত্ত্বাবধানে রয়েছে বলে এলাকায় প্রচার রয়েছে।

জমির বিষয়ে মোস্তাক মিয়া বলেন, ‘এ জমি ডিবি হারুনের। এটি গত চার মাস ধরে এটা আমি দেখবাল করছি। আমি ছাড়া স্থানীয় মো. রাাসেলসহ এক বিএনপি নেতাও এটি দেখাশোনা করেন।’

এবিষয়ে টেকনাফ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সৈয়দ সাফফাত আলী বলেন, ‘আমাদের কাছে ডিবি হারুন অর রশিদের সম্পদের হিসেব চেয়ে এখন পর্যন্ত কোন চিঠি পত্র পায়নি। তবে এখানে তাঁর কোন সম্পদ আছে কিনা সেটা খতিয়ে দেখতে হবে।’

Similar Articles

Advertismentspot_img

Most Popular